বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩

রাশিয়া আর বন্ধু ভারতকে ছাড় দিতে চাইছে না এই বিষয়ে

পৃথিবীর যে কোন দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে সেই দেশের পরিবহন ব্যবস্থার উপর। আর এই পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল পেট্রোল বা ডিজেলের দামের উপর। অর্থাৎ পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহনেরও খরচ বাড়বে, ফলে পণ্যেরও মূল্য বৃদ্ধি হবে। অবশ্য ভারতের একটি বিশেষ সুবিধা আছে, এদেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সুব্যবস্থা আছে। কিন্তু এই অপরিশোধিত খনিজ তেল ভারতে তেমন পাওয়া যায় না, তাই আমাদের দেশ ভারতকে এই খনিজ তেল বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

বর্তমানে ভারত এই অপরিশোধিত  তেল আমদানি, সবচেয়ে বেশী করছে রাশিয়া থেকে। অবশ্য দীর্ঘ দিন ধরেই তেলের বাণিজ্য চলছে রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল রাশিয়া। পূর্ব ইউরোপে সেই যুদ্ধ এখনো চলছে। এই যুদ্ধের পরই ভারতে রাশিয়ার তেলের বিক্রি আরও বেড়ে গিয়েছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে নানা ভাবে সমালোচিত হয়েছে পুতিনের দেশ। তবু রাশিয়া যুদ্ধ থামায়নি। এর পরেই আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দেশগুলি রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এর ফলে রাশিয়ার উপর একাধিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। আমেরিকা এবং ইউরোপের একাধিক দেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে ব্যবসায়িক ভাবে রাশিয়া ভীষণ ভাবে  ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সে সময় বহু দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক অসহযোগিতা করলেও পাশে ছিল ভারত। তারা রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি বন্ধ করেনি। ফলে রাশিয়াও অপরিশোধিত তেলের দামে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল ভারতকে।

রাশিয়া তেল বিক্রির জন্য পশ্চিমের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ৪,৯৪২ টাকার চেয়ে কম দামে ভারতকে তেল বিক্রি করছিল । ফলে তেল আমদানিতে দিল্লির খরচ আগের চেয়ে অনেকটা কমেছিল। এ কারণে ভারতও আগের তুলনায় বেশী পরিমান তেল কিনতে শুরু করে রাশিয়া থেকে। তাই গত কয়েক মাসে রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের তালিকায় প্রথম সারিতে উঠে আসে ভারত।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের কেনা তেলের পরিমাণ ছিল মোট ক্রয়ের দুই শতাংশ। বিশেষ ছাড় পাওয়ার পর যুদ্ধের পরে এই ক্রয় বেড়ে হয় ৪৪ শতাংশ।যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত দিনে ৪৪,৫০০ ব্যারেল তেল কিনত । পরে ক্রয়ের নিরিখে তারা চিনকেও ছাপিয়ে যায়।

কিন্তু সম্প্রতি এই ছাড়ের পরিমাণ আবার কমিয়ে দিতে শুরু করেছে মস্কো। ফলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে আরও বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।গত বছরের শেষ দিকে রাশিয়া থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ৩০ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ২,৪৭১ টাকা ছাড় পাচ্ছিল ভারত। সম্প্রতি তা কমে হয়েছে মাত্র ৪ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ৩২৯ টাকা।

ছাড় কমে যাওয়ার পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ভারতে তেলের পরিবহণ খরচও দিল্লীকে চিন্তায় ফেলেছে। কারণ রাশিয়া থেকে তেলের পরিবহণ খরচ বরাবরই একটু বেশী এবং অনিশ্চিত।অনেকে মনে করছেন ভারতের তেল কোম্পানিগুলির কিছু অদূরদর্শী পদক্ষেপের জন্যই বর্তমানে রাশিয়া ভারতকে বিক্রি করা তেলের উপর ছাড়ের পরিমান কমিয়ে দিচ্ছে।

ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, ভারত পেট্রোলিয়াম, মেঙ্গালুরু রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালসের মতো সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি, নায়রা এনার্জি লিমিটেডের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনে। এই সংস্থাগুলি পৃথক পৃথক ভাবে রাশিয়ার সঙ্গে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়ে যোগাযোগ করছে। তাদের মধ্যে নানাবিধ চুক্তিও হয়েছে। অবশ্য অনেকে মনে করেন এই ভারতীয় সংস্থাগুলি যদি একজোট হয়ে রাশিয়া থেকে  তেল কিনতো তাহলে ছাড়ের পরিমাণ বেশি হত।

পাশাপাশি, যুদ্ধ শুরুর পরপরই পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া যে ধাক্কা খেয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা সামলে উঠেছে। তাদের তেলের বাণিজ্যে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি।সেই কারণেও অপরিশোধিত তেলের জন্য ভারতকে আর বাড়তি ছাড় দিতে আগ্রহী নয় রাশিয়া।

ভারতের কেবল এই অঞ্চলে বর্ষাকালে মাটির উপর উঠে আসে হিরে

হিরে, বিশ্বের অন্যতম একটি বহু মূল্যবান বস্তু। তাই এর খনন কার্যও বেশ কঠিন। কিন্তু জানলে অবাক হতে হয় আমাদের এই ভারতবর্ষেই এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট  সময়ে মাটির উপরে এমন-ই উঠে আসে এই দামী বস্তুটি। অর্থাৎ কোন খননকার্য নয় শুধু মাটির উপরে একটু খোঁজা খুঁজি করলেই পাওয়া যায় হিরে।

ভারতের অন্ধপ্রদেশের অনন্তপুর এবং কুর্নুল জেলার মধ্যেকার এলাকায় মূলত এইভাবে হিরের খোঁজ মেলে।গ্রীষ্মের রুক্ষ জমিতে অঝোরে বৃষ্টি নামলেই নরম মাটি সরে গিয়ে বেরিয়ে পড়ে হিরে-সহ নানা দামি রত্ন।খরিফ মরসুম শুরুর আগে চাষের জমিতে কাজ করতে গিয়ে এভাবেই ভাগ্য বদলে গিয়েছিল অন্ধ্রপ্রদেশের এক দিনমজুরের। জমিতে কোদাল চালাতেই হাতে উঠে এসেছিল একটি হিরে। সেটি দুকোটি টাকায় বিক্রি করেছিলেন তিনি।

বর্ষা এলেই রায়লসীমা-সহ অন্ধ্রের নানা এলাকায় হিরে খোঁজার মরসুম শুরু হয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে জন্নাগিরি গ্রামে ২ কোটি ৪ লক্ষ টাকার হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন তিন জন।গত বছর একটি হিরে খুঁজে পাওয়ায় অন্ধ্রের এক কৃষিজীবীর ঘরে ঢুকেছিল ৪০ লক্ষ টাকা। আবার ৩০ ক্যারাটের হিরে মেলায় অন্য এক কৃষক ১ কোটি ৪ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে একটি হিরের জন্য ৬০ লক্ষ টাকা পান এক কৃষক। তার পরের বছর আবারও অন্ধ্রের দুই বাসিন্দার ভাগ্যবদল হয়েছিল এই হিরের মাধ্যমে। তাঁরা দুটি হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন । তবে সে দুটি যথাক্রমে পাঁচ এবং ছলক্ষ অর্থমূল্যের হলেও তাঁরা নাকি মোটে দেড় লক্ষ এবং ৫০ হাজার টাকায় তা বিক্রি করেছিলেন।

রায়লসীমা এলাকায় দামি রত্নের খোঁজ পাওয়া স্বাভাবিক বলে অনেকে মনে করেন। মধ্যযুগের বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সময় হিরে-জহরতের জন্য খ্যাতি ছিল রায়লসীমা অঞ্চলের। কথিত আছে সে আমলে শাক-সব্জি বিক্রির মতো হিরে-সহ নানা দামি রত্নের বিক্রিবাটা চলত হাম্পিতে। যদিও সময়ের সাথে এই দামি রত্ন কেনাবেচার নিয়মের বদল এসেছে। তবে দশকের পর দশক ধরে কুর্নুল জেলার তুগ্গলি, জন্নাগিরি, মদ্দিকেরা এবং অনন্তপুরের বজ্রকরুর এলাকায় বর্ষাকালে হিরের ফসল তোলেন বহু মানুষ।

অন্ধ্রপ্রদেশের নানা প্রান্ত থেকে বর্ষায় এই এলাকাগুলিতে জড়ো হন হিরেশিকারিরা। স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য কর্নাটক, তেলঙ্গানা থেকেও রায়লসীমায় ভিড় করেন অনেকে মানুষ। আবার এই ভিড়ের মধ্যে হিরে ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত থাকেন। আর তাদের সঙ্গে হিরেশিকারিদের রফা করানোর জন্য হাজির হয়ে যান মধ্যস্থতাকারীরাও।

অন্যদিকে অন্ধ্রের পর্যটন ব্যবসায়ীরাও এই হিরে খোঁজার মরসুমে ফয়দা তোলেন। কারণ, হিরের টানে বর্ষায় রায়লসীমায় ঘাঁটি গড়েন অনেকেই। তাঁদের কেউ এলাকায় তাঁবু খাঁটিয়ে রাত কাটান। অনেকে আবার আশপাশের হোটেল, লজ, অতিথিশালায় গিয়ে ওঠেন। ফলে হোটেল বা লজমালিকদের এই মরসুমে রমরমা ব্যবসা চলে।

মূলত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হিরে খোঁজতে ভিড় করেন হাজার হাজার স্থানীয় এবং ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হল হিরে খোঁজার এই মরসুমে প্রশাসনের তেমন বিশেষ কড়াকড়ি লক্ষ্য করা যায় না। দামি রত্ন হাতে এলেই ব্যবসায়ীদের কাছে তা বিক্রির করানোর চেষ্টা শুরু করেন মধ্যস্থতাকারীরা। ফলে তাঁদের পাল্লায় পড়ে অনেক সময় বহুমূল্য রত্নও বেশ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন হিরের খোঁজে আসা মানুষজন।

সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জন্নাগিরি গ্রামের এক বাসিন্দার দাবি, চাষের জমিতে একটি হিরে খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। তবে পুলিশ-প্রশাসনের থেকে হেনস্থার ভয়ে এবং নিজের সুরক্ষার কথা ভেবে সেটি দেড় কোটি টাকায় বিক্রি করেন। তাঁর সন্দেহ, ওই হিরের দাম আরও বেশি। ওই বাসিন্দা আরও দাবি করেন, হিরে বিক্রির পর পুলিশকে ৬ লক্ষ এবং রাজস্ব দফতরকে ৪ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। বাকি টাকায় তাঁর যাবতীয় ঋণ শোধ করেন তিনি।

অবশ্য বর্ষার এই মরসুমে অন্ধ্রের জমিতে হিরে কেন পাওয়া যায় তার কারণ খুঁজতে অন্ধ্রের মাটিতে কোনও গবেষণা কিন্তু আজ পর্যন্ত হয়নি। তবে একমাত্র বৃষ্টির মরসুমেই জমির উপরে উঠে আসে দামি পাথরগুলি। খনি বিশেষজ্ঞ এবং ভূতত্ত্ববিদ্‌দের মতে, এই এলাকাগুলিতে সরকারি উদ্যোগে গবেষণা চালানো উচিত।

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০২৩

এবার ভারতে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি ঘটানো সম্ভব হচ্ছে

ভারতবর্ষ, বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল একটি দেশ। বৃষ্টিহীনতায় এদেশের জনজীবন চরম সংকটের মধ্যে পড়ে। বর্ষার বৃষ্টি হলে, তবেই ভারতের রাজধানী দিল্লী এবং তার আশপাশের অঞ্চলের হাঁসফাঁস করা দূষণ, অনেকটা কমে যায়। উত্তরপ্রদেশের বহু অঞ্চলে বৃষ্টির অপেক্ষায় হা-হুতাশ করা মানুষজনের জন্য তাই এবার এসেছে সুখবর। সম্প্রতি ওই রাজ্যের বুন্দেলখণ্ডে মেঘের বীজ পুঁতেছেন ভারতের আইআইটি কানপুরের গবেষকরা।এজন্য তাঁদের ছয় বছর সময় নষ্ট করতে হয়েছে।

শুধু গ্রীষ্মেই নয়, বায়ুদূষণের জেরে কনকনে শীতেও কাবু হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। রাজধানী দিল্লী এবং তার  আশপাশের অঞ্চলে শীতের মরসুমে দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে যায়। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইআইটি কানপুরের একটি প্রকল্পে সায় দিয়েছিল কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক। সেই প্রকল্পের আওতায় মেঘের উপরে মেঘের বীজ বোনা হয়েছে। মেঘের বীজ বপনের বিষয়টি, আসলে চাষবাসের জন্য ক্ষেতে যেমন ফসলের বীজ ছড়িয়ে অথবা পুঁতে দেওয়া হয়, বৃষ্টি নামানোর জন্য খানিকটা সে ভাবেই মেঘের উপর কৃত্রিম মেঘ তৈরি করার চেষ্টা করেন গবেষকেরা।

কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটাবার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আবহাওয়ায় খানিকটা রদবদল করা হয়। সে জন্য ড্রোনের মাধ্যমে মেঘের উপর সিলভার আইয়োডাইডের মতো রাসায়নিক অথবা ড্রাই আইস কিংবা খাওয়ার নুন ছড়িয়ে দেন গবেষকেরা। যাতে সেই মেঘের স্তর গাঢ় করা যায়। তার থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বায়ুতে যে যৎসামান্য জল থাকে তা মেঘে ছড়ানো রাসায়নিকের কণার আশপাশে ঘনীভূত হয়ে স্ফটিকের মতো বরফের দানার আকার নেয়। এর থেকেই কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে যায়। এই পদ্ধতিকে নিউক্লিয়েশন বলা হয়।

মেঘের উপর রাসায়নিক পদার্থ ছড়ানোর জন্য ড্রোন ছাড়াও বিমান অথবা রকেট ব্যবহার করেন গবেষকেরা। ভারতে কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য ২৮শে জুন, বুধবার নিজেদের ক্যাম্পাসে একটি পরীক্ষা করে আইআইটি কানপুর। তাতে সাফল্যও আসে। বুধবার ক্যাম্পাস থেকে ৫,০০০ ফুট উঁচুতে বিমান উড়িয়ে মেঘের উপর রাসায়নিক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে মেঘের স্তরকে আরও ঘন করা যায়। যা বৃষ্টি আনতে অনুঘটকের কাজ করবে।

অবশ্য মেঘের বীজ বোনার এই পদ্ধতি নতুন নয়। ১৯৪৬ সালে প্রথম বার এই পদ্ধতিতে বীজ বুনেছিলেন আমেরিকার বহুজাতিক সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিক। সংস্থার তরফে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন রসায়নবিদ তথা আবহবিজ্ঞানী ভিনসেন্ট স্যাফার।ভিনসেন্টের কাজের ছবছর পর কলকাতায় এই পদ্ধতিতে কৃত্রিম মেঘ তৈরি করেছিলেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এসকে বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ৬০ বছরে কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশে এবং মহারাষ্ট্রে মূলত খরা রুখতে অথবা বাঁধের জলস্তর বৃদ্ধি করতে এই পদ্ধতিতে কৃত্রিম মেঘসঞ্চার করা হয়েছিল।

পুণের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিয়োরোলজি (IITM)-এর অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী জেআর কুলকার্ণী বলেন, ‘‘সাধারণত কৃত্রিম মেঘ তৈরি করতে প্রাকৃতিক মেঘের প্রয়োজন হয়। তবে যে মেঘগুলি উলম্ব আকৃতির হয়, তার উপরেই মেঘের বীজ বোনা যায়।’’কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টির জন্য যে ধরনের মেঘের সাহায্য নেওয়া হয়, সেগুলিকে পরিবাহী মেঘ বলা হয়। তবে বৃষ্টি নামাতে দিগন্ত বিস্তৃত স্তরীভূত মেঘের উপর এই বীজ বোনা হয় না বলে জানিয়েছেন কুলকার্ণী।

২০১৭ সালে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানোর একটি প্রকল্পের ছাড়পত্র দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। সে সময় মহোবা শহরে মেঘের বীজ বোনার কাজে রাজি হয়েছিলো চিনের গবেষকেরা।প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে চিনের গবেষকেরা এই প্রকল্পে কাজ করতে চেয়েছিলো। তবে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে এই প্রকল্পের পদ্ধতি সম্পর্কে কোনকিছু জানাতে তারা রাজী ছিল না। ফল শেষমেশ এই প্রকল্পটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর আইআইটি কানপুরের দ্বারস্থ হয় সরকার।

চিনের গবেষকরা প্রকল্প ছেড়ে বেরিয়ে গেলে ২০১৭ সালের ২৬শে জুন উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে এই প্রকল্পের সবিস্তার জানিয়ে আবেদন করে আইআইটি কানপুর। বায়ুদূষণ এবং খরার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে থাকা বুন্দেলখণ্ডে প্রকল্পের পরীক্ষায় রাজি হয়ে যায় উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার।এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মণীন্দ্র আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘‘বৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের পরীক্ষা সফল হয়েছে।’’

তবে যে প্রযুক্তিতে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানো যায়, তার পদ্ধতি বাজারে উপলব্ধ থাকলেও তা কাজে লাগাতে ছবছর সময় লাগার মূল কারণ হল- বিমান সমস্যা। আসলে গবেষকদের দাবি,যে বিমানে করে যন্ত্রপাতি নিয়ে মেঘের বীজ বোনা হত, সেই বিমানটিই জোগাড় করতে পারেননি তাঁরা।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর থেকে বিমান জোগাড়ের চেষ্টা করলেও তাতে নাকি খুব একটা সাড়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। এরপর ৫০ লক্ষ টাকার চুক্তিতে একটি বিমান দিতে রাজি হয়েছিল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল)। তবে অন্যান্য যন্ত্রপাতির জন্য নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকায় ওই প্রকল্প আটকে যায় বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আগরওয়াল।

এই প্রকল্পে বিমানের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক তথা পরিবেশ বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সচিদানন্দ ত্রিপাঠী। বিমানভাড়ার পাশাপাশি মেঘের বীজ ছড়াতে বিমানের সঙ্গে যন্ত্রপাতি লাগানোর খরচও রয়েছে। ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, বীজ বুনতে প্রতি ঘণ্টায় ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়। তিনি আরো জানিয়েছেন, ইজ়রায়েল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আমেরিকায় মেঘের বীজ থেকে বৃষ্টির ফসল পেয়েছেন গবেষকেরা।

সোমবার, ১০ জুলাই, ২০২৩

বিশ্বের দীর্ঘতম রুটে চলা বাস পরিষেবা

কলকাতা শহর থেকে প্রতি দিন হাজারের বেশী বাস বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দেয়। তার বেশির ভাগটাই রাজ্যের অন্যান্য জেলা এব‌ং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন রাজ্যে যায়। কিন্তু এক সময় নাকি গঙ্গা তীরবর্তী কলকাতা থেকে সরাসরি বাস ছাড়া হত টেমস তীরবর্তী লন্ডনের উদ্দেশ্যে! অবিশ্বাস্য মনে হলেও এই ঘটনা অনেকে সত্যি বলেই মনে করেন। বিভিন্ন সংবাদমধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫০-এর দশকে চালু হয়েছিল লন্ডন থেকে কলকাতাগামী এবং কলকাতা থেকে লন্ডনগামী এই বিলাসবহুল বাস পরিষেবা।

লন্ডন থেকে কলকাতাগামী এই ডাবল ডেকার বাসটির নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যালবার্ট। যে সংস্থার তরফ থেকে এই বাস চালু করা হয়েছিল তার নাম ছিল অ্যালবার্ট ট্যুর সার্ভিস।মনে করা হয়, এটিই নাকি ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম রুটে চলা বাস পরিষেবা।

১৯৫৭ সালের ১৫ই এপ্রিল লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করেছিল অ্যালবার্ট।পরিষেবা চালু হওয়ার প্রথম দিনে নাকি ২০ জন যাত্রীকে নিয়ে লন্ডন থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল এই বাস। ১৩ জন কলকাতায় নেমে গেলেও সাত জন যাত্রী যার মধ্যে দুইজন মহিলা এবং পাঁচজন পুরুষ, আবার ওই বাসেই লন্ডনে ফিরে আসেন বলে শোনা যায়।বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, লন্ডন থেকে ছাড়া প্রথম বাসটি কলকাতায় পৌঁছেছিল ৫ জুন। অর্থাৎ, প্রায় ৫০ দিন পরে।

এছাড়া বিভিন্ন সংবাদমধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডন থেকে কলকাতা আসার টিকিটের মূল্য ছিল বর্তমান ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার টাকা। তবে কলকাতা থেকে লন্ডন ফিরে আসার টিকিটের মূল্য ছিল বর্তমান ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার টাকা।পরে অবশ্য বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে এই বাসের ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় বর্তমান ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা।

বাসটি ইংল্যান্ড থেকে বেলজিয়াম এবং সেখান থেকে পশ্চিম জার্মানি, অস্ট্রিয়া, যুগোস্লাভিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে ভারতে প্রবেশ করত। ভারতে প্রবেশের পর নয়াদিল্লি, আগরা, এলাহাবাদ, বারাণসী হয়েই নাকি সেই বাস কলকাতায় পৌঁছত। সেই সময় এই যাত্রাপথ পরিচিত ছিল হিপি রুট নামে। প্রচলিত আছে, পুরো যাত্রাপথে বাসটিকে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রপথও পেরোতে হত জাহাজে করে।

যাত্রীদের সুবিধার্থে বাসটিতে ঘুমোনোর জন্য বাঙ্ক এবং ঠান্ডা থেকে বাঁচতে হিটারের ব্যবস্থা ছিল। সমস্ত সরঞ্জাম এবং সুযোগসুবিধা-সহ একটি রান্নাঘরও ছিল বাসটির মধ্যে।প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য বাসের উপরের ডেকে আলাদা বন্দোবস্ত করা ছিল। রাস্তায় বাস থামিয়ে যাত্রীদের আমোদপ্রমোদের জন্য রেডিয়ো এবং একটি মিউজিক সিস্টেমেরও ব্যবস্থা ছিল।

ভারতে প্রবেশ করার পর যাত্রীদের বারাণসীর ঘাট, তাজমহল-সহ ভারতের একাধিক পর্যটন ক্ষেত্রও নাকি ঘুরিয়ে দেখাত অ্যালবার্ট ট্যুর সার্ভিস।যাতায়াতের পথে তেহরান, সালজবার্গ, কাবুল, ইস্তানবুল এবং ভিয়েনায় কেনাকাটার অনুমতিও দেওয়া হত যাত্রীদের।

অবশ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কয়েক বছর পরিষেবা দেওয়ার পর বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরে বাসটি ব্রিটিশ পর্যটক অ্যান্ডি স্টুয়ার্ট কিনে নেন। তিনি এটিকে একটি ভ্রাম্যমান ঘর হিসাবে পুনর্নির্মাণ করেন।পরে নাকি আবার এই পরিষেবা চালু হয়। ১৯৬৮ সালের ৮ই অক্টোবর সিডনি থেকে ভারত হয়ে লন্ডনে যাত্রা শুরু করে অ্যালবার্ট। সিডনি থেকে লন্ডনে পৌঁছাতে বাসটি প্রায় ১৩২ দিন সময় নিত।

বাসটি ইরান হয়ে ভারতে পৌঁছে মায়ানমার, তাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া হয়ে সিঙ্গাপুরে যেত। সিঙ্গাপুর থেকে, বাসটিকে জাহাজে করে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হত এবং সেখান থেকে সড়কপথে এটি সিডনির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করত বলে প্রচলিত আছে। আগের মতোই বাসে সমস্ত আধুনিক সুযোগসুবিধা রাখা ছিল।

তবে কলকাতার ইতিহাস নিয়ে চর্চাকারী হরিপদ ভৌমিক এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এ রকম একটি বাস চালু হওয়ার কথা হয়েছিল বলে শোনা যায়। কিন্তু তা শুরু হওয়ার কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই নিয়ে কোনও নথি রয়েছে বলেও জানা নেই।’’

বুধবার, ৫ জুলাই, ২০২৩

শুধু অর্থের অভাব, নয় পুষ্টির জন্যও এখানকার মানুষ মাটির রুটি খায়

উওর আমেরিকা মহাদেশ বলতে আমরা বেশ সচ্ছল অর্থ সম্পন্ন জীবনধারার কথা মনে করে থাকি, কারণ এখানে রয়েছে আমেরিকা কানাডার মতন ধনী দেশ। তা সত্ত্বেও বিশ্বের সবচয়ে গরীব দেশ রয়েছে এই উত্তর আমেরিকা মহাদেশে।

ক্যারিবিয়ান সাগরের অ্যান্টিলিস দ্বীপপুঞ্জের হিস্পানিওলা দ্বীপে, কিউবা ও জামাইকার পূর্বে, এবং বাহামা, তুর্কস ও কাইকোস দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে অবস্থিত "রিপাপলিকান অফ হাইতি" দেশকে বিশ্বের অন্যতম আমেরিকান মহাদেশের গরিব দেশ হিসাবে গণ্য করা হয়। এই হিস্পানিওলা দ্বীপের একটা অংশে হাইতি দেশ এবং বাকি  বৃহত্তম একটা অংশে রয়েছে ডমিনিকান রিপাবলিক দেশ। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হল ডমিনিকান রিপাবলিক হল একটি সচ্ছল ঠিকঠাক অর্থ সম্পন্ন দেশ। অন্যদিকে হাইতি হল বিশ্বের সবচেয়ে গরীব দেশ। সুতরাং হিস্পানিওলা দ্বীপের একটা অংশ বেশ সচ্ছল কিন্তু আর একটা অংশ রয়েছে বেশ দুর্দশায় পরিপূর্ণ। ছোট এই দেশের বাসিন্দাদের একাংশ এতটাই গরিব যে, অনেক সময় কাদা দিয়ে তৈরি রুটি খেয়েও তাঁরা দিন কাটান।

ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে এই দ্বীপরাষ্ট্রের আয়তন মাত্র ২৭,৭৫০ বর্গ কিমি। মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ২০ লক্ষের কাছাকাছি।হাইতির অন্যতম গরিব এলাকা শার্লিন ডুমাস। এই বস্তি এলাকার মানুষ দুপুরের খাবার হিসাবে সাধারণত এই বিশেষ কাদার রুটি খেয়ে থাকেন।মূল্যবৃদ্ধির কারণে হাইতির অনেক মানুষের এক বেলার খাবার জোটানোরও ক্ষমতা নেই। তাই তাঁরা পেট ভরানোর তাগিদে এই রুটিকেই অবলম্বন করে নিয়েছেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যারিবিয়ান সাগরের দ্বীপরাষ্ট্রগুলিতে গত দুই দশকে খাবারের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৭ সালে হওয়া ঘূর্ণিঝড় এবং ২০১০ সালে হওয়া ভূমিকম্পের কারণে রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে হাইতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে এখনও ঠিক ভাবে বেরিয়ে আসতে পারেনি এই দেশ। আর সেই কারণে এখনও নাকি সে দেশের বহু মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কাদার তৈরি রুটির উপর নির্ভর করে রয়েছেন।

তবে শুনলে অবাক হতে হয় যে, কাদার রুটি তৈরি করতে যে মাটি লাগে, তা নিয়েও রীতিমতো ব্যবসা ফেঁদে বসেছে হাইতির এক দল মানুষ। হাইতিতে যে কাদা দিয়ে রুটি তৈরি হয়, তা নিয়ে আসা হয় হিনচে শহর থেকে। বিক্রি হয় লা স্যালাইন বাজারে। বাজারের শাকসব্জি এবং মাংসের পাশাপাশি বিক্রি হয় এই মাটিও।

প্রথমে বাজার থেকে সেই শুকনো মাটি কিনে আনা হয়। মাটি গুঁড়ো করে সেখান থেকে বাদ দেওয়া হয় নুড়ি-পাথর। এরপর সেই মাটিকে আরও মিহি করে গুঁড়ো করে তা জলে ভিজিয়ে কাদার মণ্ড তৈরি হয়। এরপর কাদার ওই মণ্ডে নুন এবং মশলা মিশিয়ে রুটির মতো গোল করে বেলে নেওয়া হয়। গোলাকৃতি কাদার রুটি তৈরি হয়ে গেলে তা শুকোনোর জন্য রোদে ফেলে রাখা হয়।

কাদার রুটি রোদে দু-তিন দিন শুকিয়ে নেওয়ার পর তা খাওয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়। অনেক সময় তা বাজারেও বিক্রি করা হয়। তবে খুবই সামান্য মূল্যে।হাইতির বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র কম দামের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের জন্যও তাঁরা কাদার রুটি খেতে পছন্দ করেন।

হাইতির অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং শিশুদের জন্য কাদার রুটি অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, কাদার রুটি অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং শিশুদের শরীরে অ্যান্টাসিড এবং ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূর্ণ করে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা এই রুটি খেলে সন্তানরা স্বাস্থ্যবান হবে বলেও প্রচলিত রয়েছে সে দেশে।

যদিও চিকিৎসকদের মতে, হাইতিবাসীদের এই ধারণা ভ্রান্ত। কাদার রুটি খেলে উপকারের থেকে অপকার বেশি বলেই মত চিকিৎসকদের।চিকিৎসকদের মতে, দিনের পর দিন কাদার রুটি খেলে দাঁতের ক্ষয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ব্যথা-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজির অধ্যাপক জেরাল্ড এন ক্যালাহানের মতে, কাদার রুটিতে মারাত্মক পরজীবী এবং বিষাক্ত পদার্থ থাকতে পারে। তবে এটি গর্ভের ভ্রূণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে দাবি করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্বাদ এই রুটি খাওয়ার পরই তা মুখের সমস্ত আর্দ্রতা শুষে নেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই স্বাদ অনুভব করা যায়।

মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০২৩

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ডাইনিং টেবিল রয়েছে ভারতে

 

১৮৯৩ সালে হায়দরাবাদের ঠিক মাঝখানে ধীরে ধীরে একটি রাজপ্রাসাদ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। গগন চুম্বী এই প্রাসাদের নাম ফলকনামা প্রাসাদ। আসলে ফলকনামা শব্দের অর্থ আকাশের মতো। নবাব বিকার-উল-উমরা ১৮৯৩ সালে এই প্রাসাদ তৈরি করেছিলেন। নবাব যখন ইউরোপে ঘুরতে গিয়েছিলেন তখন সেখানকার রাজপ্রাসাদগুলির আদলে ভারতেও অমন একটি প্রাসাদ নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন।তারপর তিনি দেশে ফিরে হায়দরাবাদ শহরের ঠিক মাঝখানে নির্মাণ করে ফেলেন ফলকনামা প্রাসাদ। সৌন্দর্যের দিক থেকে এই প্রাসাদ তাকলাগানো।

৩২ একর জমির উপর বানানো ফলকনামা প্রাসাদ নিজের শখে তৈরি করেছিলেন নবাব বিকার-উল-উমরা। সেই সময় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করে এই প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন তিনি। তখনকার দিনে ৪০ লক্ষ টাকা মানে বর্তমানে কত কোটি টাকার সমান, তা কল্পনাতীত। ফলকনামা প্রাসাদ তৈরি করার পর দেউলিয়া হয়ে যান নবাব বিকার-উল-উমরা। হায়দরাবাদের ষষ্ঠ নিজাম মির মেহবুব আলি খান যখন এই প্রাসাদে সময় কাটাতে আসেন তখন প্রাসাদের কারুকার্য দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। নবাবকে আর্থিক সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন নিজাম।

অধিকাংশ মানুষের অবশ্য দাবি, ফলকনামা প্রাসাদ ভারতের পুরানো সংসদ ভবনের চেয়েও প্রায় পাঁচ গুণ বড়। বৃশ্চিক অর্থাৎ বিচ্ছুর আকারে তৈরি এই প্রাসাদ এক সময় অতিথিনিবাস হিসাবেও ব্যবহৃত হত। তবে, কারুকার্য এবং নির্মাণের দিক থেকে যতই নজরকাড়া হোক না কেন, ফলকনামা প্রাসাদের মূল আকর্ষণ কিন্তু ভিন্ন। এই প্রাসাদের অন্দরমহলে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ডাইনিং টেবিল।

এই ডাইনিং টেবিলটি কারুকার্যের দিক থেকে যেমন অনন্য, ঠিক তেমনই তার আকারের জন্যও বিশ্বজোড়া নজির গড়েছে ফলকনামা প্রাসাদ। ফলকনামা প্রাসাদের অন্দরে থাকা এই ডাইনিং টেবিলটি ৮০ ফুট লম্বা। টেবিলটি মোট সাতটি টুকরোয় বিভক্ত। একসঙ্গে এই টেবিলে মোট ১০১ জন অতিথি বসে খেতে পারেন।  প্রাসাদের নির্মাণের সময় নাকি রাজপরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে বসে খাওয়ার নিয়ম ছিল।একসঙ্গে এতজন টেবিলে বসলে কথা বলার অসুবিধা হতে পারে।সেই সমস্যা সমাধানের জন্য এই টেবিলে বসার ব্যবস্থা এমন ভাবে করা হয়েছে যে, টেবিলের যে কোনও প্রান্তে বসে নিচু স্বরে কথা বললেও তা দূর প্রান্তের আসনে বসা ব্যক্তি শুনতে পাবেন।

এই টেবিলের উপরে দেওয়াল থেকে ঝুলতে দেখা যায় নবাবি নকশা করা ঝাড়বাতি। ডাইনিং রুমের দেওয়ালে বিভিন্ন চিত্র আঁকা রয়েছে। সেই চিত্রগুলি যথেষ্ট অর্থবহ এবং খাবারের সঙ্গে সম্পর্কিত।দেওয়ালের গায়ে আঁকা ওই চিত্রগুলি আসলে এক একটি খাবারের ছবি। অর্থাৎ সারা ঘর জুড়ে এক একটি খাবারের চিত্র দিয়ে দেওয়ালের মধ্যেই অভিনব তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, নবাবরা যখন খেতে বসতেন, তখন দেওয়ালের ওই আঁকাগুলির দিকে আঙুল দেখাতেন। অঙ্গুলিনির্দেশ করা চিত্র অনুযায়ী নবাবকে সেই খাবার পরিবেশন করা হত।

এছাড়া ফলকনামা প্রাসাদের ডাইনিং রুমে মানব পরিচালিত পাইপ অরগ্যান রয়েছে। ইতিহাসবিদেরা জানিয়েছেন যে, সারা বিশ্বে মানব পরিচালিত পাইপ অরগ্যান মাত্র দুটি রয়েছে। তার মধ্যে একটি রয়েছে ফলকনামা প্রাসাদের অন্দরমহলে।

শুধু দীর্ঘতম ডাইনিং টেবিলই নয়, অতিথিদের মনোরঞ্জনের জন্য ফলকনামা প্রাসাদের ভিতর রয়েছে একটি বিশাল গ্রন্থাগার। নবাব বিকার-উল-উমরা যখন ইউরোপ ভ্রমণে গিয়েছিলেন, তখন উইন্ডসর প্রাসাদের গ্রন্থাগারটি দেখে তিনি এতই মুগ্ধ হন যে, তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ফলকনামা প্রাসাদে অনুরূপ একটি গ্রন্থাগার নির্মাণ করেন। এই গ্রন্থাগারে প্রায় ৬ হাজার বই রাখা রয়েছে। শোনা যায়, ১৮০১ সালে প্রকাশিত বহু বইও রয়েছে এখানে। যে নবাবেরা এই প্রাসাদে ঘুরতে এসেছিলেন, তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতাও কাগজেকলমে লিখে রেখে গিয়েছিলেন। সেই প্রাচীন নথিও সংগ্রহ করা রয়েছে গ্রন্থাগারের ভিতর।

আবার এই গ্রন্থাগারের কাছেই একটি ঘরে রয়েছে বিলিয়ার্ড খেলার বন্দোবস্ত। নবাব বিকার-উল-উমরা যখন বাকিংহাংম প্রাসাদে ঘুরতে গিয়েছিলেন তখন বিশালাকার বিলিয়ার্ড টেবিল দেখেছিলেন। তারই অনুপ্রেরণায় তিনি ফলকনামা প্রাসাদের ভিতরেও হুবহু বাকিংহাম প্রাসাদের মতোই বিলিয়ার্ড খেলার বন্দোবস্ত করেন।

২০০০ সালে তাজ হোটেল এই প্রাসাদের সংস্কার এবং পুনরূদ্ধার কার্য শুরু করে। সংস্কার করা প্রাসাদটি হোটেল হিসাবে অথিতিদের জন্য ২০১০ সালে নভেম্বর মাসে খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাজ হোটেল গ্রুপের কাছে এই হোটেলের পঞ্চাশ বছরের লিস নেওয়া রয়েছে।

শনিবার, ১ জুলাই, ২০২৩

জুলাই মাসের কোন দিন কি দিবস পালিত হয়?

 

বিভিন্ন ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য ভারত এবং ইউনেসকো দ্বারা জারি করা জুলাই মাসে কোন দিন কি দিবস পালন করা হয় তাই এখানে তুলে ধরা হলো-

১লা জুলাই :-

আন্তর্জাতিক কৌতুক দিবস

জাতীয় চিকিৎসক দিবস

পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক এবং দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের স্মরণে ১লা জুলাই সারা ভারত জুড়ে জাতীয় চিকিৎসক দিবস পালিত হয়। তিনি ১লা জুলাই, ১৮৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬২ সালে একই তারিখে মারা যান।

ভারতের পণ্য ও সেবা কর দিবস {অর্থাৎ gst}

ভারতে পণ্য ও সেবা কর বাস্তবায়নের বার্ষিকী উপলক্ষে GST দিবস পালিত হয়। পণ্য ও সেবা কর ১লা জুলাই ২০১৭ সালে কার্যকর করা হয়েছিল, তারপর থেকে প্রতি বছর ১লা জুলাই জিএসটি দিবস  উদযাপন করা হয়।

সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক দিবস

১৯৪৯ সালে ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়া (ICAI) এর প্রতিষ্ঠার স্মরণে সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক অর্থাৎ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস দিবস পালিত হয়। ভারতের পার্লামেন্ট ১৯৪৯ সালের সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক আইন পাস করে। এর ফলে ICAI প্রতিষ্ঠিত হয়।

২রা জুলাই :-

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস ১৯৯৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (AIPS) দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি AIPS-এর সমিতি গঠনের জন্যও উদযাপন করা হয়। এই দিনটি বিভিন্ন ক্রীড়া মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতা শিল্পের কৃতিত্বকে মহিমান্বিত করার জন্য পালন করা হয়।

বিশ্ব অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু দিবস {অর্থাৎ UFO}

১৯৪৭ সালের ২রা জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  রোসওয়েলে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনাকে স্থানীয়রা UFO দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করে থাকে। যদিও তৎকালীন আমেরিকান সরকার তা মানতে চাইনি। এই ঘটনাকে স্মরণ করে ২০০১ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে UFO গবেষক হাক্তান আকদোগান প্রথম বিশ্ব UFO দিবস পালন করেন। এর পিছনে উদ্দেশ্য হল সব দেশ যেন UFO সম্পর্কে তাদের তথ্য একে অপরের সাথে বিনিময় করে।

৩রা জুলাই :-

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ বর্জন দিবস

৪ঠা জুলাই :-

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস

১৭৭৬ সালের ৪ঠা জুলাই পেনসিলভেনিয়া প্রাদেশিক আইনসভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে গ্রেট ব্রিটেনের সঙ্গে যুদ্ধরত ১৩ টি মার্কিন উপনিবেশ নিজেদের ব্রিটিশ শাসনের বাইরে স্বাধীন ও সার্বভৌম হিসেবে ঘোষণা করে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নামে নতুন রাষ্ট্র গঠন করে।

৬ই জুলাই :-

বিশ্ব জুনোসিস দিবস

জুনোসিস হল প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রামিত এক ধরনের রোগ। এমন অনেক রোগজীবাণু রয়েছে যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়। তারপরে, এটি এক মানব দেহ থেকে অন্য মানব দেহে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত, এটি মহামারী আকার ধারণ করে। এর অন্যতম প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল করোনাভাইরাস।

ফরাসি জীববিজ্ঞানী লুই পাস্তুর সফলভাবে ১৮৮৫ সালের ৬ই জুলাই একটি জুনোটিক রোগের বিরুদ্ধে প্রথম টিকা আবিষ্কার করেছিলেন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রক হিসাবে, এই কৃতিত্বের প্রতি সম্মান জানাতে বিশ্ব জুনোসেস দিবস উদযাপিত হয়।

৭ই জুলাই :-

বিশ্ব চকোলেট দিবস

তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরও ১০ বার চকলেট দিবস পালন করা হয়ে থাকে

বিশ্বব্যাপী ক্ষমা দিবস

১৯৯৪ সালে খ্রিস্টীয় রাষ্ট্রদূতদের খ্রিস্টান দূতাবাস (CECA) দ্বারা সূচিত হয়েছিল বিশ্ব ক্ষমা দিবস। ক্ষমা দিবসের পিছনের ধারণাটি অতীতের অন্যায়ের জন্য মাফ করা এবং ক্ষমা চাওয়ার কাজকে প্রচার করা। এটি ক্ষমার নিরাময় শক্তির একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে এবং ব্যক্তিদের বিরক্তি, রাগ ত্যাগ করতে উৎসাহিত করে। যদিও বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্বে, ক্ষমার অর্থ বিভিন্ন লোকের কাছে বিভিন্ন জিনিস।

বিশ্ব কিসোয়ালী ভাষা দিবস

১৯৫০-এর দশকে জাতিসংঘের রেডিওতে কিসোয়ালি ভাষা ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং আজ কিসোয়ালি হচ্ছে জাতিসংঘের বিশ্ব যোগাযোগ অধিদপ্তরের মধ্যে একমাত্র আফ্রিকান ভাষা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, ২০১৭ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর একটি রেজোলিউশনের মাধ্যমে এই দিবসটি পালনের প্রস্তাব গ্রহণ করে

১০ই জুলাই :-

জাতীয় মৎস্য চাষি দিবস

এই বার্ষিক অনুষ্ঠানটি ১৯৫৭ সালের ১০ই জুলাই ওড়িশার আঙ্গুলে অধ্যাপক ড. হীরালাল চৌধুরী এবং তাঁর সহকর্মী ড. আলিকুন্হি পোনামাছকে সফলভাবে প্রজনন করাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁদের এই অবদানের জন্য তাঁদের স্মরণে এই দিনটি উদযাপিত হয়। দিনটি জাতীয় মৎস্য উন্নয়ন বোর্ড (NFDB) প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবেও পালিত হয়।

১১ই জুলাই :-

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

১২ই জুলাই :-

বিশ্ব কাগজের ব্যাগ দিবস

আন্তর্জাতিক মালালা দিবস

তরুণ কর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের জন্মদিন উপলক্ষে ১২ই জুলাই আন্তর্জাতিক মালালা দিবস পালিত হয়। ১২ই জুলাই ২০১৩ তারিখে, ১৬ বছর বয়সী পাকিস্তানি কর্মী সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সদর দপ্তরে একটি বক্তৃতা দেন। ১৭ বছর বয়সে, ইউসুফজাই ২০১৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সর্বকনিষ্ঠ প্রাপক ছিলেন।

১৫ই জুলাই :-

বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস

২০১৪ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, কর্মসংস্থানের জন্য তরুণদের দক্ষতার সাথে সুসজ্জিত করার কৌশলগত গুরুত্ব উদযাপন করার জন্য ১৫ই জুলাইকে বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।

জাতীয় প্লাস্টিক সার্জারি দিবস

জাতীয় প্লাস্টিক সার্জারি দিবসের ধারণাটি ২০১১ সালে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্লাস্টিক সার্জনস অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি ডঃ এস রাজা সাবাপাথি প্রথম প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি দিবসটি উদযাপনের ধারণাটি তৈরি করেছিলেন এবং ১৫ই জুলাইকে উপযুক্ত তারিখ হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন।

১৭ই জুলাই :-

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের জন্য বিশ্ব দিবস

আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের উদীয়মান ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ১৭ই জুলাই সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস পালিত হয়। ১৭ই জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গঠনের চুক্তি গ্রহণের তারিখকে স্মরণ করে রাখার জন্য এদিনটিকে গ্রহণ করা হয়।

২০শে জুলাই :-

বিশ্ব দাবা দিবস

১৯২৪ সালের ২০শে জুলাই ফ্রান্সর রাজধানী প্যারিস শহরে বিশ্ব দাবা সংস্থা গঠন করা হয়েছিল। এদিনের স্মৃতি হিসাবে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ব দাবা দিবস পালন করা হয়।

আন্তর্জাতিক চাঁদ দিবস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো ১১ অভিযানের দ্বারা ২০শে জুলাই, ১৯৬৯ সালে চাঁদে প্রথম মানব অবতরণকে স্মরণ করে রাখার জন্য দিনটি নির্বাচন করা হয়েছিল। ৯ই ডিসেম্বর ২০২১ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতি বছর ২০শে জুলাই আন্তর্জাতিক চাঁদ দিবস হিসাবে পালিত হবে বলে প্রস্তাব গৃহীত হয়।

২২শে জুলাই :-

বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস

বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস ২০১৪ সালে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ নিউরোলজি দ্বারা প্রতি বছর স্নায়বিক স্বাস্থ্যের একটি ভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা আনার উপায় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ নিউরোলজি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৭ সালের ২২ শে জুলাই, তাকে স্মরণের জন্যই এই দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়।

২৩শে জুলাই :-

জাতীয় সম্প্রচার দিবস

১৯২৭ সালের এই দিনে দেশে প্রথম রেডিও সম্প্রচারের স্মরণে প্রতি বছর ২৩শে জুলাই ভারতে জাতীয় সম্প্রচার দিবস পালিত হয়। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি (BIBC) বোম্বেতে ২৩শে জুলাই, ১৯২৭ সালে সালে রেডিও সম্প্রচার পরিষেবা শুরু করে। যা ১৯৩৬ সালের ৮ই জুন, ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার পরিষেবা অল ইন্ডিয়া রেডিওতে পরিণত হয়।

২৪শে জুলাই :-

জাতীয় আয়কর দিবস

দেশে আয়করের বিধান প্রবর্তনের স্মরণে আয়কর বিভাগ প্রতি বছর 24 জুলাইকে আয়কর দিবস হিসাবে পালন করে। ১৮৬০ সালের ২৪ জুলাই স্যার জেমস উইলসন ভারতে প্রথমবার আয়কর চালু করেন।

২৬শে জুলাই :-

কার্গিল বিজয় দিবস

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়লাভ করার সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে চিহ্নিত করতে প্রতি বছর ২৬ জুলাই ভারতে কার্গিল বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়।

ম্যানগ্রোভ অরণ্য সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক দিবস

২৮শে জুলাই :-

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস

বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

২৯শে জুলাই :-

আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস

সমগ্র বিশ্বে বাঘের সংরক্ষণের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৯শে জুলাই এটি পালন করা হয়। ২০১০ সালে সেণ্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ব্যাঘ্র অভিবর্তনে এই দিবসের সূচনা হয়।

৩০শে জুলাই :-

আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস

৩১শে জুলাই :-

বিশ্ব বনরক্ষী দিবস

১৯৯২ সালের ৩১শে জুলাই আন্তর্জাতিক রেঞ্জার ফেডারেশন (IRF) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দায়িত্ব পালনের সময় নিহত বা আহত রেঞ্জারদের স্মরণে এবং বিশ্বের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার্থে বনরক্ষীরা যে ভূমিকা পালন করে তা উদযাপন করার জন্য ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রেঞ্জার ফেডারেশন বিশ্ব বনরক্ষী দিবস পালন করা শুরু করে।