বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

স্বামী বিবেকানন্দ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বামী বিবেকানন্দ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০২২

স্বামীজি মোটা বইও মুখস্ত করে ফেলতেন একনিমিষে

 স্বামীজীর পরিব্রাজক জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা

মীরাটে এসে স্বামীজীর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল আরও কয়েকজন গুরুভাইয়ের সঙ্গে। তারাও
সন্ন্যাস গ্রহণ করে পরিব্রাজক বেশে ঘুরছিলেন। সকলে মিলে একজায়গায় উঠলেন। স্বামীজীর
খুব পড়াশুনোর অভ্যাস। এক গুরুভাই প্রতিদিন স্থানীয় এক লাইব্রেরী থেকে তাঁর জন্য
কয়েকটি মোটা বই নিয়ে আসেন। কিন্তু স্বামীজীর তা একদিনে পড়া হয়ে যায়। তাই পরদিনই
সেই বই ফেরত দিয়ে নতুন বই আনতে হয়। লাইব্রেরিয়ান এতে ভাবলেন স্বামীজী লোককে
দেখানোর জন্য শুধুমাত্র পড়বার ভান করছেন । স্বামীজীর গুরুভাইয়ের কাছে তিনি এই
সন্দেহের ইঙ্গিতও দিলেন। স্বামীজী একথা জেনে একদিন নিজে সেই লাইব্রেরিয়ানের কাছে
হাজির হলেন এবং বললেন:
'আমি সবকটা
বই-ই ভাল করে পড়েছি। আপনার সন্দেহ হলে যে কোন বই থেকে যে-কোন প্রশ্ন করে দেখতে
পারেন।
' লাইব্রেরিয়ান
তাই করলেন। স্বামীজী সব প্রশ্নের উপযুক্ত উত্তর দিলেন দেখে লাইব্রেরিয়ানের
বিস্ময়ের সীমা রইলো না। তিনি ভাবতে লাগলেন
, এও কি সম্ভব?



রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

স্বামীজি দেখালেন চোরের কাছ থেকেও নতুন কিছু শেখা যায়

স্বামীজি দেখালেন চোরও একজন মহান সাধু হতে পারে

পাওহারীবাবাকে স্বামীজি খুব শ্রদ্ধা করতেন।
স্বামীজি শুনেছিলেন পাওহারি বাবার কুটিরে একবার এক চোর ঢুকেছিল। তাঁর জিনিসপত্র
চুরি করে পালাবার মুহূর্তে পাওহারীবাবার ঘুম ভেঙে যায়। চোর ভয় পেয়ে জিনিসপত্র
ফেলেই পালাতে থাকে। পাওহারীবাবা সেই জিনিসগুলি নিয়ে চোরের পেছনে পেছনে ছুটতে
থাকেন এবং বহু দূর গিয়ে চোরকে ধরে তার হাতে ওই জিনিস গুলি তুলে দিয়ে ফিরে আসেন।
স্বামী যখন হিমালয় যান
, তখন এক
সৌমদর্শন সন্ন্যাসীকে দেখে আকৃষ্ট হন। কিন্তু স্বামীজি অবাক হয়ে গেলেন যখন তাঁর
মুখের শুনলেন তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি কিনা পাওহারি বাবার কুঠিরে চুরি করতে
গিয়েছিলেন। সাধুটি বললেন "পাওহারীবাবা যখন আমায় নারায়ন জ্ঞানে অকুণ্ঠিত
চিত্তে সর্বস্ব অর্পণ করলেন
, তখন আমি
আমার নিজের ভুল ও হীনতা বুঝতে পারলাম এবং সেই থেকে ঐহিক অর্থ ত্যাগ করে পারমার্থিক
অর্থের সন্ধান ঘুরতে লাগলাম।" এই দৃষ্টান্ত স্বামীজীর মনে গভীর রেখাপাত
করেছিল। এই সাধুর কথা মনে রেখেই পরবর্তীকালে তিনি বলতেন: পাপীদের মধ্যেও সাধুত্বের
বীজ লুকিয়ে থাকে।


কাউবয়-দের সঙ্গে স্বামীজির লড়াই

স্বামীজীর জ্ঞানই কাউবয়রা স্বামীজীর উপরই পরিক্ষা করে দেখল

আমেরিকার পশ্চিম প্রান্তে একটা নগরীতে স্বামীজি
একবার বক্তৃতায় বলেছিলেন: যিনি সর্বোত্তম সত্যে পৌঁছেছেন
, বাইরের কোনো কিছুই তাকে বিচলিত করতে পারে না।
কথাগুলি শুনল কয়েকটি কাউবয়। তারা ঠিক করল স্বামীজীর উপরেই স্বামীজীর এই কথার
পরীক্ষা চালাতে হবে। স্বামীজী তাদের গ্রামে বক্তৃতা করতে গেলে তারা একটি টব উল্টে
তার উপরে দাঁড়িয়ে তাঁকে বক্তিতা করতে বললেন। স্বামীজী একটুও দ্বিধা না করে তাই
করলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে বক্তৃতার মধ্যে ডুবে গেলেন। এমন সময় তাঁর কানের দুপাশ
দিয়ে শোঁ শোঁ শব্দে গুলি ছুটতে লাগল। স্বামীজী কিন্তু একটুও বিচলিত না হয়ে
বক্তৃতা চালিয়ে গেলেন। বক্তৃতা শেষ হলে সেই ছেলেগুলি তাকে ঘিরে দাঁড়াল
, করমর্দন করে বলল: হ্যাঁ, তুমি সত্যিই খাঁটি লোক।



সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১

স্বামীজী জীবনের পাওয়া মহৎ শিক্ষা

একটি শিক্ষা-ভয়ঙ্করের মুখোমুখি দাঁড়াও

পর্ব-৬

বারাণসীধামে এসেছেন স্বামীজী। একদিন দুর্গামন্দির থেকে ফিরছেন, এমন সময় একপাল বানর স্বামীজীর পিছু নিল। স্বামীজী দৌড়তে লাগলেন, বানরগুলোও পেছনে ছুটল। এমন সময় একজন বৃদ্ধ সন্ন্যাসী স্বামীজীকে বললেনঃ 'থামো, জানোয়ারগুলোর মুখোমুখি রুখে দাঁড়াও। ' স্বামীজী সাহসভরে ফিরে দাঁড়ালেন-বানররা প্রথমে থমকে দাঁড়াল, তারপর ছুটে পালল। এই ঘটনা থেকে স্বামীজী জীবনের একটা মহৎ শিক্ষা পেলেন-বিঘ্ন কিংবা বিপদ দেখে কখনও পালিয়ে যেতে নেই, নির্ভয়ে তার মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। পরবর্তী জীবনে নিউইয়র্কে একটি বক্তৃতায় সময় স্বামীজী এই ঘটনার উল্লেখ করে বলেছিলেন: 'এই হল সারা জীবনের জন্য একটি শিক্ষা-ভয়ঙ্করের মুখোমুখি দাঁড়াও, সাহসের সঙ্গে তার সম্মুখীন হও। জীবনের দুঃখ-কষ্ট দেখে আমরা যখন আর পালিয়ে যাই না, ঐ বানরগুলির মতোই তখন তারা আমাদের কাছ থেকে পিছু হটে যায়। যদি আমাদের মুক্তি পেতে হয়, তবে প্রকৃতিকে জয় করে তা পেতে হবে-প্রকৃতি থেকে পালিয়ে গিয়ে নয়। কাপুরুষ কখনও জয়ী হয় না। যদি আমরা চাই যে ভয়, বাধাবিপত্তি এবং অজ্ঞতা আমাদের সামনে থেকে দূর হয়ে যাবে, তবে আমাদের সেগুলির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।



স্বামীজি কতটা ভারতবর্ষকে ভালবাসতেন

স্বামীজির কাছে ভারত বর্ষ কেমন-তা তাঁর এই কথা
থেকেই বোঝা যায়

পর্ব-১০

Click here to know the information in English

বিদেশ থেকে ফেরবার সময় একজন ইংরেজ বন্ধু স্বামীজীকে প্রশ্ন করেছিলেন: পাশ্চাত্যের বিলাশ বৈভব্যের মধ্যে চার বছর কাটানোর পর তাঁর মাতৃভূমি তার কাছে কেমন মনে হবে? স্বামীজি উত্তর দিয়েছিলেন যে, বিদেশে আসবার আগেও আমি ভারতবর্ষকে ভালোবাসতাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ভারতের প্রতিটি ধূলিকণা আমার কাছে পবিত্র; ভারতের বাতাস আমার কাছে পবিত্র। ভারত আমার পুণ্যভূমি, আমার তীর্থস্থান।



রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১

স্বামীজীর বিদ্যালয় জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা

ছোটবেলা থেকেই স্বামীজীর মন ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠা
ও সততায় পূর্ণ

পর্ব-৫

Click here to know the information in English

নরেন্দ্রনাথের ব্যাক্তিত্বে এমন আকর্ষণ ছিল যে, তিনি কোন গল্প শুরু করলে সবই সব কাজ ভুলে তাঁর কথাই শুনত। একদিন স্কুলে ক্লাসের ফাঁকে তিনি গল্প করছিলেন। গল্প এত জমে গিয়েছিল যে, শিক্ষক এসে পড়াতে শুরু করলেও সকলে পড়ার দিকে মন না দিয়ে তাঁর  কথাই শুনছিল। কিছুক্ষণ পরে শিক্ষক ব্যাপারটা বুঝতে পারেন এবং বিরক্ত হয়ে এক এক করে সবাইকে তিনি যা পড়াচ্ছিলেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। কেউ উত্তর দিতে পারলো না। কিন্তু নরেন্দ্রনাথ সঠিক উত্তর দিলেন কারণ তাঁর মন ছিল দু-মুখো, তিনি গল্পের ফাঁকে মনের একটা অংশ পড়ার দিতে রেখে দিতে পারতেন। এদিকে শিক্ষক যখন জিজ্ঞাসা করলেন: এতক্ষণ কে কথা বলছিল? সকলে নরেন্দ্রনাথকে দেখিয়ে দিল।শিক্ষকের তাতে বিশ্বাস হল না। তিনি নরেন্দ্র ছাড়া সবাইকে দাঁড়িয়ে থাকতে বললেন। অথচ সকলের সঙ্গে নরেন্দ্রও দাঁড়িয়ে রইলেন।শিক্ষক তখন বললেন: 'তোমাকে দাঁড়াতে হবেনা'। নরেন্দ্রনাথ বললেন: না,আমাকেও দাঁড়াতে হবে, কারণ আমিই কথা বলছিলাম। তিনি তাদের সাথে দাঁড়িয়ে রইলেন।



মা একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন বিবেকানন্দকে

ছোটবেলা থেকেই মায়ের শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন স্বামীজি

পর্ব-৪

Click here to know the information in English

স্বামী বিবেকানন্দের মা ভুবনেশ্বরী দেবী একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন: 'আজীবন পবিত্র থেকো, নিজের মর্যাদা লঙ্ঘন করো না।খুব শান্ত হবে, কিন্তু আবশ্যক হলে হৃদয় দৃঢ় করবে। ' মায়ের এই শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন তিনি। অপরকে যথোচিত সম্মান দিতেন এবং কেউ তাকে অসম্মান করবে তাও তিনি বরদাস্ত করতেন না। একবার বালক নরেন্দ্রনাথকে তাঁর বাবার এক বন্ধু অযথা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে থাকেন। অথচ বাড়ীতে কখনোই এমন ব্যবহার করেন না কেউ তার সঙ্গে। তাই নরেন্দ্রনাথের কাছে এমন ব্যবহার নতুন। অবাক হয়ে তিনি ভাবলেন: 'কি আশ্চর্য! আমার বাবাও আমাকে এত তুচ্ছ মনে করেন না, আর ইনি কিনা তাই ভাবেন। ' আহত সর্পের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দৃঢ়কন্ঠে নরেন্দ্রনাথ বললেন: 'আপনার মতো অনেকে আছেন, যাঁরা মনে করেন, ছেলেমানুষ হলেই বুদ্ধি-বিবেচনা থাকে না। এ ধারণা কিন্তু নিতান্ত ভুল।' নরেন্দ্রনাথ অত্যন্ত চটে গেছেন দেখে সেই ভদ্রলোক নিজের ভুল স্বীকার করেছিলেন।



স্বামী বিবেকানন্দের একটি চরম শিক্ষা দেওয়ার ঘটনা

স্বামী বিবেকানন্দ একটি চরম শিক্ষা দিয়েছিলেন সবাইকে সেই কথাই তুলে ধরব এখানে

পর্ব-৩

Click here to know the information in English

স্বামীজীকে একবার এক ব্যাক্তি বলেছিলেন: সন্ন্যাসীর পক্ষে নিজর দেশের মায়া ত্যাগ করে সব দেশকে একই রকম দৃষ্টিতে দেখা উচিত। স্বামীজী সেই ব্যাক্তিকে উত্তর দিয়েছিলেন: যে আপনার মাকে ভাত দেয় না, সে অন্যের মাকে কি পুষবে? ' অর্থাৎ  সন্ন্যাসীরও উচিত মাতৃভূমিকে ভালবাসা। নিজের দেশকেই যে ভালবাসতে পারে না, সে গোটা পৃথিবীকে আপন করে নেবে কি করে? প্রথমে স্বদেশপ্রেম, স্বদেশপ্রেমের সিঁড়ি বেয়ে বিশ্বপ্রেম।


স্বামীজীর বিনা দোষে শাস্তি পাওয়ার ঘটনা

স্বামীজীর জীবনের স্মরণীয় ঘটনা

পর্ব-২

Click here to know the information in English

স্কুলে একদিন বিনাদোষে নরেন্দ্রকে শাস্তি পেতে হয়।ভূগোলের ক্লাসে নরেন্দ্রনাথ সঠিক উত্তরই দিয়েছিলেন,কিন্তু মাষ্টারমশায়ের মনে হল তাঁর উত্তর ভুল।তাই তিনি নরেন্দ্রকে শাস্তি দিলেন।নরেন্দ্র বারবার প্রতিবাদ করলেনঃ 'আমার ভুল হয়নি,আমি ঠিকই বলেছি।' কিন্তু এতে মাস্টারমশাই আরও রেগে গেলেন,বেত দিয়ে নির্দয়ভাবে নরেন্দ্রকে মারতে লাগলেন।মা তাঁকে সান্তনা দিয়ে বললেন: 'বাছা,তোমার যদি ভুল না হয়ে থাকে,তবে এতে কি এসে যায়? ফল যাই হোক না কেন,সর্বদা যা সত্য বলে মনে করবে তাই করে যাবে।' মায়ের এই উপদেশের পরিপূর্ণ রূপ নরেন্দ্রনাথ দেখেছিলেন গুরু শ্রীরামকৃষ্ণের মধ্যে। শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, আচরণেও দেখাতেনঃ 'সত্যই কালির তপস্যা।' মা এবং গুরুদেব উভয়ের মধ্যেই যে সত্যনিষ্ঠার আদর্শ দেখেছিলেন,তা স্বীয় জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে রূপায়িত করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।পরবর্তীকালে তাই বিবেকানন্দের কাছ থেকে জগৎ শুনেছে মহাবলিষ্ঠ এই বাণী : 'সত্যের জন্য সবকিছু ত্যাগ করা যায়, কিন্তু কোন কিছুর জন্যই সত্যকে ত্যাগ করা যায় না।



স্বামীজীর জীবনের একটি বন্ধু সুলভ ঘটনা

স্বামীজীর জীবনের স্মরণীয় ঘটনা

পর্ব-১

Click here to know the information in English

বি.এ. পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দেওয়ার সময় হয়েছে।নরেন্দ্রের সহপাঠী সকলেই টাকা জমা দিয়েছে-কেবল হরিদাস ছাড়া।সে বড় গরীব, টাকা যোগাড় করতে পারেনি। শুধু পরীক্ষার ফি-ই নয়, এক বছরের বেতন বাকি। হরিদাসের পক্ষে ফি-র টাকাটা কোন মতে দেওয়া সম্ভব, কিন্তু এক বছরের বেতন দেওয়া অসম্ভব।সব শুনে নরেন্দ্র এগিয়ে এলেন। তিনি জানতেন এরকম বিশেষ ক্ষেত্রে টাকা মুকুব করার ব্যবস্থা আছে আর তা আছে কলেজের বৃদ্ধ কেরানী রাজকুমারবাবুর হাতে।ছেলেরা যখন টাকা জমা দিচ্ছে,নরেন্দ্র তখন রাজকুমারবাবুর কাছে গিয়ে বললেন: 'মশায়,হরিদাস দেখছি মাইনেটা দিতে পারবে না; আপনি একটু অনুগ্রহ করে তাকে মাপ করে দিন।তাকে পাঠালে সে ভালরকম পাস করবে; আর না পাঠালে সব মাটি।' রাজকুমারবাবুর মেজাজ ভাল ছিল না-মুখবিকৃতি করে বললেন: 'তোকে জ্যাঠামি করে সুপারিশ করতে হবে না; তুই যা, নিজের চরকায় তেল দেগে যা।আমি ওকে মাইনে না দিলে পাঠাবো না।' নরেন্দ্র চিন্তায় পড়লেন।তাঁর নিজের পক্ষেও অত টাকা যোগাড় করা কঠিন- অথচ তাড়াতাড়ি টাকা যোগাড় না করলে বন্ধু পরীক্ষায় বসতে পারবে না।কি করা যায়? মাথায় তাঁর একটা বুদ্ধি খেলে গেল।

বাড়ী না ফিরে সেদিন সন্ধ্যায় তিনি হেদোর কাছে এক গুলির আড্ডার কাছে অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন,আর গুলির দোকানের দিকে যারা আসছে তাদের ভালো করে লক্ষ্য করতে লাগলেন।হঠাৎ নরেন্দ্রনাথ অন্ধকার থেকে বেরিয়ে একজনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।রাজকুমারবাবু! নরেন্দ্রনাথ জানতেন রাজকুমারবাবু ঐ গুলির আড্ডায় নেশা করতে আসেন।নরেন্দ্রনাথকে দেখে রাজকুমারবাবুর মুখ শুকিয়ে গেছে।সুযোগ বুঝে নরেন্দ্রনাথ বললেন যে, হরিদাসের মাইনেটা যদি তিনি মুকুব না করেন, তাহলে তিনি তাঁর নেশার কথা কলেজময় ছড়িয়ে দেবেন।রাজকুমারবাবু তখন বিপদ বুঝে বললেন: 'বাবা রাগ করিস কেনো? তুই যা বলছিস তাই হবে।তুই যখন বলছিস আমি কি তা না করতে পারি?' কার্যসিদ্ধি হয়েছে দেখে নরেন্দ্রনাথ ফিরে চললেন।তিনি চোখের আড়াল হতেই রাজকুমারবাবু এদিক-ওদিক দেখে গলির আড্ডায় ঢুকে পড়লেন।
পরদিন সকাল হতে না হতেই নরেন্দ্রনাথ হরিদাসের বাড়িতে গিয়ে বন্ধুকে ডেকে বললেন: 'ওরে খুব ফুর্তি কর,তোর মাইনের টাকাটা আর দিতে হবে না।' তারপর গত সন্ধ্যার ঘটনাটা অনুপূর্বক বর্ণনা করে দুজনেই হাসিতে ফেটে পড়লেন।