বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩

এভাবে প্রেতাত্মা তার নিজের খুনিকে ধরিয়ে দিয়েছিল

ভূত বলতেই, সবাই ভয়ের কোন বিষয় বা আলৌকিক কোন কিছুর কথা মনে করেন, কিন্তু সাহিত্য অন্য কথা বলছে, সহিত্যে ভূত হয় ভালো প্রেমিক, কখনও বা সে মানুষকে বর দেয়, আবার নিজের খুনিকেও সে ধরিয়ে দেয়।বাস্তবেও এ রকম এক ভূতের গল্প প্রচলিত আছে, যেখানে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নায়ক হ্যামলেটের বাবার মতো নিজের খুনিকে নাকি ধরিয়ে দিয়েছিল! পরে যদিও সেই ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল।

প্রায় ২০০ বছর আগে এই ভূতের আবির্ভাব হয়েছিল। আবার এই ভূতকে কেন্দ্র করে এক অঞ্চলের মানুষ এখন উৎসব পালন করে থাকেন। কিন্তু একটি প্রশ্ন সবার কাছে এসে পড়ে - কিভাবে সম্ভব ভূত তার খুনিকে ধরিয়ে দিল? অবশ্য এই পৃথিবীতে সবই সম্ভব, আসুন সেই ঘটনার কথাই জেনে নিই এবার।

এই গল্প ফ্রেডরিক ফিশারের। ফ্রেডরিক ছিলেন ইংল্যান্ডের এক ব্যবসায়ী। একটি দোকান ছিল তাঁর। কিভাবে জানা যায় না, তিনি জাল নোট রেখেছিলেন নিজের দোকানে। ফলে তার লেনদেনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন ফ্রেডরিক।১৮১৫ সালে  তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ইংল্যান্ডের আদালত থেকে। শোনা যায় সে সময় ইংল্যান্ডের বেশীরভাগ আসামীকেই অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হত।ফ্রেডরিককেও তাই করা হয়েছিল।ফ্রেডরিক পড়াশোনা জানতেন। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে লেগে পড়েছিলেন।

১৮২২ সালে ফ্রেডরিকের ১৪ বছরের সাজার অর্ধেক মেয়াদ শেষ হলে, তিনি জামিনের আবেদন করেন। অস্ট্রেলিয়ায় কিছু জমিজমা কেনার অনুমতিও চান। প্রশাসন তাঁকে অনুমতি দিয়েছিল। এরপরেই ফ্রেডরিক সিডনির অদূরে ক্যাম্পবেলটাউনে বেশ কিছু জমিজমা কেনেন। তার মধ্যে চাষের জমিও ছিল। তিনি একটি কাগজের কলও খুলেছিলেন।

আবার ১৮২৫ সালে স্থানীয় এক কাঠের মিস্ত্রির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে ফ্রেডরিক। এরপর তাঁকে ফের জেলে পাঠানো হয়। খামার, চাষের জমি নিয়ে তিনি কি করবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়েন ফ্রেডরিক। প্রতিবেশী জর্জ ওরালের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁর জিম্মাতেই নিজের জমিজমা রেখে ফ্রেডরিক জেলে যান। তিনি জর্জকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নিও দিয়ে যান। সে বার ছমাস জেলে ছিলেন ফ্রেডরিক। জেল থেকে বেরিয়ে জর্জের কাছে নিজের জমি ফেরত চান। জর্জ সেই জমি ফেরাতে অস্বীকার করেন। দাবি করেন, ওই জমি তাঁর।

১৮২৬ সালের ১৭ই জুন উধাও হয়ে যান ফ্রেডরিক। জর্জ স্থানীয়দের জানান, আবার ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়েছেন তিনি। যাওয়ার আগে নিজের সব সম্পত্তি, জমি তাঁর কাছে বিক্রি করে দিয়ে গিয়েছেন। ফ্রেডরিকের ঘোড়াও তিনি দখল করে নেন।

এই ঘটনার ঠিক চার মাস পর ফ্রেডরিকের এক স্থানীয় বাসিন্দা জন ফার্লে অদ্ভুত এক দাবি করেন। তিনি জানান, তিনি ফ্রেডরিকে দেখেছেন। একটি সেতুর রেলিংয়ে বসেছিল ফ্রেডরিক। তিনি এ-ও দাবি করেন, ফ্রেডরিক কোনও কথা বলেনি তাঁর সঙ্গে। শুধু পিছনে মাঠের দিকে নির্দেশ করে উধাও হয়ে যান। তাঁর মতে তিনি ফ্রেডরিকের ভূত দেখেছেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন একজন মানুষ অত তাড়াতাড়ি উধাও হতে পারে না।

প্রথমে জনের দাবি সকলে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু পুলিশের মনে ক্রমে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। সেতুর ধারে ওই মাঠে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ, যে দিকে নির্দেশ করেছিল ফ্রেডরিকের ভূত। তল্লাশির পর ওই মাঠ থেকে উদ্ধার হয় ফ্রেডরিকের দেহাবশেষ। তদন্তে নামে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় জর্জকে। জর্জ স্বীকার করে নেয় খুনের কথা। আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। যদিও আদালতে ভূতের তত্ত্ব কোনও প্রমাণ হিসাবে গৃহীত হয়নি।

জর্জের শাস্তির পর একটি প্রশ্ন উঠেছিল। সত্যিই কি ভূত দেখেছিলেন জন ফার্লে। অনেকেই মনে করেন, ভূতের গল্প তৈরি করেছিলেন খোদ ফার্লে। সম্ভবত তিনি ফ্রেডরিককে খুন হতে দেখেছিলেন। কী ভাবে বিষয়টি প্রকাশ করবেন, বুঝতে পারেননি। তাই ভূতের গল্প ফেঁদেছিলেন। অন্যদিকে তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা ছিল, খুনের কোনও সাক্ষী ভূত সেজেছিলেন। তিনি হয়তো জর্জের হাতে ফ্রেডরিককে খুন হতে দেখে ফেলেছিলেন। পুলিশকে সে কথা জানানোর সাহস পাননি। তাই ভূত সেজে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।

অবশ্য সিডনির এক সাংবাদিক দাবি করেছিলেন, সেতুর ধারে আদতে কেউ ভূত দেখেননি। পুলিশি তদন্ত, বা আদালতে বিচারের নথিতে তার কোনও উল্লেখই নেই। ওই সেতুর রেলিংয়ে রক্তের দাগ দেখে পুলিশই নাকি তল্লাশি শুরু করে। তার জেরেই পাশের মাঠ থেকে ফ্রেডরিকের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়।

যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্রেডরিকের ভূতের গল্প স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে। সেই নিয়ে বহু জনশ্রুতি তৈরি হয়। সেই ভূতকে নিয়ে ক্রমে উৎসবে মাতেন ক্যাম্পবেলটাউনের বাসিন্দারা।প্রতি বছর নভেম্বর মাসে ফেস্টিভ্যাল অফ ফিশারস গোস্ট পালন করেন ক্যাম্পবেলটাউনের বাসিন্দারা। সেখানে ভূত সেজে ঘুরে বেড়ান। স্মরণ করেন ফ্রেডরিকের সেই ভূতকে। যে খালের ধারে মাঠে ফ্রেডরিকের দেহ মিলেছিল, সেই খালের নামও রাখা হয়েছিল ফিশার গোস্ট ক্রিক

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩

রাশিয়া আর বন্ধু ভারতকে ছাড় দিতে চাইছে না এই বিষয়ে

পৃথিবীর যে কোন দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে সেই দেশের পরিবহন ব্যবস্থার উপর। আর এই পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল পেট্রোল বা ডিজেলের দামের উপর। অর্থাৎ পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহনেরও খরচ বাড়বে, ফলে পণ্যেরও মূল্য বৃদ্ধি হবে। অবশ্য ভারতের একটি বিশেষ সুবিধা আছে, এদেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সুব্যবস্থা আছে। কিন্তু এই অপরিশোধিত খনিজ তেল ভারতে তেমন পাওয়া যায় না, তাই আমাদের দেশ ভারতকে এই খনিজ তেল বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

বর্তমানে ভারত এই অপরিশোধিত  তেল আমদানি, সবচেয়ে বেশী করছে রাশিয়া থেকে। অবশ্য দীর্ঘ দিন ধরেই তেলের বাণিজ্য চলছে রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল রাশিয়া। পূর্ব ইউরোপে সেই যুদ্ধ এখনো চলছে। এই যুদ্ধের পরই ভারতে রাশিয়ার তেলের বিক্রি আরও বেড়ে গিয়েছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে নানা ভাবে সমালোচিত হয়েছে পুতিনের দেশ। তবু রাশিয়া যুদ্ধ থামায়নি। এর পরেই আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দেশগুলি রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এর ফলে রাশিয়ার উপর একাধিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। আমেরিকা এবং ইউরোপের একাধিক দেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে ব্যবসায়িক ভাবে রাশিয়া ভীষণ ভাবে  ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সে সময় বহু দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক অসহযোগিতা করলেও পাশে ছিল ভারত। তারা রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি বন্ধ করেনি। ফলে রাশিয়াও অপরিশোধিত তেলের দামে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল ভারতকে।

রাশিয়া তেল বিক্রির জন্য পশ্চিমের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ৪,৯৪২ টাকার চেয়ে কম দামে ভারতকে তেল বিক্রি করছিল । ফলে তেল আমদানিতে দিল্লির খরচ আগের চেয়ে অনেকটা কমেছিল। এ কারণে ভারতও আগের তুলনায় বেশী পরিমান তেল কিনতে শুরু করে রাশিয়া থেকে। তাই গত কয়েক মাসে রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের তালিকায় প্রথম সারিতে উঠে আসে ভারত।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের কেনা তেলের পরিমাণ ছিল মোট ক্রয়ের দুই শতাংশ। বিশেষ ছাড় পাওয়ার পর যুদ্ধের পরে এই ক্রয় বেড়ে হয় ৪৪ শতাংশ।যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত দিনে ৪৪,৫০০ ব্যারেল তেল কিনত । পরে ক্রয়ের নিরিখে তারা চিনকেও ছাপিয়ে যায়।

কিন্তু সম্প্রতি এই ছাড়ের পরিমাণ আবার কমিয়ে দিতে শুরু করেছে মস্কো। ফলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে আরও বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।গত বছরের শেষ দিকে রাশিয়া থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ৩০ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ২,৪৭১ টাকা ছাড় পাচ্ছিল ভারত। সম্প্রতি তা কমে হয়েছে মাত্র ৪ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ৩২৯ টাকা।

ছাড় কমে যাওয়ার পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ভারতে তেলের পরিবহণ খরচও দিল্লীকে চিন্তায় ফেলেছে। কারণ রাশিয়া থেকে তেলের পরিবহণ খরচ বরাবরই একটু বেশী এবং অনিশ্চিত।অনেকে মনে করছেন ভারতের তেল কোম্পানিগুলির কিছু অদূরদর্শী পদক্ষেপের জন্যই বর্তমানে রাশিয়া ভারতকে বিক্রি করা তেলের উপর ছাড়ের পরিমান কমিয়ে দিচ্ছে।

ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, ভারত পেট্রোলিয়াম, মেঙ্গালুরু রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালসের মতো সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি, নায়রা এনার্জি লিমিটেডের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনে। এই সংস্থাগুলি পৃথক পৃথক ভাবে রাশিয়ার সঙ্গে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়ে যোগাযোগ করছে। তাদের মধ্যে নানাবিধ চুক্তিও হয়েছে। অবশ্য অনেকে মনে করেন এই ভারতীয় সংস্থাগুলি যদি একজোট হয়ে রাশিয়া থেকে  তেল কিনতো তাহলে ছাড়ের পরিমাণ বেশি হত।

পাশাপাশি, যুদ্ধ শুরুর পরপরই পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া যে ধাক্কা খেয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা সামলে উঠেছে। তাদের তেলের বাণিজ্যে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি।সেই কারণেও অপরিশোধিত তেলের জন্য ভারতকে আর বাড়তি ছাড় দিতে আগ্রহী নয় রাশিয়া।

ভারতের কেবল এই অঞ্চলে বর্ষাকালে মাটির উপর উঠে আসে হিরে

হিরে, বিশ্বের অন্যতম একটি বহু মূল্যবান বস্তু। তাই এর খনন কার্যও বেশ কঠিন। কিন্তু জানলে অবাক হতে হয় আমাদের এই ভারতবর্ষেই এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট  সময়ে মাটির উপরে এমন-ই উঠে আসে এই দামী বস্তুটি। অর্থাৎ কোন খননকার্য নয় শুধু মাটির উপরে একটু খোঁজা খুঁজি করলেই পাওয়া যায় হিরে।

ভারতের অন্ধপ্রদেশের অনন্তপুর এবং কুর্নুল জেলার মধ্যেকার এলাকায় মূলত এইভাবে হিরের খোঁজ মেলে।গ্রীষ্মের রুক্ষ জমিতে অঝোরে বৃষ্টি নামলেই নরম মাটি সরে গিয়ে বেরিয়ে পড়ে হিরে-সহ নানা দামি রত্ন।খরিফ মরসুম শুরুর আগে চাষের জমিতে কাজ করতে গিয়ে এভাবেই ভাগ্য বদলে গিয়েছিল অন্ধ্রপ্রদেশের এক দিনমজুরের। জমিতে কোদাল চালাতেই হাতে উঠে এসেছিল একটি হিরে। সেটি দুকোটি টাকায় বিক্রি করেছিলেন তিনি।

বর্ষা এলেই রায়লসীমা-সহ অন্ধ্রের নানা এলাকায় হিরে খোঁজার মরসুম শুরু হয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে জন্নাগিরি গ্রামে ২ কোটি ৪ লক্ষ টাকার হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন তিন জন।গত বছর একটি হিরে খুঁজে পাওয়ায় অন্ধ্রের এক কৃষিজীবীর ঘরে ঢুকেছিল ৪০ লক্ষ টাকা। আবার ৩০ ক্যারাটের হিরে মেলায় অন্য এক কৃষক ১ কোটি ৪ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে একটি হিরের জন্য ৬০ লক্ষ টাকা পান এক কৃষক। তার পরের বছর আবারও অন্ধ্রের দুই বাসিন্দার ভাগ্যবদল হয়েছিল এই হিরের মাধ্যমে। তাঁরা দুটি হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন । তবে সে দুটি যথাক্রমে পাঁচ এবং ছলক্ষ অর্থমূল্যের হলেও তাঁরা নাকি মোটে দেড় লক্ষ এবং ৫০ হাজার টাকায় তা বিক্রি করেছিলেন।

রায়লসীমা এলাকায় দামি রত্নের খোঁজ পাওয়া স্বাভাবিক বলে অনেকে মনে করেন। মধ্যযুগের বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সময় হিরে-জহরতের জন্য খ্যাতি ছিল রায়লসীমা অঞ্চলের। কথিত আছে সে আমলে শাক-সব্জি বিক্রির মতো হিরে-সহ নানা দামি রত্নের বিক্রিবাটা চলত হাম্পিতে। যদিও সময়ের সাথে এই দামি রত্ন কেনাবেচার নিয়মের বদল এসেছে। তবে দশকের পর দশক ধরে কুর্নুল জেলার তুগ্গলি, জন্নাগিরি, মদ্দিকেরা এবং অনন্তপুরের বজ্রকরুর এলাকায় বর্ষাকালে হিরের ফসল তোলেন বহু মানুষ।

অন্ধ্রপ্রদেশের নানা প্রান্ত থেকে বর্ষায় এই এলাকাগুলিতে জড়ো হন হিরেশিকারিরা। স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য কর্নাটক, তেলঙ্গানা থেকেও রায়লসীমায় ভিড় করেন অনেকে মানুষ। আবার এই ভিড়ের মধ্যে হিরে ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত থাকেন। আর তাদের সঙ্গে হিরেশিকারিদের রফা করানোর জন্য হাজির হয়ে যান মধ্যস্থতাকারীরাও।

অন্যদিকে অন্ধ্রের পর্যটন ব্যবসায়ীরাও এই হিরে খোঁজার মরসুমে ফয়দা তোলেন। কারণ, হিরের টানে বর্ষায় রায়লসীমায় ঘাঁটি গড়েন অনেকেই। তাঁদের কেউ এলাকায় তাঁবু খাঁটিয়ে রাত কাটান। অনেকে আবার আশপাশের হোটেল, লজ, অতিথিশালায় গিয়ে ওঠেন। ফলে হোটেল বা লজমালিকদের এই মরসুমে রমরমা ব্যবসা চলে।

মূলত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হিরে খোঁজতে ভিড় করেন হাজার হাজার স্থানীয় এবং ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হল হিরে খোঁজার এই মরসুমে প্রশাসনের তেমন বিশেষ কড়াকড়ি লক্ষ্য করা যায় না। দামি রত্ন হাতে এলেই ব্যবসায়ীদের কাছে তা বিক্রির করানোর চেষ্টা শুরু করেন মধ্যস্থতাকারীরা। ফলে তাঁদের পাল্লায় পড়ে অনেক সময় বহুমূল্য রত্নও বেশ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন হিরের খোঁজে আসা মানুষজন।

সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জন্নাগিরি গ্রামের এক বাসিন্দার দাবি, চাষের জমিতে একটি হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। তবে পুলিশ-প্রশাসনের থেকে হেনস্থার ভয়ে এবং নিজের সুরক্ষার কথা ভেবে সেটি দেড় কোটি টাকায় বিক্রি করেন। তাঁর সন্দেহ, ওই হিরের দাম আরও বেশি। ওই বাসিন্দা আরও দাবি করেন, হিরে বিক্রির পর পুলিশকে ৬ লক্ষ এবং রাজস্ব দফতরকে ৪ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। বাকি টাকায় তাঁর যাবতীয় ঋণ শোধ করেন তিনি।

অবশ্য বর্ষার এই মরসুমে অন্ধ্রের জমিতে হিরে কেন পাওয়া যায় তার কারণ খুঁজতে অন্ধ্রের মাটিতে কোনও গবেষণা কিন্তু আজ পর্যন্ত হয়নি। তবে একমাত্র বৃষ্টির মরসুমেই জমির উপরে উঠে আসে দামি পাথরগুলি। খনি বিশেষজ্ঞ এবং ভূতত্ত্ববিদ্‌দের মতে, এই এলাকাগুলিতে সরকারি উদ্যোগে গবেষণা চালানো উচিত।

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০২৩

এবার ভারতে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি ঘটানো সম্ভব হচ্ছে

ভারতবর্ষ, বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল একটি দেশ। বৃষ্টিহীনতায় এদেশের জনজীবন চরম সংকটের মধ্যে পড়ে। বর্ষার বৃষ্টি হলে, তবেই ভারতের রাজধানী দিল্লী এবং তার আশপাশের অঞ্চলের হাঁসফাঁস করা দূষণ, অনেকটা কমে যায়। উত্তরপ্রদেশের বহু অঞ্চলে বৃষ্টির অপেক্ষায় হা-হুতাশ করা মানুষজনের জন্য তাই এবার এসেছে সুখবর। সম্প্রতি ওই রাজ্যের বুন্দেলখণ্ডে মেঘের বীজ পুঁতেছেন ভারতের আইআইটি কানপুরের গবেষকরা।এজন্য তাঁদের ছয় বছর সময় নষ্ট করতে হয়েছে।

শুধু গ্রীষ্মেই নয়, বায়ুদূষণের জেরে কনকনে শীতেও কাবু হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। রাজধানী দিল্লী এবং তার  আশপাশের অঞ্চলে শীতের মরসুমে দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে যায়। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইআইটি কানপুরের একটি প্রকল্পে সায় দিয়েছিল কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক। সেই প্রকল্পের আওতায় মেঘের উপরে মেঘের বীজ বোনা হয়েছে। মেঘের বীজ বপনের বিষয়টি, আসলে চাষবাসের জন্য ক্ষেতে যেমন ফসলের বীজ ছড়িয়ে অথবা পুঁতে দেওয়া হয়, বৃষ্টি নামানোর জন্য খানিকটা সে ভাবেই মেঘের উপর কৃত্রিম মেঘ তৈরি করার চেষ্টা করেন গবেষকেরা।

কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটাবার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আবহাওয়ায় খানিকটা রদবদল করা হয়। সে জন্য ড্রোনের মাধ্যমে মেঘের উপর সিলভার আইয়োডাইডের মতো রাসায়নিক অথবা ড্রাই আইস কিংবা খাওয়ার নুন ছড়িয়ে দেন গবেষকেরা। যাতে সেই মেঘের স্তর গাঢ় করা যায়। তার থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বায়ুতে যে যৎসামান্য জল থাকে তা মেঘে ছড়ানো রাসায়নিকের কণার আশপাশে ঘনীভূত হয়ে স্ফটিকের মতো বরফের দানার আকার নেয়। এর থেকেই কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে যায়। এই পদ্ধতিকে নিউক্লিয়েশন বলা হয়।

মেঘের উপর রাসায়নিক পদার্থ ছড়ানোর জন্য ড্রোন ছাড়াও বিমান অথবা রকেট ব্যবহার করেন গবেষকেরা। ভারতে কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য ২৮শে জুন, বুধবার নিজেদের ক্যাম্পাসে একটি পরীক্ষা করে আইআইটি কানপুর। তাতে সাফল্যও আসে। বুধবার ক্যাম্পাস থেকে ৫,০০০ ফুট উঁচুতে বিমান উড়িয়ে মেঘের উপর রাসায়নিক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে মেঘের স্তরকে আরও ঘন করা যায়। যা বৃষ্টি আনতে অনুঘটকের কাজ করবে।

অবশ্য মেঘের বীজ বোনার এই পদ্ধতি নতুন নয়। ১৯৪৬ সালে প্রথম বার এই পদ্ধতিতে বীজ বুনেছিলেন আমেরিকার বহুজাতিক সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিক। সংস্থার তরফে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন রসায়নবিদ তথা আবহবিজ্ঞানী ভিনসেন্ট স্যাফার।ভিনসেন্টের কাজের ছবছর পর কলকাতায় এই পদ্ধতিতে কৃত্রিম মেঘ তৈরি করেছিলেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এসকে বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ৬০ বছরে কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশে এবং মহারাষ্ট্রে মূলত খরা রুখতে অথবা বাঁধের জলস্তর বৃদ্ধি করতে এই পদ্ধতিতে কৃত্রিম মেঘসঞ্চার করা হয়েছিল।

পুণের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিয়োরোলজি (IITM)-এর অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী জেআর কুলকার্ণী বলেন, ‘‘সাধারণত কৃত্রিম মেঘ তৈরি করতে প্রাকৃতিক মেঘের প্রয়োজন হয়। তবে যে মেঘগুলি উলম্ব আকৃতির হয়, তার উপরেই মেঘের বীজ বোনা যায়।’’কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টির জন্য যে ধরনের মেঘের সাহায্য নেওয়া হয়, সেগুলিকে পরিবাহী মেঘ বলা হয়। তবে বৃষ্টি নামাতে দিগন্ত বিস্তৃত স্তরীভূত মেঘের উপর এই বীজ বোনা হয় না বলে জানিয়েছেন কুলকার্ণী।

২০১৭ সালে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানোর একটি প্রকল্পের ছাড়পত্র দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। সে সময় মহোবা শহরে মেঘের বীজ বোনার কাজে রাজি হয়েছিলো চিনের গবেষকেরা।প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে চিনের গবেষকেরা এই প্রকল্পে কাজ করতে চেয়েছিলো। তবে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে এই প্রকল্পের পদ্ধতি সম্পর্কে কোনকিছু জানাতে তারা রাজী ছিল না। ফল শেষমেশ এই প্রকল্পটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর আইআইটি কানপুরের দ্বারস্থ হয় সরকার।

চিনের গবেষকরা প্রকল্প ছেড়ে বেরিয়ে গেলে ২০১৭ সালের ২৬শে জুন উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে এই প্রকল্পের সবিস্তার জানিয়ে আবেদন করে আইআইটি কানপুর। বায়ুদূষণ এবং খরার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে থাকা বুন্দেলখণ্ডে প্রকল্পের পরীক্ষায় রাজি হয়ে যায় উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার।এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মণীন্দ্র আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘‘বৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের পরীক্ষা সফল হয়েছে।’’

তবে যে প্রযুক্তিতে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানো যায়, তার পদ্ধতি বাজারে উপলব্ধ থাকলেও তা কাজে লাগাতে ছবছর সময় লাগার মূল কারণ হল- বিমান সমস্যা। আসলে গবেষকদের দাবি,যে বিমানে করে যন্ত্রপাতি নিয়ে মেঘের বীজ বোনা হত, সেই বিমানটিই জোগাড় করতে পারেননি তাঁরা।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর থেকে বিমান জোগাড়ের চেষ্টা করলেও তাতে নাকি খুব একটা সাড়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। এরপর ৫০ লক্ষ টাকার চুক্তিতে একটি বিমান দিতে রাজি হয়েছিল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল)। তবে অন্যান্য যন্ত্রপাতির জন্য নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকায় ওই প্রকল্প আটকে যায় বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আগরওয়াল।

এই প্রকল্পে বিমানের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক তথা পরিবেশ বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সচিদানন্দ ত্রিপাঠী। বিমানভাড়ার পাশাপাশি মেঘের বীজ ছড়াতে বিমানের সঙ্গে যন্ত্রপাতি লাগানোর খরচও রয়েছে। ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, বীজ বুনতে প্রতি ঘণ্টায় ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়। তিনি আরো জানিয়েছেন, ইজ়রায়েল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আমেরিকায় মেঘের বীজ থেকে বৃষ্টির ফসল পেয়েছেন গবেষকেরা।

সোমবার, ১০ জুলাই, ২০২৩

বিশ্বের দীর্ঘতম রুটে চলা বাস পরিষেবা

কলকাতা শহর থেকে প্রতি দিন হাজারের বেশী বাস বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দেয়। তার বেশির ভাগটাই রাজ্যের অন্যান্য জেলা এব‌ং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন রাজ্যে যায়। কিন্তু এক সময় নাকি গঙ্গা তীরবর্তী কলকাতা থেকে সরাসরি বাস ছাড়া হত টেমস তীরবর্তী লন্ডনের উদ্দেশ্যে! অবিশ্বাস্য মনে হলেও এই ঘটনা অনেকে সত্যি বলেই মনে করেন। বিভিন্ন সংবাদমধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫০-এর দশকে চালু হয়েছিল লন্ডন থেকে কলকাতাগামী এবং কলকাতা থেকে লন্ডনগামী এই বিলাসবহুল বাস পরিষেবা।

লন্ডন থেকে কলকাতাগামী এই ডাবল ডেকার বাসটির নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যালবার্ট। যে সংস্থার তরফ থেকে এই বাস চালু করা হয়েছিল তার নাম ছিল অ্যালবার্ট ট্যুর সার্ভিস।মনে করা হয়, এটিই নাকি ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম রুটে চলা বাস পরিষেবা।

১৯৫৭ সালের ১৫ই এপ্রিল লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করেছিল অ্যালবার্ট।পরিষেবা চালু হওয়ার প্রথম দিনে নাকি ২০ জন যাত্রীকে নিয়ে লন্ডন থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল এই বাস। ১৩ জন কলকাতায় নেমে গেলেও সাত জন যাত্রী যার মধ্যে দুইজন মহিলা এবং পাঁচজন পুরুষ, আবার ওই বাসেই লন্ডনে ফিরে আসেন বলে শোনা যায়।বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, লন্ডন থেকে ছাড়া প্রথম বাসটি কলকাতায় পৌঁছেছিল ৫ জুন। অর্থাৎ, প্রায় ৫০ দিন পরে।

এছাড়া বিভিন্ন সংবাদমধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডন থেকে কলকাতা আসার টিকিটের মূল্য ছিল বর্তমান ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার টাকা। তবে কলকাতা থেকে লন্ডন ফিরে আসার টিকিটের মূল্য ছিল বর্তমান ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার টাকা।পরে অবশ্য বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে এই বাসের ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় বর্তমান ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা।

বাসটি ইংল্যান্ড থেকে বেলজিয়াম এবং সেখান থেকে পশ্চিম জার্মানি, অস্ট্রিয়া, যুগোস্লাভিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে ভারতে প্রবেশ করত। ভারতে প্রবেশের পর নয়াদিল্লি, আগরা, এলাহাবাদ, বারাণসী হয়েই নাকি সেই বাস কলকাতায় পৌঁছত। সেই সময় এই যাত্রাপথ পরিচিত ছিল হিপি রুট নামে। প্রচলিত আছে, পুরো যাত্রাপথে বাসটিকে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রপথও পেরোতে হত জাহাজে করে।

যাত্রীদের সুবিধার্থে বাসটিতে ঘুমোনোর জন্য বাঙ্ক এবং ঠান্ডা থেকে বাঁচতে হিটারের ব্যবস্থা ছিল। সমস্ত সরঞ্জাম এবং সুযোগসুবিধা-সহ একটি রান্নাঘরও ছিল বাসটির মধ্যে।প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য বাসের উপরের ডেকে আলাদা বন্দোবস্ত করা ছিল। রাস্তায় বাস থামিয়ে যাত্রীদের আমোদপ্রমোদের জন্য রেডিয়ো এবং একটি মিউজিক সিস্টেমেরও ব্যবস্থা ছিল।

ভারতে প্রবেশ করার পর যাত্রীদের বারাণসীর ঘাট, তাজমহল-সহ ভারতের একাধিক পর্যটন ক্ষেত্রও নাকি ঘুরিয়ে দেখাত অ্যালবার্ট ট্যুর সার্ভিস।যাতায়াতের পথে তেহরান, সালজবার্গ, কাবুল, ইস্তানবুল এবং ভিয়েনায় কেনাকাটার অনুমতিও দেওয়া হত যাত্রীদের।

অবশ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কয়েক বছর পরিষেবা দেওয়ার পর বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরে বাসটি ব্রিটিশ পর্যটক অ্যান্ডি স্টুয়ার্ট কিনে নেন। তিনি এটিকে একটি ভ্রাম্যমান ঘর হিসাবে পুনর্নির্মাণ করেন।পরে নাকি আবার এই পরিষেবা চালু হয়। ১৯৬৮ সালের ৮ই অক্টোবর সিডনি থেকে ভারত হয়ে লন্ডনে যাত্রা শুরু করে অ্যালবার্ট। সিডনি থেকে লন্ডনে পৌঁছাতে বাসটি প্রায় ১৩২ দিন সময় নিত।

বাসটি ইরান হয়ে ভারতে পৌঁছে মায়ানমার, তাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া হয়ে সিঙ্গাপুরে যেত। সিঙ্গাপুর থেকে, বাসটিকে জাহাজে করে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হত এবং সেখান থেকে সড়কপথে এটি সিডনির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করত বলে প্রচলিত আছে। আগের মতোই বাসে সমস্ত আধুনিক সুযোগসুবিধা রাখা ছিল।

তবে কলকাতার ইতিহাস নিয়ে চর্চাকারী হরিপদ ভৌমিক এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এ রকম একটি বাস চালু হওয়ার কথা হয়েছিল বলে শোনা যায়। কিন্তু তা শুরু হওয়ার কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই নিয়ে কোনও নথি রয়েছে বলেও জানা নেই।’’