বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ইতিহাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইতিহাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৩

ব্রিটিশদের ভারত থেকে চুরি করা ইন্দ্রমন্দিরের বেগনি নীলা

ইন্দ্রমন্দিরের দুর্ভাগ্যরত্ন

কর্মফল, বহু যুগ ধরে কমবেশী সব ধর্মের মানুষ কর্মফলে বিশ্বাস করে আসছে। আর এই কর্মফলের জন্যই কারো জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভাগ্য আবর কারো জীবনে খুলে গেছে সৌভাগ্যের দরজা। ভারতে যখন ব্রিটিশ রাজত্ব শুরু হয় তখন থেকেই তারা এদেশের ধনসম্পত্তি, বহু মূল্যবান পাথর, লুট করতে শুরু করে। এমনকি তারা বিভিন্ন মন্দির থেকেও মহামূল্যবান পাথর চুরি করে। এদের মধ্যে অন্যতম হল ভারতের কানপুরের একটি ইন্দ্রমন্দির থেকে চুরি করা একটি নীলা।

গাঢ় বেগুনী রঙের জ্বলজ্বলে আকারে মাঝারি ধরনের ভারতীয় এই পাথরটির গুণ অনেক। এই পাথরের গায়ে লেগে রয়েছে অনেক হতাশা আর মৃত্যুর গ্লানি। এই বেগনি নীলাটি দিল্লির নীলা নামে পরিচিত। তবে এর উৎপত্তি কানপুরে। শোনা যায়, কানপুরের একটি ইন্দ্রমন্দির থেকে নীলাটি চুরি গিয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১৬৬ বছর আগে। ১৮৫৭ সালে ভারতের একাংশ তখন সিপাহি বিদ্রোহে উত্তাল। ব্রিটিশ সরকার যে বিদ্রোহে প্রথম খানিকটা টলে গিয়েছিল। সেই উত্তাল রাজনৈতিক এবং সামাজিক আবহে এই বেগনি রঙের নীলাটি চুরি যায়।

ব্রিটিশ বাহিনীর ঘোড়সওয়ার সৈনিক ছিলেন ডব্লিউ ফেরিস। ১৮৫৭ সালে কানপুরের ইন্দ্রমন্দির থেকে তিনি বেগুনি নীলাটি চুরি করেছিলেন বলে শোনা যায়। মূল্যবান পাথরটি নিয়ে ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়েছিলেন ফেরিস। তার পরেই শুরু হয় নীলার লীলাখেলা। পাথরটি চুরি করার পর থেকে নাকি এক দণ্ডও শান্তি পাননি ফেরিস।

অর্থনৈতিক দিক থেকে ফেরিস এবং তাঁর পরিবারের উপর নেমে আসে চরম দুর্ভাগ্যের ছায়া। একের পর এক অর্থনৈতিক ক্ষতি তাঁদের কার্যত পথে বসিয়ে দিয়েছিল। ফেরিসের পরিবারের অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন এই সময়। আপনজনদের হারাতে হয়েছিল ওই ব্রিটিশ সৈনিকদের।অথচ তাঁর বাড়ির এক কোণে চুপিসাড়ে পড়ে ছিল এই নীলাটি।

প্রথমে এই খারাপ সময়কে ভাগ্যের ফের বলেই মনে করেছিলেন ফেরিস। হঠাৎই তাঁর নজরে পড়ে ভারত থেকে আনা ওই পাথরটির উপর। তাঁর মনে হয়, ওই পাথর আনার পর থেকেই তাঁর দুর্ভাগ্যের সূত্রপাত। বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্য এক কাছের বন্ধুকে নীলাটি কিছু দিনের জন্য ধার দেন ফেরিস। পাথরটি পাওয়ার পর পরই নাকি অজ্ঞাত কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন সেই ব্যক্তি।

ভারত থেকে আনা এই বেগনি নীলার ক্ষমতা সম্পর্কে ফেরিসের আর তখন কোনও সন্দেহ ছিল না। তিনি অবিলম্বে পাথরটি নিজের কাছ থেকে সরিয়ে ফেলেন। তবে এই পাথরের গল্প এখানেই শেষ নয়। ১৮৯০ সাল নাগাদ নীলাটি ব্রিটিশ লেখক তথা বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড হেরন-অ্যালেনের কাছে যায়। নীলার অভিশাপে দুর্ভাগ্য নেমে আসে তাঁর জীবনেও।

হেরন জানান, নীলাটি হাতে পাওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে ধারাবাহিক ভাবে খারাপ ঘটনা ঘটে চলেছে। কিছুতেই তিনি ভাগ্য অনুকূলে ফেরাতে পারছিলেন না। এক্ষেত্রেও হেরন পরীক্ষা করার জন্য এক বন্ধুকে নীলাটি দিয়েছিলেন। দেখা যায়, তাঁর সঙ্গেও একের পর এক খারাপ ঘটনা ঘটে চলেছিল। বন্ধুটি আবার হেরনের কাছে পাথরটি ফিরিয়ে দিয়ে যান। সাময়িক বিরতির পর আবার হেরনের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।

শেষে অতিষ্ঠ হয়ে হেরন নীলাটি খালের জলে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস পর সেখান থেকে বেগনি রঙের পাথরটি তুলে স্থানীয় স্বর্ণকারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি নীলার আংটি ফের ফিরিয়ে দেন হেরনের ঘরে। আবার কিছু দিন নিজের কাছে নীলাটি রাখার পর হেরন অন্য এক বন্ধুর অনুরোধে সেটি তাঁকে দিয়ে দেন। সেই বন্ধু ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী। নীলাটি দেহে ধারণ করার পর থেকে তিনি আর কখনও গান করেননি।

নীলাটিকে নিয়ে এবার তন্ত্রমন্ত্রের আশ্রয় নেন হেরন। পর পর সাতটি বাক্সে নীলাটি ভরে তিনি মন্ত্রের মাধ্যমে সেটিকে বন্দি করে রাখেন। তিনি পরিচিতদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাঁর মৃত্যুর পরেও যেন বাক্স খোলা না হয়। কিন্তু হেরনের মৃত্যুর পরেই বাক্স-সহ পাথরটি তাঁর কন্যা ব্রিটেনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে জমা দিয়ে এসেছিলেন। ১৯৪৪ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মিউজিয়ামে থাকার পর বাক্সটি খোলা হয়।

হেরন বাক্সে একটি চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন। তাতে তাঁর পরামর্শ ছিল, পাথরটি সমুদ্রে ছুড়ে ফেলে দেওয়া উচিত। তবে তা করা হয়নি। কানপুরের ইন্দ্রমন্দিরের সেই বেগনি নীলা বর্তমানে ব্রিটেনের মিউজিয়ামে শোভা পাচ্ছে। আর বর্তমানে ব্রিটেনের যা আর্থিক পরিস্থিতি তাতে বলা যেতেই পারে যে এই পাথর সমগ্র ব্রিটেনের আর্থিক সংকটের জন্য দায়ী। এখন এটাই দেখার বিষয় যে ব্রিটেন এই নীলাকে তার মূল স্থানে ফিরিয়ে দেয় কিনা?

সোমবার, ১০ জুলাই, ২০২৩

বিশ্বের দীর্ঘতম রুটে চলা বাস পরিষেবা

কলকাতা শহর থেকে প্রতি দিন হাজারের বেশী বাস বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দেয়। তার বেশির ভাগটাই রাজ্যের অন্যান্য জেলা এব‌ং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন রাজ্যে যায়। কিন্তু এক সময় নাকি গঙ্গা তীরবর্তী কলকাতা থেকে সরাসরি বাস ছাড়া হত টেমস তীরবর্তী লন্ডনের উদ্দেশ্যে! অবিশ্বাস্য মনে হলেও এই ঘটনা অনেকে সত্যি বলেই মনে করেন। বিভিন্ন সংবাদমধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫০-এর দশকে চালু হয়েছিল লন্ডন থেকে কলকাতাগামী এবং কলকাতা থেকে লন্ডনগামী এই বিলাসবহুল বাস পরিষেবা।

লন্ডন থেকে কলকাতাগামী এই ডাবল ডেকার বাসটির নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যালবার্ট। যে সংস্থার তরফ থেকে এই বাস চালু করা হয়েছিল তার নাম ছিল অ্যালবার্ট ট্যুর সার্ভিস।মনে করা হয়, এটিই নাকি ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম রুটে চলা বাস পরিষেবা।

১৯৫৭ সালের ১৫ই এপ্রিল লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করেছিল অ্যালবার্ট।পরিষেবা চালু হওয়ার প্রথম দিনে নাকি ২০ জন যাত্রীকে নিয়ে লন্ডন থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল এই বাস। ১৩ জন কলকাতায় নেমে গেলেও সাত জন যাত্রী যার মধ্যে দুইজন মহিলা এবং পাঁচজন পুরুষ, আবার ওই বাসেই লন্ডনে ফিরে আসেন বলে শোনা যায়।বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, লন্ডন থেকে ছাড়া প্রথম বাসটি কলকাতায় পৌঁছেছিল ৫ জুন। অর্থাৎ, প্রায় ৫০ দিন পরে।

এছাড়া বিভিন্ন সংবাদমধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডন থেকে কলকাতা আসার টিকিটের মূল্য ছিল বর্তমান ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার টাকা। তবে কলকাতা থেকে লন্ডন ফিরে আসার টিকিটের মূল্য ছিল বর্তমান ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার টাকা।পরে অবশ্য বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে এই বাসের ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় বর্তমান ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা।

বাসটি ইংল্যান্ড থেকে বেলজিয়াম এবং সেখান থেকে পশ্চিম জার্মানি, অস্ট্রিয়া, যুগোস্লাভিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে ভারতে প্রবেশ করত। ভারতে প্রবেশের পর নয়াদিল্লি, আগরা, এলাহাবাদ, বারাণসী হয়েই নাকি সেই বাস কলকাতায় পৌঁছত। সেই সময় এই যাত্রাপথ পরিচিত ছিল হিপি রুট নামে। প্রচলিত আছে, পুরো যাত্রাপথে বাসটিকে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রপথও পেরোতে হত জাহাজে করে।

যাত্রীদের সুবিধার্থে বাসটিতে ঘুমোনোর জন্য বাঙ্ক এবং ঠান্ডা থেকে বাঁচতে হিটারের ব্যবস্থা ছিল। সমস্ত সরঞ্জাম এবং সুযোগসুবিধা-সহ একটি রান্নাঘরও ছিল বাসটির মধ্যে।প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য বাসের উপরের ডেকে আলাদা বন্দোবস্ত করা ছিল। রাস্তায় বাস থামিয়ে যাত্রীদের আমোদপ্রমোদের জন্য রেডিয়ো এবং একটি মিউজিক সিস্টেমেরও ব্যবস্থা ছিল।

ভারতে প্রবেশ করার পর যাত্রীদের বারাণসীর ঘাট, তাজমহল-সহ ভারতের একাধিক পর্যটন ক্ষেত্রও নাকি ঘুরিয়ে দেখাত অ্যালবার্ট ট্যুর সার্ভিস।যাতায়াতের পথে তেহরান, সালজবার্গ, কাবুল, ইস্তানবুল এবং ভিয়েনায় কেনাকাটার অনুমতিও দেওয়া হত যাত্রীদের।

অবশ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কয়েক বছর পরিষেবা দেওয়ার পর বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরে বাসটি ব্রিটিশ পর্যটক অ্যান্ডি স্টুয়ার্ট কিনে নেন। তিনি এটিকে একটি ভ্রাম্যমান ঘর হিসাবে পুনর্নির্মাণ করেন।পরে নাকি আবার এই পরিষেবা চালু হয়। ১৯৬৮ সালের ৮ই অক্টোবর সিডনি থেকে ভারত হয়ে লন্ডনে যাত্রা শুরু করে অ্যালবার্ট। সিডনি থেকে লন্ডনে পৌঁছাতে বাসটি প্রায় ১৩২ দিন সময় নিত।

বাসটি ইরান হয়ে ভারতে পৌঁছে মায়ানমার, তাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া হয়ে সিঙ্গাপুরে যেত। সিঙ্গাপুর থেকে, বাসটিকে জাহাজে করে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হত এবং সেখান থেকে সড়কপথে এটি সিডনির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করত বলে প্রচলিত আছে। আগের মতোই বাসে সমস্ত আধুনিক সুযোগসুবিধা রাখা ছিল।

তবে কলকাতার ইতিহাস নিয়ে চর্চাকারী হরিপদ ভৌমিক এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এ রকম একটি বাস চালু হওয়ার কথা হয়েছিল বলে শোনা যায়। কিন্তু তা শুরু হওয়ার কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই নিয়ে কোনও নথি রয়েছে বলেও জানা নেই।’’

মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০২৩

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ডাইনিং টেবিল রয়েছে ভারতে

 

১৮৯৩ সালে হায়দরাবাদের ঠিক মাঝখানে ধীরে ধীরে একটি রাজপ্রাসাদ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। গগন চুম্বী এই প্রাসাদের নাম ফলকনামা প্রাসাদ। আসলে ফলকনামা শব্দের অর্থ আকাশের মতো। নবাব বিকার-উল-উমরা ১৮৯৩ সালে এই প্রাসাদ তৈরি করেছিলেন। নবাব যখন ইউরোপে ঘুরতে গিয়েছিলেন তখন সেখানকার রাজপ্রাসাদগুলির আদলে ভারতেও অমন একটি প্রাসাদ নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন।তারপর তিনি দেশে ফিরে হায়দরাবাদ শহরের ঠিক মাঝখানে নির্মাণ করে ফেলেন ফলকনামা প্রাসাদ। সৌন্দর্যের দিক থেকে এই প্রাসাদ তাকলাগানো।

৩২ একর জমির উপর বানানো ফলকনামা প্রাসাদ নিজের শখে তৈরি করেছিলেন নবাব বিকার-উল-উমরা। সেই সময় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করে এই প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন তিনি। তখনকার দিনে ৪০ লক্ষ টাকা মানে বর্তমানে কত কোটি টাকার সমান, তা কল্পনাতীত। ফলকনামা প্রাসাদ তৈরি করার পর দেউলিয়া হয়ে যান নবাব বিকার-উল-উমরা। হায়দরাবাদের ষষ্ঠ নিজাম মির মেহবুব আলি খান যখন এই প্রাসাদে সময় কাটাতে আসেন তখন প্রাসাদের কারুকার্য দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। নবাবকে আর্থিক সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন নিজাম।

অধিকাংশ মানুষের অবশ্য দাবি, ফলকনামা প্রাসাদ ভারতের পুরানো সংসদ ভবনের চেয়েও প্রায় পাঁচ গুণ বড়। বৃশ্চিক অর্থাৎ বিচ্ছুর আকারে তৈরি এই প্রাসাদ এক সময় অতিথিনিবাস হিসাবেও ব্যবহৃত হত। তবে, কারুকার্য এবং নির্মাণের দিক থেকে যতই নজরকাড়া হোক না কেন, ফলকনামা প্রাসাদের মূল আকর্ষণ কিন্তু ভিন্ন। এই প্রাসাদের অন্দরমহলে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ডাইনিং টেবিল।

এই ডাইনিং টেবিলটি কারুকার্যের দিক থেকে যেমন অনন্য, ঠিক তেমনই তার আকারের জন্যও বিশ্বজোড়া নজির গড়েছে ফলকনামা প্রাসাদ। ফলকনামা প্রাসাদের অন্দরে থাকা এই ডাইনিং টেবিলটি ৮০ ফুট লম্বা। টেবিলটি মোট সাতটি টুকরোয় বিভক্ত। একসঙ্গে এই টেবিলে মোট ১০১ জন অতিথি বসে খেতে পারেন।  প্রাসাদের নির্মাণের সময় নাকি রাজপরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে বসে খাওয়ার নিয়ম ছিল।একসঙ্গে এতজন টেবিলে বসলে কথা বলার অসুবিধা হতে পারে।সেই সমস্যা সমাধানের জন্য এই টেবিলে বসার ব্যবস্থা এমন ভাবে করা হয়েছে যে, টেবিলের যে কোনও প্রান্তে বসে নিচু স্বরে কথা বললেও তা দূর প্রান্তের আসনে বসা ব্যক্তি শুনতে পাবেন।

এই টেবিলের উপরে দেওয়াল থেকে ঝুলতে দেখা যায় নবাবি নকশা করা ঝাড়বাতি। ডাইনিং রুমের দেওয়ালে বিভিন্ন চিত্র আঁকা রয়েছে। সেই চিত্রগুলি যথেষ্ট অর্থবহ এবং খাবারের সঙ্গে সম্পর্কিত।দেওয়ালের গায়ে আঁকা ওই চিত্রগুলি আসলে এক একটি খাবারের ছবি। অর্থাৎ সারা ঘর জুড়ে এক একটি খাবারের চিত্র দিয়ে দেওয়ালের মধ্যেই অভিনব তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, নবাবরা যখন খেতে বসতেন, তখন দেওয়ালের ওই আঁকাগুলির দিকে আঙুল দেখাতেন। অঙ্গুলিনির্দেশ করা চিত্র অনুযায়ী নবাবকে সেই খাবার পরিবেশন করা হত।

এছাড়া ফলকনামা প্রাসাদের ডাইনিং রুমে মানব পরিচালিত পাইপ অরগ্যান রয়েছে। ইতিহাসবিদেরা জানিয়েছেন যে, সারা বিশ্বে মানব পরিচালিত পাইপ অরগ্যান মাত্র দুটি রয়েছে। তার মধ্যে একটি রয়েছে ফলকনামা প্রাসাদের অন্দরমহলে।

শুধু দীর্ঘতম ডাইনিং টেবিলই নয়, অতিথিদের মনোরঞ্জনের জন্য ফলকনামা প্রাসাদের ভিতর রয়েছে একটি বিশাল গ্রন্থাগার। নবাব বিকার-উল-উমরা যখন ইউরোপ ভ্রমণে গিয়েছিলেন, তখন উইন্ডসর প্রাসাদের গ্রন্থাগারটি দেখে তিনি এতই মুগ্ধ হন যে, তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ফলকনামা প্রাসাদে অনুরূপ একটি গ্রন্থাগার নির্মাণ করেন। এই গ্রন্থাগারে প্রায় ৬ হাজার বই রাখা রয়েছে। শোনা যায়, ১৮০১ সালে প্রকাশিত বহু বইও রয়েছে এখানে। যে নবাবেরা এই প্রাসাদে ঘুরতে এসেছিলেন, তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতাও কাগজেকলমে লিখে রেখে গিয়েছিলেন। সেই প্রাচীন নথিও সংগ্রহ করা রয়েছে গ্রন্থাগারের ভিতর।

আবার এই গ্রন্থাগারের কাছেই একটি ঘরে রয়েছে বিলিয়ার্ড খেলার বন্দোবস্ত। নবাব বিকার-উল-উমরা যখন বাকিংহাংম প্রাসাদে ঘুরতে গিয়েছিলেন তখন বিশালাকার বিলিয়ার্ড টেবিল দেখেছিলেন। তারই অনুপ্রেরণায় তিনি ফলকনামা প্রাসাদের ভিতরেও হুবহু বাকিংহাম প্রাসাদের মতোই বিলিয়ার্ড খেলার বন্দোবস্ত করেন।

২০০০ সালে তাজ হোটেল এই প্রাসাদের সংস্কার এবং পুনরূদ্ধার কার্য শুরু করে। সংস্কার করা প্রাসাদটি হোটেল হিসাবে অথিতিদের জন্য ২০১০ সালে নভেম্বর মাসে খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাজ হোটেল গ্রুপের কাছে এই হোটেলের পঞ্চাশ বছরের লিস নেওয়া রয়েছে।

শনিবার, ১ জুলাই, ২০২৩

জুলাই মাসের কোন দিন কি দিবস পালিত হয়?

 

বিভিন্ন ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য ভারত এবং ইউনেসকো দ্বারা জারি করা জুলাই মাসে কোন দিন কি দিবস পালন করা হয় তাই এখানে তুলে ধরা হলো-

১লা জুলাই :-

আন্তর্জাতিক কৌতুক দিবস

জাতীয় চিকিৎসক দিবস

পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক এবং দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের স্মরণে ১লা জুলাই সারা ভারত জুড়ে জাতীয় চিকিৎসক দিবস পালিত হয়। তিনি ১লা জুলাই, ১৮৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬২ সালে একই তারিখে মারা যান।

ভারতের পণ্য ও সেবা কর দিবস {অর্থাৎ gst}

ভারতে পণ্য ও সেবা কর বাস্তবায়নের বার্ষিকী উপলক্ষে GST দিবস পালিত হয়। পণ্য ও সেবা কর ১লা জুলাই ২০১৭ সালে কার্যকর করা হয়েছিল, তারপর থেকে প্রতি বছর ১লা জুলাই জিএসটি দিবস  উদযাপন করা হয়।

সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক দিবস

১৯৪৯ সালে ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়া (ICAI) এর প্রতিষ্ঠার স্মরণে সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক অর্থাৎ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস দিবস পালিত হয়। ভারতের পার্লামেন্ট ১৯৪৯ সালের সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক আইন পাস করে। এর ফলে ICAI প্রতিষ্ঠিত হয়।

২রা জুলাই :-

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস ১৯৯৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (AIPS) দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি AIPS-এর সমিতি গঠনের জন্যও উদযাপন করা হয়। এই দিনটি বিভিন্ন ক্রীড়া মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতা শিল্পের কৃতিত্বকে মহিমান্বিত করার জন্য পালন করা হয়।

বিশ্ব অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু দিবস {অর্থাৎ UFO}

১৯৪৭ সালের ২রা জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  রোসওয়েলে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনাকে স্থানীয়রা UFO দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করে থাকে। যদিও তৎকালীন আমেরিকান সরকার তা মানতে চাইনি। এই ঘটনাকে স্মরণ করে ২০০১ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে UFO গবেষক হাক্তান আকদোগান প্রথম বিশ্ব UFO দিবস পালন করেন। এর পিছনে উদ্দেশ্য হল সব দেশ যেন UFO সম্পর্কে তাদের তথ্য একে অপরের সাথে বিনিময় করে।

৩রা জুলাই :-

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ বর্জন দিবস

৪ঠা জুলাই :-

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস

১৭৭৬ সালের ৪ঠা জুলাই পেনসিলভেনিয়া প্রাদেশিক আইনসভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে গ্রেট ব্রিটেনের সঙ্গে যুদ্ধরত ১৩ টি মার্কিন উপনিবেশ নিজেদের ব্রিটিশ শাসনের বাইরে স্বাধীন ও সার্বভৌম হিসেবে ঘোষণা করে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নামে নতুন রাষ্ট্র গঠন করে।

৬ই জুলাই :-

বিশ্ব জুনোসিস দিবস

জুনোসিস হল প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রামিত এক ধরনের রোগ। এমন অনেক রোগজীবাণু রয়েছে যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়। তারপরে, এটি এক মানব দেহ থেকে অন্য মানব দেহে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত, এটি মহামারী আকার ধারণ করে। এর অন্যতম প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল করোনাভাইরাস।

ফরাসি জীববিজ্ঞানী লুই পাস্তুর সফলভাবে ১৮৮৫ সালের ৬ই জুলাই একটি জুনোটিক রোগের বিরুদ্ধে প্রথম টিকা আবিষ্কার করেছিলেন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রক হিসাবে, এই কৃতিত্বের প্রতি সম্মান জানাতে বিশ্ব জুনোসেস দিবস উদযাপিত হয়।

৭ই জুলাই :-

বিশ্ব চকোলেট দিবস

তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরও ১০ বার চকলেট দিবস পালন করা হয়ে থাকে

বিশ্বব্যাপী ক্ষমা দিবস

১৯৯৪ সালে খ্রিস্টীয় রাষ্ট্রদূতদের খ্রিস্টান দূতাবাস (CECA) দ্বারা সূচিত হয়েছিল বিশ্ব ক্ষমা দিবস। ক্ষমা দিবসের পিছনের ধারণাটি অতীতের অন্যায়ের জন্য মাফ করা এবং ক্ষমা চাওয়ার কাজকে প্রচার করা। এটি ক্ষমার নিরাময় শক্তির একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে এবং ব্যক্তিদের বিরক্তি, রাগ ত্যাগ করতে উৎসাহিত করে। যদিও বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্বে, ক্ষমার অর্থ বিভিন্ন লোকের কাছে বিভিন্ন জিনিস।

বিশ্ব কিসোয়ালী ভাষা দিবস

১৯৫০-এর দশকে জাতিসংঘের রেডিওতে কিসোয়ালি ভাষা ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং আজ কিসোয়ালি হচ্ছে জাতিসংঘের বিশ্ব যোগাযোগ অধিদপ্তরের মধ্যে একমাত্র আফ্রিকান ভাষা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, ২০১৭ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর একটি রেজোলিউশনের মাধ্যমে এই দিবসটি পালনের প্রস্তাব গ্রহণ করে

১০ই জুলাই :-

জাতীয় মৎস্য চাষি দিবস

এই বার্ষিক অনুষ্ঠানটি ১৯৫৭ সালের ১০ই জুলাই ওড়িশার আঙ্গুলে অধ্যাপক ড. হীরালাল চৌধুরী এবং তাঁর সহকর্মী ড. আলিকুন্হি পোনামাছকে সফলভাবে প্রজনন করাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁদের এই অবদানের জন্য তাঁদের স্মরণে এই দিনটি উদযাপিত হয়। দিনটি জাতীয় মৎস্য উন্নয়ন বোর্ড (NFDB) প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবেও পালিত হয়।

১১ই জুলাই :-

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

১২ই জুলাই :-

বিশ্ব কাগজের ব্যাগ দিবস

আন্তর্জাতিক মালালা দিবস

তরুণ কর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের জন্মদিন উপলক্ষে ১২ই জুলাই আন্তর্জাতিক মালালা দিবস পালিত হয়। ১২ই জুলাই ২০১৩ তারিখে, ১৬ বছর বয়সী পাকিস্তানি কর্মী সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সদর দপ্তরে একটি বক্তৃতা দেন। ১৭ বছর বয়সে, ইউসুফজাই ২০১৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সর্বকনিষ্ঠ প্রাপক ছিলেন।

১৫ই জুলাই :-

বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস

২০১৪ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, কর্মসংস্থানের জন্য তরুণদের দক্ষতার সাথে সুসজ্জিত করার কৌশলগত গুরুত্ব উদযাপন করার জন্য ১৫ই জুলাইকে বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।

জাতীয় প্লাস্টিক সার্জারি দিবস

জাতীয় প্লাস্টিক সার্জারি দিবসের ধারণাটি ২০১১ সালে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্লাস্টিক সার্জনস অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি ডঃ এস রাজা সাবাপাথি প্রথম প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি দিবসটি উদযাপনের ধারণাটি তৈরি করেছিলেন এবং ১৫ই জুলাইকে উপযুক্ত তারিখ হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন।

১৭ই জুলাই :-

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের জন্য বিশ্ব দিবস

আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের উদীয়মান ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ১৭ই জুলাই সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস পালিত হয়। ১৭ই জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গঠনের চুক্তি গ্রহণের তারিখকে স্মরণ করে রাখার জন্য এদিনটিকে গ্রহণ করা হয়।

২০শে জুলাই :-

বিশ্ব দাবা দিবস

১৯২৪ সালের ২০শে জুলাই ফ্রান্সর রাজধানী প্যারিস শহরে বিশ্ব দাবা সংস্থা গঠন করা হয়েছিল। এদিনের স্মৃতি হিসাবে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ব দাবা দিবস পালন করা হয়।

আন্তর্জাতিক চাঁদ দিবস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো ১১ অভিযানের দ্বারা ২০শে জুলাই, ১৯৬৯ সালে চাঁদে প্রথম মানব অবতরণকে স্মরণ করে রাখার জন্য দিনটি নির্বাচন করা হয়েছিল। ৯ই ডিসেম্বর ২০২১ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতি বছর ২০শে জুলাই আন্তর্জাতিক চাঁদ দিবস হিসাবে পালিত হবে বলে প্রস্তাব গৃহীত হয়।

২২শে জুলাই :-

বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস

বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস ২০১৪ সালে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ নিউরোলজি দ্বারা প্রতি বছর স্নায়বিক স্বাস্থ্যের একটি ভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা আনার উপায় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ নিউরোলজি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৭ সালের ২২ শে জুলাই, তাকে স্মরণের জন্যই এই দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়।

২৩শে জুলাই :-

জাতীয় সম্প্রচার দিবস

১৯২৭ সালের এই দিনে দেশে প্রথম রেডিও সম্প্রচারের স্মরণে প্রতি বছর ২৩শে জুলাই ভারতে জাতীয় সম্প্রচার দিবস পালিত হয়। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি (BIBC) বোম্বেতে ২৩শে জুলাই, ১৯২৭ সালে সালে রেডিও সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করে। যা ১৯৩৬ সালের ৮ই জুন, ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার পরিষেবা অল ইন্ডিয়া রেডিওতে পরিণত হয়।

২৪শে জুলাই :-

জাতীয় আয়কর দিবস

দেশে আয়করের বিধান প্রবর্তনের স্মরণে আয়কর বিভাগ প্রতি বছর 24 জুলাইকে আয়কর দিবস হিসাবে পালন করে। ১৮৬০ সালের ২৪ জুলাই স্যার জেমস উইলসন ভারতে প্রথমবার আয়কর চালু করেন।

২৬শে জুলাই :-

কার্গিল বিজয় দিবস

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়লাভ করার সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে চিহ্নিত করতে প্রতি বছর ২৬ জুলাই ভারতে কার্গিল বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়।

ম্যানগ্রোভ অরণ্য সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক দিবস

২৮শে জুলাই :-

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস

বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

২৯শে জুলাই :-

আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস

সমগ্র বিশ্বে বাঘের সংরক্ষণের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৯শে জুলাই এটি পালন করা হয়। ২০১০ সালে সেণ্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ব্যাঘ্র অভিবর্তনে এই দিবসের সূচনা হয়।

৩০শে জুলাই :-

আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস

৩১শে জুলাই :-

বিশ্ব বনরক্ষী দিবস

১৯৯২ সালের ৩১শে জুলাই আন্তর্জাতিক রেঞ্জার ফেডারেশন (IRF) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দায়িত্ব পালনের সময় নিহত বা আহত রেঞ্জারদের স্মরণে এবং বিশ্বের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার্থে বনরক্ষীরা যে ভূমিকা পালন করে তা উদযাপন করার জন্য ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রেঞ্জার ফেডারেশন বিশ্ব বনরক্ষী দিবস পালন করা শুরু করে।

সোমবার, ২৬ জুন, ২০২৩

পৃথিবীতে থাকা একমাত্র বিনামূল্যের ভারতীয় রেল পরিষেবা

 

ভারতীয়দের জীবনে নির্ভরযোগ্য পরিবহণ ব্যবস্থা হিসাবে বিশেষ স্থান রয়েছে ট্রেনের। কম খরচে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রেনের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু ভারতে এমনও একটি ট্রেন রয়েছে, যা গত ৭৫ বছর ধরে যাত্রীদের বিনামূল্যে পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছে। এই ট্রেনের নাম ভাখড়া ট্রেন। এটি একটি দৈনিক ট্রেন, যা পঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত নাঙ্গল এবং ভাখড়ার মধ্যে যাতায়াত করে।

১৯৪৮ সালে চালু হওয়া বিশেষ ট্রেনটি প্রাথমিক ভাবে শ্রমিক পরিবহণের জন্য চালু হয়েছিল। ভাখড়া-নাঙ্গল বাঁধে কর্মরত নির্মাণকর্মীদের জন্যই মূলত এই ট্রেন চালু করা হয়েছিল। নির্মাণে ব্যবহৃত ভারী সরঞ্জাম সরবরাহ করার জন্যও ব্যবহার করা হত এই ট্রেন।১৯৬৩ সালে ভাখড়া-নাঙ্গল বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। তত দিন পর্যন্ত নির্মাণকারী শ্রমিক এবং স্থানীয়েরা নিয়মিত এই ট্রেনে যাতায়াত করতেন।

বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর শ্রমিকেরা এই ট্রেনে যাতায়াত বন্ধ করলেও স্থানীয় গ্রামবাসীদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে রয়ে গিয়েছিল এই ট্রেন। ২৫টি গ্রামের পাশ দিয়ে চলা ট্রেনটি প্রতি দিন প্রায় ৩০০ যাত্রীকে নিয়ে যাতায়াত করে। যাত্রীরা মূলত স্কুলপড়ুয়া এবং শ্রমিক।

শতদ্রু নদী এবং শিবালিক পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে চলা এই ট্রেনটি প্রতি দিন মাত্র ১৩ কিলোমিটার পথে যাতায়াত করে। প্রাথমিক ভাবে, ট্রেনটি বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের মাধ্যমে চালানো হত। তবে ১৯৫৩ সালে এই যাত্রাপথকে আধুনিক করার উদ্দেশে আমেরিকা থেকে তিনটি নতুন ইঞ্জিন আমদানি করা হয়। তার পর থেকে ৭০ বছর ধরে এই ট্রেনটির ইঞ্জিন বদলানো হয়নি।ভাখড়া ট্রেনের ইঞ্জিনটি প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১৮ থেকে ২০ লিটার ডিজেল খায়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে করাচির কাঠ দিয়ে ট্রেনটির কামরা তৈরি করা হয়েছিল। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উন্নত ইঞ্জিন সত্ত্বেও ট্রেনের পুরনো কাঠের মডেল আর বদলানো হয়নি। বর্তমানে এই ট্রেনটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ভাখড়া বিয়াস ম্যানেজমেন্ট বোর্ড (বিবিএমবি)।

ট্রেনটি প্রতি দিন সকাল ৭টা ৫ মিনিটে নাঙ্গল স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় এবং ভাখড়া পৌঁছয় সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ। একই দিনে, এটি আবার নাঙ্গল থেকে দুপুর ৩টে ৫ মিনিটে ভাখড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভাখড়া পৌঁছয় বিকাল সাড়ে ৪টে নাগাদ।

খরচ বৃদ্ধির কারণে ২০১১ সালে ট্রেনটির বিনামূল্যে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভেবেছিল বিবিএমবি। তবে শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি।ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেই ট্রেনের নিত্যযাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের মধ্যে ভাখড়া-নাঙ্গল বাঁধের গুরুত্ব বাঁচিয়ে রাখতেও ভাড়া চাপানো হয়নি বলে জানানো হয়।

বর্তমানে ভারতে প্রতি দিন ২২ হাজারেরও বেশি ট্রেন যাতায়াত করে। ভারতীয় রেল বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম রেলওয়ে। বিনা টিকিটে ট্রেনে যাত্রা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে ভাখড়া ট্রেনের যাত্রীদের চিন্তা করতে হয় না ট্রেনের ভাড়া নিয়ে।

সোমবার, ১৯ জুন, ২০২৩

শৈশবে ইংরাজী পড়ার বইতে থাকা এই ছড়াগুলির অন্ধকার সত্য

আমাদের শৈশবে বাংলা পড়ার বইতে যেমন ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সুকুমার রায়ের কবিতা ঠিক তেমনই ইংরেজিতে ছিল বিভিন্ন ছড়া। হাম্পটি ডাম্পটি থেকে জ্যাক অ্যান্ড জিল’—এই চরিত্রগুলির সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমেই আমরা সকলেই বড় হয়ে ওঠেছি বা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় হয়ে উঠছে। শৈশবের ইংরাজি বইতে থাকা এই ছড়াগুলি শুনে নির্মল আনন্দ পাওয়া গেলেও আসলে তার বেশির ভাগেরই নেপথ্যে রয়েছে অন্ধকার সত্য। ছোটদের এই ছড়াগুলির মাধ্যমে কখনও ফুটে ওঠে মহামারির চিত্র, কখনও ফুটে উঠেছে আত্মহত্যার কাহিনি, আবার কখনওবা তুলে ধরা হয়েছে কর আদায়ের ব্যবস্থাও।

হাম্পটি ডাম্পটির নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি আস্ত ডিমের ছবি। মানুষের মতোই যার হাত-পা, চোখ, কান, নাক, মুখ রয়েছে। কিন্তু এতো গেল কল্পনার জগৎ। বাস্তবটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেকের মতে, হাম্পটি ডাম্পটি আসলে একটি বিশালাকার কামান। ছড়ায় ডিমের চেহারাকে প্রতীকী হিসাবে দেখানো হয়েছে। আমেরিকার গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সেন্ট মেরি অ্যাট দ্য ওয়ালস চার্চ টাওয়ারের উপরে বিশাল আকৃতির এই কামান রাখা ছিল। তার কথাই হাম্পটি ডাম্পটি ছড়ায় ধরা পড়েছে।

ছোটদের প্রিয় ছড়ার মধ্যে অন্যতম জ্যাক অ্যান্ড জিল ওয়েন্ট আপ দ্য হিল। একাংশের মতে, জ্যাক এবং জিল আসলে সত্য ঘটনার প্রতিচ্ছবি। ফ্রান্সের ষোড়শ লুই এবং তাঁর স্ত্রী মেরি অ্যান্টোইনেট দুজনে প্রতারণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়। শাস্তি হিসাবে মুণ্ডচ্ছেদ করা হয় দুজনের। ছড়ায় জ্যাক এবং জিলের নাম ব্যবহার করে আদতে ষোড়শ লুই এবং তাঁর স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বা বা ব্ল্যাক শিপ ছড়ায় তিন ব্যাগভর্তি উলের কথা উল্লেখ রয়েছে। ছড়া অনুযায়ী তার মধ্যে এক ব্যাগ উল প্রভুর জন্য, দ্বিতীয় ব্যাগটি গৃহিণীর জন্য। গলির শেষে যে ছোট ছেলেটি থাকে তার জন্য বরাদ্দ ছিল উলভর্তি তৃতীয় ব্যাগটি।আসলে ছড়ায় ১৩ শতকের পশম সংক্রান্ত করব্যবস্থার কথা উল্লেখ রয়েছে। করের নিয়ম অনুযায়ী, উলের মূল্য তিন ভাগে ভাগ হত। এক তৃতীয়াংশ রাজার জন্য বরাদ্দ ছিল। বাকি দুই ভাগের এক ভাগ যেত গির্জায় এবং অবশিষ্টাংশ যেত কৃষকের কাছে। আবার অনেকে মনে করেন বা বা ব্ল্যাক শিপ ছড়ায় বর্ণবৈষম্যের ধারণার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মাস্টার এবং ব্ল্যাক শব্দের ব্যবহার দ্বারা তৎকালীন সমাজের বর্ণবৈষম্যতার রূপ তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি অনেকের।

ডু ইউ নো দ্য মাফিনম্যান ছড়াটি সুর করে গাইতেই শিশুরা বেশী স্বচ্ছন্দ্য বোধ করে। ড্রুরি লেনের বাসিন্দা মাফিনম্যানকে অনেকেই চেনেন! প্রাচীন গাথা অনুযায়ী মাফিনম্যান আসলে এক জন সিরিয়াল কিলার। লোকমুখে প্রচারিত, ষোড়শ শতকে মাফিনম্যান নাকি বাচ্চাদের মাফিন খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে মেরে ফেলত। অধিকাংশের দাবি, মাফিনম্যান কিছুতেই চাইত না যে তার এলাকায় অন্য কেউ এসে বেকারির জিনিসপত্র বিক্রি করুক। তাই এলাকায় প্রতিযোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ভেবে সাত জনকে খুন করে সে।

রিং অ্যারাউন্ড দ্য রোসেস ছড়াটির সঙ্গেও ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে ভয়াবহতা। একাংশের মতে, ছড়ায় ১৬৬৫ সালে লন্ডনে মহামারির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।মহামারির ফলে রোগীদের ত্বকে র‌্যাশ বেরোতো। তার ফলে তাঁরা অস্বাভাবিক যন্ত্রণার শিকার হতেন। একাংশের মতে রোজ়ি নামের আড়ালে এই যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির কথা বোঝাতে চেয়েছেন রচয়িতা। র‌্যাশ হলে আক্রান্ত রোগীদের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বার হত। তা থেকে রেহাই পেতে এক ধরনের বিশেষ সুগন্ধি ফুল ব্যবহৃত হত। ছড়ায় পোসিস শব্দের মাধ্যমে এই ফুলের কথা বলা হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

লন্ডন ব্রিজ ইজ় ফলিং ডাউন ছড়া অনুযায়ী বার বার নানা উপায়ে সেতু তৈরি করা হলেও তা ভেঙে পড়ত। সেতু তৈরির সময় তার ভিতর কোনও মৃতদেহ পুঁতে না রাখলে তা ভেঙে পড়বে বলে তখন ধারণা ছিল অনেকের। কিন্তু এই ঘটনা আদৌ সত্য কি না, সেতুর ভিতর কোনও দেহ রয়েছে কি না তা জানা যায় নি।