বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩

বাংলা প্রবন্ধ এবং রচনা লেখার পদ্ধতি

 

যে
কোন প্রবন্ধ লেখবার আগে বুঝে নিতে হয়
, প্রবন্ধ
কীভাবে লিখতে হবে এবং তার বিষয়টাকে কেমন করে পরিবেশণ করতে হবে। নতুন লেখকদের দিকে
তাকিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন
, প্রাঞ্জলতা রচনার বড়ো গুণ। তুমি যাহা
লিখিবে
, লোকে
পড়িবামাত্র যেন তাহা বুঝিতে পারে। যাহা লিখিলে
, লোকে
যদি তাহা না বুঝিতে পারিল
, তবে
লেখা বৃথা।



প্রবন্ধগুলিকে
সর্বদাই তিনটি ভাগে ভাগ করতে হয়
, এর
প্রথমটি হল ভূমিকা। ভূমিকার পরে আলোচ্য বিষয়টি মাঝখানে রাখতে হবে। এখানে আলোচ্য
বিষয়টির বিচার-বিশ্লেষণের দরকার। বিতর্কিত বিষয় হলে বিতর্কে দু
'পক্ষের কথাই সমানভাবে তুলে ধরতে হবে, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ এই
প্রসঙ্গে খুবই জরুরি। তবে শেষ অংশে একটি যুক্তিগ্রাহ্য মতামত যাতে উপস্থাপিত করা
যায়
, তা
দেখতে হবে। প্রবন্ধের সেটাই হবে উপসংহার। যে-কোনো প্রবন্ধেই এই তিনটি অংশ থাকা
বাঞ্ছনীয়। প্রথমে
'ভূমিকা', শেষে 'উপসংহার' এবং
মাঝে আলোচনার বিষয়গত উপস্থাপন।



প্রবন্ধনামটি আমাদের আর একটি ইঙ্গিত দেয়, সে ইঙ্গিত হল এর আকার এবং
সংহতি সম্পর্কে। আলোচনাকে সংহত করতে হলে অকারন বিস্তৃতি যাতে না হয়
, তা অবশ্যই দেখতে হয়।
প্রকৃষ্ট
' রূপে
'বন্ধন
না থাকলে প্রবন্ধের মর্যাদা কোনো লেখাই পায় না। তাই প্রবন্ধ লিখতে গিয়ে একটি
অকারণ কথাও যেন তার ভেতর আমরা না ঢোকাই। কেবল অকারণ কথাই নয়
,  অপ্রাসঙ্গিক
বিষয়ও সমানভাবে পরিহার করতে হবে। ধান ভানতে গিয়ে শিবের গীত যেন কখনও না হয়। ভুল
বানান
, ভুল
তথ্য বা ভুল পরিসংখ্যান পরিবেশন যেন কোনোরকমেই প্রবন্ধে না যুক্ত করা হয়। আর
প্রবন্ধের আকার যেন সহজে পাঁচশো শব্দ পেরিয়ে না যায়।
এই আকার বন্ধনটাও খুব জরুরি।



এবার
আসছি অনুচ্ছেদ রচনা প্রসঙ্গে:-

অনুচ্ছেদ
হল কিছু বাক্যের সমষ্টি। এক বা একাধিক শব্দ একত্রিত হয়ে যখন মনের ভাব প্রকাশ করে
তখন তাকে বলা হয় বাক্য। আবার কয়েকটি বাক্য একত্রিত হয়ে যখন কোন বিষয় সম্পর্কে
একটি ধারণা সৃষ্টি করে তখন তা হয় অনুচ্ছেদ। যত কম বাক্য ব্যবহার করে একটি বিষয়
সম্পর্কে যখন সম্পূর্ণ ধারণা সৃষ্টি করা যাবে তখনই তা সার্থক অনুচ্ছেদ হিসেবে
পরিগণিত হবে। সুতরাং অন্য সব কাজের জন্য যেমন পূর্ব প্রস্তুতি বা পরিকল্পনার
প্রয়োজন হয় তেমনি অনুচ্ছেদ রচনার জন্যও পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে।





অনুচ্ছেদ
রচনার শুরুতেই মনে রাখতে হবে
, যে
বিষয়টি সম্পর্কে অনুচ্ছেদ রচনা করা হচ্ছে তার মূলভাবটি যেন কোন ভাবেই ক্ষুণ্ণ না
হয়। বিষয়টি সম্পর্কে যথাসম্ভব বেশি ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। অনুচ্ছেদে
ব্যবহৃত বাক্যগুলি যেন পরস্পরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। একই শব্দ বা বাক্য বারবার
ব্যবহার করা ঠিক নয়। আবার ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও যেন চলিত বা সাধু ভাষার
মিশ্রণ না ঘটে সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। যথাসম্ভব সহজ এবং কথ্য ভাষা ব্যবহার
করতে হবে। যত্ন নিতে হবে বানান এবং বিরাম চিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে। উদ্ধৃতি
ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় সতর্ক থাকতে হবে
, মনে
রাখতে হবে উদ্ধৃতিতে যেন কোনও রকম ত্রুটি না থাকে। অনুচ্ছেদের শুরু এবং শেষের
মধ্যে যাতে সামঞ্জস্য থাকে সেদিকেও প্রখর দৃষ্টি
 রাখতে হবে।

বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২

ভাবসম্প্রসারণ-যারে তুমি নীচে ফেল

ভাবসম্প্রসারণ:-



যারে
তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে
,



পশ্চাতে
রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।



সমাজে
ধনী
, প্রতিপত্তিশালী, শিক্ষিত, উচ্চবর্ণের
মানুষ যেমন আছে
, তেমনি
আছে দরিদ্র
, মূর্খ, অসহায়, নিম্নবর্ণের
মানুষ। এদের সবাইকে নিয়েই সমাজ। সবার উন্নতিতেই সমাজের উন্নতি। আবার সমাজের
উন্নতিতে দেশের উন্নতি। দরিদ্র
, অসহায়, নিম্ন শ্রেণীর মানুষদের যদি অবহেলায়, ঘৃণায় দূরে সরিয়ে রাখা হয়, তাহলে সমাজের তথা দেশের উন্নতি সম্ভব নয়।
সমাজে এরাই আবার সংখ্যাগরিষ্ঠ। সামান্য কিছু ধনী ও প্রতিপত্তিশালীর উন্নতিতে
সমাজের উন্নতি বা অগ্রগতি সম্ভব নয়। কারণ অবহেলিত
, বঞ্চিত, অশিক্ষিত, দরিদ্র
মানুষেরাই সমাজের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এরাই সমাজের তথা দেশের কলঙ্ক
লজ্জা বাড়িয়ে দেয়। তাই অবহেলায়
, ঘৃণায়
ঐসব মানুষকে দূরে সরিয়ে না রেখে তাদেরও এগিয়ে চলার পথে সাথী করে নিতে হবে। তাদের
অশিক্ষা
, দারিদ্র, কুসংস্কার দূর করতে হব। তাদের অধিকার ও
কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হব। তবেই সম্ভব হবে সমাজের উন্নতি। মুষ্টিমেয়
মানুষের শিক্ষাভিমান এবং অর্থের অহঙ্কার সমাজের তথা দেশের অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করে।

সোমবার, ১৪ মার্চ, ২০২২

ভাবসম্প্রসারণ-অতি দীন ও আশক্ত ব্যক্তি

 


"অতি দীন ও আশক্ত ব্যক্তিরাই দৈবের দোহাই দিয়ে
থাকে।"

যারা
অক্ষমতা ও দীনতায় ভোগেন তারাই তাদের সেই অক্ষমতা ও দীনতাকে ঢাকবার জন্য অদৃষ্ট বা
দৈবের উপর দোষারোপ করেন।



আমরা
জানি
, Life is nothing, but a struggle for
existence
অর্থাৎ
জীবন আর কিছুই নয়
, টিকে
থাকার জন্য সংগ্রাম। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে
, জীবনের
উত্থান-পতন ও চড়াই-উৎরাই-এর মধ্য দিয়ে জীবনকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করার মধ্যেই থাকে
যথার্থ আনন্দ। কিন্তু যারা আশক্ত ও অক্ষম এবং মানসিকভাবে যারা দীন তারা জীবনের
মূলমন্ত্র জানেন না। তাই তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে এবং তখনই তারা দৈবের দোহাই
দিতে থাকেন। রবীন্দ্রনাথ তাই
'শিক্ষার
মিলন
' প্রবন্ধে
বলেছিলেন-আমি একদিন একটি গ্রামের উন্নতি করতে গিয়েছিলাম। গ্রামের লোককে জিজ্ঞাসা
করলুম
, 'সেদিন
তোদের পাড়ায় আগুন লাগল
, একখানা
চালাও বাঁচাতে পারলি না কেন
?' তারা
বললে
, 'কপাল'। সুতরাং আগুন নেভাতে না পারার অক্ষমতাকে
যারা
'কপাল' মনে করেন, তারা আর যাই হোক্‌ অন্তত
সংগ্রামী মানসিকতাসম্পন্ন নয়। জীবনের বৃহত্তর কর্মযজ্ঞের দিকে তাকালে দেখা যায়-
যারা পৃথিবীতে নানা কাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করছে
, পেয়েছে
প্রশংসার বরমাল্য
, তাদের
অগ্রগতির মূলধন
'দৈব
নয়
, পুরুষকার, পরনির্ভরশীলতা নয়, আত্মবিশ্বাস'। মানুষ তার নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরী করে।



নিজেকে
ভাগ্যকর্তা মনে করে নিয়ে নিজের আত্মাবিশ্বাসের দ্বারা নিষ্ঠা ও পরিত্রাণের মাধ্যমে
মানুষ উন্নতি সোপানে পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু যারা ভীরু ও আত্মশক্তিতে বলীয়ান নয়
তারা কর্মবিমুখ হয়ে আদর্শচ্যুত হয় ও অদৃষ্ট বা নিয়তিকে মেনে নেয়। জীবনে প্রতিষ্ঠা
দৈবধন ভেবে তারা কালের হাতে নিষ্ক্রিয় পুতুল হয়ে ওঠে এবং তা প্রকৃত মানুষের লক্ষণ
নয়
, জাতি ও জাতীয় উন্নতির
পক্ষে এই ধরনের দীন ও অশক্ত ব্যক্তিরা অন্তরায়স্বরূপ।

ভাবসম্প্রসারণ লেখার গোড়ার কথা

ভাবসম্প্রসারণ লিখতে হলে যে বিষয়গুলি মনে রাখা দরকার

বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১

ভাবসম্প্রসারণ লেখা-অত্যাচারীর বিজয়তোরণ ভেঙেছে ধুলার পর

 ভাবসম্প্রসারণ:-

বাস্তুতন্ত্রে খাদ্য-খাদকের সম্পর্কের মতো দুর্বলের উপর সবলের
অত্যাচার জাগতিক ঘটনা। এই অত্যাচার ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য অপেক্ষাকৃত সবলেরা
দুর্বল মানুষের উপর অত্যাচার করে এবং জয়ের নির্দেশ স্বরূপ বিজয়তোরণ রচনা করে।
কালের প্রবাহে বা অধিকতর সবলের দম্ভে সেই তোরণ যখন ভেঙে যায়
, তখন
সেই তোরণের পাথর দিয়েই শিশুরা খেলার ঘর নির্মণ করে।



নজরুলের গানে আছে,'চিরদিন কাহারো সমান নাহি
যায়
'। অর্থাৎ পরিবর্তনশীল জগতে নিয়ত পরিবর্তনশীলতার মধ্যে
ফকির রাজা হয় আবার রাজাও ফকির হয়। তেমনি অত্যাচারী শক্তি নানাবিধ অত্যাচারের
মাধ্যমে নিজেদের বিজয়ী শক্তিরূপে প্রতিষ্ঠা করে এবং সেই বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখবার
জন্য বিজয়তোরণ নির্মাণ করে
, কিন্তু সেই শক্তিরও পতন হয়।
বিশেষ করে
, অত্যাচার, নিপীড়নে মাধ্যমে
জোর করে যখন বিজয়ী শক্তি নিজেদের জাহির করে
, সেই বিজয়ের
মধ্যেই সুপ্ত থাকে ধ্বংসের বীজ। কেননা বহু মানুষের কান্না
, আর্তনাদ
জমা থাকে ভবিষ্যতের জন্য। সেই ভবিষ্যৎ-ই বিজয়ী শক্তিকে ধূলিসাৎ করে। কারণ বহু রক্ত
,
কান্না, ঘাম ঝরিয়ে যে বিজয়-বিজয়ীর করায়ত্ত হয়,
সেই বিজয়ের পেছনে থাকে পতনের অবশ্যম্ভাবী বীজ। অত্যাচারের বাণী
নীরবে নিভৃতে কেঁদে কেঁদে ফিরে একসময় বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে বিজয়ীর কাছে। এটাই
কালের নিয়ম এবং ইতিহাসও তার সাক্ষ্য দেয়।শুধু তাই নয়
, যখন
রাজছত্র ভেঙে পড়ে
, ভেঙে পড়ে বিজয়ীর বিজয়তোরণ তখন সেই দম্ভ,
সেই আভিজাত্য ধুলায় মিশে যায়। শিশুরা তখন সেই বিজয়ের স্মারক ভাঙা
পাথরের টুকরো নিয়ে আপন খেলার ঘর নির্মাণ করে। সেই খেলার ঘরে থাকে না কোন দম্ভ বা
বিজয় প্রতিষ্ঠার উল্লাস। নেহাতই শিশুর সারল্য এবং সর্বজনীনতায় সেই খলার ঘর হয়
ভরপুর।



সুতরাং অত্যাচারী শাসকের শক্তি যতই প্রতিস্পর্ধী ও শক্তিশালী
হোক্‌ না কেন
, সেই শক্তির বিনাশ ঘটে এবং তখনই শক্তির
মদোন্মত্ততা শিশুর খেলাঘরে পরিণত হয়ে যায়।

রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১

ভাবসম্প্রসারণ লেখা-আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে

 ভাবসম্প্রসারণ:-

সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে বাস করতে হয়। পরস্পরের প্রতি স্নেহ-ভালবাসা প্রীতির বিনিময়েই মানবজীবন সার্থক হয়ে ওঠে। সামাজিক জীব হিসাবে সমাজের প্রতি প্রত্যেক মানুষেরই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য আছে। তাইতো মানুষ একের বিপদে অপরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু যে মানুষ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, শুধু নিজের স্বার্থ ছাড়া আর সবকিছু ভুলে যায়, সে মানুষ স্বার্থপর। এতে সত্যিকার সুখ, বেঁচে থাকার সত্যিকার আনন্দ পাওয়া যায় না। অপরের জন্য কিছু করার মধ্যেই আছে প্রকৃত সুখ, আনন্দ। ক্ষুদ্র 'আমি'র গণ্ডীর বাইরে আসতে না পারলে প্রকৃত সুখ বা আনন্দের সন্ধান পাওয়া যায় না। নিঃস্বার্থ সেবার মধ্যেই মনুষ্যত্বের চরম বিকাশ। তাইতো যুগে যুগে কত মানুষ পরের স্বার্থে জীবন উৎসর্গ করেছেন। প্রকৃত সুখ ও আনন্দের সন্ধান পেয়ে তাঁদের জীবন সার্থক হয়েছে। কোন সমাজের প্রতিটি মানুষই যদি কেবলমাত্র নিজের স্বার্থ-চিন্তায় মগ্ন থাকে তবে সে-সমাজের উন্নতি কখনই সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেককেই শুধু নিজের স্বার্থ নয়, অপরের স্বার্থের কথাও চিন্তা করতে হবে।

এই ভাবসম্প্রসারণের অনুসরণে লেখা যায় :-

১. স্বার্থমগ্ন যে জন, বিমুখ বৃহৎ জগৎ হতে,

    সে কখনো শেখেনি বাঁচিতে।

২. মানুষ মানুষেরই জন্য

৩. পরের জন্য আত্মবিসর্জন ভিন্ন পৃথিবীতে স্থায়ী সুখের কোন মূল্য নাই।

ভাবসম্প্রসারণ লিখতে হলে যে বিষয়গুলি মনে রাখা দরকার

ভাবসম্প্রসারণ লিখতে হলে :-

কোন সংক্ষিপ্ত গদ্যে বা পদ্যে আত্মগোপন করে থাকা ভাবকে বিশদভাবে প্রকাশ করাকেই ভাবসম্প্রসারণ বলে। ভাবসম্প্রসারণের ব্যাপারে যে বিষয়গুলি মনে রাখা দরকার সেগুলি হল:-

১) প্রথমেই প্রদত্ত গদ্যাংশ বা পদ্যাংশটি ভালো করে পড়ে নেওয়া প্রয়োজন। তারপর অন্তর্নিহিত মূল ভাবটি বোঝবার জন্যে সচেষ্ট হতে হবে।

২) উপমা,রূপক ইত্যাদির আড়ালে মূল ভাবটি অনেক সময় প্রচ্ছন্ন থাকে। সেক্ষেত্রে উপমার মর্ম উদ্ধার করে বা রূপক উপলব্ধি করে মূল ভাবটি বিশ্লেষণের কাজে অগ্রসর হওয়া দরকার।

৩) মূল ভাবসত্যের বিশ্লেষণ বিস্তারিত আকারের হবে; স্বল্প মধ্যে প্রকাশিত কোনো বৃহৎ ভাবকে লেখক যেন বোঝবার তাগিদে প্রসারিত করছেন।

৪) মূল ভাবটি প্রসারণের সময় প্রদত্ত গদ্যাংশ বা পদ্যাংশের বহির্ভূত নানা ধরনের বিষয় অবতারণা করা চলে। যেমন, প্রয়োজন বোধ করলে ঐতিহাসিক, পৌরাণিক বা বৈজ্ঞানিক তথ্য-সমাবেশ করা যায়; মূল বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপমা বা উদ্ধৃতিও ব্যবহার করা চলে। তবে সব সময়েই লক্ষ্য রাখতে হবে, এগুলো যেন ভাবসত্যকে বিস্তৃতভাবে প্রকাশের অনুকূল হয়। প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সমাবেশ না ঘটলে ভাবসম্প্রসারণ মনোজ্ঞ বা আকর্ষণীয় হতে পারে না; বরং ভারাক্রান্ত, পূর্বাপর সঙ্গতিহীন ও নীরস হয়ে পড়ে। উদ্ধৃতি দেবার সময় তা নির্ভুলভাবে দেবার চেষ্টা করতে হবে।

৫) ব্যাখ্যার মতো প্রসঙ্গ নির্দেশের প্রয়োজন বা সুযোগ এখানে নেই। কোনো বিশেষ শব্দের টীকা-টিপ্পনী দেবার প্রশ্নও এখানে অবান্তর। আবার মনে রাখা দরকার, ভাবসম্প্রসারণ মানে প্রবন্ধ রচনা নয়। অতএব প্রবন্ধের অনুসরণে কলেবর বৃদ্ধির প্রয়োজন এখানে নেই। মনে রাখা দরকার, প্রকৃতির দিক থেকে না হোক্‌, আকৃতির দিক থেকে ব্যাখ্যার সঙ্গেই বরং ভাবসম্প্রসারণের সাদৃশ্য বেশি।

৬) উচ্ছ্বাসবিহীন ভাষায় লিখতে হবে। তবে এই ভাষা সাহিত্য গুণান্বিত হওয়া উচিত। সারসংক্ষেপ বা বস্তু-সংক্ষেপের মতো নিরলঙ্কার ভাষা ব্যবহারের এখানে প্রয়োজন নেই।

৭) অনুচ্ছেদ করে-প্রথম অনুচ্ছেদে মূল বক্তব্য বিষয়, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বক্তব্য বিষয়ের সমর্থনে উদাহরণ এবং তৃতীয় অনুচ্ছেদে বক্তব্য বিষয় সম্বন্ধে মন্তব্য বা নিজের অনুভূতির পরিচয় প্রকাশ করা বাঞ্ছনীয়।

ভাবসম্প্রসারণ লেখার গোড়ার কথা

ভাবসম্প্রসারণ লেখার গোড়ার কথা

ভাবসম্প্রসারণ বলতে বোঝায় কোন পদ্যাংশ বা গদ্যাংশের মধ্যে যে ভাবটি সংগুপ্ত থাকে, তা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে বলা। অনেক সময় বিশেষ কোনো বাক্য বা কবিতার বিশেষ কোনো পঙ্‌ক্তির মধ্যেও বিরাট ভাবব্যঞ্জনা লুক্কায়িত থাকে। সেই ব্যঞ্জনার মর্ম উদ্ধার করে সবিস্তারে তা প্রকাশ করাই হল ভাবসম্প্রসারণের তাৎপর্য।

নানা ধরনের বিষয় ভাবসম্প্রসারণের উপজীব্য হতে পারে। মানব প্রকৃতির বিচিত্র দিক, ঈশ্বর অনুভূতি, প্রকৃতির রূপ-রস ও মহিমা, সমাজ সমস্যা, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রসঙ্গ, বৈজ্ঞানিক বিষয়, সৃষ্টি-রহস্য ইত্যাদি অজস্র রকম প্রসঙ্গ ভাবসম্প্রসারণের জন্যে প্রদত্ত গদ্যাংশ বা পদ্যাংশে থাকতে পারে। অনেক সময় মূল ভাবটি রূপক বা প্রতীকের আড়ালে থেকে যায়। সে সব ক্ষেত্রে রূপ-বিশ্লেষণ বা প্রতীক উন্মোচন করে আসল বক্তব্যটি বুঝিয়ে বলতে হবে।