বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

খোঁজ-খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খোঁজ-খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ‘রোসাঘরে’ লুকিয়ে থাকা রহস্য

 

রথযাত্রা, ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের পুরী হল এর পিঠস্থান। আষাঢ়ের শুক্লা দ্বাদশীর দিন জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা রথে চড়ে মাসির বাড়ি যান। এই উৎসবের নামই হল রথযাত্রা। সাতদিন সেখানে কাটিয়ে আবার তাঁরা ঘরে ফেরেন। বাংলার রথযাত্রার ইতিহাস প্রাচীন। বহুযুগ আগে থেকেই জগন্নাথকে কেন্দ্র করে এমন সাংস্কৃতিক উৎসব হয়ে আসছে বাংলায়। আর শ্রীচৈতন্যের সময়ে এই রথযাত্রা উৎসবের সঙ্গে বাঙালির যোগাযোগ আরও গাঢ় হয়েছে।

রথযাত্রা উপলক্ষে বিপুল জনসমাগম হয় শ্রীক্ষেত্র পুরীতে। যদিও পুরীর মন্দিরে, প্রতিদিনই জগন্নাথদেবকে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদন করা হয়। তবু রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয় এ-সময়ে। ভোগ রান্নার পুরো আয়োজনটাই হয় মন্দিরের বিরাট হেঁশেলে। এই হেঁশেলকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রান্নাঘরও বলা হয়ে থাকে।

কথিত আছে, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মহাপ্রসাদের এমনই মহিমা যে, কোনও দিন সেখানে প্রসাদ বাড়তিও হয় না, আবার কমতিও পড়ে না। অর্থাৎ কারো সেখানে প্রসাদ না পেয়ে ফিরতে হয় না। পুরীর জগন্নাথের মন্দিরে ব্যবহৃত হয় না কোনও প্রকারের ধাতব বাসনপত্র। এই মন্দিরে কোন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও নেই।

মহাপ্রসাদের পুরো রান্নাটাই করা হয় মাটির পাত্রে। এখানে কোনও পুরনো পাত্রে রান্না করা হয় না, প্রতিদিন নতুন পাত্রেই রান্না করা হয়। অর্থাৎ প্রতিটি পাত্র রান্নার জন্য একবারই ব্যবহৃত হয়। একদল খালি মাটি দিয়ে পাত্র বানায়, আর একদল তা সরবরাহ করে রান্নাঘরে।

পুরীর জগন্নাথের এই মন্দিরের পিছনে একটি বিরাট হেঁশেলে বছরের ৩৬৫দিন তৈরী হয় ভোগ। একে রোসাঘর বলে। মন্দিরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রোসাঘরের অবস্থান। রোসাঘরে রয়েছে ৭৫২টি উনুন। হেঁশেলে ভোগ তৈরির কাজ করেন প্রায় ৬০০ জন রাঁধুনি ও তাঁদের সাহায্যের জন্য থাকেন প্রায় ৪০০ জন সেবক। রোসাঘরটি প্রায় ১৫০ ফুট লম্বা, ১০০ ফুট চওড়া। হেঁশেলের উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। হেঁশেলের মধ্যে প্রায় ৩২টি কক্ষ রয়েছে। এখানে রান্নার পদ্ধতিটিও বেশ অভিনব। প্রতিটি উনুনের রয়েছে একটি করে বড় মুখ। তার চারপাশে আরও বেশ কয়েকটি ছোট ছোট মুখ থাকে। উনুনের মুখে সবচেয়ে বড় মাটির হাঁড়িতে অন্ন বসানো হয়। তার উপরে সাতটা থেকে ন’টা পর্যন্ত ক্রমশ ছোট হতে থাকা হাঁড়িতে নানা ধরনের তরকারি, পায়েস রান্না হয়।

একেবারে নীচের পাত্র থেকে ওঠা বাষ্পের ভাপে রান্না হয় উপরের পাত্রগুলিতে থাকা শাকসব্জি, অন্ন এবং মিষ্টান্ন । রান্নার সময়ে অন্ন কিংবা শাকসব্জিতে কোনও ভাবেই হাত দেওয়া হয় না বা নাড়াচাড়া করা হয় না। প্রত্যেকটি পাত্রে আলাদা আলাদা ভোগ রান্না করা হয়। বিস্ময়কর ভাবে সবার আগে সবচেয়ে উপরে থাকা পাত্রটির রান্না শেষ হয়। তার পরে রান্না শেষ হয় তার ঠিক নীচে থাকা পাত্রটির। এ ভাবে সব শেষে সুসিদ্ধ হয় উনুনের উপরে রাখা শেষ হাঁড়ির ভোগ।

মাটির হাঁড়ির মধ্যে মূলত ফুটন্ত জলে সব্জি এবং মশলা দিয়ে চলতে থাকে মহাপ্রভুর রান্না। চিনি নয়, রান্নায় ব্যবহার করা হয় গুড়। এ ছাড়া, কোনও রকম গুঁড়ো মশলা নয়, বাটা মশলার ব্যবহার হয়। মশলার মধ্যে মূলত থাকে এলাচ, বড় এলাচ, দারচিনি, গোলমরিচ, আদা, কালো সর্ষে, জোয়ান, লবঙ্গ, জায়ফল, হলুদ, নুন।কোনও ধরনের বিদেশি সব্জি ব্যবহার করা হয় না। পেঁপে, আলু, টম্যাটো, কাঁচা লঙ্কা জাতীয় কোনও রকম আনাজ প্রসাদ রান্নায় ব্যবহারের চল নেই। মূলত দেশীয় সব্জি, যেমন রাঙাআলু, পটল, ঝিঙে, কাঁচকলা, কাঁকরোল ইত্যাদি থাকে।

জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রার জন্য রোজ ৫৬টি পদ রান্না করা হয় রোসাঘরে। এই পদগুলিকে মূলত দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়- ‘পাক্কা’ এবং ‘সুক্কা’। ‘পাক্কা’ বলা হয় সেই খাবারগুলিকে, যেগুলি সেদ্ধ করা হয়। যেমন ডাল, চাল, খিচুড়ি এবং সব রকমের সব্জি। অন্য দিকে, ‘সুক্কা’ বলা হয় গজা, মিষ্টি আর বিভিন্ন ধরনের পিঠেকে।

রন্ধনশালার চত্বরে দু’টি কুয়ো আছে, যাদের নাম গঙ্গা ও যমুনা। কুয়াগুলির ব্যাস ১০ ফুট, গভীরতা প্রায় ১০০ ফুট। এই কুয়ো দু’টির জল ব্যবহার করেই ভোগ রান্নার কাজ করা হয়। হেঁশেলের রাঁধুনিরা বংশপরম্পরায় এই কাজ করে আসছেন। হেঁশেলে রান্না শুরুর আগে রাঁধুনিদের খাবার খেয়ে নিতে হয়। তার পর পান খেয়ে, স্নান সেরে, ভিজে গামছা পরে, হেঁশেলের পুজো করে শুরু হয় রান্নার প্রস্তুতি।

মূল রান্নাঘরের ভিতর সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও বর্তমানে হেঁশেলের চারপাশটা ঘুরে দেখার সুযোগ পান ভক্তেরা। তার জন্য ভক্তদের আলাদা করে টিকিট কাটতে হয়। মন্দিরের উত্তর-পূর্ব কোণে আছে আনন্দবাজার। জগন্নাথদেবের রান্নাঘরে রান্না হওয়া প্রসাদ ভোগ মণ্ডপ থেকে চলে আসে আনন্দবাজারে। দিনে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রসাদ বিক্রি হয় সেখান থেকে।

যুগ বদলায়, মানুষ মারা যায়, পাল্টে যায় জগন্নাথদেবের মন্দিরের রাঁধুনিরাও। কেবল পাল্টায় না শুধু জগন্নাথ মন্দিরের রন্ধনশালায় তৈরি হওয়া ভোগের স্বর্গীয় স্বাদ। কীভাবে বছরের পর বছর ধরে প্রসাদের স্বাদ এক থাকে, তা অবাক করে ভক্তদের।

মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৩

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন যুদ্ধে আখেরে লাভ হচ্ছে আরবের একটি দেশের

যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ায়। প্যালেস্তিনীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের আক্রমণের পর ইজরায়েল যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সেই যুদ্ধ মঙ্গলবার পা দিল ২৫ তম দিনে। এই যদ্ধে মত্যু মিছিল দেখা যাচ্ছে গাজা-য়। প্যালেস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, ইতিমধ্যে গাজায় ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যাঁদের মধ্যে রয়েছে অনেক শিশুও।

অবশ্য এই যদ্ধ এখনই থামার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই যুদ্ধে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দেশগুলি  পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ইজরায়েল-এর। তাদের যুক্তি হামাস প্রথমে ইজরায়েলের উপর আক্রমণ করেছিল, তাই ইজরায়েলের অধিকার রয়েছে তাদের নিজেদের রক্ষা করার।

বর্তমানে ইজরায়েলী সেনা গাজায় স্থলপথে অভিযান শুরু করেছে। ইজরায়েলী সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামাসের হাতে বন্দি ইজরায়েলিদের মুক্ত করাই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। যুদ্ধে তাদের জয় নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার বিষয়ে তিনি আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী।

পশ্চিম এশিয়ার পশ্চিম প্রান্তে ভূমধ্যসাগরের ধারে রয়েছে দুটি দেশ ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইন। আর এই দুটি দেশের দ্বন্দ্বে আখেরে লাভ হচ্ছে ১৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরবের একটি ছোট্ট দেশ কাতার-এর।

অনেকের মতে পশ্চিম এশিয়ায় আসলে 'ডবল গেম' খেলে কাতার দেশ। তারা প্রকাশ্যে হামাসকে সমর্থন করে। আবার সময় বিশেষে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে বা অন্য দেশের সঙ্গে সমঝোতা করায়। ২০০৭ সাল থেকে গাজা স্ট্রিপ হামাসের দখলে। তারাই ওই এলাকার প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দেশগুলি হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসাবে ঘোষণা করেছে। কারণ হামাস-এর মতে, জিহাদ ছাড়া প্যালেস্তাইন সমস্যা সমাধানের আর কোনও উপায় নেই।

হামাস কোনও আন্তর্জাতিক শান্তিচুক্তিকে সমর্থন করে না। তারা জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হল ইজরায়েলের ভূখণ্ড দখল করা এবং সেখান থেকে ইহুদীদের বিতাড়িত করা। একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলাও হামাস করেছে বলে অভিযোগ। এইসব কথা জানার পরেও ২০০৭ সাল থেকে হামাসকে সমর্থন করে কাতার। আবার ২০১২ সালে প্রথমবার কাতারের রাষ্ট্রপ্রধান গাজায় যান। শহরটির পুনর্গঠনের জন্য তিনি ৪০ লক্ষ ডলার অর্থসাহায্যও করেছিলেন। তার পর থেক অর্থসাহায্য কখনও বন্ধ হয়নি। কাতার থেকে এখনও গাজ়ায় প্রতি মাসে তিন কোটি ডলার পাঠানো হয়।

অনেক ইসলামিক দেশের মতে, হামাস কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন নয়। বরং তারা একটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গোষ্ঠী, যারা প্যালেস্তাইনের জন্য লড়াই করছে। কিন্তু অদ্ভুদ বিষয় হল হামাসের অধিকংশ শীর্ষ নেতা  গাজ়ায় থাকেন না। ২০১২ সাল পর্যন্ত হামাসের নেতারা ছিলেন সিরিয়াতে। আবার বর্তমানে কাতারেও তাদের অনেক নেতা থাকেন।

২০১৯ সালে হামাসের এক শীর্ষ নেতা গাজ়া থেকে সাময়িক ভাবে বিদেশে ঘুরতে যাচ্ছেন বলে বেরিয়েছিলেন। তার পর থেকে কাতারের দোহায় বসে তিনি হামাসের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে চলেছেন। অর্থাৎ, কাতার শুধু গাজ়ায় অর্থসাহায্যই করে না। হামাসকে তাদের বিভিন্ন অভিযান পরিচালনাতেও সাহায্য করে। তবে শুধু হামাসের সাহায্যকারী নয়, কাতারের ভূমিকা আরও বেশি।

পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটে কাতার বরাবর সমঝোতাকারীর ভূমিকা পালন করে এসেছে। হামাস হোক বা লেবাননের হিজ়বুল্লা কিংবা আফগানিস্তানের তালিবান, কাতারের সঙ্গে সকলেরই সুসম্পর্ক রয়েছে। পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির মধ্যস্থতার কাজ করে কাতার।

কাতারে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সেনাঘাঁটি রয়েছে। যার নাম আল উডেড বিমানঘাঁটি। ২০১৪ সালে আমেরিকান এক সার্জেন্টকে তালিবান নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল। সেই সময় মধ্যস্থতার কাজ করেছিল এই কাতার। কাতার তালিবানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমেরিকান সার্জেন্টকে মুক্ত করেছিল। পরিবর্তে আমেরিকাকে তাদের জেল থেকে পাঁচ তালিবান সদস্যকে মুক্তি দিতে হয়। নানা সময়ে এমন নানা সহযোগিতার কারণে পশ্চিমি দুনিয়ার কাছে কাতার এখন ‘পরম মিত্র' একটি অগণতান্ত্রিক দেশ।

এক দিকে সমঝোতার মাধ্যমে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কাতার, অন্য দিকে আবার তারাই বিপরীত অবস্থানে গিয়ে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনও করে চলেছে। কাতার যে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে গোপনে সাহায্য করে, তাদের অর্থ এবং অস্ত্রের জোগান দেয়, সে বিষয়ে সৌদি আরব কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি অর্থাৎ UAE একাধিক বার অভিযোগ করেছে। কিন্তু সব জেনেও কাতারের বিরুদ্ধে আমেরিকা বা পশ্চিমী দেশ কোনও পদক্ষেপ নেয় না।

কাতার সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে তাদের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তা প্রস্তুত রাখে। এ ভাবে তারা ধীরে ধীরে গোটা বিশ্বের কাছে ‘ত্রাতা’ হিসাবে নিজেদের তুলে ধরতে পেরেছে। কাতারের মতো সমঝোতাকারী দেশের সবচেয়ে বেশি লাভ হয় যুদ্ধের সময়। কারণ তারা উভয় পক্ষের সঙ্গেই কথা বলে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনও পরিস্থিতির মধ্যস্থতা করতে সক্ষম।

ইজ়রায়েল এবং হামাসের যুদ্ধের আবহেও তাই কাতারের দর বেড়ে গিয়েছে। আমেরিকা কিংবা আরব দেশগুলি জানে, সমঝোতার সময় এলে একমাত্র কাতারই পারবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে। তাই গণতন্ত্র বা সন্ত্রসবাদ নয় যেখান আমেরিকার স্বার্থ জড়িয়ে থাকে সে দেশ আমেরিকার কাছে হয় ভালো আর যেখানে আমেরিকার স্বার্থ জড়িত থাকে না সে দেশ হয় খারাপ যেমন- আফগানিস্তান।


শনিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৩

চিনের ঘরোয়া পণ্য কম বিক্রি হওয়ায় বাড়ছে ভারতের অর্থিক সংকট

মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি পরিবার নয়, একটি দেশ এমনকি গোটা বিশ্বকে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ফেলতে পারে। মূল্যবৃদ্ধি হল আসলে মুদ্রাস্ফীতি। আর এই মুদ্রাস্ফীতি-ই অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ। কিন্তু চিনে এর বিপরীত সমস্যা দেখা দিয়েছে। চিনে মুদ্রাস্ফীতি এর বদলে মুদ্রাসংকোচন দেখা দিয়েছে। ফলে চিনা মুদ্রা ইউয়ানের দাম ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। ইউয়ানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চিনে জিনিসপত্রের দাম ক্রমশ কমছে। বাজারে জিনিসের জোগান রয়েছে, কিন্তু চাহিদা নেই। চিনা জনগণ হয়ে উঠেছে সঞ্চয়ী।

বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের সাপেক্ষে চিনের এই সঙ্কট কিছুটা বিপরীতধর্মী। সাধারণত, ডলারের সাপেক্ষে মুদ্রার দাম কমে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়। চিনে ঠিক তার উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বিপরীতধর্মী হলেও চিনের এই ‘মুদ্রাসঙ্কোচন’ বিশ্ব অর্থনীতিতে মোটেই ইতিবাচক নয়। এই পরিস্থিতি অবিলম্বে সামাল দেওয়া না গেলে অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে। আর তার প্রভাব পড়বে সমগ্র বিশ্বে।

চিনের অর্থনীতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদেরাও। কারণ, চিন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, ঠিক আমেরিকার পরেই। চলতি বছরে সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্তত ৩৫ শতাংশ আসার কথা রয়েছে চিন থেকে। অবশ্য  চিনা সরকারের উপর বিপুল ঋণের বোঝা রয়েছে। তাদের সম্মিলিত মোট ঋণের পরিমাণ ১৩ লক্ষ কোটি ডলার। যা অর্থনীতির উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

চিনের শুধুমাত্র ব্যাঙ্কিং সেক্টরের ঋণের পরিমাণ তিন লক্ষ কোটি ডলার। যা ব্রিটেনের সমগ্র অর্থনীতির সমপরিমাণ। এই পরিস্থিতি ভারত বা বহির্বিশ্বের জন্য কতটা সমস্যার, তা এখনও অনেকে পরিমাপ করে উঠতে পারছেন না। চিনের অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। ‘মুদ্রাসঙ্কোচন’-এর ফলে চিন অধিক উৎপাদন করছে, কিন্তু ঘরোয়া বাজারে বিক্রি হচ্ছে না তাদের পণ্য। ফলে বাইরের দেশে নিজস্ব পণ্য বিক্রিতে জোর দিচ্ছে বেজিং।

অর্থাৎ, সামগ্রিক ভাবে চিনের রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু কমেছে আমদানির পরিমাণ। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনেও এই ছবি ধরা পড়েছে। ভারতে তারা বেশি পরিমাণ পণ্য পাঠাচ্ছে। কিন্তু ভারতের পণ্য কেনা তারা কমিয়ে দিয়েছে।পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে অগস্টে ভারতের মোট রফতানির ৬.৫ শতাংশ গিয়েছিল চিনে। কিন্তু ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে অগস্টে সেই হার কমে হয়েছে ৩.৫ শতাংশ।

এক দিক থেকে এই পরিসংখ্যান ভারতের জন্য চিন্তার। কারণ, চিনে ভারতীয় পণ্যের রফতানি কমে গেলে এ দেশের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার কিছুটা হলেও ধাক্কা খাবে। চিন থেকে প্রতি বছর যে আয় হয়, তার পরিমাণ কমবে। অন্য দিকে, চিনে রফতানি কমে গেলে চিনা দ্রব্যের আমদানি ভারতে বৃদ্ধি পাবে। সে ক্ষেত্রে, চিনের পণ্যে ছেয়ে যাবে ভারতের বাজার। দেশীয় পণ্য মার খাবে। দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য যা খুব একটা স্বস্তির কথা নয়।

কোভিড অতিমারির ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি চিন। তার ফলে দেশটির অর্থনীতির উপর এমন বিপরীত প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। চিনের অর্থনীতির একটা বড় অংশ নির্ভর করে নির্মাণশিল্পের উপর। সম্প্রতি দেশের অন্যতম নামী নির্মাণসংস্থা দেনার দায়ে ডুবেছে। যার ফলে টান পড়েছে ব্যাঙ্কের ভাঁড়াতেও। কারণ নির্মাণশিল্পে চিনা ব্যাঙ্কগুলির বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেশি।

চিনের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। দুই দেশের সীমান্ত প্রায়ই সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই উত্তাপের আঁচ কখনও বাণিজ্যে এসে লাগে না। চিনের অর্থনৈতিক সঙ্কট তাই অনায়াসেই ভারতের বাণিজ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩

এভাবে প্রেতাত্মা তার নিজের খুনিকে ধরিয়ে দিয়েছিল

ভূত বলতেই, সবাই ভয়ের কোন বিষয় বা আলৌকিক কোন কিছুর কথা মনে করেন, কিন্তু সাহিত্য অন্য কথা বলছে, সহিত্যে ভূত হয় ভালো প্রেমিক, কখনও বা সে মানুষকে বর দেয়, আবার নিজের খুনিকেও সে ধরিয়ে দেয়।বাস্তবেও এ রকম এক ‘ভূতের গল্প’ প্রচলিত আছে, যেখানে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নায়ক হ্যামলেটের বাবার মতো নিজের খুনিকে নাকি ধরিয়ে দিয়েছিল! পরে যদিও সেই ‘ভূতের’ অস্তিত্ব নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল।

প্রায় ২০০ বছর আগে এই ‘ভূতের’ আবির্ভাব হয়েছিল। আবার এই ভূতকে কেন্দ্র করে এক অঞ্চলের মানুষ এখন উৎসব পালন করে থাকেন। কিন্তু একটি প্রশ্ন সবার কাছে এসে পড়ে - কিভাবে সম্ভব ভূত তার খুনিকে ধরিয়ে দিল? অবশ্য এই পৃথিবীতে সবই সম্ভব, আসুন সেই ঘটনার কথাই জেনে নিই এবার।

এই গল্প ফ্রেডরিক ফিশারের। ফ্রেডরিক ছিলেন ইংল্যান্ডের এক ব্যবসায়ী। একটি দোকান ছিল তাঁর। কিভাবে জানা যায় না, তিনি জাল নোট রেখেছিলেন নিজের দোকানে। ফলে তার লেনদেনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন ফ্রেডরিক।১৮১৫ সালে  তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ইংল্যান্ডের আদালত থেকে। শোনা যায় সে সময় ইংল্যান্ডের বেশীরভাগ আসামীকেই অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হত।ফ্রেডরিককেও তাই করা হয়েছিল।ফ্রেডরিক পড়াশোনা জানতেন। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে লেগে পড়েছিলেন।

১৮২২ সালে ফ্রেডরিকের ১৪ বছরের সাজার অর্ধেক মেয়াদ শেষ হলে, তিনি জামিনের আবেদন করেন। অস্ট্রেলিয়ায় কিছু জমিজমা কেনার অনুমতিও চান। প্রশাসন তাঁকে অনুমতি দিয়েছিল। এরপরেই ফ্রেডরিক সিডনির অদূরে ক্যাম্পবেলটাউনে বেশ কিছু জমিজমা কেনেন। তার মধ্যে চাষের জমিও ছিল। তিনি একটি কাগজের কলও খুলেছিলেন।

আবার ১৮২৫ সালে স্থানীয় এক কাঠের মিস্ত্রির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে ফ্রেডরিক। এরপর তাঁকে ফের জেলে পাঠানো হয়। খামার, চাষের জমি নিয়ে তিনি কি করবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়েন ফ্রেডরিক। প্রতিবেশী জর্জ ওরালের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁর জিম্মাতেই নিজের জমিজমা রেখে ফ্রেডরিক জেলে যান। তিনি জর্জকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নিও দিয়ে যান। সে বার ছ’মাস জেলে ছিলেন ফ্রেডরিক। জেল থেকে বেরিয়ে জর্জের কাছে নিজের জমি ফেরত চান। জর্জ সেই জমি ফেরাতে অস্বীকার করেন। দাবি করেন, ওই জমি তাঁর।

১৮২৬ সালের ১৭ই জুন উধাও হয়ে যান ফ্রেডরিক। জর্জ স্থানীয়দের জানান, আবার ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়েছেন তিনি। যাওয়ার আগে নিজের সব সম্পত্তি, জমি তাঁর কাছে বিক্রি করে দিয়ে গিয়েছেন। ফ্রেডরিকের ঘোড়াও তিনি দখল করে নেন।

এই ঘটনার ঠিক চার মাস পর ফ্রেডরিকের এক স্থানীয় বাসিন্দা জন ফার্লে অদ্ভুত এক দাবি করেন। তিনি জানান, তিনি ফ্রেডরিকে দেখেছেন। একটি সেতুর রেলিংয়ে বসেছিল ফ্রেডরিক। তিনি এ-ও দাবি করেন, ফ্রেডরিক কোনও কথা বলেনি তাঁর সঙ্গে। শুধু পিছনে মাঠের দিকে নির্দেশ করে উধাও হয়ে যান। তাঁর মতে তিনি ফ্রেডরিকের ভূত দেখেছেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন একজন মানুষ অত তাড়াতাড়ি উধাও হতে পারে না।

প্রথমে জনের দাবি সকলে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু পুলিশের মনে ক্রমে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। সেতুর ধারে ওই মাঠে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ, যে দিকে নির্দেশ করেছিল ফ্রেডরিকের ‘ভূত’। তল্লাশির পর ওই মাঠ থেকে উদ্ধার হয় ফ্রেডরিকের দেহাবশেষ। তদন্তে নামে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় জর্জকে। জর্জ স্বীকার করে নেয় খুনের কথা। আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। যদিও আদালতে ‘ভূতের’ তত্ত্ব কোনও প্রমাণ হিসাবে গৃহীত হয়নি।

জর্জের শাস্তির পর একটি প্রশ্ন উঠেছিল। সত্যিই কি ‘ভূত’ দেখেছিলেন জন ফার্লে। অনেকেই মনে করেন, ‘ভূতের’ গল্প তৈরি করেছিলেন খোদ ফার্লে। সম্ভবত তিনি ফ্রেডরিককে খুন হতে দেখেছিলেন। কী ভাবে বিষয়টি প্রকাশ করবেন, বুঝতে পারেননি। তাই ‘ভূতের’ গল্প ফেঁদেছিলেন। অন্যদিকে তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা ছিল, খুনের কোনও সাক্ষী ‘ভূত’ সেজেছিলেন। তিনি হয়তো জর্জের হাতে ফ্রেডরিককে খুন হতে দেখে ফেলেছিলেন। পুলিশকে সে কথা জানানোর সাহস পাননি। তাই ‘ভূত’ সেজে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।

অবশ্য সিডনির এক সাংবাদিক দাবি করেছিলেন, সেতুর ধারে আদতে কেউ ‘ভূত’ দেখেননি। পুলিশি তদন্ত, বা আদালতে বিচারের নথিতে তার কোনও উল্লেখই নেই। ওই সেতুর রেলিংয়ে রক্তের দাগ দেখে পুলিশই নাকি তল্লাশি শুরু করে। তার জেরেই পাশের মাঠ থেকে ফ্রেডরিকের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়।

যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্রেডরিকের ‘ভূতের’ গল্প স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে। সেই নিয়ে বহু জনশ্রুতি তৈরি হয়। সেই ‘ভূত’কে নিয়ে ক্রমে উৎসবে মাতেন ক্যাম্পবেলটাউনের বাসিন্দারা।প্রতি বছর নভেম্বর মাসে ‘ফেস্টিভ্যাল অফ ফিশার’স গোস্ট’ পালন করেন ক্যাম্পবেলটাউনের বাসিন্দারা। সেখানে ‘ভূত’ সেজে ঘুরে বেড়ান। স্মরণ করেন ফ্রেডরিকের সেই ‘ভূত’কে। যে খালের ধারে মাঠে ফ্রেডরিকের দেহ মিলেছিল, সেই খালের নামও রাখা হয়েছিল ‘ফিশার’স গোস্ট ক্রিক’।

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩

রাশিয়া আর বন্ধু ভারতকে ছাড় দিতে চাইছে না এই বিষয়ে

পৃথিবীর যে কোন দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে সেই দেশের পরিবহন ব্যবস্থার উপর। আর এই পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল পেট্রোল বা ডিজেলের দামের উপর। অর্থাৎ পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহনেরও খরচ বাড়বে, ফলে পণ্যেরও মূল্য বৃদ্ধি হবে। অবশ্য ভারতের একটি বিশেষ সুবিধা আছে, এদেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সুব্যবস্থা আছে। কিন্তু এই অপরিশোধিত খনিজ তেল ভারতে তেমন পাওয়া যায় না, তাই আমাদের দেশ ভারতকে এই খনিজ তেল বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

বর্তমানে ভারত এই অপরিশোধিত  তেল আমদানি, সবচেয়ে বেশী করছে রাশিয়া থেকে। অবশ্য দীর্ঘ দিন ধরেই তেলের বাণিজ্য চলছে রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল রাশিয়া। পূর্ব ইউরোপে সেই যুদ্ধ এখনো চলছে। এই যুদ্ধের পরই ভারতে রাশিয়ার তেলের বিক্রি আরও বেড়ে গিয়েছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে নানা ভাবে সমালোচিত হয়েছে পুতিনের দেশ। তবু রাশিয়া যুদ্ধ থামায়নি। এর পরেই আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দেশগুলি রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এর ফলে রাশিয়ার উপর একাধিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। আমেরিকা এবং ইউরোপের একাধিক দেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে ব্যবসায়িক ভাবে রাশিয়া ভীষণ ভাবে  ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সে সময় বহু দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক অসহযোগিতা করলেও পাশে ছিল ভারত। তারা রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি বন্ধ করেনি। ফলে রাশিয়াও অপরিশোধিত তেলের দামে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল ভারতকে।

রাশিয়া তেল বিক্রির জন্য পশ্চিমের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ৪,৯৪২ টাকার চেয়ে কম দামে ভারতকে তেল বিক্রি করছিল । ফলে তেল আমদানিতে দিল্লির খরচ আগের চেয়ে অনেকটা কমেছিল। এ কারণে ভারতও আগের তুলনায় বেশী পরিমান তেল কিনতে শুরু করে রাশিয়া থেকে। তাই গত কয়েক মাসে রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের তালিকায় প্রথম সারিতে উঠে আসে ভারত।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের কেনা তেলের পরিমাণ ছিল মোট ক্রয়ের দুই শতাংশ। বিশেষ ছাড় পাওয়ার পর যুদ্ধের পরে এই ক্রয় বেড়ে হয় ৪৪ শতাংশ।যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত দিনে ৪৪,৫০০ ব্যারেল তেল কিনত । পরে ক্রয়ের নিরিখে তারা চিনকেও ছাপিয়ে যায়।

কিন্তু সম্প্রতি এই ছাড়ের পরিমাণ আবার কমিয়ে দিতে শুরু করেছে মস্কো। ফলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে আরও বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।গত বছরের শেষ দিকে রাশিয়া থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ৩০ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ২,৪৭১ টাকা ছাড় পাচ্ছিল ভারত। সম্প্রতি তা কমে হয়েছে মাত্র ৪ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ৩২৯ টাকা।

ছাড় কমে যাওয়ার পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ভারতে তেলের পরিবহণ খরচও দিল্লীকে চিন্তায় ফেলেছে। কারণ রাশিয়া থেকে তেলের পরিবহণ খরচ বরাবরই একটু বেশী এবং অনিশ্চিত।অনেকে মনে করছেন ভারতের তেল কোম্পানিগুলির কিছু ‘অদূরদর্শী’ পদক্ষেপের জন্যই বর্তমানে রাশিয়া ভারতকে বিক্রি করা তেলের উপর ছাড়ের পরিমান কমিয়ে দিচ্ছে।

ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, ভারত পেট্রোলিয়াম, মেঙ্গালুরু রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালসের মতো সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি, নায়রা এনার্জি লিমিটেডের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনে। এই সংস্থাগুলি পৃথক পৃথক ভাবে রাশিয়ার সঙ্গে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়ে যোগাযোগ করছে। তাদের মধ্যে নানাবিধ চুক্তিও হয়েছে। অবশ্য অনেকে মনে করেন এই ভারতীয় সংস্থাগুলি যদি একজোট হয়ে রাশিয়া থেকে  তেল কিনতো তাহলে ছাড়ের পরিমাণ বেশি হত।

পাশাপাশি, যুদ্ধ শুরুর পরপরই পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া যে ধাক্কা খেয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা সামলে উঠেছে। তাদের তেলের বাণিজ্যে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি।সেই কারণেও অপরিশোধিত তেলের জন্য ভারতকে আর বাড়তি ছাড় দিতে আগ্রহী নয় রাশিয়া।

রবিবার, ২৫ জুন, ২০২৩

এবার কি সত্যি পুতিনকে রাশিয়ার গদি ছাড়তে হবে?

 

রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করল ওয়াগনার বাহিনী। একই সঙ্গে রেডিয়োবার্তায় মস্কো অভিযানের কথাও ঘোষণা করেছে কুখ্যাত এই ‘ভাড়াটে খুনিদের দল’। যা আবার পরিচিত ‘পুতিনের নিজস্ব সেনা’ নামেও।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাশিয়াতে বর্তমানে মার্শাল ল চালু হয়েছে অর্থাৎ পুরো রাশিয়াতে এখন সামরিক আইন চলবে। কোনরম নাকরিকদের অধিকারের আইন বা বিচার থাকবেনা, সেনাই সেখানে শেষ কথা বলবে। তবে রবিবার সকালে বেলারুশের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় প্রিগোজিন বেলারুসে প্রত্যাগমন করেছে এবং তারা জানিয়েছে এখনই রুশী সেনার উপর তারা আক্রমণ করছে না। ভারতে এতগুলি যুদ্ধ সংঘটিত হলেও, মার্শাল আইন কিন্তু কখনও ভারতে লাগু করা হয়নি। তবে ভারতীয় সংবিধানে এর প্রাবধান আছে।

ওয়াগনার প্রধান অলিগার্চ ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের দাবি, তাঁর বাহিনীর উপর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে মস্কোর সামরিক বাহিনী। যে কারণে তাঁর প্রায় দু’হাজার সেনার মৃত্যু হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নেতৃত্বেই তাঁর বাহিনীর উপর হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ প্রিগোজিনের। আর সেই কারণেই নাকি মস্কোর উপর প্রতিশোধ নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ওয়াগনার গোষ্ঠী।

যদিও রাশিয়া গত শুক্রবার ওয়াগনার গোষ্ঠীর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাশিয়ান সরকারের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রিগোজিনের সব অভিযোগ মিথ্যা এবং অবাস্তব।অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রিগোজিন নাকি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ‘শেষ দেখে ছাড়বেন’ বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি এও হুমকি দিয়েছেন যে ওয়াগনার গ্রুপের পথে যাঁরা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাঁদের সকলকে তাঁর বাহিনী ‘ধ্বংস’ করে দেবে। তাছাড়া রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য সাধারণ রুশ নাগরিকদেরও তাঁর বাহিনীর পাশে এসে দাঁড়ানোর আবেদন করেছেন ওয়াগনার প্রধান।

এদিকে ওয়াগনার গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছে ক্রেমলিন। যদিও রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা টাস জানিয়েছে, শনিবার ভোর থেকেই ব্যস্ততা লক্ষ করা গিয়েছে মস্কো জুড়ে। রাস্তায় সাঁজোয়া গাড়ি নামানো হয়েছে। মস্কোর বিভিন্ন সরকারি ভবনের সামনেও বেড়েছে নিরাপত্তা। তাছাড়া মস্কোয় ঢোকার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।যদিও প্রিগোজিনের তরফে ‘সশস্ত্র বিদ্রোহ’-এর ঘোষণার পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রুশ সরকার।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পর থেকে কিভ দখলের লড়াইয়ে ওয়াগনার গ্রুপের উপর ভরসা রেখেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোর নির্দেশে প্রিগোজিনের ব্যক্তিগত বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায় হত্যালীলা চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ তুলেছিল ইউক্রেন।

তবে গত কয়েক মাসে ক্রেমলিন এবং ওয়াগনার গোষ্ঠীর সমীকরণে অনেক বদল এসেছে। প্রকাশ্যে এসেছে ওয়াগনার বাহিনী এবং মস্কোর সামরিক নেতৃত্বের মতপার্থক্য। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর জন্য বার বার রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এবং সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভকে দায়ী করেছেন প্রিগোজিন।এখন আর সেই দ্বন্দ্ব, তর্ক এবং বাগ্‌বিতণ্ডার জায়গায় সীমাবন্ধ নেই। আরও একধাপ এগিয়ে তা ‘সশস্ত্র বিদ্রোহের’ রূপ নিয়েছে।

ওয়াগনার গ্রুপ একটি স্বনিয়ন্ত্রিত সামরিক বাহিনী। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে সারা বিশ্ব জুড়ে ধর্ষণ, ডাকাতি, খুন এবং যুদ্ধোপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।দীর্ঘ দিন ধরে ক্রেমলিনের সঙ্গে ওয়াগনার বাহিনীর সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে এসেছে রাশিয়া। তবে পশ্চিমি দুনিয়ার দাবি, রাশিয়ার বিভিন্ন গোপন কাজ উদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া ছিল এই বাহিনীর উপর।বার বার এ-ও দাবি করা হয়েছে, ওয়াগনার গ্রুপ পুতিনের ব্যক্তিগত বাহিনী, যারা কেবলমাত্র রাশিয়ার একনায়কের নির্দেশই অক্ষরে অক্ষরে পালন করে থাকে।

প্রিগোজিন ওয়াগনার বাহিনীতে নতুন সদস্য নিয়োগের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি পুতিনের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসাবেও পরিচিত। মনে করা হয় ক্রেমলিনের বিশেষ বিশেষ কাজ দেখাশোনার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর কেটারিংয়ের ব্যবসা আছে। সেই কারণে ‘পুতিনের রাঁধুনি’ বলেও পরিচিত প্রিগোজিন।

মনে করা হয়, এর আগে বিশেষ অভিযান চালানোর জন্য এই বাহিনীকে পূর্ব আফ্রিকায় মোতায়েন করে ক্রেমলিন। যদিও এর দায় বরাবরই এড়িয়ে গিয়েছে রাশিয়া। জল্পনা রয়েছে, সিরিয়ার আন্দোলকারীদের দমন করতেও এই ওয়াগনার বাহিনীকে কাজে লাগিয়েছিলেন পুতিন। এই বাহিনীর অস্তিত্ব নিয়ে বহু জল্পনা থাকলেও ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলে এই গোষ্ঠীর কার্যকলাপ প্রথম প্রকাশ্যে আসে।

প্রাথমিক ভাবে, রাশিয়ার কয়েকশো অভিজ্ঞ সেনা নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়েছিল। তবে বর্তমানে এই বাহিনীতে ৫০ হাজারের মতো সেনা রয়েছে।শোনা যায়, ডনবাসের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা ক্রেমলিনের নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলে তাঁদের হত্যা করার জন্য এই বাহিনীকে পাঠানো হয়। অবশ্য এই হত্যাকাণ্ডের দায় এসে চাপে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর উপরই।

ওয়াগনারের প্রতিষ্ঠাতা এবং নেতা দিমিত্রি উডকিন, রাশিয়ার বিশেষ বাহিনী স্পেটসনাজ-এর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ছিলেন।শোনা যায়, একসময় ওয়াগনার বাহিনী এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যে রুশ সরকারও তাঁদের অর্থ দিতে অস্বীকার করে। এর পরে পুতিন অলিগার্চকে এই গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণে নিযুক্ত করেন।

শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩

এবার কি ডলার-এর বিকল্প খুঁজে পেল আন্তর্জাতিক বাজার

 

বর্তমান বিশ্বের সবথেকে গরীব এলাকা বলে ধরা হয় আফ্রিকান মহাদেশীয় অঞ্চলকে। সেই আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে ইদানীং ডলার-বিমুখতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। মহাদেশের অভ্যন্তরে বাণিজ্যের জন্য তারা আমেরিকান মুদ্রা ব্যবহারের পক্ষপাতী নয়। আফ্রিকার বাইরে অন্যত্রও ভিন্ন মুদ্রা ব্যবহারের কথা চলছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দুনিয়ায় এবার হয়তো আমেরিকান ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ হতে চলেছে। অনেক দেশই বাণিজ্যিক লেনদেনে ডলারের বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে। আফ্রিকার একাধিক দেশ সেই তালিকার নবতম সংযোজন। ভারতে অবস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকার দূতাবাসের তরফে সম্প্রতি ডলারের আধিপত্য বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ডলার-বাণিজ্যের বিরোধিতা করেছেন ওই দেশের প্রতিনিধি।

কিছু দিন আগে ডলারের বিরুদ্ধে বলতে শোনা গিয়েছে কেনিয়া থেকেও। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো অন্য আফ্রিকান নেতাদের মহাদেশের অভ্যন্তরে বাণিজ্যের জন্য ডলার ব্যবহার বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে বিকল্প হিসাবে প্যান-আফ্রিকান লেনদেন ব্যবস্থায় আস্থা রাখার কথা বলেছেন কেনিয়ান প্রেসিডেন্ট। এই ব্যবস্থা ২০২২ সালে চালু করা হয়েছে আফ্রিকা মহাদেশে। এটি তাদের একটি স্বতন্ত্র বাণিজ্যিক পদ্ধতি।

অবশ্য শুধু আফ্রিকা নয়, দক্ষিণ আমেরিকাতেও সম্প্রতি ডলার-বিরোধী প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। ‘ডি-ডলারাইজেশন’কে সমর্থন করেছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার মতো দেশ। ‘ডি-ডলারাইজ়েশন’ এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে আমেরিকার মুদ্রাকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সিংহাসন থেকে সরিয়ে তার গুরুত্ব বা মান কমিয়ে আনা যায়। এই প্রক্রিয়ায় সামিল হতে আগ্রহী অনেক দেশই।

চলতি বছরের এপ্রিলে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিয়ো লুলা দ্য সিলভা চিন সফরে গিয়েছিলেন। সেখানেও তিনি বিভিন্ন দেশকে ডলার বর্জন করে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারের ডাক দিয়েছেন।  দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ডলার না ব্যবহার করার চুক্তি হয়েছে ব্রাজিল এবং চিনের মধ্যে। তার পরেই ডলার ত্যাগের কথা অন্য দেশগুলিকেও বলেছেন ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট। ডলারের বিরোধী হতে দেখা গিয়েছে আর এক দক্ষিণ আমেরিকান দেশ আর্জেন্টিনাকেও। তারা সম্প্রতি চিনের সঙ্গে বাণিজ্যে ডলারের পরিবর্তে চিনা মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহারে সম্মত হয়েছে।

জ়িম্বাবোয়েতে গত বছর চূড়ান্ত অর্থনৈতিক সঙ্কটের মাঝে ডলারের বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই দেশে সোনার মুদ্রা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। ডলারের চেয়ে জ়িম্বাবোয়ের মুদ্রার মান এক ধাক্কায় অনেকটা পড়ে গিয়েছিল। যার ফলে দেশে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। দ্রুত বেড়েছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে জ়িম্বাবোয়ে ডলারের বিকল্প হিসাবে নিয়ে আসে সোনার মুদ্রা। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে লড়াইয়ে তা কাজে লাগতে পারে, বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও জ়িম্বাবোয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

‘ডি-ডলারাইজেশনে’ পিছিয়ে নেই ভারতও। বিশ্বের মোট ১৮টি দেশে ‘স্পেশাল রুপি ভস্ত্রো অ্যাকাউন্ট’ বা এসআরভিএ খোলায় সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)।এই দেশগুলি নিজ নিজ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলারে আগ্রহ হারিয়েছে। ডলারের বিকল্প হিসাবে তারা ভারতীয় টাকায় উৎসাহ প্রকাশ করেছে। সুতরাং রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, বোৎসোয়ানা, জার্মানি, ব্রিটেন, ফিজি, গায়ানা, ইজ়রায়েল, কেনিয়ার মতো দেশ ভারতের সঙ্গে ভারতীয় টাকায় বাণিজ্য করবে। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার পাণ্ডে অবশ্য ডি-ডলারাইজেশনের এই ধারণাকে নতুন বলতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে অতীতেও ভারত রুবেলে অর্থাৎরাশিয়ান মুদ্রায় বাণিজ্যিক লেনদেন করেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমেরিকা-সহ পশ্চিমের দেশগুলি পুতিনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য হোঁচট খায়।তার পর থেকে ভারত এবং রাশিয়া পারস্পরিক বাণিজ্য করে থাকে রুবেল এবং ভারতীয় টাকার সাহায্যে। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসে রাশিয়ার কিছু আপত্তিতে সেই ব্যবস্থা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০০০ সালে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিতে যে ডলারের শেয়ার ছিল ৭১ শতাংশ, তা বর্তমানে কমে এসেছে ৫৯ শতাংশে। ডলারের শেয়ার কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ ইউরো এবং চিনা ইউয়ানের শেয়ার বৃদ্ধি।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমেরিকা বরাবর তাদের ডলারকে অন্য দেশগুলিকে দমিয়ে রাখবার অস্ত্র হিসাবে দেখে এসেছে। এই পন্থাই ডলারের পতনের সূচনা করেছে। আগামী দিনে ডলারের মূল্য এবং গুরুত্ব যত কমবে, তত অন্যদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।