বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

রামায়ণ ও মহাভারত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রামায়ণ ও মহাভারত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২

নীতিমূলক উপাখ্যানের নিদর্শন: নকুল-ব্যাঘ্র-জম্বুক-বৃক-মূষিক-কথা

 

নকুল-ব্যাঘ্র-
জম্বুক-বৃক-মুষিককথা
 বর্ণনা



পুরাকালে
কোন বনে একটি জম্বুক অর্থাৎ শৃগাল
, একটি
ব্যাঘ্র
, একটি
মূষিক অর্থাৎ ইন্দুর
, একটি
বৃক অর্থাৎ নেকড়ে বাঘ এবং একটি নকুল অর্থাৎ নেউল বা বেজি পরস্পর বন্ধুভাবে বাস
করত। শৃগাল অতি ধূর্ত
, বুদ্ধিমান
ও স্বার্থপর ছিল। তারা একদা বনের মধ্যে একটি হৃষ্টপুষ্ট হরিণকে (কাশীরামে গর্ভিণী
হরিণীকে) আক্রমণ করার চেষ্টা করে বিফল হয়। শৃগালের ! বুদ্ধিতে ইন্দুর মাটিতে গর্ত
খনন করে বিশ্রামরত হরিণের কাছে পৌঁছে তার পায়ের শিরা ! কেটে দিল। ব্যাঘ্র
অনায়াসে হরিণকে বধ করল। ধূর্ত শৃগাল মৃত হরিণটিকে আগলে রেখে সকলকে স্নান করে এসে
মাংস ভক্ষণ করতে বলল। চারজনই স্নানের জন্য
 নদীতীরে গমন করল।
প্রথমে ব্যাঘ্র ফিরে এসে শৃগালকে কপটভাবে চিন্তান্বিত দেখে তার কারণ জিজ্ঞাসা করল।
শৃগাল বলল
, 'হে
মহাবীর। তোমার আগেই ইন্দুর এসে বলে গেছে যে
, তুমি
নাকি তারই সহায়তায় হরিণকে বধ করে বৃথাই আত্মগর্ব করছ। এরই প্রতিবাদস্বরূপ সে
হরিণ মাংস বর্জন করে অন্যত্র চলে গেল।
' তখন
ব্যাঘ্র ক্রুদ্ধ হয়ে বলল
, 'হে
শৃগাল! তুমি ঠিক সময়েই আমাকে কথাটা জানালে। আমি তবে নিজের শক্তিতেই শিকার ধরে
ভক্ষণ করব। আমি বনান্তরে চলে যাচ্ছি।
'



এরপরই
ইন্দুর এলে শৃগাল তাকে বলল
, 'হে
ইন্দুর
, পলায়ন
কর। নেকড়ে বলেছে যে
, এই
হরিণের মাংসে তার নাকি অভিরুচি নেই। সে তোমাকে বধ করে খেতে চায়।
' ভীত ইন্দুর সঙ্গে সঙ্গে
গর্তের মধ্যে প্রবেশ করল। কিছুকাল পরে নেকড়ে বাঘ ফিরে এলে শৃগাল বলল
, ‘ভাই
! না জানি ব্যাঘ্র তোমার ওপর কি কারণে ক্রুদ্ধ হয়ে তোমাকে হত্যার জন্য খুঁজছে।
' মাংসাশী নেকড়ে বাঘ ভীত ও
সঙ্কুচিত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেইস্থান থেকে পলায়ন করল। এই অবসরে নেউল বা বেজি স্নান
করে এলে শৃগাল রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বলতে লাগল
, ‘ওহে বেজি। আমি নিজের শক্তিতে ব্যাঘ্র, ইন্দুর ও নেকড়ে বাঘকে পরাস্ত
করেছি। তারা আমার ভয়ে এই বন পরিত্যাগ করে পলায়ন করেছে। তুমি আমার সাথে যদি
যুদ্ধে জয়লাভ করতে পার তবেই এই হরিণের মাংস ভক্ষণ করতে পাবে।
' নেউল বা বেজি প্রাণভয়ে
পলায়ন করবার আগে বলে গেল
, ‘হে শৃগাল। শক্তিশালী ব্যাঘ্র ও নেকড়ে বাঘ
এবং বুদ্ধিমান্ ইন্দুর যেখানে পরাজিত হয়েছে
, সেখানে
আমি তো তুচ্ছ। আমার হরিণ মাংসে দরকার নেই।
'



এইভাবে
শৃগাল অসাধারণ বুদ্ধিবলে সকলকে বিদায় করে পরমসুখে একাকী হরিণমাংস ভক্ষণ করেছিল।



এই
কাহিনী থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি
, যে
ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ শৃগালের মতো আচরণ করেন তিনি চিরকাল সুখভোগ করে থাকেন। ভীত
ব্যক্তিকে ভয় প্রদর্শন
, বীরের
নিকট বিনয়ভাব
, লুব্ধকে
অর্থদান
, সম
বা ন্যূন ব্যক্তিকে বল প্রকাশ করে বশীভূত করা উচিত। পুত্র
, সখা, ভ্রাতা, পিতা এবং গুরুও যদি শত্রুর
মতো বিদ্রোহাচরণ করেন
, তাহলে
তৎক্ষণাৎ তাঁদের বিনষ্ট করা প্রয়োজন। ব্যাধি
, অগ্নি
ও ঋণ কখনও পোষণ করে রাখা উচিত নয়
, কারণ
দিনে দিনে সেগুলি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে সম্পূর্ণ বিনাশের কারণ হয়ে ওঠে। সেইরকম
শত্রুকেও শপথ
, অর্থদান, বিষপ্রয়োগ বা মায়া প্রকাশ
করে বিনাশ করা বিধেয়
, কখনও
উপেক্ষা করা সঙ্গত নয়। কোন শত্রুকে একবারও দণ্ড দান করে যে রাজা ধন-মান ইত্যাদি
প্রদানপূর্বক অনুগ্রহ করেন তিনি নিজের মৃত্যু সংগ্রহ
 করে রাখেন।

শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২২

মহাভারতের বিভাবসু-সুপ্রতিকের উপাখ্যান

নীতিমূলক
উপাখ্যান



বিভাবসু-সুপ্রতিকের
উপাখ্যান



বিভাবসু
একজন ক্রোধপরায়ণ মুনি। শত্রুদের প্ররোচনায় তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা সুপ্রতীক পিতৃধন
বিভাগের জন্য বারংবার পীড়া-পীড়ি করতে থাকেন। বিভাবসু ভিন্ন হবার কুফল বোঝাতে বৃথাই
বহু চেষ্টা করেন এবং শেষ পর্যন্ত বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ হয়ে ভ্রাতাকে গজমূর্খের মতো
আচরণ করায় গজ হবার অভিশাপ প্রদান করেন। গজমূর্খ বলতে এখানে পণ্ডিত হয়েও
বুদ্ধিহীনের মতো আচরণের কথা বলা হয়েছে। সুপ্রতীকও তখন জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাকে জল ও
স্থলের অর্থাৎ উভয় স্থানের অংশ দখলদার কচ্ছপের মতো আচরণকারী বিবেচনাপূর্বক কচ্ছপ
হবার জন্য পালটা অভিশাপ প্রদান করেন। এরই ফলস্বরূপ বিভাবসু ও সুপ্রতীক যথাক্রমে
বিশালাকায় গজ ও কচ্ছপরূপে বহুকালব্যাপী এক সরোবরের তীরে যুদ্ধরত হয়ে কালযাপন
করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত উভয়েই গরুড়ের গ্রাসে অর্থাৎ খাদ্যে পরিণত হয়ে মৃত্যুমুখে
পতিত হন।



এর
থেকে আমরা এই নীতিশিক্ষায় উপনীত হই:-



স্বার্থপর
মূঢ় ব্যাক্তিগণ বিনাশ্রমে ধন প্রাপ্ত হলে এমনই আত্মহারা হয়ে যায় যে
, তাদের হিতাহিত জ্ঞানবুদ্ধি
লপ্ত হয়ে যায়।শত্রুপক্ষ তখন মিত্রভাবে তাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আত্মবিচ্ছেদ ঘটিয়ে
দেবার উদ্দেশ্যে ক্রমাগত একের কাছে অপরের দোষ প্রদর্শন করে পরস্পরের মধ্যে ক্রোধ ও
শত্রুতার সৃষ্টি করে। এইরকম হলে তাদের সর্বদাই সর্বনাশ ঘটে।



এটি
মহাভারতের আদিপর্ব-এর গজ-কচ্ছপের বিবরণ থেকে নেওয়া হয়েছে
।