বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন, ২০২৩

ক্যানসারকে জয় করে ইনি হলেন ৪২০কোটি টাকার মালিক

 

মেয়েদের এদেশে সুযোগ-সুবিধা একটু কম থাকে। তাও আবার যদি ক্যানসারের রুগী হন তাহলে সেই সুযোগ আরো কমে যায়। তবুও সেই সব বেড়াজাল কাটিয়ে এবং নিজের দৃঢ়তাই তাঁকে ব্যাবসায়িক জগতে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আরো একটি বিষয় হল ইনি পড়াশোনা কোনও আইআইটি কিংবা আইআইএম থেকে করেননি। সাধারণ কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেই উন্নতির শীর্ষে পৌঁছেছেন তিনি।

ইনি হলেন কণিকা তেকরিওয়াল। যিনি ভারতের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী এবং ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ৪২০ কোটি টাকার মালিক। ব্যবসা শুরুর মাত্র কয়েক বছরেই দেশের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিলেন কণিকা। ভারতে একমাত্র এনার কাছেই রয়েছে সবচেয় বেশী বিলাসবহুল বিমান। যা তিনি ভাড়া দেন। আসলে কণিকা একটি বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থার মালিক। ২০১২ সালে এই ভ্রমণ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন কণিকা। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল ২২।

কণিকার এই স্টার্টআপ সংস্থা ঘুরতে যাওয়ার জন্য প্রমোদ বিমান অর্থাৎ চার্টার্ড প্লেন এবং হেলিকপ্টার ভাড়া দেয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কণিকার সংস্থার কাছে এই ধরনের ১০টি চার্টার্ড বিমান রয়েছে। এটিই ভারতের প্রথম ভ্রমণ সংস্থা, যে ঘুরতে যাওয়ার জন্য চ্যাটার্ড বিমান ভাড়া দেয়। দেশের অনেক ধনী ব্যক্তি বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার জন্য তাঁর সংস্থার দ্বারস্থ হন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কণিকার ভ্রমণ সংস্থা দেশে প্রমোদ বিমানযাত্রায় বিপ্লব এনেছে বলেও অনেকের অভিমত।

বর্তমানে সফল হলেও কণিকার যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। খুব কম বয়সেই তাঁর শরীরে ক্যানসার বাসা বাঁধে। তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সেই মারণরোগকে হারিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন তিনি। কণিকার জন্ম মধ্যপ্রদেশের ভোপালের একটি মাড়োয়ারি পরিবারে। ভোপালের জওহরলাল নেহরু সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করেন কণিকা। এর পর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি লন্ডনের কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

কণিকা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘চার্টার্ড বিমান নিয়ে ব্যবসার কথা আমার মাথায় প্রায় তিন-চার বছর ধরে ঘুরছিল। কিন্তু যখন আমি এটি নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন আমার ক্যানসার ধরা পড়ে। ফলে আমার কাজও পিছিয়ে যায়। তবে আমি ভাগ্যবতী যে আমি সুস্থ হওয়ার আগে এই নিয়ে আর কেউ কাজ করার কথা ভাবতে পারেনি।’’

হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী পি শরৎচন্দ্র রেড্ডিকে বিয়ে করেছেন কণিকা। ব্যবসায়ী হিসাবে সফল হওয়ার পর থেকে দেশে-বিদেশে একাধিক পুরস্কার এবং স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী, তাঁর ব্যবসায়িক দক্ষতার জেরে কেন্দ্রীয় সরকার প্রদত্ত জাতীয় উদ্যোক্তা পুরস্কার অর্থাৎ ন্যাশনাল অন্ট্রোপেনিয়রশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ইয়ং গ্লোবাল লিডার পুরস্কার-সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার এবং সম্মান জিতেছেন। ভারতীয় উদ্যোগপতি মহলে কণিকা পরিচিত দ্য স্কাই কুইন নামে।

বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০২৩

ভারতের এই গুপ্তচর সংস্থার মাথা এবার বদলে যাচ্ছে

ভারতের নিরপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান গুপ্তচর সংস্থাটি হল RAW অর্থাৎ  রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং। আর এই সংস্থার প্রধান হতে চলেছেন আইপিএস রবি সিনহা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি গত সোমবার তাঁকে ওই পদে নিয়োগ করেছে।

বর্তমানে -এর প্রধান হলেন সমন্ত গোয়েল। তিনি পঞ্জাব ক্যাডারের ১৯৮৪ সালের ব্যাচের আইপিএস অফিসার। আগামী ৩০ জুন প্রধান হিসাবে তাঁর কাজের মেয়াদ শেষ হবে। তারপরই এই পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন রবি সিনহা। অর্থাৎ জুলাই মাসে RAW গুপ্তচর সংস্থার প্রধান হতে চলেছেন রবি সিনহা।আপাতত আগামী দুবছরের জন্য প্রধান হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে তাঁকে। অর্থাৎ, তিনি ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই পদে থাকবেন। পরে মেয়াদ বৃদ্ধি পেতে পারে।

বর্তমানে RAW-এর প্রধান সমন্তের সময়কালে বালাকোটে বিমানহানা থেকে শুরু করে সংবিধানের ৩৭০ ধারার বিলুপ্তির মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা হ্রাস একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল 'RAW' গুপ্তচর সংস্থা।বর্তমান প্রধান সমন্তও প্রথমে দুবছরের জন্য নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরে আরও দুবছর তাঁর কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি পায়। সমন্তের পরে কঠোর হাতেই যাচ্ছে -এর দায়িত্ব,বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রবি সিনহা ১৯৮৮ সালের ব্যাচের আইপিস অফিসার। ছত্তীসগঢ় ক্যাডারে ছিলেন তিনি। -এর সঙ্গে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে যুক্ত। দুদশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে গুপ্তচর সংস্থার প্রধানের গদিতে বসতে চলেছেন তিনি।-এ রবির কাজের অভিজ্ঞতা অন্তত ২০ বছরের। আগে তিনি গুপ্তচর সংস্থার অপারেশনাল উইংয়ের প্রধান ছিলেন। বর্তমানে তিনি -এর ক্যাবিনেট সচিবালয়ের বিশেষ সচিব পদে কর্মরত।

দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন রবি। ৫৯ বছর বয়সি এই আইপিএস অফিসার কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশংসিত হয়েছেন। তবে তিনি নিজেকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতেই বেশী পছন্দ করেন।

রবি সিনহা অতীতে জম্মু ও কাশ্মীরে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন। সেখানে থাকাকালীন খুব কাছ থেকে তিনি পাকিস্তানকে দেখেছেন। পাকিস্তান সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। শুধু পাকিস্তান নয়, রবি কাজ করেছেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও। উত্তর-পূর্বের সীমান্তে চিনের আনাগোনা, আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা সম্পর্কে তিনি ভাল করেই জানেন। ফলে তাঁকে পাকিস্তানের পাশাপাশি চিন সম্পর্কেও বিশেষজ্ঞ বলা যেতে পারে।

রবি সিনহা বিদেশে গিয়েও কাজ করেছেন RAW এর জন্য। তাঁর অভিজ্ঞতাই গুপ্তচর বিভাগে তাঁকে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। সব মহলেই প্রশংসিত হয়েছে রবির দক্ষতা এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা। রবি সিংহ এমন একটা সময়ে -এর দায়িত্ব পেলেন, যখন ভারতের তথাকথিত শত্রু প্রতিবেশী দেশের অবস্থা নড়বড়ে। পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সঙ্কটে ধুঁকছে। যা ভারতের জন্য খুব একটা সুখের কথা নয়।নড়বড়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতের আর এক শত্রু চিন। সম্প্রতি তাদের কাছ থেকে পাকিস্তান মোটা অঙ্কের ঋণ পেয়েছে। ভারতকে কোণঠাসা করতে চিন পাকিস্তানকে ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশে খলিস্তান-পন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে। ভারতের বাইরে থেকে এই বিচ্ছিন্নতাবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাতে দেশের অভ্যন্তরেও অশান্তি দানা বাঁধছে।এই পরিস্থিতিতে দেশের গুপ্তচর সংস্থার পারদর্শিতার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। প্রযুক্তির সঙ্গে মগজাস্ত্রের মিশেলে -কে আরো শক্তিশালী করে তুলতে পারবেন রবি বলে আশা পর্যবেক্ষকদের।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন, ২০২৩

ভারতে প্রথম ইংরেজিতে দূরদর্শনে সংবাদ পাঠ করেছিলেন এই খ্যাতনামা মহিলা

সত্তরের দশকে প্রথম বার দেশে ইংরেজিতে খবর সম্প্রচার শুরু হয়। পরনে শাড়ি, মাথায় ছোট চুল- এমন বেশে ক্যামেরার সামনে ইংরাজিতে সংবাদ পাঠ করা কয়েক জন মহিলা সাংবাদিকদের মধ্যে যিনি রাতারাতি জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি গীতাঞ্জলি আইয়ার।

গত ৭ই জুন ২০২৩,  দিল্লিতে নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গীতাঞ্জলি।তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাংবাদিক মহলে। তাঁর এক পুত্র এবং এক কন্যাসন্তান রয়েছে। পুত্রের নাম শেখর এবং কন্যা পল্লবীও এক জন পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক।

ভারতীয় দূরদর্শনে যাঁরা প্রথম ইংরেজিতে সংবাদ পাঠ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন গীতাঞ্জলি। অল্প দিনের মধ্যেই সেই সময় সংবাদ পাঠিকা হিসাবে ঘরে ঘরে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে দূরদর্শনে যোগ দিয়েছিলেন গীতাঞ্জলি। সেই তাঁর পথচলা শুরু। তারপর তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দূরদর্শনে দাপিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে অবশ্য কলকাতার যোগ রয়েছে। মহানগরের লরেটো কলেজ থেকে স্নাতক হয়েছিলেন তিনি। তার পরেই যোগ দেন দূরদর্শনে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে, সেই সময় রেডিয়োতে সুরজিৎ সেন, পামেলা সিংহদের সংবাদ পাঠ শুনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন গীতাঞ্জলি। তাঁদের দ্বারাই প্রভাবিত হয়ে পরে সংবাদ পাঠিকা হিসাবে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি। সত্তরের দশকে দেশ জুড়ে তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা ছিল অনেক। এমনকি, অনেকেই টিভিতে তাঁকে দেখার জন্যই খবর দেখতেন।দূরদর্শনে কাজ করার সময় গীতাঞ্জলির জনপ্রিয়তা যে কোনও সিনেমার তারকার থেকে কম ছিল না। স্ক্রল জানাচ্ছে, এক বার দেহরাদূনে অটোয় চড়েছিলেন গীতাঞ্জলি। কিন্তু অটোচালক তাঁর কাছ থেকে ভাড়া নিতে চাননি।

সেই সময় এত উন্নত প্রযুক্তি ছিল না। ক্যামেরার সামনে সংবাদ পাঠ করা রীতিমতো চ্যালেঞ্জ-এর বিষয় ছিল সংবাদ পাঠিকাদের। এক সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি বলেছিলেন, ‘‘আমাদের কাছে টেলিপ্রম্পটার ছিল না। ক্যামেরার পাশে এক জন সংবাদ লেখা কাগজ নিয়ে আমাদের জন্য দাঁড়াতেন। সেই কাগজে লেখা খবর দেখে পড়তে হত ক্যামেরার সামনে। একসঙ্গে ওই স্ক্রিপ্ট দেখা আর ক্যামেরার দিকে তাকানো খুব কঠিন ব্যাপার ছিল।’’ জনপ্রিয় সংবাদ পাঠিকা হিসাবে বেশ কিছু পুরস্কারও পেয়েছেন গীতাঞ্জলি। ৪ বার সেরা সংবাদ পাঠিকার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে ইন্দিরা গান্ধী প্রিয়দর্শিনী পুরস্কারে সম্মানিত হন গীতাঞ্জলি।

এছাড়া তিনি অভিনয়ও করেছিলেন। দূরদর্শনে খানদান নামে একটি টিভি সিরিয়ালে তিনি অভিনয়  করেছিলেন।২০০২ সালের অগস্ট মাসে দূরদর্শন ছাড়েন গীতাঞ্জলি। তার পর যোগ দেন কর্পোরেট কমিউনিকেশন, মার্কেটিং পেশায়। কাজ করেছেন সিআইআই, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ডে।

মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০২৩

ভারতের স্বীকৃতি না পাওয়া একজন গুপ্তচর

 ভারতের
একজন গুপ্তচর



যে কোন দেশের গুপ্তচরেরা সেই দেশের অগোচরে থেকে
যায়। তারা যে দেশের জন্য কি বলিদান দেয় তা সবার অগোচরে থেকে যায়। এমনকি অনেক সময়
মৃত্যুর পরও অনেক দেশ স্বীকার-ই করতে চায় না যে
, সে
ছিল ঐ দেশের গুপ্তচর।



ভারতেরও এমনই এক মহান গুপ্তচরের কথা জানবো।
যিনি অন্য আর এক ভারতীয় গুপ্তচরের নির্বুদ্ধিতার কারণে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন সেই
ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তানে। ফলে অকথ্য অত্যাচারের মধ্য দিয়ে কেটেছিল তাঁর বাকি
জীবনটা সেই পাকিস্তানের জেলে। অবশ্য তাঁর মৃত্যুর পর ভারত সরকার তাঁকে কোন যোগ্য
সম্মান দেয়নি। হ্যাঁ
, এখানে
বলা হচ্ছে ভারতীয় গুপ্তচর রবীন্দ্র কৌশিকের কথা।



রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরে রবীন্দ্রর জন্ম
১৯৫২-র ১১ এপ্রিল। এই শহর থেকেই তিনি স্নাতক হন। লখনউয়ে জাতীয় স্তরের নাটক
প্রতিযোগিতায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁকে চোখে পড়ে ভারতীয় গোয়েন্দা
সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা
-এর আধিকারিকদের। জানা যায়, রবীন্দ্রকে প্রস্তাব দেওয়া হয়
পাকিস্তানে গিয়ে
-এর গুপ্তচর হয়ে কাজ করার। এর পর দুবছর ধরে দিল্লিতে কঠোর অনুশীলন পর্ব চলে তাঁর।
উর্দুর পাশাপাশি রবীন্দ্রকে শেখানো হয় ইসলামিক সংস্কৃতির খুঁটিনাটি।
রাজস্থান-পঞ্জাব সীমান্ত শহর গঙ্গানগরের ছেলে হওয়ায় এমনিতেই তিনি পঞ্জাবিতে চোস্ত
ছিলেন। তাঁকে এমন ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়
, যাতে
পাকিস্তানের জনজীবনে মিশে যেতে পারেন সহজে। ১৯৭৫ সালে ২৩ বছরের তরুণ রবীন্দ্র
দুবাই
, আবুধাবি
হয়ে পৌঁছন পাকিস্তানে।। তাঁর নতুন পরিচয় হয় নবি আহমেদ শাকির। নষ্ট করে ফেলা হয়
তাঁর ভারতীয় পরিচয়ের যাবতীয় নথি।



পরবর্তীতে রবীন্দ্র ওরফে আহমেদ করাচি
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্পূর্ণ করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত হন
কমিশনড অফিসার হিসেবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি মেজর পদে উন্নীত হয়েছিলেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক দরজির মেয়ে আমানতকে বিয়ে করেছিলেন রবীন্দ্র। তাঁদের একটি
সন্তানও হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ
, ১৯৭৯
থেকে ১৯৮৩ অবধি রবীন্দ্র কৌশিক বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভারতে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর
পাঠানো তথ্য দেশের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বলা হয়
, ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক
থেকে তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল
ব্ল্যাক
টাইগার

এটাই ছিল তাঁর সাঙ্কেতিক নাম।



আশির দশকের গোড়ায় ইনায়ৎ মসিহা নামে আর এক
গুপ্তচরকে পাঠিয়েছিল
। পরিকল্পনা ছিল, তিনি রবীন্দ্রর সঙ্গে যোগাযোগ
করে তাঁকে কাজে সাহায্য করবেন। কিন্তু অভিযোগ
, ইনায়তের
নির্বুদ্ধিতার কারণে সব গোপনীয়তা নষ্ট হয়ে যায়। প্রথমে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের
কাছে ধরা পড়েন ইনায়ত। তার পর তিনি প্রকাশ করে দেন রবীন্দ্র কৌশিকের আসল পরিচয়।



সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, শিয়ালকোটের এক ঘাঁটিতে দুবছর জেরার নামে রবীন্দ্র কৌশিকের উপর চলে
অকথ্য অত্যাচার। ১৯৮৫ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে পাকিস্তান হাইকোর্টে
তাঁর শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তিত হয়। এরপর ১৬ বছর ধরে শিয়ালকোট
, কোট লখপত, মিয়ানওয়ালি-সহ পাকিস্তানের
বিভিন্ন শহরের কারাগারে বন্দি ছিলেন রবীন্দ্র। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্মম
অত্যাচার সহ্য করার পরে ২০০১ সালে রবীন্দ্র কৌশিক মারা যান মুলতানের কেন্দ্রীয়
কারাগারে। যক্ষ্মা-সহ একাধিক অসুখে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এর ঠিক দু
বছর পরে ভারতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা
যান তাঁর বাবা। অবশ্য রবীন্দ্রর মা অমলাদেবী বেঁচে ছিলেন ২০০৬ অবধি। তত দিন
পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফে প্রতি মাসে সামান্য মাসোহারা পাঠানো হত বলে
, জানিয়েছেন তাঁর পরিজনরা।

রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

ইনি ভারতে তৈরি করেছেন ইন্ডিয়ান প্যারানরমাল সোসাইটি

 

Indian Paranormal Society-প্রতিষ্ঠাতা



২০০৯
সালে ভারতে এনার হাত ধরেই তৈরি হয়েছিল
ইন্ডিয়ান
প্যারানরমাল সোসাইটি।
অথচ এই তরুণের মাত্র
৩২ বছর বয়সে নিজের বাড়ির বাথরুমে রহস্যমৃত্যু হয়েছিল এই তরুণের।
বেসরকারি
সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকের ছেলে গৌরব তিওয়ারির জন্ম ১৯৮৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
তাঁকে আমেরিকার টেক্সাসে পাঠানো হয়েছিল বিমানচালনার প্রশিক্ষণ নিতে। কোর্স
চলাকালীন ফ্লোরিডায় একটি বাড়িতে কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে থাকতেন গৌরব। গৌরবের দাবি
, সেখানেই আশ্চর্য অভিজ্ঞতার
শিকার হন তিনি। গৌরবের দাবি
, তিনি
ও তাঁর বন্ধুরা ওই বাড়িতে অশরীরীর উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতার পর থেকে
গৌরবের মনে
ভৌতিক এবং ভূত সংক্রান্ত বিষয়ের উপর দুর্নিবার আকর্ষণ জন্মায়।
তিনি ঠিক করেন
, এই
বিষয়ে গবেষণা করবেন।
আমেরিকার প্যারানেক্সাস অ্যাসোসিয়েশন থেকে
স্বীকৃতি পান তিনি।
ফ্লোরিডার ইনস্টিটিউট অব মেটাফিজিক্যাল
সায়েন্স তাঁকে স্পিরিচুয়াল কাউন্সেলর এবং হিপনটিস্টের শংসাপত্র দেয়।



বিভিন্ন
সমাধিক্ষেত্র-সহ
ভৌতিক বলে পরিচিত এ রকম ছহাজারের বেশি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিলেন গৌরব।
নিজের অভিজ্ঞতা জানাতেন ব্লগে বা টেলিভিশনের পর্দায়। তাঁর অভিজ্ঞতা বলছে
, দেশের অন্যতম ভৌতিক
ধ্বংসাবশেষ বলে পরিচিত ভানগড় কেল্লায় নাকি আদপেই অশরীরীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
তাঁর
এই অভিনব ভাবমূর্তি এবং অভিনয়ের নেশা তাঁকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল বিনোদনের
দুনিয়াতেও।
হন্টেড
উইকএন্ড উইথ সানি লিওন
, ভূত
আয়া
, ফিয়ার
ফাইলস
-এর
মতো টেলিভিশন শোগুলির অপরিহার্য অংশ করে তুলেছিল তাঁকে।



লেখালেখি
ও কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলেও গৌরব বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার
প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর অ্যালেন টাইলারেরও তিনি বন্ধু ছিলেন। দু
জনে একসঙ্গে কাজও করেছেন হন্টিং: অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। ২০১৬ সালের ৭ জুলাই দিল্লির
দ্বারকায় নিজের বাড়িতে রহস্যজনক ভাবে মারা যান গৌরব। তাঁর বাড়ির লোক জানান
, সে দিন সকাল ১১টা নাগাদ স্নান
করতে ঢোকেন গৌরব। কিছু ক্ষণ পর বাথরুমের ভিতর থেকে জোরে কিছু পড়ার শব্দ হয়।
বাড়ির
লোক এর পর গৌরবকে ডেকেও সাড়া না পেয়ে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। পুলিশকে
তাঁরা জানান
, সে
সময় গৌরবকে তাঁরা বাথরুমের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে
মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। গৌরবের নিথর দেহের গলায় মোটা কালো দাগ ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।



ময়নাতদন্তের
রিপোর্টে অবশ্য গৌরবের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেই চিহ্নিত করেছে। যদিও তাঁর কাছের
লোকদের দাবি
, জীবন
শেষ করে দেওয়ার মতো কিছুই ঘটেনি গৌরবের ক্ষেত্রে। আর্থিক ক্ষতি বা মানসিক অবসাদ
, কোনওটারই সম্মুখীন হননি তিনি।

রবিবার, ২০ মার্চ, ২০২২

জাম সাহেব কে ছিলেন?

মহারাজা দিগ্বিবিজয়সিংহজি রঞ্জিৎসিংহজি জাডেজা কে
ছিলেন
?

দিগ্বিবিজয়সিংহজি
রঞ্জিৎসিংহজি জাডেজা। এই নাম হয়তো অনেকেই শোনেননি। তবে ক্রিকেটপ্রেমী ভারতীয়দের
অনেকেই তাঁর কাকার নাম শুনেছেন। দ্বিতীয় রঞ্জিৎসিংহজি ভিবাজি। যাঁর নামে বিখ্যাত
রঞ্জি ট্রফির সূত্রপাত। দিগ্বিবিজয়সিংহজি রঞ্জিৎসিংহজি জাডেজা ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত
গুজরাতের নওয়ানগরের (বর্তমানে যার নাম জামনগর)
জাম সাহেব অর্থাৎ মহারাজা ছিলেন।কাকা রঞ্জিৎসিংহজি ভিবাজির
পর তিনিই সিংহাসনে বসেন।দিগ্বিবিজয়সিংহজি ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। রাজকোটের রাজকুমার
কলেজে পড়াশোনা শেষ করে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যালভার্ন কলেজে ভর্তি
হন।পড়াশোনার পাট চুকিয়ে তিনি ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সেনাদলে যোগ দেন। ১৯২০ সালে মিশরে
ভাল কাজ করার জন্য ১৯২১ সালে তিনি ব্রিটিশ বাহিনীর লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত
হন।প্রায় এক দশক ইংরেজ সেনাদলে কাজ করার পর ১৯২৯ সালে সেনাদলের ক্যাপ্টেন হন। ১৯৩১
সালে তিনি পদত্যাগ করেন।কাকার মতো ক্রিকেট দুনিয়ায় বিরাট খ্যাতি না পেলেও তিনি
ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের হয়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলেন এবং কয়েকটি ম্যাচে তিনি দলের
নেতৃত্বও দেন।১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি বিসিসিআই-এর সভাপতিও ছিলেন।

কিভাবে একজন ভারতীয় রাজা পোল্যান্ডের শিশুদের সাহায্য করেছিল?