বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

জ্যোতির্বিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জ্যোতির্বিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

আগামী দিনে আর কোন কোন অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইসরো?

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর সম্প্রতি চন্দ্রঅভিযান-৩ সফল্য পেয়েছে। সেই সঙ্গে দেশ তথা পুরো বিশ্বের কাছে এখন এটাই জিগ্গাস্য যে, আগামী দিনে আর কোন কোন অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইসরো? আর খুশির খবর হল,  ইসরোর আগামী দিনে একাধিক অভিযানের মাধ্যমে ইতিহাস গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আপাতত ভারত যে মহাকাশ অভিযানগুলি নিয়ে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম আদিত্য-এল-১। ইতিমধ্যেই সেই অভিযান নিয়ে ইসরোর বিজ্ঞানীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমানাথ জানিয়েছেন, আদিত্য-এল-১ উপগ্রহটি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উৎক্ষেপণ করা হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, জানা যাচ্ছে যে আগামী ২রা সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে অন্ধপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে। এরকম সৌর অভিযানে এখনো পর্যন্ত আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মানী সফলতা অর্জন করেছে।

এস সোমনাথ আরো জানিয়েছেন, সূর্যের বায়ুমণ্ডল সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে আদিত্য-এল-১ উপগ্রহটিকে মহাকাশে পাঠানো হবে। প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোমিটার ভ্রমণ করে গন্তব্যে পৌঁছবে সেটি। সময় লাগবে প্রায় ১২০ দিন। আদিত্য-এল-১ হতে চলেছে ভারত থেকে সূর্যের দিকে পাঠানো প্রথম মহাকাশযান। ইসরো জানিয়েছে, মহাকাশযানটিকে সূর্য-পৃথিবীর মধ্যে একটি ‘হ্যালো’ কক্ষপথের এল-১ পয়েন্টে স্থাপন করা হবে।

সূর্যের অপর নাম আদিত্য। তাই কৃত্রিম উপগ্রহটির এই নাম রাখা হয়েছে। উপগ্রহটিকে মহাকাশে বহন করে নিয়ে যাবে ভারতীয় রকেট ‘পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল’ অর্থাৎ PSLV। আদিত্য-এল-১ অভিযানের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৩৭৮.৫৩ কোটি টাকা। এই অভিযান সফল হলে সৌরঝড়ের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হবে ইসরো। পাশাপাশি সূর্যের আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবও বুঝতে সাহায্য করবে এই উপগ্রহ।

আদিত্য-এল-১-এর পাশাপাশি আরও এক স্বপ্নের মহাকাশ অভিযান নিয়ে ইসরোর অন্দরে ব্যস্ততা তুঙ্গে। ইসরোর ইতিহাসে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাকাশ অভিযানের নাম ‘গগনযান’।‘গগনযান’-ই হতে চলেছে মহাকাশের গভীরে ভারতের প্রথম মানব অভিযান। ২০২৪ সালে মহাকাশে পাড়ি দিতে চলেছে ভারতের এই মহাকাশযান।

মানববাহী মহাকাশযান পাঠানোর আগে পরীক্ষার জন্য দু’টি মানবহীন যানও মহাকাশে পাঠাবে ইসরো। মূল অভিযানের আগে মানবহীন যান পাঠানোর দু’টি উদ্দেশ্য- সুরক্ষা এবং নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষা করে দেখা৷ গগনযান ভারতের নিজস্ব অভিযান। পুরো বিষয়টিই ইসরো নিজে পরিচালনা করবে। গগনযানকে সফল করতে বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থাও হাত মিলিয়েছে ইসরোর সঙ্গে। ভারতীয় সেনা, মৌসম ভবন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, নৌবাহিনী, উপকূলরক্ষী বাহিনীও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

গগনযানের বাজেট ৯,০২৩ কোটি টাকা। যদি অভিযান সফল হয়, তা হলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং শিল্পে ভারতের অগ্রগতি কেউ ঠেকাতে পারবে না বলেই মনে করছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।

পাশাপাশি, ২০২৪ সালে আমেরিকার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাডার নিসার অর্থৎ নাসা-ইসরো অ্যাপারচার র‌্যাডার পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনগুলি বোঝার জন্য পৃথিবীর কক্ষপথে এই রাডারটিকে পাঠানো হবে। অভিযানে মোট খরচ হবে প্রায় ১২,২৯৬ কোটি টাকা।

এছাড়া ২০২৪ সালে মঙ্গলগ্রহে মহাকাশযান পাঠানোর প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে ইসরো। এই অভিযানের নাম মঙ্গলযান-২। তবে এই অভিযানে কত খরচ হচ্ছে তা নিয়ে এখনও কোনও তথ্য অবশ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে ইসরোর শুক্রযান-১-এর প্রস্তুতি। শুক্রগ্রহে মহাকাশযান পাঠিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতেই এই অভিযানের পরিকল্পনা করছে ইসরো। এতে খরচ হবে ৫০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০২৩

মহাকাশের দুটি গ্রহের দূরত্ব কিভাবে পরিমাপ করা হয়?

 

মহাকাশের দূরত্ব মাপার জন্য মাইল বা কিলোমিটার একক খুবই ছোট।বিজ্ঞানীরা তাই মহাবিশ্বের দূরত্ব মাপার জন্য আলোকবর্ষ এবং পারসেক একক ব্যবহার করেন। আলোই হল মহাবিশ্বে সবথেকে দ্রতগামী, তাই সুবিশাল দূরত্বগুলি অপেক্ষাকৃত ভালোভাবে বোঝার জন্য আলোকবর্ষ এককটি খুবই উপযোগী। আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে সেটিই হল এক আলোকবর্ষ।

এটি প্রায় ১ কোটি কিলোমিটারের দুগুনের সমান আবার এক আলোকবর্ষ হল প্রায় ৩.২৫ পারসেক। আমাদের, নিকটতম তারাগুলি থেকে আলো আসতে বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যায়।

পৃথিবীর নিকটতম তারাটির দূরত্ব চার আলোকবর্ষের কিছু বেশি। এর অর্থ হল, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যখন টেলিস্কোপের সাহায্যে এই তাঁরাটি দেখেন তখন তাঁরা আসলে তারাটির অতীত,অর্থাৎ চার বছর আগে তারাটির অবস্থা কীরকম ছিল তা দেখতে পান।

বহুদূরে অবস্থিত এমন কিছু গ্যালক্সির সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলি' থেকে আলো আমাদের কাছে আসতে প্ৰায় ১,০০০ কোটি বছর সময় নেয়।

মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০২৩

আকাশের তারা সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

 

১) আকাশের তারা কি?

উ:- তারা হল গ্যাসীয় পদার্থের একটি গোলা। এই উত্তাপ এতই বেশী যে, তারার ভিতরে থাকা গ্যাসের দহন ঘটে এবং তারাকে উজ্জল দেখায়।

২) তারাগুলির উষ্ণতা কত?

উ:- তারাগুলির উষ্ণতা ২,১০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড থেকে প্রায় ৫০,০০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড।

৩) কোন তারা কত বেশি উজ্জ্বল তা বুঝব কিভাবে?

উ:- তারার রং-ই হল তার উষ্ণতার সূচক। লাল তারার থেকে সাদা তারার উত্তাপ বেশী। আর যে সমস্ত তারা এদের থেকেও বেশি উজ্জ্বল সেগুলিকে নীলাভ দেখায়।

৪) নীহারিকা কি?

উ:- ধূলিকণা ও গ্যাসের বিশাল মেঘ- ঘনীভূত হয়ে যা সৃষ্টি হয় তাকে নীহারিকা বলে। বাষ্পায়িত গ্যাসীয় দানার মতো এই নীহারিকাগুলিই আসলে তারার জন্মদাতা।

৫) আকাশের তারাদের মধ্যে কোন গ্যাস থাকে?

উ:- তারাগুলি হল প্রধানত হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের পিন্ড।

৬) তারাগুলির তাপ ও আলোর উৎপত্তি ঘটে কোথা থেকে?

উ:- হাইড্রোজেন বোমার মতোই তারাগুলির কেন্দ্রস্থলে যে নিউক্লিয় বিক্রিয়া ঘটে তার প্রভাবে তাপ ও আলোর উৎপত্তি হয়।

৭) তারাগুলির কেন্দ্রস্থলে উষ্ণতা কত?

উ:- তারাগুলির কেন্দ্রস্থলের উষ্ণতা মোটামুটি ১.৬ কোটি ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড হয়। এই উষ্ণতায় উত্তপ্ত একটি বালিকণা ১৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা কোনো মানুষকে মেরে ফেলতে পারে।

৮) উত্তপ্ত তারার মধ্যস্থিত সব পদার্থ কি
অবস্থায় থাকে
?

উ:- উত্তপ্ত তারার মধ্যস্থিত সব পদার্থই প্লাজমা (plasma) অবস্থায় অর্থাৎ পরমাণু থেকে ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে।

৯) আমরা তারাকে মিটমিট করতে দেখি কেন?

উ:- বায়ু প্রবাহের জন্য পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব অনবরত বদলায়। তারার আলো পৃথিবীর এই বায়ুমন্ডলের মধ্য দিয়ে আসে বলেই আমরা তারাকে মিট মিট করতে দেখি।

১০) তারাগুলির কেন্দ্রস্থলে কোন বিক্রিয়া ঘটে?

উ:-তারাদের কেন্দ্রস্থলে চারটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস জুড়ে গিয়ে উৎপন্ন করে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এটি হল নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া।

১১) একটি তারার-আকৃতি কত তা কিভাবে বিচার করা
হয়
?

উ:- ঔজ্জ্বল্য এবং উষ্ণতা থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা হিসেব করে বলেন একটা তারা কত বড়ো। কোনো একটি তারার আকার এবং ঔজ্জ্বল্য তার ভরের ওপর নির্ভরশীল।

১২) সূর্য কি ধরণের তারা?

উ:- আমাদের সূর্য একটা মাঝারি আকারের তারা। এই মহাবিশ্বে আর এমন কোনো তারা নেই যার ভর সূর্যের ভরের ১০০ গুণ বেশী অথবা সূর্যের ভরের ৬-৭ শতাংশেরও কম।

১৩) একটি নীল তারার উষ্ণতা কত?

উ:- অতিদানব আকারের নীল তারা যেটা পাপিস-এর পৃষ্ঠদেশের উষ্ণতা প্রায় ৪০,০০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড।

একটি তারার জীবনচক্র ও তার নামকরণ:-

১) গ্যাস এবং ধূলিকণা পুঞ্জীভূত হয়।

২) সৃষ্টি হয় এক উত্তপ্ত কেন্দ্রস্থলের জন্ম হয় এক নতুন তারার।

৩) আমাদের সূর্যের মতো প্রজ্জ্বলিত তারা বা মূল তারা।

৪) শীতল হয়ে পরিণত হয় এক লাল দানবের।

৫) যা শেষপর্যন্ত জন্ম দেয় এক ক্ষুদ্রতর, উষ্ণতর শ্বেত বামনের।

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

ধ্বংসের সময় পৃথিবীর অবস্থা কিরূপ হতে পারে?

 

ধ্বংসের
সময় পৃথিবীর অবস্থা



মহাজাগতিক
নিয়মে যা কিছু সৃষ্টি হয় তার ধ্বংস অনিবার্য
। এই
অনিবার্য নিয়ম অনুযায়ী পৃথিবীও একদিন ধ্বংস কবলিত হবে
।
আর তাই নিয়েই মহাকাশ গবেষক দের চিন্তার শেষ নেই।
তবে এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা
নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি যে
, পৃথিবী
ধ্বংস কবলিত হবার সময় তার অবস্থা কেমন হবে
। বিভিন্ন
সময়ে এ সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য উঠে এসেছে
। তেমনই একটি তথ্য এবারে উঠে
এসেছে
-‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিকাল জার্নাল লেটারস’ নামক বিজ্ঞান বিষয়ক একটি পত্রিকায় কেপলার-১৬৫৮বি
নিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। আর সেখানে বলা হয়েছে
, ২০১৯ সালে কেপলার টেলিস্কোপের
মাধ্যমে দেখতে পাওয়া এই গ্রহটি
-ই
দেখাতে পারে
, কীভাবে
এক দিন পৃথিবী মহাজাগতিক নিয়মে ধ্বংস হয়ে যাবে।



গ্রহটির
নাম কেপলার-১৬৫৮বি। মহাকাশে কেপলার-১৬৫৮বি-এর শেষ দিন ঘনিয়ে এসেছে। দ্রুত গতিতে
নক্ষত্রের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে সে। আগামী কয়েক হাজার বছরের মধ্যে গ্রহটি নক্ষত্রে
বিলীন হয়ে যাবে
,
আর তার অস্তিত্ব থাকবে না। তীব্র গতিতে মৃত্যুর দিকে ছুটে চলেছে কেপলার-১৬৫৮বি।
সেই ছবি ধরা পড়েছে বিজ্ঞানীদের টেলিস্কোপে। পৃথিবী থেকে গ্রহটির দূরত্ব প্রায় ২
হাজার ৬০০ আলোকবর্ষ। এই গ্রহের সঙ্গে সৌরজগতের গুরুগ্রহের সাদৃশ্য রয়েছে। কেপলার-১৬৫৮বি
সৌরজগতের বৃহস্পতি গ্রহের আকারের সমান। একে
‘হট জুপিটার’ বা ‘উষ্ণ বৃহস্পতি’ও বলা হয়ে থাকে।



আমাদের
সৌরমণ্ডলের মূল নক্ষত্র সূর্য থেকে তার নিকটতম গ্রহ বুধের যতটা দূরত্ব
, কেপলার-১৬৫৮বি এবং তাদের
সৌরমণ্ডলের তাদের মূল নক্ষত্রের মধ্যকার দূরত্ব তার চেয়ে ৮ গুণ কম। নক্ষত্রটিকে
প্রদক্ষিণ করতে কেপলার-১৬৫৮বি ৩ দিনেরও কম সময় নেয়।বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন
, এই নক্ষত্র এবং
কেপলার-১৬৫৮বি-এর মধ্যকার দূরত্বই দিন দিন কমে আসছে। নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করতে
বছরে প্রায় ১৩১ মিলিসেকেন্ড করে কম সময় নিচ্ছে কেপলার-১৬৫৮বি।

শুক্রবার, ৬ মে, ২০২২

শুক্রগ্রহ সম্পর্কে সব তথ্যাদি॥ একনজরে শুক্রগ্রহ

 

শুক্রগ্রহ সম্পর্কে সব তথ্যাদি

শুক্র একটি মেঘে ঘেরা গ্রহ যার নামকরণ করা হয়েছে প্রেম ও সৌন্দর্যের রোমান দেবীর নামে, যাকে প্রায়শই পৃথিবীর যমজ বলা হয়। শুক্র হল সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম গ্রহ। চাঁদের পরে পৃথিবীর রাতের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু হিসাবে, যাকে দেখা যায় সেটি হল শুক্র গ্রহ।

যদিও শুক্রগ্রহ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ নয়, তবুও এটি সবচেয়ে উষ্ণ। এটিতে একটি ঘন বায়ুমণ্ডল রয়েছে যা গ্রিনহাউস গ্যাস- কার্বন ডাই অক্সাইড এবং সালফিউরিক অ্যাসিড দিয়ে তৈরি মেঘে পূর্ণ। গ্যাস প্রধানত তাপকে আটকে রাখে এবং শুক্রকে উষ্ণ রাখে। প্রকৃতপক্ষে, শুক্রগ্রহের গরম এত বেশি, যা সীসার মতো ধাতু গলানোর জন্য যথেষ্ট। এখানকার বায়ুমণ্ডল এত ঘন যে, শুক্রগ্রহের পৃষ্ঠ থেকে সূর্যকে দেখলে একটি আলোর দাগের মতন দেখায়।

শুক্রকে দেখতে খুবই সক্রিয় গ্রহের মতো। এটিতে পাহাড় এবং আগ্নেয়গিরি রয়েছে। বুধ, পৃথিবী এবং মঙ্গল গ্রহের পাশাপাশি শুক্র হল পাথুরে গ্রহগুলির মধ্যে একটি। শুক্র গ্রহের আকার পৃথিবীর সমান। বলা যেতে পারে পৃথিবীর
আকার একটু বড়।

নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে শুক্র গ্রহ পৃথিবী আর সূর্যের মাঝখান দিয়ে চলে যায়। তখন শক্রকে সূর্যের ওপর দিয়ে যেন একটা কালো ফোঁটা সরে যাচ্ছে- এরকম দেখতে লাগে, এই ব্যাপারটিকে বলা হয় “ট্রানজিট অফ ভেনাস”। শুক্রগ্রহের শেষ ট্রানজিট ছিল ৫-ই এবং ৬-ই জুন ২০১২ সালে, এবং এটি ছিল ২১ শতকের শেষ শুক্রগ্রহের ট্রানজিট; পূর্বের ট্রানজিটটি ছিল ৮-ই জুন ২০০৪ তারিখে। এর আগের জোড়া ট্রানজিটটি ছিল ডিসেম্বর ১৮৭৪ এবং ডিসেম্বর ১৮৮২ সালে। শুক্রের পরবর্তী স্থানান্তর ঘটবে ১০-ই কিংবা ১১-ই ডিসেম্বর ২১১৭ এবং ৮-ই ডিসেম্বর ২১২৫ তারিখে।

শুক্রগ্রহ একটু অস্বাভাবিক বা অন্য ধরনের কারণ এটি পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহের বিপরীত দিকে ঘোরে অর্থাৎ সৌরমণ্ডলে, যেখানে সমস্ত গ্রহ ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘোরে, সেখানে শুক্রগ্রহ ঘড়ির কাটার দিকে ঘোরে। জ্যোতির্বিজ্ঞানে এইরকম বিপরীতমুখী গতিকে বলা হয় প্রতীপ গতি (retrograde motion)। এর ঘূর্ণন খুবই ধীরগতির। নিজের অক্ষের উপর শুক্র গ্রহের একবার ঘুরতে প্রায় ২৪৩ দিন সময় লাগে, যা পৃথিবীর সময় লাগে ২৪ ঘন্টা। শুক্রগ্রহের সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরতে সময় লাগে ২২৫ দিন, যা পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন। তার মানে শুক্র গ্রহের একটি দিন শুক্রগ্রহের এক বছরের চেয়ে একটু বেশি।

যেহেতু দিন এবং বছরের দৈর্ঘ্য প্রায় একই, তাই শুক্রগ্রহের একটি দিন পৃথিবীর একটি দিনের মতো নয়। পৃথিবীতে, প্রতিদিন সূর্য একবার ওঠে এবং অস্ত যায়; কিন্তু শুক্রগ্রহে, সূর্য পৃথিবীর প্রতি ১১৭ দিনে একবার উদিত হয়। তার মানে শুক্র গ্রহে প্রতি বছর দু-বার সূর্য উদয় হয়, যদিও তখন শুক্র গ্রহে একই দিন বা একটি দিন উপস্থিত থাকে! এবং শুক্র পিছনের দিকে ঘোরার কারণে, সূর্য পশ্চিমে উদিত হয় এবং পূর্ব দিকে অস্ত যায়। বুধের মতো শুক্রেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

শুক্রগ্রহের তথ্যসমূহ:-

§  শুক্র গ্রহের ব্যাস ১২,১০০ কিলোমিটার বা ৭,৫২০মাইল

§  শুক্র গ্রহের সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ১০৮ মিলিয়ন কিলোমিটার (৬৭ মিলিয়ন মাইল)

§  সূর্যের চারপাশে শুক্র গ্রহের একবার প্রদক্ষিণের সময় বা গতিবেগ ২২৫ দিন

§  শুক্র সূর্য থেকে ০.৭ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে।

§  নিজের অক্ষের উপর শুক্র গ্রহের একবার প্রদক্ষিণের গতিবেগ বা নিজের পরিধিকে পরিক্রমণের সময়- ২৪৩ দিন

§  শুক্রগ্রহের তাপমাত্রা +৪৭৫° সেন্টিগ্রেট (৯০০° ডিগ্রি ফারেনহাইট)

একনজরে শুক্রগ্রহ:-

গঠন এবং পৃষ্ঠ

·      শুক্র আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রহ।

·      শুক্র একটি পার্থিব গ্রহ। এটি ছোট এবং পাথুরে।

·      শুক্রের একটি ঘন বায়ুমণ্ডল রয়েছে; যা তাপকে আটকে রাখে এবং শুক্রকে খুব গরম করে তোলে।

·      শুক্রের আগ্নেয়গিরি সহ, একটি সক্রিয় পৃষ্ঠ আছে।

·      শুক্রগ্রহ পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহের বিপরীত দিকে ঘোরে।

শুক্রগ্রহের সময়

·      শুক্রগ্রহে একদিন পৃথিবীর ২৪৩ দিনের সমান হয়।

·      শুক্রগ্রহে এক বছর পৃথিবীর ২২৫ দিনের সমান হয়।

শুক্রের প্রতিবেশী

·      শুক্রের কোনো চাঁদ নেই।

·      শুক্র সূর্য থেকে দ্বিতীয় গ্রহ। তার মানে বুধ এবং পৃথিবী শুক্রের প্রতিবেশী গ্রহ।

ইতিহাস

শুক্র গ্রহটি প্রাচীনকাল থেকেই পরিচিত কারণ এটি টেলিস্কোপ ছাড়া সহজেই দেখা যায়।

শুক্রকে বিভিন্ন মহাকাশযান দ্বারা পরিদর্শন করা হয়েছে: মেরিনার ২, মেরিনার ৫, মেরিনার ১০, পাইওনিয়ার ভেনাস ১, পাইওনিয়ার ভেনাস ২ এবং ম্যাগেলান নামক একটি কক্ষপথ।

বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০২২

বুধগ্রহ সম্পর্কে সব তথ্যাদি

 

বুধগ্রহ সম্পর্কে সব তথ্যাদি

মার্কারি বাগ্মিতা দৈত্য এবং বাণিজ্যের রোমান দেবতা। তার নামেই বুধ গ্রহের নামকরণ হয়েছে মার্কারি। বুধ আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ। এটি পৃথিবীর উপগ্রহের চেয়ে একটু বড়। এটি সূর্যের নিকটতম গ্রহ, তবে এটি আসলে সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রহ নয়। শুক্র হল সৌরমণ্ডলের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রহ। একমাত্র সকাল ও সন্ধ্যার প্রথম ভাগে অল্প সময়ের জন্য বুধ গ্রহকে পর্যবেক্ষণ করা যায় পৃথিবী থেকে।

শুক্র, পৃথিবী এবং মঙ্গল গ্রহের পাশাপাশি বুধ হল পাথুরে গ্রহগুলির মধ্যে একটি। বুধগ্রহের কোনো বায়ুমণ্ডল নেই, এবং এর কোনো উপগ্রহও নেই। ধূলিকণায় আবৃত বুধের পৃষ্ঠে মাঝে মাঝে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের মতো দেখতে বড় বড় গর্ত বা ক্রেটার দেখা যায়। মহাকাশ থেকে আছড়ে পড়া পাথরের টুকরোর আঘাতে ক্রেটারগুলি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হয়। বুধগ্রহের ক্রেটারগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়টির নাম ক্যালোরিস বেসিন।এটির
প্রস্থ ১
,৫৫০ কিমি এবং গভীরতা ২ কিমি।

এই ছোট গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় ধীরে ধীরে ঘোরে, তাইএকদিন দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়। বুধ নিজের পরিধিকে পরিক্রমণ করতে সময় নেয় ৫৯ দিন, যা পৃথিবীর সময় লাগে ২৪ ঘন্টা। সূর্যের চারপাশে বুধ গ্রহের একবার প্রদক্ষিণের সময় লাগে ৮৮ দিন, যা পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন। আপনি যদি বুধ গ্রহে থাকতেন, তাহলে প্রতি তিন মাসে আপনার জন্মদিন হতো।

বুধের একটি দিন পৃথিবীর একটি দিনের মতো নয়। পৃথিবীতে প্রতিদিন সূর্য ওঠে এবং অস্ত যায়। যেহেতু বুধগ্রহের অত্যন্ত ধীর ঘূর্ণন এবং একটি ছোট বছর রয়েছে, তাই সেখানে সূর্য উঠতে এবং অস্ত যেতে অনেক সময় লাগে। বুধগ্রহে পৃথিবীর প্রতি ১৮০ দিনে মাত্র একবার সূর্যোদয় হয়।

বুধ গ্রহের তাপমাত্রা চরমভাবাপন্ন রাতে -১৭৩°সেন্টিগ্রেড (প্রায়) আবার দিনে ৪২৫° সেন্টিগ্রেট (প্রায়) এছাড়াও সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর বিকিরণ-এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, এই গ্রহের চারদিকের আবহমন্ডলের কোন স্থায়ী সুরক্ষা বর্মও নেই।

বুধগ্রহকে দুটি মহাকাশযান দ্বারা পরিদর্শন করা
হয়েছে: মেরিনার ১০ এবং মেসেঞ্জার।

বুধগ্রহের তথ্যসমূহ:-

বুধ গ্রহের ব্যাস ৪,৮৭৮ কিলোমিটার

বুধ গ্রহের সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ৫৮
মিলিয়ন কিলোমিটার (৩৬ মিলিয়ন মাইল)

বুধ সূর্য থেকে ০.৪ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে।

সূর্যের চারপাশে বুধ গ্রহের একবার প্রদক্ষিণের সময় বা গতিবেগ ৮৮ দিন

নিজের অক্ষের উপর বুধ গ্রহের একবার প্রদক্ষিণের গতিবেগ বা নিজের পরিধিকে পরিক্রমণের সময় ৫৮ দিন ১৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট

বুধ গ্রহের তাপমাত্রা +১৬৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট (৩৩৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট)

একনজরে বুধগ্রহ:-

গঠন এবং পৃষ্ঠ:-

বুধ আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ।

বুধ একটি পার্থিব গ্রহ। এটি ছোট এবং পাথুরে।

বুধের আসলে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই।

বুধের সময়:-

বুধের একটি দিন পৃথিবীর ৫৯ দিনের সমান হয়।

বুধে একটি বছর পৃথিবীর ৮৮ দিনের সমান হয়।

বুধের প্রতিবেশী:-

বুধের কোনো উপগ্রহ নেই।

বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ।

শুক্র হল বুধের প্রতিবেশী গ্রহ।

ইতিহাস:-

বুধগ্রহ প্রাচীন কাল থেকেই পরিচিত কারণ এটি উন্নত টেলিস্কোপ ছাড়াই দেখা যায়।

বুধগ্রহকে দুটি মহাকাশযান দ্বারা পরিদর্শন করা হয়েছে: মেরিনার ১০ এবং মেসেঞ্জার।