বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভূগোল তথ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভূগোল তথ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩

এভাবে প্রেতাত্মা তার নিজের খুনিকে ধরিয়ে দিয়েছিল

ভূত বলতেই, সবাই ভয়ের কোন বিষয় বা আলৌকিক কোন কিছুর কথা মনে করেন, কিন্তু সাহিত্য অন্য কথা বলছে, সহিত্যে ভূত হয় ভালো প্রেমিক, কখনও বা সে মানুষকে বর দেয়, আবার নিজের খুনিকেও সে ধরিয়ে দেয়।বাস্তবেও এ রকম এক ভূতের গল্প প্রচলিত আছে, যেখানে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নায়ক হ্যামলেটের বাবার মতো নিজের খুনিকে নাকি ধরিয়ে দিয়েছিল! পরে যদিও সেই ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল।

প্রায় ২০০ বছর আগে এই ভূতের আবির্ভাব হয়েছিল। আবার এই ভূতকে কেন্দ্র করে এক অঞ্চলের মানুষ এখন উৎসব পালন করে থাকেন। কিন্তু একটি প্রশ্ন সবার কাছে এসে পড়ে - কিভাবে সম্ভব ভূত তার খুনিকে ধরিয়ে দিল? অবশ্য এই পৃথিবীতে সবই সম্ভব, আসুন সেই ঘটনার কথাই জেনে নিই এবার।

এই গল্প ফ্রেডরিক ফিশারের। ফ্রেডরিক ছিলেন ইংল্যান্ডের এক ব্যবসায়ী। একটি দোকান ছিল তাঁর। কিভাবে জানা যায় না, তিনি জাল নোট রেখেছিলেন নিজের দোকানে। ফলে তার লেনদেনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন ফ্রেডরিক।১৮১৫ সালে  তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ইংল্যান্ডের আদালত থেকে। শোনা যায় সে সময় ইংল্যান্ডের বেশীরভাগ আসামীকেই অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হত।ফ্রেডরিককেও তাই করা হয়েছিল।ফ্রেডরিক পড়াশোনা জানতেন। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে লেগে পড়েছিলেন।

১৮২২ সালে ফ্রেডরিকের ১৪ বছরের সাজার অর্ধেক মেয়াদ শেষ হলে, তিনি জামিনের আবেদন করেন। অস্ট্রেলিয়ায় কিছু জমিজমা কেনার অনুমতিও চান। প্রশাসন তাঁকে অনুমতি দিয়েছিল। এরপরেই ফ্রেডরিক সিডনির অদূরে ক্যাম্পবেলটাউনে বেশ কিছু জমিজমা কেনেন। তার মধ্যে চাষের জমিও ছিল। তিনি একটি কাগজের কলও খুলেছিলেন।

আবার ১৮২৫ সালে স্থানীয় এক কাঠের মিস্ত্রির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে ফ্রেডরিক। এরপর তাঁকে ফের জেলে পাঠানো হয়। খামার, চাষের জমি নিয়ে তিনি কি করবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়েন ফ্রেডরিক। প্রতিবেশী জর্জ ওরালের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁর জিম্মাতেই নিজের জমিজমা রেখে ফ্রেডরিক জেলে যান। তিনি জর্জকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নিও দিয়ে যান। সে বার ছমাস জেলে ছিলেন ফ্রেডরিক। জেল থেকে বেরিয়ে জর্জের কাছে নিজের জমি ফেরত চান। জর্জ সেই জমি ফেরাতে অস্বীকার করেন। দাবি করেন, ওই জমি তাঁর।

১৮২৬ সালের ১৭ই জুন উধাও হয়ে যান ফ্রেডরিক। জর্জ স্থানীয়দের জানান, আবার ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়েছেন তিনি। যাওয়ার আগে নিজের সব সম্পত্তি, জমি তাঁর কাছে বিক্রি করে দিয়ে গিয়েছেন। ফ্রেডরিকের ঘোড়াও তিনি দখল করে নেন।

এই ঘটনার ঠিক চার মাস পর ফ্রেডরিকের এক স্থানীয় বাসিন্দা জন ফার্লে অদ্ভুত এক দাবি করেন। তিনি জানান, তিনি ফ্রেডরিকে দেখেছেন। একটি সেতুর রেলিংয়ে বসেছিল ফ্রেডরিক। তিনি এ-ও দাবি করেন, ফ্রেডরিক কোনও কথা বলেনি তাঁর সঙ্গে। শুধু পিছনে মাঠের দিকে নির্দেশ করে উধাও হয়ে যান। তাঁর মতে তিনি ফ্রেডরিকের ভূত দেখেছেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন একজন মানুষ অত তাড়াতাড়ি উধাও হতে পারে না।

প্রথমে জনের দাবি সকলে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু পুলিশের মনে ক্রমে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। সেতুর ধারে ওই মাঠে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ, যে দিকে নির্দেশ করেছিল ফ্রেডরিকের ভূত। তল্লাশির পর ওই মাঠ থেকে উদ্ধার হয় ফ্রেডরিকের দেহাবশেষ। তদন্তে নামে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় জর্জকে। জর্জ স্বীকার করে নেয় খুনের কথা। আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। যদিও আদালতে ভূতের তত্ত্ব কোনও প্রমাণ হিসাবে গৃহীত হয়নি।

জর্জের শাস্তির পর একটি প্রশ্ন উঠেছিল। সত্যিই কি ভূত দেখেছিলেন জন ফার্লে। অনেকেই মনে করেন, ভূতের গল্প তৈরি করেছিলেন খোদ ফার্লে। সম্ভবত তিনি ফ্রেডরিককে খুন হতে দেখেছিলেন। কী ভাবে বিষয়টি প্রকাশ করবেন, বুঝতে পারেননি। তাই ভূতের গল্প ফেঁদেছিলেন। অন্যদিকে তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা ছিল, খুনের কোনও সাক্ষী ভূত সেজেছিলেন। তিনি হয়তো জর্জের হাতে ফ্রেডরিককে খুন হতে দেখে ফেলেছিলেন। পুলিশকে সে কথা জানানোর সাহস পাননি। তাই ভূত সেজে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।

অবশ্য সিডনির এক সাংবাদিক দাবি করেছিলেন, সেতুর ধারে আদতে কেউ ভূত দেখেননি। পুলিশি তদন্ত, বা আদালতে বিচারের নথিতে তার কোনও উল্লেখই নেই। ওই সেতুর রেলিংয়ে রক্তের দাগ দেখে পুলিশই নাকি তল্লাশি শুরু করে। তার জেরেই পাশের মাঠ থেকে ফ্রেডরিকের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়।

যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্রেডরিকের ভূতের গল্প স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে। সেই নিয়ে বহু জনশ্রুতি তৈরি হয়। সেই ভূতকে নিয়ে ক্রমে উৎসবে মাতেন ক্যাম্পবেলটাউনের বাসিন্দারা।প্রতি বছর নভেম্বর মাসে ফেস্টিভ্যাল অফ ফিশারস গোস্ট পালন করেন ক্যাম্পবেলটাউনের বাসিন্দারা। সেখানে ভূত সেজে ঘুরে বেড়ান। স্মরণ করেন ফ্রেডরিকের সেই ভূতকে। যে খালের ধারে মাঠে ফ্রেডরিকের দেহ মিলেছিল, সেই খালের নামও রাখা হয়েছিল ফিশার গোস্ট ক্রিক

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩

ভারতের কেবল এই অঞ্চলে বর্ষাকালে মাটির উপর উঠে আসে হিরে

হিরে, বিশ্বের অন্যতম একটি বহু মূল্যবান বস্তু। তাই এর খনন কার্যও বেশ কঠিন। কিন্তু জানলে অবাক হতে হয় আমাদের এই ভারতবর্ষেই এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট  সময়ে মাটির উপরে এমন-ই উঠে আসে এই দামী বস্তুটি। অর্থাৎ কোন খননকার্য নয় শুধু মাটির উপরে একটু খোঁজা খুঁজি করলেই পাওয়া যায় হিরে।

ভারতের অন্ধপ্রদেশের অনন্তপুর এবং কুর্নুল জেলার মধ্যেকার এলাকায় মূলত এইভাবে হিরের খোঁজ মেলে।গ্রীষ্মের রুক্ষ জমিতে অঝোরে বৃষ্টি নামলেই নরম মাটি সরে গিয়ে বেরিয়ে পড়ে হিরে-সহ নানা দামি রত্ন।খরিফ মরসুম শুরুর আগে চাষের জমিতে কাজ করতে গিয়ে এভাবেই ভাগ্য বদলে গিয়েছিল অন্ধ্রপ্রদেশের এক দিনমজুরের। জমিতে কোদাল চালাতেই হাতে উঠে এসেছিল একটি হিরে। সেটি দুকোটি টাকায় বিক্রি করেছিলেন তিনি।

বর্ষা এলেই রায়লসীমা-সহ অন্ধ্রের নানা এলাকায় হিরে খোঁজার মরসুম শুরু হয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে জন্নাগিরি গ্রামে ২ কোটি ৪ লক্ষ টাকার হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন তিন জন।গত বছর একটি হিরে খুঁজে পাওয়ায় অন্ধ্রের এক কৃষিজীবীর ঘরে ঢুকেছিল ৪০ লক্ষ টাকা। আবার ৩০ ক্যারাটের হিরে মেলায় অন্য এক কৃষক ১ কোটি ৪ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে একটি হিরের জন্য ৬০ লক্ষ টাকা পান এক কৃষক। তার পরের বছর আবারও অন্ধ্রের দুই বাসিন্দার ভাগ্যবদল হয়েছিল এই হিরের মাধ্যমে। তাঁরা দুটি হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন । তবে সে দুটি যথাক্রমে পাঁচ এবং ছলক্ষ অর্থমূল্যের হলেও তাঁরা নাকি মোটে দেড় লক্ষ এবং ৫০ হাজার টাকায় তা বিক্রি করেছিলেন।

রায়লসীমা এলাকায় দামি রত্নের খোঁজ পাওয়া স্বাভাবিক বলে অনেকে মনে করেন। মধ্যযুগের বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সময় হিরে-জহরতের জন্য খ্যাতি ছিল রায়লসীমা অঞ্চলের। কথিত আছে সে আমলে শাক-সব্জি বিক্রির মতো হিরে-সহ নানা দামি রত্নের বিক্রিবাটা চলত হাম্পিতে। যদিও সময়ের সাথে এই দামি রত্ন কেনাবেচার নিয়মের বদল এসেছে। তবে দশকের পর দশক ধরে কুর্নুল জেলার তুগ্গলি, জন্নাগিরি, মদ্দিকেরা এবং অনন্তপুরের বজ্রকরুর এলাকায় বর্ষাকালে হিরের ফসল তোলেন বহু মানুষ।

অন্ধ্রপ্রদেশের নানা প্রান্ত থেকে বর্ষায় এই এলাকাগুলিতে জড়ো হন হিরেশিকারিরা। স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য কর্নাটক, তেলঙ্গানা থেকেও রায়লসীমায় ভিড় করেন অনেকে মানুষ। আবার এই ভিড়ের মধ্যে হিরে ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত থাকেন। আর তাদের সঙ্গে হিরেশিকারিদের রফা করানোর জন্য হাজির হয়ে যান মধ্যস্থতাকারীরাও।

অন্যদিকে অন্ধ্রের পর্যটন ব্যবসায়ীরাও এই হিরে খোঁজার মরসুমে ফয়দা তোলেন। কারণ, হিরের টানে বর্ষায় রায়লসীমায় ঘাঁটি গড়েন অনেকেই। তাঁদের কেউ এলাকায় তাঁবু খাঁটিয়ে রাত কাটান। অনেকে আবার আশপাশের হোটেল, লজ, অতিথিশালায় গিয়ে ওঠেন। ফলে হোটেল বা লজমালিকদের এই মরসুমে রমরমা ব্যবসা চলে।

মূলত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হিরে খোঁজতে ভিড় করেন হাজার হাজার স্থানীয় এবং ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হল হিরে খোঁজার এই মরসুমে প্রশাসনের তেমন বিশেষ কড়াকড়ি লক্ষ্য করা যায় না। দামি রত্ন হাতে এলেই ব্যবসায়ীদের কাছে তা বিক্রির করানোর চেষ্টা শুরু করেন মধ্যস্থতাকারীরা। ফলে তাঁদের পাল্লায় পড়ে অনেক সময় বহুমূল্য রত্নও বেশ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন হিরের খোঁজে আসা মানুষজন।

সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জন্নাগিরি গ্রামের এক বাসিন্দার দাবি, চাষের জমিতে একটি হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। তবে পুলিশ-প্রশাসনের থেকে হেনস্থার ভয়ে এবং নিজের সুরক্ষার কথা ভেবে সেটি দেড় কোটি টাকায় বিক্রি করেন। তাঁর সন্দেহ, ওই হিরের দাম আরও বেশি। ওই বাসিন্দা আরও দাবি করেন, হিরে বিক্রির পর পুলিশকে ৬ লক্ষ এবং রাজস্ব দফতরকে ৪ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। বাকি টাকায় তাঁর যাবতীয় ঋণ শোধ করেন তিনি।

অবশ্য বর্ষার এই মরসুমে অন্ধ্রের জমিতে হিরে কেন পাওয়া যায় তার কারণ খুঁজতে অন্ধ্রের মাটিতে কোনও গবেষণা কিন্তু আজ পর্যন্ত হয়নি। তবে একমাত্র বৃষ্টির মরসুমেই জমির উপরে উঠে আসে দামি পাথরগুলি। খনি বিশেষজ্ঞ এবং ভূতত্ত্ববিদ্‌দের মতে, এই এলাকাগুলিতে সরকারি উদ্যোগে গবেষণা চালানো উচিত।

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০২৩

এবার ভারতে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি ঘটানো সম্ভব হচ্ছে

ভারতবর্ষ, বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল একটি দেশ। বৃষ্টিহীনতায় এদেশের জনজীবন চরম সংকটের মধ্যে পড়ে। বর্ষার বৃষ্টি হলে, তবেই ভারতের রাজধানী দিল্লী এবং তার আশপাশের অঞ্চলের হাঁসফাঁস করা দূষণ, অনেকটা কমে যায়। উত্তরপ্রদেশের বহু অঞ্চলে বৃষ্টির অপেক্ষায় হা-হুতাশ করা মানুষজনের জন্য তাই এবার এসেছে সুখবর। সম্প্রতি ওই রাজ্যের বুন্দেলখণ্ডে মেঘের বীজ পুঁতেছেন ভারতের আইআইটি কানপুরের গবেষকরা।এজন্য তাঁদের ছয় বছর সময় নষ্ট করতে হয়েছে।

শুধু গ্রীষ্মেই নয়, বায়ুদূষণের জেরে কনকনে শীতেও কাবু হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। রাজধানী দিল্লী এবং তার  আশপাশের অঞ্চলে শীতের মরসুমে দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে যায়। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইআইটি কানপুরের একটি প্রকল্পে সায় দিয়েছিল কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক। সেই প্রকল্পের আওতায় মেঘের উপরে মেঘের বীজ বোনা হয়েছে। মেঘের বীজ বপনের বিষয়টি, আসলে চাষবাসের জন্য ক্ষেতে যেমন ফসলের বীজ ছড়িয়ে অথবা পুঁতে দেওয়া হয়, বৃষ্টি নামানোর জন্য খানিকটা সে ভাবেই মেঘের উপর কৃত্রিম মেঘ তৈরি করার চেষ্টা করেন গবেষকেরা।

কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটাবার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আবহাওয়ায় খানিকটা রদবদল করা হয়। সে জন্য ড্রোনের মাধ্যমে মেঘের উপর সিলভার আইয়োডাইডের মতো রাসায়নিক অথবা ড্রাই আইস কিংবা খাওয়ার নুন ছড়িয়ে দেন গবেষকেরা। যাতে সেই মেঘের স্তর গাঢ় করা যায়। তার থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বায়ুতে যে যৎসামান্য জল থাকে তা মেঘে ছড়ানো রাসায়নিকের কণার আশপাশে ঘনীভূত হয়ে স্ফটিকের মতো বরফের দানার আকার নেয়। এর থেকেই কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে যায়। এই পদ্ধতিকে নিউক্লিয়েশন বলা হয়।

মেঘের উপর রাসায়নিক পদার্থ ছড়ানোর জন্য ড্রোন ছাড়াও বিমান অথবা রকেট ব্যবহার করেন গবেষকেরা। ভারতে কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য ২৮শে জুন, বুধবার নিজেদের ক্যাম্পাসে একটি পরীক্ষা করে আইআইটি কানপুর। তাতে সাফল্যও আসে। বুধবার ক্যাম্পাস থেকে ৫,০০০ ফুট উঁচুতে বিমান উড়িয়ে মেঘের উপর রাসায়নিক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে মেঘের স্তরকে আরও ঘন করা যায়। যা বৃষ্টি আনতে অনুঘটকের কাজ করবে।

অবশ্য মেঘের বীজ বোনার এই পদ্ধতি নতুন নয়। ১৯৪৬ সালে প্রথম বার এই পদ্ধতিতে বীজ বুনেছিলেন আমেরিকার বহুজাতিক সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিক। সংস্থার তরফে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন রসায়নবিদ তথা আবহবিজ্ঞানী ভিনসেন্ট স্যাফার।ভিনসেন্টের কাজের ছবছর পর কলকাতায় এই পদ্ধতিতে কৃত্রিম মেঘ তৈরি করেছিলেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এসকে বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ৬০ বছরে কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশে এবং মহারাষ্ট্রে মূলত খরা রুখতে অথবা বাঁধের জলস্তর বৃদ্ধি করতে এই পদ্ধতিতে কৃত্রিম মেঘসঞ্চার করা হয়েছিল।

পুণের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিয়োরোলজি (IITM)-এর অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী জেআর কুলকার্ণী বলেন, ‘‘সাধারণত কৃত্রিম মেঘ তৈরি করতে প্রাকৃতিক মেঘের প্রয়োজন হয়। তবে যে মেঘগুলি উলম্ব আকৃতির হয়, তার উপরেই মেঘের বীজ বোনা যায়।’’কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টির জন্য যে ধরনের মেঘের সাহায্য নেওয়া হয়, সেগুলিকে পরিবাহী মেঘ বলা হয়। তবে বৃষ্টি নামাতে দিগন্ত বিস্তৃত স্তরীভূত মেঘের উপর এই বীজ বোনা হয় না বলে জানিয়েছেন কুলকার্ণী।

২০১৭ সালে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানোর একটি প্রকল্পের ছাড়পত্র দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। সে সময় মহোবা শহরে মেঘের বীজ বোনার কাজে রাজি হয়েছিলো চিনের গবেষকেরা।প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে চিনের গবেষকেরা এই প্রকল্পে কাজ করতে চেয়েছিলো। তবে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে এই প্রকল্পের পদ্ধতি সম্পর্কে কোনকিছু জানাতে তারা রাজী ছিল না। ফল শেষমেশ এই প্রকল্পটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর আইআইটি কানপুরের দ্বারস্থ হয় সরকার।

চিনের গবেষকরা প্রকল্প ছেড়ে বেরিয়ে গেলে ২০১৭ সালের ২৬শে জুন উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে এই প্রকল্পের সবিস্তার জানিয়ে আবেদন করে আইআইটি কানপুর। বায়ুদূষণ এবং খরার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে থাকা বুন্দেলখণ্ডে প্রকল্পের পরীক্ষায় রাজি হয়ে যায় উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার।এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মণীন্দ্র আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘‘বৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের পরীক্ষা সফল হয়েছে।’’

তবে যে প্রযুক্তিতে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানো যায়, তার পদ্ধতি বাজারে উপলব্ধ থাকলেও তা কাজে লাগাতে ছবছর সময় লাগার মূল কারণ হল- বিমান সমস্যা। আসলে গবেষকদের দাবি,যে বিমানে করে যন্ত্রপাতি নিয়ে মেঘের বীজ বোনা হত, সেই বিমানটিই জোগাড় করতে পারেননি তাঁরা।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর থেকে বিমান জোগাড়ের চেষ্টা করলেও তাতে নাকি খুব একটা সাড়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। এরপর ৫০ লক্ষ টাকার চুক্তিতে একটি বিমান দিতে রাজি হয়েছিল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল)। তবে অন্যান্য যন্ত্রপাতির জন্য নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকায় ওই প্রকল্প আটকে যায় বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আগরওয়াল।

এই প্রকল্পে বিমানের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক তথা পরিবেশ বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সচিদানন্দ ত্রিপাঠী। বিমানভাড়ার পাশাপাশি মেঘের বীজ ছড়াতে বিমানের সঙ্গে যন্ত্রপাতি লাগানোর খরচও রয়েছে। ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, বীজ বুনতে প্রতি ঘণ্টায় ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়। তিনি আরো জানিয়েছেন, ইজ়রায়েল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আমেরিকায় মেঘের বীজ থেকে বৃষ্টির ফসল পেয়েছেন গবেষকেরা।

বুধবার, ৫ জুলাই, ২০২৩

শুধু অর্থের অভাব, নয় পুষ্টির জন্যও এখানকার মানুষ মাটির রুটি খায়

উওর আমেরিকা মহাদেশ বলতে আমরা বেশ সচ্ছল অর্থ সম্পন্ন জীবনধারার কথা মনে করে থাকি, কারণ এখানে রয়েছে আমেরিকা কানাডার মতন ধনী দেশ। তা সত্ত্বেও বিশ্বের সবচয়ে গরীব দেশ রয়েছে এই উত্তর আমেরিকা মহাদেশে।

ক্যারিবিয়ান সাগরের অ্যান্টিলিস দ্বীপপুঞ্জের হিস্পানিওলা দ্বীপে, কিউবা ও জামাইকার পূর্বে, এবং বাহামা, তুর্কস ও কাইকোস দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে অবস্থিত "রিপাপলিকান অফ হাইতি" দেশকে বিশ্বের অন্যতম আমেরিকান মহাদেশের গরিব দেশ হিসাবে গণ্য করা হয়। এই হিস্পানিওলা দ্বীপের একটা অংশে হাইতি দেশ এবং বাকি  বৃহত্তম একটা অংশে রয়েছে ডমিনিকান রিপাবলিক দেশ। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হল ডমিনিকান রিপাবলিক হল একটি সচ্ছল ঠিকঠাক অর্থ সম্পন্ন দেশ। অন্যদিকে হাইতি হল বিশ্বের সবচেয়ে গরীব দেশ। সুতরাং হিস্পানিওলা দ্বীপের একটা অংশ বেশ সচ্ছল কিন্তু আর একটা অংশ রয়েছে বেশ দুর্দশায় পরিপূর্ণ। ছোট এই দেশের বাসিন্দাদের একাংশ এতটাই গরিব যে, অনেক সময় কাদা দিয়ে তৈরি রুটি খেয়েও তাঁরা দিন কাটান।

ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে এই দ্বীপরাষ্ট্রের আয়তন মাত্র ২৭,৭৫০ বর্গ কিমি। মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ২০ লক্ষের কাছাকাছি।হাইতির অন্যতম গরিব এলাকা শার্লিন ডুমাস। এই বস্তি এলাকার মানুষ দুপুরের খাবার হিসাবে সাধারণত এই বিশেষ কাদার রুটি খেয়ে থাকেন।মূল্যবৃদ্ধির কারণে হাইতির অনেক মানুষের এক বেলার খাবার জোটানোরও ক্ষমতা নেই। তাই তাঁরা পেট ভরানোর তাগিদে এই রুটিকেই অবলম্বন করে নিয়েছেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যারিবিয়ান সাগরের দ্বীপরাষ্ট্রগুলিতে গত দুই দশকে খাবারের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৭ সালে হওয়া ঘূর্ণিঝড় এবং ২০১০ সালে হওয়া ভূমিকম্পের কারণে রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে হাইতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে এখনও ঠিক ভাবে বেরিয়ে আসতে পারেনি এই দেশ। আর সেই কারণে এখনও নাকি সে দেশের বহু মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কাদার তৈরি রুটির উপর নির্ভর করে রয়েছেন।

তবে শুনলে অবাক হতে হয় যে, কাদার রুটি তৈরি করতে যে মাটি লাগে, তা নিয়েও রীতিমতো ব্যবসা ফেঁদে বসেছে হাইতির এক দল মানুষ। হাইতিতে যে কাদা দিয়ে রুটি তৈরি হয়, তা নিয়ে আসা হয় হিনচে শহর থেকে। বিক্রি হয় লা স্যালাইন বাজারে। বাজারের শাকসব্জি এবং মাংসের পাশাপাশি বিক্রি হয় এই মাটিও।

প্রথমে বাজার থেকে সেই শুকনো মাটি কিনে আনা হয়। মাটি গুঁড়ো করে সেখান থেকে বাদ দেওয়া হয় নুড়ি-পাথর। এরপর সেই মাটিকে আরও মিহি করে গুঁড়ো করে তা জলে ভিজিয়ে কাদার মণ্ড তৈরি হয়। এরপর কাদার ওই মণ্ডে নুন এবং মশলা মিশিয়ে রুটির মতো গোল করে বেলে নেওয়া হয়। গোলাকৃতি কাদার রুটি তৈরি হয়ে গেলে তা শুকোনোর জন্য রোদে ফেলে রাখা হয়।

কাদার রুটি রোদে দু-তিন দিন শুকিয়ে নেওয়ার পর তা খাওয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়। অনেক সময় তা বাজারেও বিক্রি করা হয়। তবে খুবই সামান্য মূল্যে।হাইতির বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র কম দামের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের জন্যও তাঁরা কাদার রুটি খেতে পছন্দ করেন।

হাইতির অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং শিশুদের জন্য কাদার রুটি অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, কাদার রুটি অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং শিশুদের শরীরে অ্যান্টাসিড এবং ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূর্ণ করে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা এই রুটি খেলে সন্তানরা স্বাস্থ্যবান হবে বলেও প্রচলিত রয়েছে সে দেশে।

যদিও চিকিৎসকদের মতে, হাইতিবাসীদের এই ধারণা ভ্রান্ত। কাদার রুটি খেলে উপকারের থেকে অপকার বেশি বলেই মত চিকিৎসকদের।চিকিৎসকদের মতে, দিনের পর দিন কাদার রুটি খেলে দাঁতের ক্ষয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ব্যথা-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজির অধ্যাপক জেরাল্ড এন ক্যালাহানের মতে, কাদার রুটিতে মারাত্মক পরজীবী এবং বিষাক্ত পদার্থ থাকতে পারে। তবে এটি গর্ভের ভ্রূণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে দাবি করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্বাদ এই রুটি খাওয়ার পরই তা মুখের সমস্ত আর্দ্রতা শুষে নেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই স্বাদ অনুভব করা যায়।

মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০২৩

এই কারণেই ভারতে এবছর খরা হতে পারে

 

শেষ বার তাকে দেখা গিয়েছিল বছর সাতেক আগে। শেষবার ২০১৫ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে এসেছিল এল নিনো। তারপর ২০২৩ সালে আবার তার প্রত্যাবর্তন হয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ভূগোল নিয়ে যাঁরা নিয়মিত চর্চা করেন, সমুদ্রের জলের গতিবিধির দিকে যাঁরা নজর রাখেন, তাঁরা ছাড়া এল নিনো সম্পর্কে হয়তো কারো ধারণা নেই।আসলে এটি একটি উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত। যার প্রভাব পড়ে বিভিন্ন দেশের আবহাওয়ায়।

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূল ঘেঁষে পেরু, ইকুয়েডর বরাবর কোন কোন বছর ডিসেম্বর মাস নাগাদ এক প্রকার উষ্ণ দক্ষিণমুখী স্রোতের সৃষ্টি হয়। এরই নাম এল নিনো।এল নিনো একটি স্প্যানিশ শব্দ। এর অর্থ ছোট্ট ছেলে। পেরু, ইকুয়েডর উপকূলেই মাঝে মাঝে এল নিনোর বিপরীত একটি শীতল স্রোতও সৃষ্টি হয়। তার নাম লা নিনা। দুই স্রোতেরই প্রভাব পড়ে বিশ্বের আবহাওয়ায়।

এল নিনোর প্রভাবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে উত্তরমুখী শীতল পেরু স্রোত বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর ফলে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র সাময়িক ভাবে নষ্ট হয়ে যায়। ওই অঞ্চলে মৎস্যচাষের ব্যাঘাত ঘটে। সামুদ্রিক প্রাণী এবং পাখিদের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে এই স্রোতের প্রভাবে।দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে এল নিনো নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। যার ফলে ওই এলাকায় অসময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তবে এই উষ্ণ স্রোতের প্রভাব কেবল পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকে না।

নিরক্ষরেখা বরাবর প্রশান্ত মহাসাগরের জল এল নিনোর প্রভাবে ধারাবাহিক ভাবে উষ্ণ হতে শুরু করে। এর ফলে কোথাও অতিবৃষ্টিতে বন্যা, কোথাও অনাবৃষ্টিতে খরার পরিস্থিতি তৈরি হয়।আমেরিকার ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনস্ট্রেশন (এনওএএ) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর দেখা মিলেছে। ২০০০ সাল থেকে এই নিয়ে পঞ্চম বার উষ্ণ স্রোতটির আবির্ভাব হল।

ভারতে গত ১০০ বছরে ১৮ বার খরা হয়েছে। এই ১৮টি খরার মধ্যে ১৩টির নেপথ্যেই রয়েছে এল নিনোর হাত। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জল অতীতে ভারতে খরা ডেকে এনেছে বার বার।পরিসংখ্যান বলছে, ১৯০০ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরে সাত বার এল নিনোর সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ১৯৫১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এল নিনোর দেখা মিলেছে অন্তত ১৫ বার।এল নিনোর এই ১৫টি বছরের মধ্যে ৯ বার ভারতে বর্ষাকালে পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টি হয়নি। স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম বৃষ্টি হয়েছে এই বছরগুলিতে।

পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ভারতের কৃষি ব্যবস্থা প্রভূত ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ঠিক সময়ে সংশ্লিষ্ট ফসল উৎপাদিত হয় না। চাহিদা অনুযায়ী জোগান না থাকায় মূল্যবৃদ্ধিও হয়ে পড়ে অবধারিত। অতীতে এল নিনোর বছরগুলিতে এ ভাবেই ভুগতে হয়েছে ভারতকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাত বছর পর এল নিনো ফিরেছে। তার ফলে ভারতের আবহাওয়ায় এই উষ্ণ স্রোত কতটা প্রভাব থাকবে, কতটাই বা এদেশে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না?বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে  আশঙ্কায় রয়েছেন। তবে আরও কিছু দিন পর ভারতের উপর এবছরের এল নিনোর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০২৩

একই গরমে কলকাতায় মরছে মানুষ কিন্তু রাজস্থানে নয়- এমনটা হয় কেন?

 

আজকের ভারত তথা পৃথিবীর উষ্ণতা ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী ছাপিয়ে যাচ্ছে আবার কোথাও-বা ৫০ ডিগ্রী তাপমাত্রা উঠছে। কিন্তু স্থান বিশেষে কোথাও ৪০ ডিগ্রী-তেই হচ্ছে মানুষের মৃত্যু আবার কোথাও ৫০ ডিগ্রীতেও মানুষ রয়েছে স্বাভাবিক। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল - এমনটা হয় কেন? তারই উত্তর খুঁজবো এই ভিডিওতে।

ভারত গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। তর্কের খাতিরে হলেও এখানে তাপের প্রাবল্য মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতির দিকে চোখ রাখলে দেখা যাচ্ছে, অনেক নাতিশীতোষ্ণ কিংবা শীতপ্রধান দেশেও এ বছর গরম-এর মাত্রা ছাড়িয়েছে। আর সেই সব দেশে গরমের সামন্য প্রবল্যতেই মানুষ হচ্ছে অসুস্থ। আবার এবছরে অর্থাৎ ২০২৩ সালে সময়ের অনেক আগেই চলে এসেছে গ্রীষ্মকাল।

তবে ভারতের রাজস্থানের থর মরুভূমিতে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বরাবরই একটু বেশি থাকে। গ্রীষ্মকালে সেখানে গড় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও প্রায়ই তা ছাপিয়ে যায় ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি। ২০১৬ সালে থর মরুভূমির সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ উঠেছিল ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পরিসংখ্যান বলছে, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু ৫১ হোক বা ৫৮, কোনও ক্ষেত্রেই তেমন প্রাণহানির কোন খবর নেই। অথচ, এই তীব্র গরম কলকাতা কিংবা দিল্লিতে অনায়াসে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক দিনের তাপপ্রবাহে ৪১ কিংবা ৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেই একাধিক মৃত্যুর খবর এসেছে।

মরুভূমিতে অতিরিক্ত উষ্ণতায়ও মৃত্যু নেই কিন্তু সমভূমিতে তার চেয়ে কম উষ্ণতায় হচ্ছে মৃত্যু। এর নেপথ্যে রয়েছে বিজ্ঞানের কিছু অকাট্য যুক্তি।

কোন অবস্থানে তাপের কেমন প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর। আর্দ্রতা এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। মানুষের শরীর তাপ পায় মূলত সূর্য থেকে। এছাড়া শরীরের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়, শারীরিক ক্রিয়া থেকে তাপ উৎপন্ন হয়ে থাকে। শরীর থেকে অতিরিক্ত তাপ বাইরে বার করে দেওয়াও প্রয়োজন। ঘামের মাধ্যমে যে কাজ সম্পূর্ণ হয়। ঘাম বাতাসে মিশে গিয়ে শরীর ঠান্ডা করে।কিন্তু বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম বাষ্পীভূত হতে পারে না। কারণ অধিক আর্দ্রতার অর্থ হল, বাতাস আগে থেকেই জলীয় বাষ্পে পূর্ণ রয়েছে। ফলে আর্দ্রতার কারণে অধিক তাপমাত্রায় মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হয়।

ঘাম শরীর থেকে সমস্ত শক্তি শুষে নেয়। এর ফলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে তাপের কারণে মৃত্যুর অন্যতম কারণ এটাই। সম্প্রতি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাপের এই প্রাণঘাতী প্রভাব দেখা গিয়েছে।অন্য দিকে, মরুভূমি বা অপেক্ষাকৃত শুষ্ক এলাকার বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক কম থাকে। মরুভূমির বাতাসে জলীয় বাষ্প প্রায় থাকে না বললেই চলে। তাই সেখানে তাপমাত্রার পারদ চড়লেও বাসিন্দাদের শরীরে ঘাম হয় কম। শুকনো গরমে সমস্যা হয় ঠিকই, কিন্তু তা থেকে মৃত্যুর নজির কম।

এছাড়া মরুভূমি সংলগ্ন এলাকায় যাঁরা বসবাস করেন, তাঁদের শরীর উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করার জন্য প্রস্তুত হয়েই থাকে। বছরের বেশির ভাগ সময়েই তাঁরা রয়েছেন রোদ আর তীব্র গরমের মাঝে। শরীর তার জন্য প্রস্তুত থাকে।কিন্তু নিরক্ষীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের শরীরে তাপ সহনের ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে ইদানীং বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা অতীতের নজির ছাপিয়ে গেছে। ফলে আকস্মিক আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন সহ্য করতে না পেরে মৃত্যু হচ্ছে অনেকের।

উপরুক্ত কারণগুলির জন্যই মরুভূমিতে তাপ সহ্য করে দিব্যি দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়,কিন্তু আর্দ্রতার কারণে অন্যান্য অঞ্চলে ওই একই তাপমাত্রা হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী।

বুধবার, ১০ মে, ২০২৩

সাদা সোনার আবারও সন্ধান মিলল ভারতে

 

৪ মাসের ব্যবধানে আবারও দেশের মাটিতে সন্ধান মিলল সাদা সোনার। জম্মু ও কাশ্মীরের পর এ বার রাজস্থানেও পাওয়া গেল লিথিয়াম। যা নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজস্থানের দেগানা এলাকায় লিথিয়ামের খনির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে সে রাজ্যের সরকারি আধিকারিকরা।

তবে রাজস্থানে কত পরিমাণ লিথিয়ামের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। ভারতীয় ভূ-তাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া)-এর তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে জম্মু ও কাশ্মীরে যে পরিমাণ লিথিয়াম পাওয়া গিয়েছিল, তার থেকে বেশি পরিমাণ লিথিয়াম পাওয়া গিয়েছে রাজস্থানে।

রাজস্থানে যে পরিমাণ লিথিয়াম পাওয়া গিয়েছে, তা দিয়ে দেশে ৮০ শতাংশেরও বেশি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেছেন সরকারি আধিকারিকরা।

তবে ভারতের রাজস্থানে লিথিয়ামের ভান্ডার পাওয়া গেলেও তা খনন করার কাজ খুব একটা সহজ নয়।কারণ লিথিয়াম খননের জন্য চাই প্রচুর জল, আর রাজস্থানে জলের সংকট রয়েছে, তাই এই উত্তোলনের প্রক্রিয়া কতটা কৃতকার্য হবে তা এখনই বলা কঠিন।

শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩

পৃথিবীতে থাকা একমাত্র নদী যার জলে রয়েছে রামধনু


 বিশ্বের একমাত্র রঙিন নদী

পৃথিবীতে এমন অনেক নদী আছে যার জল স্বচ্ছ। কিন্তু স্বচ্ছতার জন্য বিশ্বে একটি নদীকে রঙিন দেখায়। আর এটাই বোধহয় বিশ্বের একমাত্র রঙিন নদী। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনী, কমলা- সব রঙ-ই রয়েছে এই নদীর জলে। পোশাকি নাম একটা থাকলেও রংবেরঙের জলের জন্য এই নদীকে কেউ বলেন রিভার অফ কালার্স বা রঙিন নদী, কেউ আবার লিকুইড রেনবো বা তরল রামধনু বলে চেনেন নদীটিকে। অনেকের কাছে এই নদী মেল্টেড রেনবো বা গলিত রামধনু। ক্যানিয়ো ক্রিস্টেলসের রংবেরঙের জল দেখার সবচেয়ে ভাল সময় জুলাই থেকে নভেম্বর।

এই নদী রঙিন হবার আসল রহস্য হল নদীর গর্ভে থাকা এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ। নদীর জল এতটাই স্বচ্ছ যে, ওই উদ্ভিদের নানা রঙের প্রতিফলন দেখা যায় নদীর স্রোতে। সূর্যের আলোয় তা আরও ঝলমল করে ওঠে।জলে ডুবে থাকা সেই উদ্ভিদের নাম ম্যাকারেনিয়া ক্ল্যাভিগেরা। নদীখাতের নীচে হাজার হাজার বছরের পুরনো কোয়ার্টজ়াইট শিলাকে আঁকড়ে এই গাছের সংসার।নদীতে খুব বেশি জল থাকলে বা জলের পরিমাণ খুব কমে গেলে রংবেরঙের খেলা আর দেখা যায় না। কম জলে গাছ শুকিয়ে খয়েরি হয়ে যায়। আবার বেশি জল থাকলে নদীর নীচ পর্যন্ত দেখা যায় না। ফলে নদীতে রামধনুও হয়ে যায় গায়েব। কলম্বিয়ার সেরানিয়া দে লা ম্যাকারেনা অঞ্চলের নামকরণও হয়েছে এই উদ্ভিদের নামেই।

আশ্চর্য এই রঙের খেলা দেখতে হলে মধ্য কলম্বিয়ার ভিলাভেন্সিয়ো শহরে পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে আরও একটি বিমানে যেতে হবে লা ম্যাকারেনায়। লিকুইড রেনবো ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য সেখান থেকে মিলবে গাইড।সেরানিয়া দে লা ম্যাকারেনা অত্যন্ত নিরিবিলি একটি পাহাড়ি জনপদ। খুব বেশি মানুষ সেখানে থাকেন না। স্থানীয় কয়েকটি পর্যটন সংস্থা নদীটি পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখান। কোথাও কোথাও রঙিন জলে সাঁতার কাটার সুযোগও মেলে।

প্রকৃতির এই অপরূপ শোভাকে সংরক্ষণের বন্দোবস্তও করেছে কলম্বিয়া প্রশাসন। নদীর জলে বা তার নীচে থাকা গাছগুলির যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই এলাকায় পর্যটকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০২৩

বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থানে যেগুলো রয়েছে

 

সর্বোচ্চ
যেগুলি রয়েছে বিশ্বে

বাঁধ: -



অবস্থানের দিক থেকে- সুইজারল্যাণ্ডের দ্য গ্র্যান্ডস বাঁধ।



উচ্চতার দিক থেকে- তাজাকিস্তানে ভাখস নদীর ওপর
রোগুসকায়া বাঁধ।



রেল সেতু: - ভারতের
জম্বু-কাশ্মীরের চেনাব নদীর উপর বাক্কাল এবং কৌরির মধ্যে অবস্থিত আর্চ রেল সেতু।
সমুদ্রতল থেকে ৩৫৯ মিটার উপরে অবস্থিত এবং এর দৈর্ঘ্য ১৩১৫ মিটার। আর্চ ব্রিজটির
বিশেষত্ব হল এর উচ্চতা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের চেয়েও ৩৫
মিটার বেশি।



সেতু: - চীনের
গুইঝো
 এবং
ইউনান প্রদেশের সীমান্তের মধ্যে অবস্থিত ডুজ ব্রিজ
, যাকে বেইপানজিয়াং
ব্রিজ বলা হয়। এটি বেইপান নদীর ৫৬৫ মিটার উপরে অবস্থিত।



বিমান বন্দর: - তিব্বতের
লাসায় বাঙদা বিমানবন্দর।



ভারতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্থানের বিমান
বন্দরটি হল-
লেহ বিমানবন্দর।



শহর: - চিনের
ওয়েনচুয়ান



রেল স্টেশন: - চীনা রেলওয়ের কিংহাই-তিব্বত রেলপথের টাংগুলা
রেলওয়ে স্টেশন
, যা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬,৬২৭ ফুট বা ৫০৬২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।



রাস্তা: - ভারতের
খারদুংগলা গিরিপথে লেহ-মানালি সড়ক। এটি ৫
,৬০২
মিটার উচ্চতায় রয়েছে।



সর্বোচ্চ ভবন: - সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অবস্থিত বুর্জ খলিফা এর উচ্চতা ৮২৮ মিটার বা ২,৭১৭ ফুট।



সর্বোচ্চ পর্বতমালা: - হিমালয়
পর্বতমালা



সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ: - নেপালের
মাউন্ট এভারেস্ট



ভারতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটি হল: - K2, এর উচ্চাতা ৪৬১১ মিটার। এটি
মাউন্ট গডউইন অস্টিন
 নামেও পরিচিত