বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৩

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন যুদ্ধে আখেরে লাভ হচ্ছে আরবের একটি দেশের

যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ায়। প্যালেস্তিনীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের আক্রমণের পর ইজরায়েল যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সেই যুদ্ধ মঙ্গলবার পা দিল ২৫ তম দিনে। এই যদ্ধে মত্যু মিছিল দেখা যাচ্ছে গাজা-য়। প্যালেস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, ইতিমধ্যে গাজায় ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যাঁদের মধ্যে রয়েছে অনেক শিশুও।

অবশ্য এই যদ্ধ এখনই থামার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই যুদ্ধে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দেশগুলি  পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ইজরায়েল-এর। তাদের যুক্তি হামাস প্রথমে ইজরায়েলের উপর আক্রমণ করেছিল, তাই ইজরায়েলের অধিকার রয়েছে তাদের নিজেদের রক্ষা করার।

বর্তমানে ইজরায়েলী সেনা গাজায় স্থলপথে অভিযান শুরু করেছে। ইজরায়েলী সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামাসের হাতে বন্দি ইজরায়েলিদের মুক্ত করাই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। যুদ্ধে তাদের জয় নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার বিষয়ে তিনি আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী।

পশ্চিম এশিয়ার পশ্চিম প্রান্তে ভূমধ্যসাগরের ধারে রয়েছে দুটি দেশ ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইন। আর এই দুটি দেশের দ্বন্দ্বে আখেরে লাভ হচ্ছে ১৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরবের একটি ছোট্ট দেশ কাতার-এর।

অনেকের মতে পশ্চিম এশিয়ায় আসলে 'ডবল গেম' খেলে কাতার দেশ। তারা প্রকাশ্যে হামাসকে সমর্থন করে। আবার সময় বিশেষে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে বা অন্য দেশের সঙ্গে সমঝোতা করায়। ২০০৭ সাল থেকে গাজা স্ট্রিপ হামাসের দখলে। তারাই ওই এলাকার প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দেশগুলি হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসাবে ঘোষণা করেছে। কারণ হামাস-এর মতে, জিহাদ ছাড়া প্যালেস্তাইন সমস্যা সমাধানের আর কোনও উপায় নেই।

হামাস কোনও আন্তর্জাতিক শান্তিচুক্তিকে সমর্থন করে না। তারা জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হল ইজরায়েলের ভূখণ্ড দখল করা এবং সেখান থেকে ইহুদীদের বিতাড়িত করা। একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলাও হামাস করেছে বলে অভিযোগ। এইসব কথা জানার পরেও ২০০৭ সাল থেকে হামাসকে সমর্থন করে কাতার। আবার ২০১২ সালে প্রথমবার কাতারের রাষ্ট্রপ্রধান গাজায় যান। শহরটির পুনর্গঠনের জন্য তিনি ৪০ লক্ষ ডলার অর্থসাহায্যও করেছিলেন। তার পর থেক অর্থসাহায্য কখনও বন্ধ হয়নি। কাতার থেকে এখনও গাজ়ায় প্রতি মাসে তিন কোটি ডলার পাঠানো হয়।

অনেক ইসলামিক দেশের মতে, হামাস কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন নয়। বরং তারা একটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গোষ্ঠী, যারা প্যালেস্তাইনের জন্য লড়াই করছে। কিন্তু অদ্ভুদ বিষয় হল হামাসের অধিকংশ শীর্ষ নেতা  গাজ়ায় থাকেন না। ২০১২ সাল পর্যন্ত হামাসের নেতারা ছিলেন সিরিয়াতে। আবার বর্তমানে কাতারেও তাদের অনেক নেতা থাকেন।

২০১৯ সালে হামাসের এক শীর্ষ নেতা গাজ়া থেকে সাময়িক ভাবে বিদেশে ঘুরতে যাচ্ছেন বলে বেরিয়েছিলেন। তার পর থেকে কাতারের দোহায় বসে তিনি হামাসের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে চলেছেন। অর্থাৎ, কাতার শুধু গাজ়ায় অর্থসাহায্যই করে না। হামাসকে তাদের বিভিন্ন অভিযান পরিচালনাতেও সাহায্য করে। তবে শুধু হামাসের সাহায্যকারী নয়, কাতারের ভূমিকা আরও বেশি।

পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটে কাতার বরাবর সমঝোতাকারীর ভূমিকা পালন করে এসেছে। হামাস হোক বা লেবাননের হিজ়বুল্লা কিংবা আফগানিস্তানের তালিবান, কাতারের সঙ্গে সকলেরই সুসম্পর্ক রয়েছে। পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির মধ্যস্থতার কাজ করে কাতার।

কাতারে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সেনাঘাঁটি রয়েছে। যার নাম আল উডেড বিমানঘাঁটি। ২০১৪ সালে আমেরিকান এক সার্জেন্টকে তালিবান নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল। সেই সময় মধ্যস্থতার কাজ করেছিল এই কাতার। কাতার তালিবানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমেরিকান সার্জেন্টকে মুক্ত করেছিল। পরিবর্তে আমেরিকাকে তাদের জেল থেকে পাঁচ তালিবান সদস্যকে মুক্তি দিতে হয়। নানা সময়ে এমন নানা সহযোগিতার কারণে পশ্চিমি দুনিয়ার কাছে কাতার এখন পরম মিত্র' একটি অগণতান্ত্রিক দেশ।

এক দিকে সমঝোতার মাধ্যমে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কাতার, অন্য দিকে আবার তারাই বিপরীত অবস্থানে গিয়ে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনও করে চলেছে। কাতার যে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে গোপনে সাহায্য করে, তাদের অর্থ এবং অস্ত্রের জোগান দেয়, সে বিষয়ে সৌদি আরব কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি অর্থাৎ UAE একাধিক বার অভিযোগ করেছে। কিন্তু সব জেনেও কাতারের বিরুদ্ধে আমেরিকা বা পশ্চিমী দেশ কোনও পদক্ষেপ নেয় না।

কাতার সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে তাদের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তা প্রস্তুত রাখে। এ ভাবে তারা ধীরে ধীরে গোটা বিশ্বের কাছে ত্রাতা হিসাবে নিজেদের তুলে ধরতে পেরেছে। কাতারের মতো সমঝোতাকারী দেশের সবচেয়ে বেশি লাভ হয় যুদ্ধের সময়। কারণ তারা উভয় পক্ষের সঙ্গেই কথা বলে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনও পরিস্থিতির মধ্যস্থতা করতে সক্ষম।

ইজ়রায়েল এবং হামাসের যুদ্ধের আবহেও তাই কাতারের দর বেড়ে গিয়েছে। আমেরিকা কিংবা আরব দেশগুলি জানে, সমঝোতার সময় এলে একমাত্র কাতারই পারবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে। তাই গণতন্ত্র বা সন্ত্রসবাদ নয় যেখান আমেরিকার স্বার্থ জড়িয়ে থাকে সে দেশ আমেরিকার কাছে হয় ভালো আর যেখানে আমেরিকার স্বার্থ জড়িত থাকে না সে দেশ হয় খারাপ যেমন- আফগানিস্তান।


শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

আগামী দিনে আর কোন কোন অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইসরো?

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর সম্প্রতি চন্দ্রঅভিযান-৩ সফল্য পেয়েছে। সেই সঙ্গে দেশ তথা পুরো বিশ্বের কাছে এখন এটাই জিগ্গাস্য যে, আগামী দিনে আর কোন কোন অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইসরো? আর খুশির খবর হলইসরোর আগামী দিনে একাধিক অভিযানের মাধ্যমে ইতিহাস গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আপাতত ভারত যে মহাকাশ অভিযানগুলি নিয়ে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম আদিত্য-এল-১। ইতিমধ্যেই সেই অভিযান নিয়ে ইসরোর বিজ্ঞানীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমানাথ জানিয়েছেন, আদিত্য-এল-১ উপগ্রহটি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উৎক্ষেপণ করা হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, জানা যাচ্ছে যে আগামী ২রা সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে অন্ধপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে। এরকম সৌর অভিযানে এখনো পর্যন্ত আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মানী সফলতা অর্জন করেছে।

এস সোমনাথ আরো জানিয়েছেন, সূর্যের বায়ুমণ্ডল সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে আদিত্য-এল-১ উপগ্রহটিকে মহাকাশে পাঠানো হবে। প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোমিটার ভ্রমণ করে গন্তব্যে পৌঁছবে সেটি। সময় লাগবে প্রায় ১২০ দিন। আদিত্য-এল-১ হতে চলেছে ভারত থেকে সূর্যের দিকে পাঠানো প্রথম মহাকাশযান। ইসরো জানিয়েছে, মহাকাশযানটিকে সূর্য-পৃথিবীর মধ্যে একটি হ্যালো কক্ষপথের এল-১ পয়েন্টে স্থাপন করা হবে।

সূর্যের অপর নাম আদিত্য। তাই কৃত্রিম উপগ্রহটির এই নাম রাখা হয়েছে। উপগ্রহটিকে মহাকাশে বহন করে নিয়ে যাবে ভারতীয় রকেট পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল অর্থাৎ PSLVআদিত্য-এল-১ অভিযানের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৩৭৮.৫৩ কোটি টাকা। এই অভিযান সফল হলে সৌরঝড়ের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হবে ইসরো। পাশাপাশি সূর্যের আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবও বুঝতে সাহায্য করবে এই উপগ্রহ।

আদিত্য-এল-১-এর পাশাপাশি আরও এক স্বপ্নের মহাকাশ অভিযান নিয়ে ইসরোর অন্দরে ব্যস্ততা তুঙ্গে। ইসরোর ইতিহাসে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাকাশ অভিযানের নাম গগনযানগগনযান-ই হতে চলেছে মহাকাশের গভীরে ভারতের প্রথম মানব অভিযান। ২০২৪ সালে মহাকাশে পাড়ি দিতে চলেছে ভারতের এই মহাকাশযান।

মানববাহী মহাকাশযান পাঠানোর আগে পরীক্ষার জন্য দুটি মানবহীন যানও মহাকাশে পাঠাবে ইসরো। মূল অভিযানের আগে মানবহীন যান পাঠানোর দুটি উদ্দেশ্য- সুরক্ষা এবং নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষা করে দেখা৷ গগনযান ভারতের নিজস্ব অভিযান। পুরো বিষয়টিই ইসরো নিজে পরিচালনা করবে। গগনযানকে সফল করতে বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থাও হাত মিলিয়েছে ইসরোর সঙ্গে। ভারতীয় সেনা, মৌসম ভবন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, নৌবাহিনী, উপকূলরক্ষী বাহিনীও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

গগনযানের বাজেট ৯,০২৩ কোটি টাকা। যদি অভিযান সফল হয়, তা হলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং শিল্পে ভারতের অগ্রগতি কেউ ঠেকাতে পারবে না বলেই মনে করছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।

পাশাপাশি, ২০২৪ সালে আমেরিকার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাডার নিসার অর্থৎ নাসা-ইসরো অ্যাপারচার র‌্যাডার পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনগুলি বোঝার জন্য পৃথিবীর কক্ষপথে এই রাডারটিকে পাঠানো হবে। অভিযানে মোট খরচ হবে প্রায় ১২,২৯৬ কোটি টাকা।

এছাড়া ২০২৪ সালে মঙ্গলগ্রহে মহাকাশযান পাঠানোর প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে ইসরো। এই অভিযানের নাম মঙ্গলযান-২। তবে এই অভিযানে কত খরচ হচ্ছে তা নিয়ে এখনও কোনও তথ্য অবশ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে ইসরোর শুক্রযান-১-এর প্রস্তুতি। শুক্রগ্রহে মহাকাশযান পাঠিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতেই এই অভিযানের পরিকল্পনা করছে ইসরো। এতে খরচ হবে ৫০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা।

শনিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৩

চিনের ঘরোয়া পণ্য কম বিক্রি হওয়ায় বাড়ছে ভারতের অর্থিক সংকট

মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি পরিবার নয়, একটি দেশ এমনকি গোটা বিশ্বকে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ফেলতে পারে। মূল্যবৃদ্ধি হল আসলে মুদ্রাস্ফীতি। আর এই মুদ্রাস্ফীতি-ই অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ। কিন্তু চিনে এর বিপরীত সমস্যা দেখা দিয়েছে। চিনে মুদ্রাস্ফীতি এর বদলে মুদ্রাসংকোচন দেখা দিয়েছে। ফলে চিনা মুদ্রা ইউয়ানের দাম ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। ইউয়ানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চিনে জিনিসপত্রের দাম ক্রমশ কমছে। বাজারে জিনিসের জোগান রয়েছে, কিন্তু চাহিদা নেই। চিনা জনগণ হয়ে উঠেছে সঞ্চয়ী।

বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের সাপেক্ষে চিনের এই সঙ্কট কিছুটা বিপরীতধর্মী। সাধারণত, ডলারের সাপেক্ষে মুদ্রার দাম কমে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়। চিনে ঠিক তার উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বিপরীতধর্মী হলেও চিনের এই মুদ্রাসঙ্কোচন বিশ্ব অর্থনীতিতে মোটেই ইতিবাচক নয়। এই পরিস্থিতি অবিলম্বে সামাল দেওয়া না গেলে অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে। আর তার প্রভাব পড়বে সমগ্র বিশ্বে।

চিনের অর্থনীতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদেরাও। কারণ, চিন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, ঠিক আমেরিকার পরেই। চলতি বছরে সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্তত ৩৫ শতাংশ আসার কথা রয়েছে চিন থেকে। অবশ্য  চিনা সরকারের উপর বিপুল ঋণের বোঝা রয়েছে। তাদের সম্মিলিত মোট ঋণের পরিমাণ ১৩ লক্ষ কোটি ডলার। যা অর্থনীতির উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

চিনের শুধুমাত্র ব্যাঙ্কিং সেক্টরের ঋণের পরিমাণ তিন লক্ষ কোটি ডলার। যা ব্রিটেনের সমগ্র অর্থনীতির সমপরিমাণ। এই পরিস্থিতি ভারত বা বহির্বিশ্বের জন্য কতটা সমস্যার, তা এখনও অনেকে পরিমাপ করে উঠতে পারছেন না। চিনের অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। মুদ্রাসঙ্কোচন-এর ফলে চিন অধিক উৎপাদন করছে, কিন্তু ঘরোয়া বাজারে বিক্রি হচ্ছে না তাদের পণ্য। ফলে বাইরের দেশে নিজস্ব পণ্য বিক্রিতে জোর দিচ্ছে বেজিং।

অর্থাৎ, সামগ্রিক ভাবে চিনের রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু কমেছে আমদানির পরিমাণ। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনেও এই ছবি ধরা পড়েছে। ভারতে তারা বেশি পরিমাণ পণ্য পাঠাচ্ছে। কিন্তু ভারতের পণ্য কেনা তারা কমিয়ে দিয়েছে।পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে অগস্টে ভারতের মোট রফতানির ৬.৫ শতাংশ গিয়েছিল চিনে। কিন্তু ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে অগস্টে সেই হার কমে হয়েছে ৩.৫ শতাংশ।

এক দিক থেকে এই পরিসংখ্যান ভারতের জন্য চিন্তার। কারণ, চিনে ভারতীয় পণ্যের রফতানি কমে গেলে এ দেশের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার কিছুটা হলেও ধাক্কা খাবে। চিন থেকে প্রতি বছর যে আয় হয়, তার পরিমাণ কমবে। অন্য দিকে, চিনে রফতানি কমে গেলে চিনা দ্রব্যের আমদানি ভারতে বৃদ্ধি পাবে। সে ক্ষেত্রে, চিনের পণ্যে ছেয়ে যাবে ভারতের বাজার। দেশীয় পণ্য মার খাবে। দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য যা খুব একটা স্বস্তির কথা নয়।

কোভিড অতিমারির ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি চিন। তার ফলে দেশটির অর্থনীতির উপর এমন বিপরীত প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। চিনের অর্থনীতির একটা বড় অংশ নির্ভর করে নির্মাণশিল্পের উপর। সম্প্রতি দেশের অন্যতম নামী নির্মাণসংস্থা দেনার দায়ে ডুবেছে। যার ফলে টান পড়েছে ব্যাঙ্কের ভাঁড়াতেও। কারণ নির্মাণশিল্পে চিনা ব্যাঙ্কগুলির বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেশি।

চিনের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। দুই দেশের সীমান্ত প্রায়ই সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই উত্তাপের আঁচ কখনও বাণিজ্যে এসে লাগে না। চিনের অর্থনৈতিক সঙ্কট তাই অনায়াসেই ভারতের বাণিজ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে

বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৩

ব্রিটিশদের ভারত থেকে চুরি করা ইন্দ্রমন্দিরের বেগনি নীলা

ইন্দ্রমন্দিরের দুর্ভাগ্যরত্ন

কর্মফল, বহু যুগ ধরে কমবেশী সব ধর্মের মানুষ কর্মফলে বিশ্বাস করে আসছে। আর এই কর্মফলের জন্যই কারো জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভাগ্য আবর কারো জীবনে খুলে গেছে সৌভাগ্যের দরজা। ভারতে যখন ব্রিটিশ রাজত্ব শুরু হয় তখন থেকেই তারা এদেশের ধনসম্পত্তি, বহু মূল্যবান পাথর, লুট করতে শুরু করে। এমনকি তারা বিভিন্ন মন্দির থেকেও মহামূল্যবান পাথর চুরি করে। এদের মধ্যে অন্যতম হল ভারতের কানপুরের একটি ইন্দ্রমন্দির থেকে চুরি করা একটি নীলা।

গাঢ় বেগুনী রঙের জ্বলজ্বলে আকারে মাঝারি ধরনের ভারতীয় এই পাথরটির গুণ অনেক। এই পাথরের গায়ে লেগে রয়েছে অনেক হতাশা আর মৃত্যুর গ্লানি। এই বেগনি নীলাটি দিল্লির নীলা নামে পরিচিত। তবে এর উৎপত্তি কানপুরে। শোনা যায়, কানপুরের একটি ইন্দ্রমন্দির থেকে নীলাটি চুরি গিয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১৬৬ বছর আগে। ১৮৫৭ সালে ভারতের একাংশ তখন সিপাহি বিদ্রোহে উত্তাল। ব্রিটিশ সরকার যে বিদ্রোহে প্রথম খানিকটা টলে গিয়েছিল। সেই উত্তাল রাজনৈতিক এবং সামাজিক আবহে এই বেগনি রঙের নীলাটি চুরি যায়।

ব্রিটিশ বাহিনীর ঘোড়সওয়ার সৈনিক ছিলেন ডব্লিউ ফেরিস। ১৮৫৭ সালে কানপুরের ইন্দ্রমন্দির থেকে তিনি বেগুনি নীলাটি চুরি করেছিলেন বলে শোনা যায়। মূল্যবান পাথরটি নিয়ে ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়েছিলেন ফেরিস। তার পরেই শুরু হয় নীলার লীলাখেলা। পাথরটি চুরি করার পর থেকে নাকি এক দণ্ডও শান্তি পাননি ফেরিস।

অর্থনৈতিক দিক থেকে ফেরিস এবং তাঁর পরিবারের উপর নেমে আসে চরম দুর্ভাগ্যের ছায়া। একের পর এক অর্থনৈতিক ক্ষতি তাঁদের কার্যত পথে বসিয়ে দিয়েছিল। ফেরিসের পরিবারের অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন এই সময়। আপনজনদের হারাতে হয়েছিল ওই ব্রিটিশ সৈনিকদের।অথচ তাঁর বাড়ির এক কোণে চুপিসাড়ে পড়ে ছিল এই নীলাটি।

প্রথমে এই খারাপ সময়কে ভাগ্যের ফের বলেই মনে করেছিলেন ফেরিস। হঠাৎই তাঁর নজরে পড়ে ভারত থেকে আনা ওই পাথরটির উপর। তাঁর মনে হয়, ওই পাথর আনার পর থেকেই তাঁর দুর্ভাগ্যের সূত্রপাত। বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্য এক কাছের বন্ধুকে নীলাটি কিছু দিনের জন্য ধার দেন ফেরিস। পাথরটি পাওয়ার পর পরই নাকি অজ্ঞাত কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন সেই ব্যক্তি।

ভারত থেকে আনা এই বেগনি নীলার ক্ষমতা সম্পর্কে ফেরিসের আর তখন কোনও সন্দেহ ছিল না। তিনি অবিলম্বে পাথরটি নিজের কাছ থেকে সরিয়ে ফেলেন। তবে এই পাথরের গল্প এখানেই শেষ নয়। ১৮৯০ সাল নাগাদ নীলাটি ব্রিটিশ লেখক তথা বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড হেরন-অ্যালেনের কাছে যায়। নীলার অভিশাপে দুর্ভাগ্য নেমে আসে তাঁর জীবনেও।

হেরন জানান, নীলাটি হাতে পাওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে ধারাবাহিক ভাবে খারাপ ঘটনা ঘটে চলেছে। কিছুতেই তিনি ভাগ্য অনুকূলে ফেরাতে পারছিলেন না। এক্ষেত্রেও হেরন পরীক্ষা করার জন্য এক বন্ধুকে নীলাটি দিয়েছিলেন। দেখা যায়, তাঁর সঙ্গেও একের পর এক খারাপ ঘটনা ঘটে চলেছিল। বন্ধুটি আবার হেরনের কাছে পাথরটি ফিরিয়ে দিয়ে যান। সাময়িক বিরতির পর আবার হেরনের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।

শেষে অতিষ্ঠ হয়ে হেরন নীলাটি খালের জলে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস পর সেখান থেকে বেগনি রঙের পাথরটি তুলে স্থানীয় স্বর্ণকারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি নীলার আংটি ফের ফিরিয়ে দেন হেরনের ঘরে। আবার কিছু দিন নিজের কাছে নীলাটি রাখার পর হেরন অন্য এক বন্ধুর অনুরোধে সেটি তাঁকে দিয়ে দেন। সেই বন্ধু ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী। নীলাটি দেহে ধারণ করার পর থেকে তিনি আর কখনও গান করেননি।

নীলাটিকে নিয়ে এবার তন্ত্রমন্ত্রের আশ্রয় নেন হেরন। পর পর সাতটি বাক্সে নীলাটি ভরে তিনি মন্ত্রের মাধ্যমে সেটিকে বন্দি করে রাখেন। তিনি পরিচিতদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাঁর মৃত্যুর পরেও যেন বাক্স খোলা না হয়। কিন্তু হেরনের মৃত্যুর পরেই বাক্স-সহ পাথরটি তাঁর কন্যা ব্রিটেনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে জমা দিয়ে এসেছিলেন। ১৯৪৪ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মিউজিয়ামে থাকার পর বাক্সটি খোলা হয়।

হেরন বাক্সে একটি চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন। তাতে তাঁর পরামর্শ ছিল, পাথরটি সমুদ্রে ছুড়ে ফেলে দেওয়া উচিত। তবে তা করা হয়নি। কানপুরের ইন্দ্রমন্দিরের সেই বেগনি নীলা বর্তমানে ব্রিটেনের মিউজিয়ামে শোভা পাচ্ছে। আর বর্তমানে ব্রিটেনের যা আর্থিক পরিস্থিতি তাতে বলা যেতেই পারে যে এই পাথর সমগ্র ব্রিটেনের আর্থিক সংকটের জন্য দায়ী। এখন এটাই দেখার বিষয় যে ব্রিটেন এই নীলাকে তার মূল স্থানে ফিরিয়ে দেয় কিনা?

বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩

এভাবে প্রেতাত্মা তার নিজের খুনিকে ধরিয়ে দিয়েছিল

ভূত বলতেই, সবাই ভয়ের কোন বিষয় বা আলৌকিক কোন কিছুর কথা মনে করেন, কিন্তু সাহিত্য অন্য কথা বলছে, সহিত্যে ভূত হয় ভালো প্রেমিক, কখনও বা সে মানুষকে বর দেয়, আবার নিজের খুনিকেও সে ধরিয়ে দেয়।বাস্তবেও এ রকম এক ভূতের গল্প প্রচলিত আছে, যেখানে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নায়ক হ্যামলেটের বাবার মতো নিজের খুনিকে নাকি ধরিয়ে দিয়েছিল! পরে যদিও সেই ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল।

প্রায় ২০০ বছর আগে এই ভূতের আবির্ভাব হয়েছিল। আবার এই ভূতকে কেন্দ্র করে এক অঞ্চলের মানুষ এখন উৎসব পালন করে থাকেন। কিন্তু একটি প্রশ্ন সবার কাছে এসে পড়ে - কিভাবে সম্ভব ভূত তার খুনিকে ধরিয়ে দিল? অবশ্য এই পৃথিবীতে সবই সম্ভব, আসুন সেই ঘটনার কথাই জেনে নিই এবার।

এই গল্প ফ্রেডরিক ফিশারের। ফ্রেডরিক ছিলেন ইংল্যান্ডের এক ব্যবসায়ী। একটি দোকান ছিল তাঁর। কিভাবে জানা যায় না, তিনি জাল নোট রেখেছিলেন নিজের দোকানে। ফলে তার লেনদেনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন ফ্রেডরিক।১৮১৫ সালে  তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ইংল্যান্ডের আদালত থেকে। শোনা যায় সে সময় ইংল্যান্ডের বেশীরভাগ আসামীকেই অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হত।ফ্রেডরিককেও তাই করা হয়েছিল।ফ্রেডরিক পড়াশোনা জানতেন। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে লেগে পড়েছিলেন।

১৮২২ সালে ফ্রেডরিকের ১৪ বছরের সাজার অর্ধেক মেয়াদ শেষ হলে, তিনি জামিনের আবেদন করেন। অস্ট্রেলিয়ায় কিছু জমিজমা কেনার অনুমতিও চান। প্রশাসন তাঁকে অনুমতি দিয়েছিল। এরপরেই ফ্রেডরিক সিডনির অদূরে ক্যাম্পবেলটাউনে বেশ কিছু জমিজমা কেনেন। তার মধ্যে চাষের জমিও ছিল। তিনি একটি কাগজের কলও খুলেছিলেন।

আবার ১৮২৫ সালে স্থানীয় এক কাঠের মিস্ত্রির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে ফ্রেডরিক। এরপর তাঁকে ফের জেলে পাঠানো হয়। খামার, চাষের জমি নিয়ে তিনি কি করবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়েন ফ্রেডরিক। প্রতিবেশী জর্জ ওরালের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁর জিম্মাতেই নিজের জমিজমা রেখে ফ্রেডরিক জেলে যান। তিনি জর্জকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নিও দিয়ে যান। সে বার ছমাস জেলে ছিলেন ফ্রেডরিক। জেল থেকে বেরিয়ে জর্জের কাছে নিজের জমি ফেরত চান। জর্জ সেই জমি ফেরাতে অস্বীকার করেন। দাবি করেন, ওই জমি তাঁর।

১৮২৬ সালের ১৭ই জুন উধাও হয়ে যান ফ্রেডরিক। জর্জ স্থানীয়দের জানান, আবার ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়েছেন তিনি। যাওয়ার আগে নিজের সব সম্পত্তি, জমি তাঁর কাছে বিক্রি করে দিয়ে গিয়েছেন। ফ্রেডরিকের ঘোড়াও তিনি দখল করে নেন।

এই ঘটনার ঠিক চার মাস পর ফ্রেডরিকের এক স্থানীয় বাসিন্দা জন ফার্লে অদ্ভুত এক দাবি করেন। তিনি জানান, তিনি ফ্রেডরিকে দেখেছেন। একটি সেতুর রেলিংয়ে বসেছিল ফ্রেডরিক। তিনি এ-ও দাবি করেন, ফ্রেডরিক কোনও কথা বলেনি তাঁর সঙ্গে। শুধু পিছনে মাঠের দিকে নির্দেশ করে উধাও হয়ে যান। তাঁর মতে তিনি ফ্রেডরিকের ভূত দেখেছেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন একজন মানুষ অত তাড়াতাড়ি উধাও হতে পারে না।

প্রথমে জনের দাবি সকলে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু পুলিশের মনে ক্রমে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। সেতুর ধারে ওই মাঠে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ, যে দিকে নির্দেশ করেছিল ফ্রেডরিকের ভূত। তল্লাশির পর ওই মাঠ থেকে উদ্ধার হয় ফ্রেডরিকের দেহাবশেষ। তদন্তে নামে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় জর্জকে। জর্জ স্বীকার করে নেয় খুনের কথা। আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। যদিও আদালতে ভূতের তত্ত্ব কোনও প্রমাণ হিসাবে গৃহীত হয়নি।

জর্জের শাস্তির পর একটি প্রশ্ন উঠেছিল। সত্যিই কি ভূত দেখেছিলেন জন ফার্লে। অনেকেই মনে করেন, ভূতের গল্প তৈরি করেছিলেন খোদ ফার্লে। সম্ভবত তিনি ফ্রেডরিককে খুন হতে দেখেছিলেন। কী ভাবে বিষয়টি প্রকাশ করবেন, বুঝতে পারেননি। তাই ভূতের গল্প ফেঁদেছিলেন। অন্যদিকে তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা ছিল, খুনের কোনও সাক্ষী ভূত সেজেছিলেন। তিনি হয়তো জর্জের হাতে ফ্রেডরিককে খুন হতে দেখে ফেলেছিলেন। পুলিশকে সে কথা জানানোর সাহস পাননি। তাই ভূত সেজে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।

অবশ্য সিডনির এক সাংবাদিক দাবি করেছিলেন, সেতুর ধারে আদতে কেউ ভূত দেখেননি। পুলিশি তদন্ত, বা আদালতে বিচারের নথিতে তার কোনও উল্লেখই নেই। ওই সেতুর রেলিংয়ে রক্তের দাগ দেখে পুলিশই নাকি তল্লাশি শুরু করে। তার জেরেই পাশের মাঠ থেকে ফ্রেডরিকের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়।

যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্রেডরিকের ভূতের গল্প স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে। সেই নিয়ে বহু জনশ্রুতি তৈরি হয়। সেই ভূতকে নিয়ে ক্রমে উৎসবে মাতেন ক্যাম্পবেলটাউনের বাসিন্দারা।প্রতি বছর নভেম্বর মাসে ফেস্টিভ্যাল অফ ফিশারস গোস্ট পালন করেন ক্যাম্পবেলটাউনের বাসিন্দারা। সেখানে ভূত সেজে ঘুরে বেড়ান। স্মরণ করেন ফ্রেডরিকের সেই ভূতকে। যে খালের ধারে মাঠে ফ্রেডরিকের দেহ মিলেছিল, সেই খালের নামও রাখা হয়েছিল ফিশার গোস্ট ক্রিক

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩

রাশিয়া আর বন্ধু ভারতকে ছাড় দিতে চাইছে না এই বিষয়ে

পৃথিবীর যে কোন দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে সেই দেশের পরিবহন ব্যবস্থার উপর। আর এই পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল পেট্রোল বা ডিজেলের দামের উপর। অর্থাৎ পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহনেরও খরচ বাড়বে, ফলে পণ্যেরও মূল্য বৃদ্ধি হবে। অবশ্য ভারতের একটি বিশেষ সুবিধা আছে, এদেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সুব্যবস্থা আছে। কিন্তু এই অপরিশোধিত খনিজ তেল ভারতে তেমন পাওয়া যায় না, তাই আমাদের দেশ ভারতকে এই খনিজ তেল বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

বর্তমানে ভারত এই অপরিশোধিত  তেল আমদানি, সবচেয়ে বেশী করছে রাশিয়া থেকে। অবশ্য দীর্ঘ দিন ধরেই তেলের বাণিজ্য চলছে রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল রাশিয়া। পূর্ব ইউরোপে সেই যুদ্ধ এখনো চলছে। এই যুদ্ধের পরই ভারতে রাশিয়ার তেলের বিক্রি আরও বেড়ে গিয়েছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে নানা ভাবে সমালোচিত হয়েছে পুতিনের দেশ। তবু রাশিয়া যুদ্ধ থামায়নি। এর পরেই আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দেশগুলি রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এর ফলে রাশিয়ার উপর একাধিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। আমেরিকা এবং ইউরোপের একাধিক দেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে ব্যবসায়িক ভাবে রাশিয়া ভীষণ ভাবে  ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সে সময় বহু দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক অসহযোগিতা করলেও পাশে ছিল ভারত। তারা রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি বন্ধ করেনি। ফলে রাশিয়াও অপরিশোধিত তেলের দামে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল ভারতকে।

রাশিয়া তেল বিক্রির জন্য পশ্চিমের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ৪,৯৪২ টাকার চেয়ে কম দামে ভারতকে তেল বিক্রি করছিল । ফলে তেল আমদানিতে দিল্লির খরচ আগের চেয়ে অনেকটা কমেছিল। এ কারণে ভারতও আগের তুলনায় বেশী পরিমান তেল কিনতে শুরু করে রাশিয়া থেকে। তাই গত কয়েক মাসে রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের তালিকায় প্রথম সারিতে উঠে আসে ভারত।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের কেনা তেলের পরিমাণ ছিল মোট ক্রয়ের দুই শতাংশ। বিশেষ ছাড় পাওয়ার পর যুদ্ধের পরে এই ক্রয় বেড়ে হয় ৪৪ শতাংশ।যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত দিনে ৪৪,৫০০ ব্যারেল তেল কিনত । পরে ক্রয়ের নিরিখে তারা চিনকেও ছাপিয়ে যায়।

কিন্তু সম্প্রতি এই ছাড়ের পরিমাণ আবার কমিয়ে দিতে শুরু করেছে মস্কো। ফলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে আরও বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।গত বছরের শেষ দিকে রাশিয়া থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ৩০ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ২,৪৭১ টাকা ছাড় পাচ্ছিল ভারত। সম্প্রতি তা কমে হয়েছে মাত্র ৪ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ৩২৯ টাকা।

ছাড় কমে যাওয়ার পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ভারতে তেলের পরিবহণ খরচও দিল্লীকে চিন্তায় ফেলেছে। কারণ রাশিয়া থেকে তেলের পরিবহণ খরচ বরাবরই একটু বেশী এবং অনিশ্চিত।অনেকে মনে করছেন ভারতের তেল কোম্পানিগুলির কিছু অদূরদর্শী পদক্ষেপের জন্যই বর্তমানে রাশিয়া ভারতকে বিক্রি করা তেলের উপর ছাড়ের পরিমান কমিয়ে দিচ্ছে।

ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, ভারত পেট্রোলিয়াম, মেঙ্গালুরু রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালসের মতো সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি, নায়রা এনার্জি লিমিটেডের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনে। এই সংস্থাগুলি পৃথক পৃথক ভাবে রাশিয়ার সঙ্গে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়ে যোগাযোগ করছে। তাদের মধ্যে নানাবিধ চুক্তিও হয়েছে। অবশ্য অনেকে মনে করেন এই ভারতীয় সংস্থাগুলি যদি একজোট হয়ে রাশিয়া থেকে  তেল কিনতো তাহলে ছাড়ের পরিমাণ বেশি হত।

পাশাপাশি, যুদ্ধ শুরুর পরপরই পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া যে ধাক্কা খেয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা সামলে উঠেছে। তাদের তেলের বাণিজ্যে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি।সেই কারণেও অপরিশোধিত তেলের জন্য ভারতকে আর বাড়তি ছাড় দিতে আগ্রহী নয় রাশিয়া।

ভারতের কেবল এই অঞ্চলে বর্ষাকালে মাটির উপর উঠে আসে হিরে

হিরে, বিশ্বের অন্যতম একটি বহু মূল্যবান বস্তু। তাই এর খনন কার্যও বেশ কঠিন। কিন্তু জানলে অবাক হতে হয় আমাদের এই ভারতবর্ষেই এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট  সময়ে মাটির উপরে এমন-ই উঠে আসে এই দামী বস্তুটি। অর্থাৎ কোন খননকার্য নয় শুধু মাটির উপরে একটু খোঁজা খুঁজি করলেই পাওয়া যায় হিরে।

ভারতের অন্ধপ্রদেশের অনন্তপুর এবং কুর্নুল জেলার মধ্যেকার এলাকায় মূলত এইভাবে হিরের খোঁজ মেলে।গ্রীষ্মের রুক্ষ জমিতে অঝোরে বৃষ্টি নামলেই নরম মাটি সরে গিয়ে বেরিয়ে পড়ে হিরে-সহ নানা দামি রত্ন।খরিফ মরসুম শুরুর আগে চাষের জমিতে কাজ করতে গিয়ে এভাবেই ভাগ্য বদলে গিয়েছিল অন্ধ্রপ্রদেশের এক দিনমজুরের। জমিতে কোদাল চালাতেই হাতে উঠে এসেছিল একটি হিরে। সেটি দুকোটি টাকায় বিক্রি করেছিলেন তিনি।

বর্ষা এলেই রায়লসীমা-সহ অন্ধ্রের নানা এলাকায় হিরে খোঁজার মরসুম শুরু হয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে জন্নাগিরি গ্রামে ২ কোটি ৪ লক্ষ টাকার হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন তিন জন।গত বছর একটি হিরে খুঁজে পাওয়ায় অন্ধ্রের এক কৃষিজীবীর ঘরে ঢুকেছিল ৪০ লক্ষ টাকা। আবার ৩০ ক্যারাটের হিরে মেলায় অন্য এক কৃষক ১ কোটি ৪ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে একটি হিরের জন্য ৬০ লক্ষ টাকা পান এক কৃষক। তার পরের বছর আবারও অন্ধ্রের দুই বাসিন্দার ভাগ্যবদল হয়েছিল এই হিরের মাধ্যমে। তাঁরা দুটি হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন । তবে সে দুটি যথাক্রমে পাঁচ এবং ছলক্ষ অর্থমূল্যের হলেও তাঁরা নাকি মোটে দেড় লক্ষ এবং ৫০ হাজার টাকায় তা বিক্রি করেছিলেন।

রায়লসীমা এলাকায় দামি রত্নের খোঁজ পাওয়া স্বাভাবিক বলে অনেকে মনে করেন। মধ্যযুগের বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সময় হিরে-জহরতের জন্য খ্যাতি ছিল রায়লসীমা অঞ্চলের। কথিত আছে সে আমলে শাক-সব্জি বিক্রির মতো হিরে-সহ নানা দামি রত্নের বিক্রিবাটা চলত হাম্পিতে। যদিও সময়ের সাথে এই দামি রত্ন কেনাবেচার নিয়মের বদল এসেছে। তবে দশকের পর দশক ধরে কুর্নুল জেলার তুগ্গলি, জন্নাগিরি, মদ্দিকেরা এবং অনন্তপুরের বজ্রকরুর এলাকায় বর্ষাকালে হিরের ফসল তোলেন বহু মানুষ।

অন্ধ্রপ্রদেশের নানা প্রান্ত থেকে বর্ষায় এই এলাকাগুলিতে জড়ো হন হিরেশিকারিরা। স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য কর্নাটক, তেলঙ্গানা থেকেও রায়লসীমায় ভিড় করেন অনেকে মানুষ। আবার এই ভিড়ের মধ্যে হিরে ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত থাকেন। আর তাদের সঙ্গে হিরেশিকারিদের রফা করানোর জন্য হাজির হয়ে যান মধ্যস্থতাকারীরাও।

অন্যদিকে অন্ধ্রের পর্যটন ব্যবসায়ীরাও এই হিরে খোঁজার মরসুমে ফয়দা তোলেন। কারণ, হিরের টানে বর্ষায় রায়লসীমায় ঘাঁটি গড়েন অনেকেই। তাঁদের কেউ এলাকায় তাঁবু খাঁটিয়ে রাত কাটান। অনেকে আবার আশপাশের হোটেল, লজ, অতিথিশালায় গিয়ে ওঠেন। ফলে হোটেল বা লজমালিকদের এই মরসুমে রমরমা ব্যবসা চলে।

মূলত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হিরে খোঁজতে ভিড় করেন হাজার হাজার স্থানীয় এবং ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হল হিরে খোঁজার এই মরসুমে প্রশাসনের তেমন বিশেষ কড়াকড়ি লক্ষ্য করা যায় না। দামি রত্ন হাতে এলেই ব্যবসায়ীদের কাছে তা বিক্রির করানোর চেষ্টা শুরু করেন মধ্যস্থতাকারীরা। ফলে তাঁদের পাল্লায় পড়ে অনেক সময় বহুমূল্য রত্নও বেশ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন হিরের খোঁজে আসা মানুষজন।

সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জন্নাগিরি গ্রামের এক বাসিন্দার দাবি, চাষের জমিতে একটি হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। তবে পুলিশ-প্রশাসনের থেকে হেনস্থার ভয়ে এবং নিজের সুরক্ষার কথা ভেবে সেটি দেড় কোটি টাকায় বিক্রি করেন। তাঁর সন্দেহ, ওই হিরের দাম আরও বেশি। ওই বাসিন্দা আরও দাবি করেন, হিরে বিক্রির পর পুলিশকে ৬ লক্ষ এবং রাজস্ব দফতরকে ৪ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। বাকি টাকায় তাঁর যাবতীয় ঋণ শোধ করেন তিনি।

অবশ্য বর্ষার এই মরসুমে অন্ধ্রের জমিতে হিরে কেন পাওয়া যায় তার কারণ খুঁজতে অন্ধ্রের মাটিতে কোনও গবেষণা কিন্তু আজ পর্যন্ত হয়নি। তবে একমাত্র বৃষ্টির মরসুমেই জমির উপরে উঠে আসে দামি পাথরগুলি। খনি বিশেষজ্ঞ এবং ভূতত্ত্ববিদ্‌দের মতে, এই এলাকাগুলিতে সরকারি উদ্যোগে গবেষণা চালানো উচিত।

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০২৩

এবার ভারতে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি ঘটানো সম্ভব হচ্ছে

ভারতবর্ষ, বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল একটি দেশ। বৃষ্টিহীনতায় এদেশের জনজীবন চরম সংকটের মধ্যে পড়ে। বর্ষার বৃষ্টি হলে, তবেই ভারতের রাজধানী দিল্লী এবং তার আশপাশের অঞ্চলের হাঁসফাঁস করা দূষণ, অনেকটা কমে যায়। উত্তরপ্রদেশের বহু অঞ্চলে বৃষ্টির অপেক্ষায় হা-হুতাশ করা মানুষজনের জন্য তাই এবার এসেছে সুখবর। সম্প্রতি ওই রাজ্যের বুন্দেলখণ্ডে মেঘের বীজ পুঁতেছেন ভারতের আইআইটি কানপুরের গবেষকরা।এজন্য তাঁদের ছয় বছর সময় নষ্ট করতে হয়েছে।

শুধু গ্রীষ্মেই নয়, বায়ুদূষণের জেরে কনকনে শীতেও কাবু হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। রাজধানী দিল্লী এবং তার  আশপাশের অঞ্চলে শীতের মরসুমে দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে যায়। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইআইটি কানপুরের একটি প্রকল্পে সায় দিয়েছিল কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক। সেই প্রকল্পের আওতায় মেঘের উপরে মেঘের বীজ বোনা হয়েছে। মেঘের বীজ বপনের বিষয়টি, আসলে চাষবাসের জন্য ক্ষেতে যেমন ফসলের বীজ ছড়িয়ে অথবা পুঁতে দেওয়া হয়, বৃষ্টি নামানোর জন্য খানিকটা সে ভাবেই মেঘের উপর কৃত্রিম মেঘ তৈরি করার চেষ্টা করেন গবেষকেরা।

কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটাবার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আবহাওয়ায় খানিকটা রদবদল করা হয়। সে জন্য ড্রোনের মাধ্যমে মেঘের উপর সিলভার আইয়োডাইডের মতো রাসায়নিক অথবা ড্রাই আইস কিংবা খাওয়ার নুন ছড়িয়ে দেন গবেষকেরা। যাতে সেই মেঘের স্তর গাঢ় করা যায়। তার থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বায়ুতে যে যৎসামান্য জল থাকে তা মেঘে ছড়ানো রাসায়নিকের কণার আশপাশে ঘনীভূত হয়ে স্ফটিকের মতো বরফের দানার আকার নেয়। এর থেকেই কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে যায়। এই পদ্ধতিকে নিউক্লিয়েশন বলা হয়।

মেঘের উপর রাসায়নিক পদার্থ ছড়ানোর জন্য ড্রোন ছাড়াও বিমান অথবা রকেট ব্যবহার করেন গবেষকেরা। ভারতে কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য ২৮শে জুন, বুধবার নিজেদের ক্যাম্পাসে একটি পরীক্ষা করে আইআইটি কানপুর। তাতে সাফল্যও আসে। বুধবার ক্যাম্পাস থেকে ৫,০০০ ফুট উঁচুতে বিমান উড়িয়ে মেঘের উপর রাসায়নিক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে মেঘের স্তরকে আরও ঘন করা যায়। যা বৃষ্টি আনতে অনুঘটকের কাজ করবে।

অবশ্য মেঘের বীজ বোনার এই পদ্ধতি নতুন নয়। ১৯৪৬ সালে প্রথম বার এই পদ্ধতিতে বীজ বুনেছিলেন আমেরিকার বহুজাতিক সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিক। সংস্থার তরফে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন রসায়নবিদ তথা আবহবিজ্ঞানী ভিনসেন্ট স্যাফার।ভিনসেন্টের কাজের ছবছর পর কলকাতায় এই পদ্ধতিতে কৃত্রিম মেঘ তৈরি করেছিলেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এসকে বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ৬০ বছরে কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশে এবং মহারাষ্ট্রে মূলত খরা রুখতে অথবা বাঁধের জলস্তর বৃদ্ধি করতে এই পদ্ধতিতে কৃত্রিম মেঘসঞ্চার করা হয়েছিল।

পুণের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিয়োরোলজি (IITM)-এর অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী জেআর কুলকার্ণী বলেন, ‘‘সাধারণত কৃত্রিম মেঘ তৈরি করতে প্রাকৃতিক মেঘের প্রয়োজন হয়। তবে যে মেঘগুলি উলম্ব আকৃতির হয়, তার উপরেই মেঘের বীজ বোনা যায়।’’কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টির জন্য যে ধরনের মেঘের সাহায্য নেওয়া হয়, সেগুলিকে পরিবাহী মেঘ বলা হয়। তবে বৃষ্টি নামাতে দিগন্ত বিস্তৃত স্তরীভূত মেঘের উপর এই বীজ বোনা হয় না বলে জানিয়েছেন কুলকার্ণী।

২০১৭ সালে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানোর একটি প্রকল্পের ছাড়পত্র দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। সে সময় মহোবা শহরে মেঘের বীজ বোনার কাজে রাজি হয়েছিলো চিনের গবেষকেরা।প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে চিনের গবেষকেরা এই প্রকল্পে কাজ করতে চেয়েছিলো। তবে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে এই প্রকল্পের পদ্ধতি সম্পর্কে কোনকিছু জানাতে তারা রাজী ছিল না। ফল শেষমেশ এই প্রকল্পটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর আইআইটি কানপুরের দ্বারস্থ হয় সরকার।

চিনের গবেষকরা প্রকল্প ছেড়ে বেরিয়ে গেলে ২০১৭ সালের ২৬শে জুন উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে এই প্রকল্পের সবিস্তার জানিয়ে আবেদন করে আইআইটি কানপুর। বায়ুদূষণ এবং খরার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে থাকা বুন্দেলখণ্ডে প্রকল্পের পরীক্ষায় রাজি হয়ে যায় উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার।এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মণীন্দ্র আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘‘বৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের পরীক্ষা সফল হয়েছে।’’

তবে যে প্রযুক্তিতে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানো যায়, তার পদ্ধতি বাজারে উপলব্ধ থাকলেও তা কাজে লাগাতে ছবছর সময় লাগার মূল কারণ হল- বিমান সমস্যা। আসলে গবেষকদের দাবি,যে বিমানে করে যন্ত্রপাতি নিয়ে মেঘের বীজ বোনা হত, সেই বিমানটিই জোগাড় করতে পারেননি তাঁরা।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর থেকে বিমান জোগাড়ের চেষ্টা করলেও তাতে নাকি খুব একটা সাড়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। এরপর ৫০ লক্ষ টাকার চুক্তিতে একটি বিমান দিতে রাজি হয়েছিল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল)। তবে অন্যান্য যন্ত্রপাতির জন্য নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকায় ওই প্রকল্প আটকে যায় বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আগরওয়াল।

এই প্রকল্পে বিমানের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক তথা পরিবেশ বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সচিদানন্দ ত্রিপাঠী। বিমানভাড়ার পাশাপাশি মেঘের বীজ ছড়াতে বিমানের সঙ্গে যন্ত্রপাতি লাগানোর খরচও রয়েছে। ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, বীজ বুনতে প্রতি ঘণ্টায় ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়। তিনি আরো জানিয়েছেন, ইজ়রায়েল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আমেরিকায় মেঘের বীজ থেকে বৃষ্টির ফসল পেয়েছেন গবেষকেরা।