বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তথ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তথ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

বিশ্ব সম্পর্ক বা বিশ্বায়ান ধারণার উদ্ভব হল কিভাবে?

 অন্তর্জাতিক
সম্পর্ক



বহু
প্রাচীনকালে চিনের দার্শনিক মেনসিয়াস
, ভারতের
কৌটিল্য ও ইতালির দার্শনিক মেকিয়াভেলির রচনায় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে
উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের
পর্যালোচনা গুরুত্ব লাভ করে। বস্তুত
, দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি স্বতন্ত্র পাঠ্যবিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা
পায় এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্বগত আলোচনার সূত্রপাত ঘটে।



আন্তর্জাতিক
সম্পর্ক একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল বিষয়। ঠাণ্ডা লড়াইয়ের পরবর্তী যুগে একক
মহাশক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে মার্কিনি আধিপত্য
, সম্মিলিত
জাতিপুঞ্জের নিষ্ক্রিয়তা
, নয়া-বিশ্বব্যবস্থায়
বিশ্বায়নের প্রভাব
, বিশ্ববাণিজ্য
সংস্থার প্রতিপত্তি
, জাতীয়
রাষ্ট্রের সার্বভৌমিকতার সাবেকি সংজ্ঞার আমূল পরিবর্তন ইত্যাদির ফলে বর্তমানে
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রকৃতি এক নতুন যুগসন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে।



আন্তর্জাতিক
সম্পর্কের মুখ্য ধারণাগুলির মধ্যে রয়েছে জাতীয় শক্তি বা ক্ষমতা
, জাতীয় স্বার্থ, জোটনিরপেক্ষতা ও বিশ্বায়ন।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তি বা ক্ষমতার ভূমিকা প্রধান। বর্তমানে আন্তর্জাতিক
রাজনীতিতে শক্তি বা ক্ষমতা একটি কেন্দ্রীয় ধারণারূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের
বিভিন্ন রাষ্ট্রকে অতিবৃহৎ শক্তি
, বৃহৎ
শক্তি
, মাঝারি
শক্তি
, ক্ষুদ্র
শক্তি ইত্যাদি রূপে বিভক্ত করা হয়। অবশ্য আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা শক্তি বা
ক্ষমতা বলতে শুধুমাত্র সামরিক ক্ষমতাকে বোঝাতে চাননি। জাতীয় শক্তি বা ক্ষমতার মতো
জাতীয় স্বার্থের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি জাতীয়
স্বার্থকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে
যুদ্ধোত্তর বিশ্বে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিকে নিয়ে যে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন গড়ে
ওঠে তা বর্তমান একমেরু বিশ্বে অনেকটাই তাৎপর্যহীন। পরিবর্তিত দুনিয়ায়
জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন নতুন ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। আজকের যুগকে
অনেকে বিশ্বায়নের যুগ বলে চিহ্নিত করার পক্ষপাতী। বিশ্বায়ন কোনো নতুন ধারণা না
হলেও ১৯৯১ সালের পরে ঠান্ডা লড়াইমুখ দুনিয়ায় তার নতুন প্রয়োগ শুরু হয়েছে।



Trygve Mathiesen [Methodology in the study of
International Relations
]



International Relations embraces all kinds of relations
traversing state boundaries; no matter whether they are of an economic, legal,
political or any other character, whether they be private or official.

বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩

একটি দেশের সরকার কিভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করে

 

সরকারের
শাসনকার্য পরিচালনার পদ্ধতি



গ্রিক
দার্শনিক অ্যারিস্টট্ল সরকারের কাজকর্মকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছিলেন
-১) সিদ্ধান্ত- মূলক, ২) শাসনসংক্রান্ত এবং ৩)
বিচারসম্পর্কিত। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থাতেও মূলত শাসনবিভাগ
, আইনবিভাগ এবং বিচারবিভাগের
মাধ্যমে সরকারের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। রাষ্ট্র আজও এক বিমূর্ত ধারণা
, সরকার তার বাস্তব প্রতিনিধি।
শাসনবিভাগ
, আইনবিভাগ
ও বিচারবিভাগের কাজকর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রের চরিত্র অনুধাবন করা যায়। এই তিনটি বিভাগের
কার্যাবলি এদিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।



আধুনিক
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসনবিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাপক অর্থে
শাসনবিভাগ বলতে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে প্রশাসনের একজন সর্বনিম্ন সাধারণ
কর্মী পর্যন্ত সকল পদাধিকারীকেই বোঝায়। শাসনবিভাগ তার দুটি অংশ
, যথাক্রমে রাজনৈতিক অংশ
(মন্ত্রী
, সাংসদ, বিধায়ক প্রমুখ) এবং
অরাজনৈতিক অংশের (উচ্চপদস্থ আমলা
, সরকারি
স্থায়ী কর্মচারী প্রমুখ) মাধ্যমে যাবতীয় কাজকর্ম সম্পাদন করে থাকে। আধুনিক
রাষ্ট্রে আইনবিভাগেরও একটি স্বতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। সংসদীয়
ব্যবস্থায় আইনবিভাগের গুরুত্ব সর্বাধিক। রাষ্ট্রপতি-শাসিত ব্যবস্থায় (মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে) এর ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়। অন্যদিকে রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি
অত্যন্ত প্রভাবশালী কাঠামো হল বিচারবিভাগ। বিচারবিভাগ ব্যতীত রাষ্ট্র একটি
কষ্টকল্পনামাত্র। অধ্যাপক গার্নারের মতে
, “...a civilized state without judicial
organs and machinery is hardly conceivable
”। ল্যাঙ্কির মতে বিচারকার্য
পরিচালনার মধ্য দিয়ে একটি রাষ্ট্রের নৈতিক চরিত্র অনুধাবন করা যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের
আধুনিক লেখকদের বক্তব্য হল বিচার-বিভাগের ভূমিকা ও কার্যাবলি প্রধানত রাজনৈতিক
ব্যবস্থার প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। এই কারণে যেসব দেশের সংবিধানে বিচারবিভাগের
প্রাধান্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সেখানে বিচারবিভাগ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এক
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সাম্প্রতিককালে রাষ্ট্রের বিচারবিভাগীয়
সক্রিয়তা
(Judicial Activism) বিচারব্যবস্থাকে
আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।



This is to say, there are seven main
centres of political activity, the cooperation of which is necessary to produce
a complete act of government. The seven are, in practice, inter-locking and
essential to each other, though there may be jealousy and distrust among their
actual personnel.



- Herman Finer [The Theory and
Practice of Modern Government, p. 169]

মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩

কোন দেশের সরকার কয় ভাবে শাসনকার্য চালাতে পারে?

 

কোন
দেশের শাসনব্যবস্থা



রাষ্ট্রের
একটি অপরিহার্য মৌলিক উপাদান হল
‘সরকার’। বস্তুত State
বা রাষ্ট্রকে আমরা চোখে দেখতে পাই না; এটি নিতান্তই একটি তত্ত্বগত
বা বিমূর্ত ধারণা।
'সরকার'-ই হল রাষ্ট্রের বাস্তব রূপ।
অধ্যাপক গেটেলের মতে
, সরকার
হল রাষ্ট্রের একটি যন্ত্র বা সংগঠন।



গ্রিক
দার্শনিক অ্যারিস্টট্ল তাঁর
The Politics গ্রন্থে
সরকারের শ্রেণিবিভাজনের বিষয়টিকে তুলে ধরেন। অ্যারিস্টট্ল শাসনব্যবস্থাকে তিনটি
শ্রেণিতে ভাগ করেছেন
- ১)রাজতন্ত্র
(বিকৃত রূপ
-স্বৈরতন্ত্র), ২)অভিজাততন্ত্র (বিকৃত রূপ-ধনতন্ত্র) এবং ৩)নিয়মতন্ত্র (বিকৃত রূপ-গণতন্ত্র)।



প্রাচীন
গ্রিসের প্রেক্ষিতে করা অ্যারিস্টটলের এই শ্রেণিবিভাগ আধুনিক যুগে প্রযোজ্য নয়।
আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে লীকক ও ম্যারিয়ট প্রমুখ সরকারের এক ভিন্নতর রূপ
উপস্থাপিত করতে চেয়েছেন। পরবর্তীকালে আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে অ্যালমন্ড
ও পাওয়েল সরকারের বদলে রাজনৈতিক ব্যবস্থার শ্রেণিবিভাজন উপস্থাপিত করেছেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যারিয়ট বর্তমান যুগে সরকারের শ্রেণিবিভাজনকে তিনটি দৃষ্টিকোণ
থেকে উপস্থাপন করেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যারিয়ট মতে সরকারের শ্রেণিবিভাজন এইরকম:
- ১) এককেন্দ্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয়
(ক্ষমতা বণ্টনের ভিত্তিতে)
, ২)
সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয় (সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতির দিক থেকে) এবং ৩)
মন্ত্রীপরিষদ শাসিত ও রাষ্ট্রপতি শাসিত (আইনবিভাগের সঙ্গে শাসনবিভাগের সম্পর্কের
ভিত্তিতে)। আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করেন
, রাষ্ট্রচরিত্রের
আভাস সরকারের শ্রেণিবিভাজনের মধ্যে পাওয়া যায় না। এই কারণে তাঁরা সরকারের বদলে
রাজনৈতিক ব্যবস্থার শ্রেণিবিভাজন করেছেন এইভাবে
—১) উদারনৈতিক গণতন্ত্র, ২) সর্বাত্মকতন্ত্র এবং ৩)
স্বৈরতন্ত্র।



The truth is, there seems to be no
single principle or criterion, juridical or otherwise. upon which a
satisfactory classification of states can be made...It is believed that by
reason of the peculiar nature of states any attempt to differentiate between them
and to classify them is scientifically as largely futile and leads to results
which have little or no practical or scientific value.



-J. W. Garner [Political Science and
Government, p. 255-56]

শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৩

পৃথিবীতে কয়টি রাজনৈতিক ধারণা রয়েছে?

 

বিশ্বের
প্রধান রাজনৈতিক মতাদর্শ



ডেভিড
ইস্টন তাঁর
The Political System গ্রন্থে
সাধারণভাবে রাজনৈতিক দর্শনের আলোচনাকে রাজনৈতিক তত্ত্ব বলে অভিহিত করেছেন। ইস্টন
রাজনৈতিক তত্ত্বকে মূল্যবোধযুক্ত তত্ত্ব (
Value
Theory)
এবং সাময়িক তত্ত্ব (Casual Theory) এই দুভাগে বিভক্ত
করেছেন। সনাতন রাজনৈতিক তত্ত্বগুলি তাদের রাজনৈতিক আলোচনাকে মূল্যবোধযুক্ত করে
উপস্থাপিত করে। অন্যদিকে
, যেসব
রাজনৈতিক তত্ত্ব শুধুমাত্র বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ঘটনার মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে
আলোচনা করে
, সেখানে
সাময়িক তত্ত্ব গড়ে ওঠে।



প্রধান
রাজনৈতিক মতাদর্শরূপে যেগুলি তুলে ধরা হয়েছে সেগুলি হল উদারনীতিবাদ
, মার্কসীয় মতবাদ, গান্ধিজির মতাদর্শ এবং
ফ্যাসিবাদ। ইংল্যান্ডে সপ্তদশ শতাব্দীতে উদারনীতিবাদের উদ্ভব ঘটে। রাষ্ট্রীয়
কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বাধীনতার নীতি প্রতিষ্ঠা হল উদারনৈতিক মতাদর্শের
মূল বক্তব্য। অন্যদিকে মার্কসীয় মতবাদ হল চিরাচরিত রাজনৈতিক মতাদর্শের জগতে
সর্বাধুনিক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। জার্মান দর্শন
, ব্রিটিশ
অর্থশাস্ত্র ও ফরাসি সমাজতন্ত্র
—এই
তিনটি প্রধান উৎসের ওপর ভিত্তি করে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে গড়ে ওঠে মার্কসীয় মতবাদ।
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে অহিংসা
, সত্যাগ্রহ, সর্বোদয় প্রভৃতিকে নিয়ে
গান্ধিজির চিন্তাধারা এক মানবতাবাদী নৈতিক মতাদর্শের জন্ম দেয়। অন্যদিকে
রাষ্ট্রসর্বস্ব ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি ঘটে ইতালির বেনিতো মুসোলিনির হাত ধরে ১৯১৯
সালে। আগ্রাসী জাতিবিদ্বেষ
, উগ্র
জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ফ্যাসিবাদ এক সর্বনিয়ন্ত্রণবাদী
রাজনৈতিক মতাদর্শরূপে পরিচিত।

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩

কিভাবে তৈরী হল সম্মিলিত জতিপুঞ্জ?

সম্মিলিত
জতিপুঞ্জ

দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের শেষে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় মিত্রশক্তির নেতারা নতুন একটি
আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। প্রকৃতপক্ষে দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রয়াস শুরু হয়ে যায়।
১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট মার্কিন কংগ্রেসে যেসব
নীতি ঘোষণা করেন তার মাধ্যমে জাতিপুঞ্জ গঠনের প্রচেষ্টার সূত্রপাত ঘটে। ১৯৪২ সালে
বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাবিদদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি যুদ্ধের সর্বনাশা
অবস্থা থেকে পরিত্রাণের চিন্তা শুরু করে। ১৯৪৩ সালে তেহেরান সম্মেলন
, ১৯৪৪ সালে ব্রেটন উডস সম্মেলন
ও ডাম্বারটন ওকস্ সম্মেলন
, ১৯৪৫
সালে ইয়াল্টা ও সানফ্রান্সিসকো সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ ও
শান্তিকামী মানুষের শুভেচ্ছায় জাতিপুঞ্জ গঠনের পথ প্রশস্ত হয়। এইভাবে দীর্ঘ
আলাপ-আলোচনা ও পরিকল্পনার পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের
উদ্ভব ঘটে। বিশ্বের ৫১টি দেশের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত জাতিপুঞ্জের সনদে
স্বাক্ষর করেন।



 



বিভিন্ন
রাষ্ট্র ও জাতি নিয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রস্তাবনায় বিশ্বশান্তির
প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষিত হয়েছে। জাতিপুঞ্জের সনদের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে
, যে-যুদ্ধের করাল গ্রাস
দু-দুবার মানবজাতির জীবনে দুর্বিষহ সংকট সৃষ্টি করেছে তা থেকে আগামী প্রজন্মকে
মুক্ত রাখাই জাতিপুঞ্জের মুখ্য উদ্দেশ্য। সনদে উল্লিখিত প্রস্তাবনায় এই অঙ্গীকার
দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে যে
, "WE THE PEOPLE OF THE UNITED NATIONS determined to save
succeeding generations from the scourge of war, which twice in our lifetime has
brought untold sorrow to mankind and to reaffirm faith in fundamental human
rights, in the dignity and worth of the human person in the equal rights of men
and women and of nations large and small."



The failure of the United Nations is the failure of the human
community. The explanation is as simple as that. The United Nations will be as
strong or as weak as its members wish it to be.



-Introduction to the Report of the Secretary-General 1975-76

মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৩

নাগরিকত্ব ধারণা এলো কোথা থেকে?

 

নাগরিকত্ব
এবং মানবাধিকার ধারণার উদ্ভব হলো কিভাবে
?



প্রাচীন
গ্রিস ও রোমের নগররাষ্ট্রগুলিতে যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনার কাজকর্মে সক্রিয়ভাবে
অংশগ্রহণ করতেন
, তাঁদেরই
একসময় নাগরিক আখ্যা দেওয়া হত। সে-যুগে শুধুমাত্র অভিজাত পুরুষরা নাগরিক অভিধায়
ভূষিত হতেন। ক্রীতদাস
, মহিলা
ও শ্রমিকরা রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে অংশ নিতে না পারায় নাগরিক হতে পারতেন না।
যুগের পরিবর্তনের ফলে নাগরিকত্ব সম্পর্কিত আধুনিক ধারণার বিকাশ ঘটেছে। বর্তমানে
কোনো রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ও রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে আনুগত্য প্রদর্শনকারী
সমস্ত ব্যাক্তিকে নাগরিকরূপে অভিহিত করা হয়।



নাগরিকরা
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করার বিনিময়ে রাষ্ট্রপ্রদত্ত কিছু সুযোগসুবিধা বা
অধিকার ভোগ করে থাকে। সাধারণভাবে অধিকারকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-নৈতিক অধিকার
এবং আইনগত অধিকার। নৈতিক অধিকার সামাজিক ন্যায়নীতিবোধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
নৈতিক অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র কোনো শাস্তি দিতে পারে না। অন্যদিকে আইনগত অধিকার
আইনের মাধ্যমে স্বীকৃত ও সংরক্ষিত হয়। আইনগত অধিকার লঙ্ঘিত হলে রাষ্ট্রের শাস্তি
দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে। আইনগত অধিকার প্রধানত চার ভাগে বিভক্ত-পৌর বা ব্যক্তিগত
অধিকার
, রাজনৈতিক
অধিকার
, অর্থনৈতিক
অধিকার এবং সামাজিক ও কৃষ্টিগত অধিকার।



১৯৪৫
সালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদে মানবাধিকার-সংক্রান্ত ধারণার উদ্ভব ঘটে। পরে
জাতিপুঞ্জের উদ্যোগে ১৯৪৮ সালে গৃহীত হয়
‘মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশ্বজনীন ঘোষণা’। অবশ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, মানবাধিকারের ধারণা বহু পূর্বে
'প্রাকৃতিক
অধিকার তত্ত্বের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়। মানবাধিকার হল এমন এক অধিকার যা
জন্মসূত্রে সব মানুষের সমানাধিকার ও সমমর্যাদার নীতিকে ঘোষণা করে। প্রতিটি মানুষের
আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনধারণের অধিকার
, স্বাধীনভাবে
বাঁচার অধিকার এবং সমতা ও সমমর্যাদার অধিকার হল মানবাধিকার।



Rights and duties are
correlative conceptions: that is to say every right comes w a corresponding
obligation. They are like the two sides of a coin. Rights depend upon duties.
It is only in a world of duties that rights have significance.



-Eddy Asirvatham [Political Theory, p 215]

মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৩

এমন কাজ করা জাপানে অপরাধ কিন্তু ভারতে নয়

আজ
আমরা জাপানের এমন কিছু আইনের কথা জানব যা ভারতে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না
কিন্তু জাপানের আইন ব্যবস্থায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হয়।



১) বর্ষার
সময় রাস্তায় জল জমা হলে আমরা সাধারণত দু
’দিকে খেয়াল করে তার পর রাস্তা পার হই। কিন্তু
হঠাৎ কোনও দিক থেকে দ্রুত গতিতে গাড়ি এলে রাস্তার কাদাজল পথযাত্রীদের গায়ে গিয়ে
পড়ে। এই ঘটনায়  পথযাত্রীরা বিরক্ত হলেও
গাড়ির চালকেরা দিব্যি গাড়ি চালিয়ে নিজেদের গন্তব্যস্থলে চলে যান  বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। কিন্তু জাপানে এই কাজ
করা মানেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জাপানে গাড়ির গতি বেশি থাকার কারণে রাস্তার জমা
জলের ছিটে পথযাত্রীর গায়ে লাগলে
, তা
হলে ওই গাড়ির চালককে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকার কাছাকাছি জরিমানা
দিতে হয়।



২) জাপানের
অধিবাসীরা যখন তখন বাড়ির আবর্জনা নিয়ে বাইরে বেরোতে পারেন না। যদি কেউ মনে করেন
মাঝরাতে বা ভোরের দিকে রাস্তার ধারে আবর্জনা ভর্তি ব্যাগ রেখে দেবেন এবং সকালে
ময়লার গাড়ি এসে সেখান থেকে ব্যাগটি নিয়ে চলে যাবে
— তা সম্ভব নয়। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে
নির্দিষ্ট সময়ে এলাকায় আবর্জনা পরিষ্কার করতে আসেন পুরকর্মীরা
, তখনই সকলকে আবর্জনা নিয়ে
বেরোনোর নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। জাপানের রাস্তায় মাঝেমধ্যেই বন্য রেকুন ঘুরে বেড়ায়।
তারা ওই জঞ্জালভর্তি ব্যাগ ছিঁড়ে রাস্তা আরও নোংরা করে ফেলতে পারে। এ ছাড়াও হঠাৎ
করে ওই জঞ্জালের কারণে আগুনও লেগে যেতে পারে। তাই এই নিয়ম।



৩) কোন
অনুষ্ঠানে বা খাবারের আসরে কাউকে জোর করে মদ খাওয়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে
জাপানে। এই কাজ  ভারত বা অন্য কোনও দেশে অপরাধযোগ্য
না হলেও জাপানে একে অপরাধ বলেই ধরা হয়।



৪) ‘ওয়াকি টকি’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে জাপানে রয়েছে কড়া
নিয়ম। অন্য দেশ থেকে
‘ওয়াকি
টকি
’
কিনে নিয়ে গিয়ে জাপানে ব্যবহার করা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানের জন্য
জাপান তাদের রেডিয়ো নেটওয়ার্কের উপর নির্ভর করে। অন্য দেশের ওয়াকি টকি জাপানে
ব্যবহার করলে সেই নেটওয়ার্কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। কেউ যদি নির্দেশ অমান্য
করেন তা হলে ১ বছরের জেল বা ভারতীয় মুদ্রার হিসাবে ৬ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা
হতে পারে।



৫) জাপানে
১৯৪৮ সালে
‘লাইট ক্রাইমস
অ্যাক্ট
’ অনুযায়ী, কোনও মহিলা ঊরু এবং পায়ের পিছনের অংশ
জনসমক্ষে কখনও অনাবৃত রাখতে পারেন না। যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করেন
, তবে তাঁর ২৯ দিন পর্যন্ত জেল হতে পারে। তবে, বর্তমানে এই নিয়ম মেনে কেউ চলেন না। কালের
প্রভাবে সব রকম পোশাকেই জাপানিরা অভ্যস্ত।



৬) ১৯৬০
সাল পর্যন্ত জাপানের রাস্তায় সাদা এবং লাল রঙের গাড়ি চালানো এক প্রকার নিষিদ্ধ
ছিল। রাস্তায় ইমার্জেন্সি কার
, অ্যাম্বুল্যান্স, পুলিশ অথবা দমকলের গাড়ির
ক্ষেত্রে সাদা এবং লাল রং ব্যবহার করা হত। প্রাইভেট গাড়ির থেকে ওই গাড়িগুলিকে
আলাদা করে চিহ্নিতকরণের জন্য এই নিয়ম চালু করা হয়েছিল। অবশ্য এই নিয়ম এখন আর মেনে
চলা হয় না।



৭) ২০০৮
সালের জাপানের মেটাবো আইন অনুযায়ী
, একটি
নির্দিষ্ট বয়সের পর সকলকে তাঁদের কোমরের মাপ পরিমাপ করাতে হয়। বছর চল্লিশের গণ্ডি
পেরোলেই কোমর বছরে অন্তত এক বার পরিমাপ করানো জরুরি।পুরুষদের ক্ষেত্রে কোমরের মাপ
৮৫.০৯ সেন্টিমিটার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৮৯.৯২ সেন্টিমিটার থাকা উচিত। যদি কোমরের
পরিমাপ এর থেকে বেশি হয়
, তা হলে
শরীরচর্চা এবং ডায়েটের মাধ্যমে আবার সঠিক মাপে ফিরিয়ে আনা আবশ্যক। সাধারণত ৪০ থেকে
৭৪ বছর পর্যন্ত পরিমাপ করাতে হয়।



৮) প্রতিবেশীর
চিঠি যদি ভুল করে আপনার বাড়িতে চলে আসে
, তবে
নির্দিষ্ট বাড়িতে আমরা তা দিয়ে আসাতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কিন্তু জাপানে ওই
কাজ অপরাধের সমান।জাপানের আইন অনুযায়ী
, ভুলবশত
প্রতিবেশীর চিঠি পৌঁছে গেলে তা আবার ডাকঘরে দিয়ে আসতে হয়। ডাকঘরের তরফ থেকেই আবার
সেই চিঠি সঠিক ঠিকানায় পাঠানো হবে। প্রেরক এবং প্রাপকের গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য
এই নিয়ম চালু করা হয়েছে।



৯) স্বাস্থ্যগত
সমস্যা বা কাজের কারণে শুধু মাত্র জাপানে দম্পতিরা আলাদা বাড়িতে থাকতে পারেন। এ
ছাড়া কোনও দম্পতির আলাদা ভাবে দীর্ঘ দিন পৃথক জায়গায় থাকার অনুমতি নেই।
জীবনযাত্রার খরচ এবং বিচ্ছেদের সংখ্যা কমাতেই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে।

রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আইন, স্বাধীনতা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব কতখানি ?

 রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আইন, স্বাধীনতা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের ধারণার গুরুত্ব

এবারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় আইন, স্বাধীনতা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের ধারণা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে আলোচনা করবো। সুদূর অতীতে গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলিতে সফিস্ট চিন্তানায়করা, রোমের স্টোয়িক দার্শনিকরা, প্লেটো ও অ্যারিস্টট্‌ল প্রমুখ এ সম্পর্কে তাঁদের মূল্যবান মতামত প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে উদারনীতিবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা, মার্কসীয় তাত্ত্বিকেরা এবং সাম্প্রতিককালে নয়া-উদারনীতিবাদীরা আলোচ্য বিষয়গুলির উন্নততর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সমাজবিজ্ঞানের একটি গতিশীল বিষয়রূপে রাষ্ট্রবিজ্ঞান একজায়গায় থেমে থাকতে পারে না, তাই আলোচ্য বিষয়গুলিকে নিয়ে চিরাচরিত ধারণা যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে পরিবর্তিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত বলা যায় আইন,স্বাধীনতা,সাম্য ও ন্যায়বিচার পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা সার্বভৌমের আদেশকে আইন হিসেবে অভিহিত করেছেন, কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁরা এ কথাও বলেছেন যে, আইন শুধুমাত্র রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, ঘোষিত ও প্রযুক্ত হলেই চলবে না, তাকে ন্যায়সম্মত ও যুক্তিসংগত হতে হবে। অন্যদিকে সাম্য ছাড়া যেমন স্বাধীনতা অর্থহীন, তেমনি স্বাধীনতা ছাড়া সাম্যও নিরর্থক হয়ে পড়ে। ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সাম্যের বহু আগে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য দাবি ওঠে। প্রাচীন গ্রিসে এবং রোমে যখন দাসব্যবস্থার প্রচলন ছিল তখন সব মানুষকে সমান ভাবা হত না। যে-সময়ে সাম্যের চেয়ে স্বাধীনতার স্থান ছিল অনেক ওপরে। বস্তুতপক্ষে আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রে (১৭৭৬) এবং ফ্রান্সের মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘোষণায় (১৭৮৯) সর্বপ্রথম সাম্য স্বাধীনতার সমন্বয় চিন্তা বাস্তবরূপ লাভ করে।



রাষ্ট্রের উৎপত্তির গোড়ার কথা

 রাষ্ট্রের
উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা

রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটে বহুকাল আগে প্রাচীন গ্রিসে।
'রাষ্ট্র'(state) বলতে গ্রিক দার্শনিকরা 'Polis' শব্দটি ব্যবহার করতেন। রোমান দার্শনিকরা
রাষ্ট্রকে অভিহিত করেছিলেন
'Civitas' নামে।
পরে টিউটনরা বৃহৎ রাষ্ট্রের কথা সর্বপ্রথম তুলে ধরেন। রাষ্ট্রকে তাঁরা
'Status' আখ্যা
দেন। ষোড়শ শতাব্দীতে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক মেকিয়াভেলি তাঁর
The Prince গ্রন্থে 'State' শব্দটি
ব্যবহার করেন।



সমাজের মৌলিক ও সর্বাপেক্ষা তাৎপর্যপূর্ণ
প্রতিষ্ঠান হল রাষ্ট্র। সমাজবিকাশের একটি নির্দিষ্ট স্তরে রাষ্ট্রের জন্ম। কিন্তু
কখন ও কীভাবে রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটে সে সম্পর্কে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মতবিরোধ
দেখা যায়। রাষ্ট্রের উৎপত্তি বিষয়ক তত্ত্বগুলির মধ্যে দুটি মূল ধারা রয়েছে। সেগুলি
হল
i) দার্শনিক
তত্ত্ব এবং
ii) ঐতিহাসিক তত্ত্ব। দার্শনিক পদ্ধতির
মাধ্যমে গবেষণা করে যেসব তত্ত্ব রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে তাদের চিন্তাধারা তুলে
ধরেছে সেগুলি হল-ঐশ্বরিক উৎপত্তিবাদ
, বলপ্রয়োগ
মতবাদ
, সামাজিক
চুক্তি মতবাদ। অন্যদিকে
, ঐতিহাসিক
পদ্ধতি অবলম্বন করে গড়ে উঠেছে বিবর্তনবাদ বা ঐতিহাসিক মতবাদ।



রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোচনায় জাতীয় জনসমাজ,  জাতি
এবং রাষ্ট্র-সম্পর্কিত ধারণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যুৎপত্তিগতভাবে জাতীয় জনসমাজ
(Nationality) ও জাতি (Nation)-র
মধ্যে বিশেষ পার্থক্য না থাকলেও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে এই দুটি শব্দের অর্থ
নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। অনেকে জাতি ও রাষ্ট্রকে অভিন্ন বলে গণ্য করেন। কিন্তু জাতীয়
জনসমাজ
, জাতি
ও রাষ্ট্রের মধ্যে প্রকৃতিগত স্বাতন্ত্র রয়েছে।



অধ্যাপক টমাস হিল গ্রিনের মতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা
রাষ্ট্র বা জাতির মধ্যে কোনো ভেদরেখা টানতে চাননি। তাঁরা রাষ্ট্রকে রাজনৈতিকভাবে
সংগঠিত কোনো জাতি বা জনসমষ্টি বলে আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু জাতি ও রাষ্ট্রের ধারণা
এক নয়। পণ্ডিতদের মতে
, রাষ্ট্র
একটি রাজনৈতিক ধারণা। অন্যদিকে জাতি হল এক ভাবগত উপলব্ধি বিশেষ। রাষ্ট্র গঠিত হলেও
জাতিগঠনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নাও হতে পারে। সাম্প্রদায়িকতাবাদ
, আঞ্চলিকতাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের মতো
উপাদানগুলি জাতি গঠনের পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। অবশ্য জাতি ও রাষ্ট্র একে
অপরের পরিপূরক বলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রায় দিয়েছেন। এই কারণে রাষ্ট্রকে জাতীয়
রাষ্ট্র বলা হয়।



জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সম্পর্কিত তত্ত্ব
বহুকাল আগে
'এক
জাতি
,এক
রাষ্ট্র
' নীতিকে
তুলে ধরে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এই তত্ত্বের পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন।
ইউরোপে নবজাগরণ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের ফলশ্রুতি স্বরূপ জাতীয়তাবাদের উৎপত্তি
ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার বিকৃত রূপ ফুটে ওঠে। বিশ্বের চিন্তানায়করা তাই
জাতীয়তাবাদের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেন আন্তর্জাতিকতাবাদ।


রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গণতন্ত্রের উত্থানের প্রাচীন ইতিহাস

 রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গণতন্ত্রের উত্থানের প্রাচীন ইতিহাস



গণতন্ত্র একটি প্রাচীন ধারণা। গ্রিসের এথেন্সে
গণতন্ত্র কথাটি প্রচলিত ছিল। ভারতের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলিতেও গণতান্ত্রিক
আদর্শের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে ইউরোপের নবজাগরণের ফলে মধ্যযুগের শেষভাগে
গণতান্ত্রিক আদর্শ ব্যাপ্তি লাভ করে। একটি আদর্শ ধারণারূপে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ
লক্ষ করা যায় অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে। ফরাসি বিপ্লব
, আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম গণতান্ত্রিক
আদর্শ রূপায়ণে উল্লেখযোগ্য সোপানরূপে চিহ্নত হয়ে আছে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপের
উদারনৈতিক দর্শন গণতন্ত্রকে এক নতুন চেহারা দেয় যা উদারনৈতিক গণতন্ত্ররূপে পরিচিত।
রুশোর সাধারণ ইচ্ছার তত্ত্ব
, বেন্থামের
হিতবাদ
, মিলের
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ
, গ্রিনের
প্রতিরোধের তত্ত্ব
, অ্যাডাম
স্মিথের অবাধ বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের ধারণা উদারনৈতিক গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ
করে।



সম্প্রতিককালে গণতন্ত্রের শ্রেণিবিন্যাস করেছেন
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডেভিড হেল্ড। তিনি তাঁর
Models of Democracy গ্রন্থের
ভূমিকায় এই অভিমত প্রকাশ করেছেন যে-গণতন্ত্রের ইতিহাস বড়ো অদ্ভুত ও বিভ্রম কারী।
প্রতিটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করলেও তারা যা বলে আর যা
করে তার মধ্যে বিপুল পার্থক্য রয়েছে। ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদ কিভাবে ধ্বংস করতে
চেয়েছে গণতন্ত্রকে
, কত
সুগভীর সামাজিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র গড়ে উঠেছে হেল্ড তা
দেখিয়েছেন।



তত্ত্বগত দিক থেকে গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত
শাসনব্যবস্থা হল একনায়কতন্ত্র। একনায়কতন্ত্রের ভিত্তি রচনায় যেসব দার্শনিক বিশেষ
ইন্ধন জুগিয়েছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জার্মান দার্শনিক হেগেল
, নিৎসে এবং ট্রিট্‌স্‌কে। একনায়কতন্ত্রের মূলভিত্তি হল
রাষ্টীয় শক্তি বা পশুবল। একনায়কতন্ত্রে রাষ্ট্র প্রধান
, জনগণ অপ্রধান। একনায়কতন্ত্রে রাষ্ট্রের
যূপকাষ্ঠে জনগণের স্বাধীনতা
, স্বাতন্ত্র্য
ও অধিকারকে বলি দেওয়া হয়। এখানে প্রথমে রাষ্ট্র
, পরে
জনগণ। একনায়কতন্ত্রে রাষ্ট্র হল সর্বাত্মক
, সামগ্রিক
ও সর্বশক্তিমান। প্রাচীন রোমে নিরো ও জুলিয়াস সিজারের রাজত্বে
, ফ্রান্সে নেপোলিয়নের আমলে, ইতালিতে কাউন্ট ক্যাভুর এবং বিংশ শতাব্দীতে
জার্মানিতে হিটলার
, ইতালিতে
মুসোলিনি ও স্পেনে ফ্রাঙ্কোর শাসনকালে একনায়কতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে।

শুক্রবার, ১৯ মার্চ, ২০২১

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান কিভাবে উদ্ভব হল?

সমাজজীবন বিশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ধারণার উদ্ভব ঘটে। বহুকাল যাবৎ রাষ্ট্রবিজ্ঞান ছিল নীতি-দর্শনের পর্যায়ভুক্ত। ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপের নবজাগরণের পথিকৃৎ মেকিয়াভেলির হাতে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জন্ম হয়। খ্রিস্টীয় দর্শনের যুক্তি, ধর্ম, নৈতিকতা প্রভৃতিকে বর্জন করে মেকিয়াভেলি আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার উন্মেষ ঘটিয়েছিলেন। মধ্যযুগীয় ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গতানুগতিক চিন্তাকে অতিক্রম করে ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত শক্তিশালী জাতীয় রাষ্ট্রের রাজকীয় সার্বভৌমত্বের কথা তুলে ধরে মেকিয়াভেলি এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের অবতারণা করেন। মেকিয়াভেলির উত্তরসূরি জাঁ বোদাঁ এবং টমাস হব্‌স্‌ ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত, শক্তিশালী রাষ্ট্রদর্শনের সূচনা করেন। মধ্যযুগে ফরাসি সমাজে ধর্মের নামে যে অনাচার ও নৈরাজ্য কায়েম হয়েছিল তার হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য এক শক্তিশালী রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বোদাঁ বলেছিলেন।

সমকালীন সমাজের অব্যবস্থার জন্য চার্চকে দায়ী করে হব্‌স্‌ এক চরম সার্বভৌম শক্তির প্রতীক হিসেবে রাজতন্ত্রকে সমর্থন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ের রাজনীতিচর্চায় রাজতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে জনগণের সার্বভৌমত্বকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৬৮৮ সালের ইংল্যান্ডের গৌরবময় বিপ্লব, ১৭৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের নেপথ্যে লকের অধিকারের তত্ত্ব এবং রুশোর গণসার্বভৌত্বের তত্ত্ব যুগান্তকারী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বস্তুত অষ্টাদশ শতাব্দী থেকেই রাজনৈতিক চিন্তায় এক নতুন ধারার সূচনা ঘটে।

ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাজনীতিচর্চায় দেখা দেয়  এক বৈপ্লবিক উত্তীরণ। এই সময় একদিকে ভাববাদ, হিতবাদ, উদারনীতিবাদ এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের দর্শন, অন্যদিকে বস্তুবাদী মার্কসীয় দর্শনের প্রতিষ্ঠা ঘটে। লেনিন পরবর্তীকালে মার্কসবাদের এক ধ্রুপদী ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। পরে এডওয়ার্ড বার্নস্টাইন, কার্ল কাউটস্কির মতো একদল চিন্তাবিদ সমাজবাদ সম্পর্কে এক ভিন্ন ধারার প্রবর্তন করেন। তাঁরা সাংবিধানিক পদ্ধতিতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন। একে গণতান্ত্রিক সমাজবাদ বলা হয়।

বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা চিরাচরিত রাজনীতিচর্চার বাইরে এক নতুন ধারার প্রবর্তন করেন। এঁদের মধ্যে গ্রাহাম ওয়ালাস, আর্থার বেন্টলি, চার্লস মেরিয়াম, ডেভিড ইস্টন প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। আচরণবাদ রাজনীতিচর্চায় তত্ত্বকেন্দ্রিক ও প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক আলোচনাকে পরিত্যাগ করে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আচার-আচরণ বিশ্লেষণের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনাকে সর্বতোভাবে মূল্যমান-নিরপেক্ষভাবে গড়ে তোলার এক প্রয়াস চালায় আচরণবাদ। পরবর্তীকালে বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে রাজনীতিচর্চায় আচরণবাদোত্তর ধারার জন্ম হয়।

রাজনীতিচর্চার প্রকৃতি ও পরিধি নিয়ত পরিবর্তনশীল। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, সাম্প্রতিককালের রাজনীতি মূলত সমাজনির্ভর। প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সাবেকি আলোচনায় রাজনৈতিক জীবনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া যেত না। শাসনবিভাগ, আইনবিভাগ, বিচারবিভাগ, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির আলোচনার মধ্যেই তা সীমিত ছিল। এই কারণে আধুনিক রাজনৈতিক আলোচনায় রাজনৈতিক দল, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী, স্বার্থগোষ্ঠী, ভোটদাতাদের নির্বাচনি আচরণ, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, জনমত, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ প্রভৃতি বিষয়কে অধিকতর গুরুত্বসহ পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক জীবনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপন করার প্রয়াস লক্ষ করা যায়।

একালের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাজনীতির মুখ্য বিষয় হিসেবে ক্ষমতার (Power) প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। রবার্ট ডালের মতে, রাজনৈতিক ব্যবস্থা হল মানবিক সম্পর্কের এমন এক নিরবচ্ছিন্ন ধারা যার সঙ্গে ক্ষমতা, শাসন বা কর্তৃত্ব জড়িত। ("A political system is a persistent pattern of human relationships that involves power, rule or authority")

বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১

বিশ্বে প্রথম কোন দেশ বা রাষ্ট্র কিভাবে তৈরী হল?

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বিখ্যাত দার্শনিক অ্যারিস্টট্‌লের বক্তব্য ছিল, যে-মানুষ সমাজে বাস করে না, সে হয় পশু, নয় ঈশ্বর। অ্যারিস্টট্‌ল সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভিন্ন বলে মনে করতেন। তাঁর মতে, মানুষ প্রকৃতির কাছ থেকেই গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনযাপনের স্বাভাবিক প্রবণতা অর্জন করেছে।খাদ্য, আশ্রয় ইত্যাদি জৈবিক চাহিদাগুলির তাগিদে মানুষ যে গোষ্ঠীবদ্ধ জীবন গড়ে তোলে, তার থেকেই জন্ম নেয় পরিবার। ক্রমশ পারিবারিক প্রয়োজনের গণ্ডি ছাড়িয়ে গড়ে ওঠে গ্রামব্যবস্থা। ক্রমে অনেক গ্রাম নিয়ে গড়ে ওঠে নগররাষ্ট্র। বিবর্তনের এক দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পরিণত হয়েছে আধুনিক জাতীয় সার্বভৌম রাষ্ট্র।

পণ্ডিতদের মতে, রাজনীতি বা 'পলিটিক্স' শব্দটি গ্রিক শব্দ 'Polis' থেকে এসেছে। 'পলিস' শব্দের অর্থ হল নগর। অ্যারিস্টট্‌ল তাঁর Politics গ্রন্থে 'পলিস' সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করেছেন। অবশ্য প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলির নীতি ও সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি যে 'রাজনীতির' কথা তুলে ধরেন তার সঙ্গে বর্তমানের রাজনীতি-সম্পর্কিত ধারণার কোনো মিল দেখা যায় না।

খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে প্রোটাগোরাস, ইউরিপিডিস, অ্যালসিডামাস, অ্যান্টিফোন প্রমুখ প্রাচীন গ্রিসের সফিস্ট চিন্তানায়কদের মধ্যে রাষ্ট্রচিন্তা প্রথম পরিলক্ষিত হয়। প্রোটাগোরাসের চিন্তায় মানবতাবাদের ইঙ্গিত মেলে। তাঁর মতে, মানুষের যথার্থ পাঠ্যবস্তু হল মানুষ নিজেই। ইউরিপিডিসের রচনায় জন্মগত সামাজিক বৈষম্য, এমনকি তৎকালীন গ্রিক সমাজে প্রচলিত ক্রীতদাস প্রথার বৈধতাকেও অস্বীকার করা হয়। ইউরিপিডিসের বক্তব্য ছিল, ক্রীতদাসের লজ্জা পাওয়ার মতো একটি বিষয় আছে, সেটি হল তার নাম। এছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে সে অধম নয়। অ্যালসিডামাস বলতেন ঈশ্বর সব মানুষকে স্বাধীন করে সৃষ্টি করেছেন, প্রকৃতি কোনো মানুষকে ক্রীতদাস করেনি।

পরবর্তীকালে সক্রেটিস সফিস্টদের বিক্ষিপ্ত ভাবধারাগুলি অতিক্রম করে তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত দর্শন গড়ে তোলেন। সক্রেটিসের প্রচারিত তত্ত্বের মূল কথা-সদ্‌গুণই হল প্রকৃত জ্ঞান, তা শেখা যায় আবার শেখানোও যায়। সক্রেটিসের চিন্তাধারায় প্রভাবিত তাঁর সুযোগ্য ছাত্র গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ The Republic-এ ন্যায়নীতি-সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা ব্যাখ্যা করেন। প্লেটো তাঁর রচনায় 'দার্শনিক শাসকদের' (Philosopher king) হাতে রাষ্ট্রপরিচালনার পূর্ণ অধিকার তুলে দিয়েছিলেন। বিচ্ছিন্ন স্বার্থপর মানুষের ধারণাকে বর্জন করে তিনি সামাজিকতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। প্লোটোর ছাত্র অ্যারিস্টট্‌ল সর্বপ্রথম রাজনীতিচর্চাকে একটি ব্যাপক বিজ্ঞানের পর্যায়ে উন্নীত করেন। এই কারণে তাঁকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করা হয়। তাঁর Politics গ্রন্থে আদর্শ রাষ্ট্র-সম্পর্কিত আলোচনায় প্লেটোর চিন্তার সঙ্গে তাঁর মৌলিক পার্থক্য ফুটে ওঠে। তাঁর মতে, ভালো রাষ্ট্রে কোনো ব্যক্তিবিশেষ নয়, আইনই হবে চরম সার্বভৌম। গ্রিসের ১৫৮টি নগররাষ্ট্রের সাংবিধানিক ইতিহাস সংগ্রহ অ্যারিস্টট্‌ল চিন্তায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে। তিনি মনে করতেন আইনের সার্বভৌমিকতা, নাগরিকদের স্বাধীনতা ও সাম্য, সাংবিধানিক সরকার এবং সভ্য জীবনের উপযোগী মানুষ গড়ে তোলার নৈতিক আদর্শেই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকে থাকে।