বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বুধবার, ৩১ মে, ২০২৩

পৃথিবীতে পাওয়া এই পাথরগুলি কি ভিন্‌গ্রহী'দের সমাধির ফলক?

পৃথিবীতে আবিষ্কৃত একটি পাথরকে, তাকে মনে করা হচ্ছে ভিন্‌গ্রহী প্রণীদের সমাধির পাথর। পাথরটি দেখতে অনেকটা গোলাকার চাকতির মতো। মাঝে রয়েছে আরো একটি গোলাকার গর্ত। অনেকটা দেখতে ঠিক রেকর্ড প্লেয়ারের মতো। এদের বলা হয় ড্রোপা পাথর। ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন, এই ড্রোপা পাথরের বয়স ১২ হাজার বছর।

১৯৩৮ সাল নাগাদ প্রায় ৭১৬টি এই পাথরের সন্ধান পাওয়া যায়। এগুলির ব্যাস প্রায় এক ফুট।চিন-তিব্বত সীমান্তে বাইয়ান-কারা-উলা পর্বতের পাদদেশে দাঁড়িয়ে ছিল বেশ কয়েকটি গুহা। সেই গুহার মধ্যে ছিল অসংখ্য কক্ষ। আর সেই কক্ষের প্রতিটিতে ছিল একটি করে সমাধি। চিনা অধ্যাপক চি-পু-তেই এই সমাধিগুলির সন্ধান পেয়েছিলেন। পর পর সারি বেঁধে শোওয়ানো ছিল সে সব সমাধি। আর সমাধির ভিতর অদ্ভুত কিছু কঙ্কাল দেখেছিলেন তিনি। কঙ্কালের উচ্চতা ৪ ফুট। মাথাটা অদ্ভুত রকমের বড়।প্রথম বার দেখে চিনা অধ্যাপকের মনে হয়েছিল, সেগুলি বাচ্চাদের কঙ্কাল। পরে বুঝেছিলেন, সেগুলি প্রাপ্তবয়স্কদের।

আর এই সব সমাধির পাশে রাখা ছিল গোলাকার পাথরের চাকতি। চিনা অধ্যাপক মনে করেন, সমাধির ফলক হিসাবে সেই গোলাকার পাথরের চাকতিগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই পাথরের চাকতিগুলিতে হেলমেট পরা মানুষের মাথা খোদাই করা ছিল। তা ছাড়া চাঁদ, সূর্য, তারা, পৃথিবীও খোদাই করা ছিল। আর পাথরের চাকতিগুলি অর্ধেক মাটিতে পোঁতা ছিল।

পাথরের চাকতির গায়ে খোদাই করা জিনিসগুলি দেখে ভারী অবাক হন ইতিহাসবিদেরা। গুহার কার্বন ডেটিং করিয়ে বোঝা যায় যে, সেগুলি ১২ বাজার বছরের পুরনো। এ বার অনেকেই প্রশ্ন করেন, অত বছর আগে চাঁদ, সূর্য, তারার কথা কী ভাবে জানালেন মানুষ? তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে ঢের।

অবশ্য এই অনুসন্ধানের পর দেশে ফিরে অধ্যাপক চি-পু-তেই একটি অদ্ভুত রিপোর্ট প্রকাশ করেন। তাতে তিনি দাবি করেন, গুহায় মেলা ওই কঙ্কাল আসলে কোনও গোরিলা বা হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দাদের। আর এই পাথরের চাকতিগুলিকে নিয়ে তিনি দাবি করেন, সেগুলি ১২ হাজার বছরের পুরনো নয়। অনেক পরে কেউ সেগুলি ওই কবরে বসিয়ে দেন। এই রিপোর্টের জন্য কটাক্ষের মুখে পড়েন চিনা অধ্যাপক।

এর বেশ কয়েক বছর পর এই ড্রোপা পাথর নিয়ে গবেষণা শুরু করেন সুম উম নুই। পাহাড়ের গুহা থেকে ৭১৬টি পাথরের চাকতি তিনি তুলে নিয়ে আসেন গবেষণার জন্য। দেখেন, ওই পাথরের গায়ে খোদাই করা রয়েছে লিপি।

দীর্ঘকাল ধরে ড্রোপার গায়ে খোদাই করা লিপির পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করে যান সুম। তবে লিপির বেশীরভাগ অংশই তিনি বুঝতে পারেননি। গবেষক সুমের দাবি, ওই পাথরে আসলে ড্রোপাদের কথা লেখা রয়েছে। ড্রোপারা নাকি ভিন্‌গ্রহী।তাঁর মতে হাজার হাজার বছর আগে ওই ড্রোপাদের একটি উড়ান নাকি পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। তাতে মৃত্যু হয়েছিল কয়েক জনের। বাকিরা ভয়ে লুকিয়ে ছিলেন গুহায়।ওই এলাকায় তখন বসবাস করত হাম নামে এক জনজাতি। ক্রমে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে ড্রোপাদের। গবেষক সুমের দাবি, ভিন্‌গ্রহীদের উড়ানটি কোনও দিন আর সারিয়ে তুলতে পারেনি ড্রোপারা। তাই আর ফেরাও হয়নি। অবশ্য সুমের এই গবেষণাপত্র ছাপতে দেয়নি বেজিং বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁকে নিয়ে কৌতুক করা হয়। ভেঙে পড়েন সুম। তিনি চিন ছেড়ে জাপানে চলে যান। সেখানেই বাকি জীবন কাটিয়েছিলেন।

এরপর রাশিয়াও এই ড্রোপা পাথর নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। চিনের অনুমতি নিয়ে কিছু পাথর দেশে নিয়ে আসে তারা। গবেষণায় দেখা যায়, ওই পাথরে প্রচুর পরিমাণে কোবাল্ট রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে অন্য ধাতু।রাশিয়ার গবেষকেরা দাবি করেন, ওই পাথর বিদ্যুৎ পরিবহণে সক্ষম। তার মধ্যে দিয়ে অদ্ভুত ভাবে প্রবাহিত হচ্ছে বিদ্যুৎ, যা থেকে নাকি তড়িদাহত হন কয়েক জন। রাশিয়ার এক জন গবেষক দাবি করেন, এই পাথরগুলি হাজার হাজার বছরের পুরনো।

পরে অস্ট্রিয়ার এক গবেষক এই ড্রোপা পাথর নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। চিনের যে জাদুঘরে ওই পাথর রাখা ছিল, তার ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আর্নস্ট ওয়েগেরার। তাঁকে ড্রোপা পাথর দিতে রাজি হন জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যে দিন দেওয়ার কথা, তার আগে নিখোঁজ হয়ে যান ম্যানেজার। সঙ্গে সেই পাথর দুটিও।

বহু গবেষকই ড্রোপা পাথরের নেপথ্যে ভিন্‌গ্রহী তত্ত্ব মানতে চাননি। তাঁদের প্রশ্ন, ড্রোপার লিপির যে পাঠোদ্ধার করা হয়েছিল, তা যে সঠিক, কী ভাবে বোঝা যাবে?অনেকে আবার মনে করেন, গুহার ভিতর যে কঙ্কাল ছিল, তা কোনও ভিন্‌গ্রহীর নয়। বরং স্থানীয়দেরই। সে সময় ওই অঞ্চলের মানুষের আকৃতি ওই রকমই ছিল।তবে অত হাজার বছর আগে সত্যিই কি নেমেছিল ভিন্‌গ্রহীরা? নাকি সবটাই কল্পনা? কী লেখা আছে ড্রোপা পাথরের গায়ে? আজও তার সদুত্তর মেলেনি।

শনিবার, ২৭ মে, ২০২৩

নতুন সংসদ ভবনে কি থাকছে সমস্ত রাজ্যগুলি থেকে?

ব্রিটিশ গোলামির চিহ্ন বর্তমান সংসদ ভবনকে স্মৃতিতে রেখে আধুনিক ভারত ২৮শে মে ২০২৩, রবিবার পেতে চলেছে নিজেস্ব নতুন সংসদ ভবন। নতুন সংসদ ভবন নির্মাণে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের প্রখ্যাত বিভিন্ন শিল্পকর্মের ব্যবহার করা হয়েছে। এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত-এর ধারণাকে তুলে ধরতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর।

এবারে দেখে নেওয়া যাক কোন রাজ্যের কোন প্রখ্যাত উপকরণে তৈরি হয়েছে নতুন সংসদ ভবন।

রাজস্থানের সরমথুরা থেকে লাল এবং সাদা বেলেপাথর এনে তৈরি হয়েছে সংসদ ভবনের একাংশ। লাল কেল্লা এবং হুমায়ুনের সমাধি তৈরিতে ব্যবহৃত বেলেপাথরও সরমথুরা থেকেই আনা।

ভবনটিতে ব্যবহৃত সেগুনকাঠ আনা হয়েছে মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে। সংসদের গালিচাগুলি উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর থেকে আনানো।

নতুন সংসদ ভবন তৈরিতে ব্যবহৃত কেশরিয়া সবুজ মার্বেল পাথর উদয়পুর, লাল গ্রানাইট পাথর অজমেরের লাখা এবং সাদা মার্বেল পাথর রাজস্থানের আমবাজি থেকে আনা।ভবনের ভিতরে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র তৈরি হয়েছে বাণিজ্যনগরী মুম্বইতে।

নতুন সংসদ ভবনের উচ্চ এবং নিম্নকক্ষ অর্থাৎ রাজ্যসভা এবং লোকসভা-এর ফলস সিলিং তৈরিতে ব্যবহৃত ইস্পাতের কাঠামো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দমন এবং দিউ থেকে আনানো।

ভবনের পাথরের জালির কাজগুলি রাজস্থানের রাজনগর এবং উত্তরপ্রদেশের নয়ডা থেকে আনানো হয়েছে।

নতুন সংসদ ভবনে থাকা অশোকস্তম্ভে ব্যবহৃত উপকরণগুলি মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ এবং রাজস্থানের জয়পুর থেকে আনা হয়েছে।

লোকসভা এবং রাজ্যসভার বিশাল দেওয়াল এবং সংসদ ভবনের বাইরে থাকা অশোকচক্র মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে তৈরি করা।

ভবনের অন্দরে ব্যবহৃত পাথরের খোদাইয়ের কাজ করেছেন রাজস্থানের আবু রোড এবং উদয়পুরের ভাস্কররা। নতুন সংসদ ভবন তৈরিতে ব্যবহৃত অনেক পাথর রাজস্থানের কোতপুতালি থেকেও আনা হয়েছিল।

নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের জন্য যে কালো বালি বা এম-বালি নামেও যা পরিচিত, তা আনা হয়েছিল হরিয়ানার চরখি দাদরি থেকে। নির্মাণে ব্যবহৃত ইট হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে আনানো হয়েছিল।

সংসদে ভবনের পিতলের কারুকার্যের জন্য ব্যবহৃত পিতল আনা হয়েছিল গুজরাতের আমদাবাদ থেকে।

যদিও পশ্চিমবঙ্গ-সহ আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যের কোনও উপকরণ নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের কাজে লাগেনি বলেই সূত্রের খবর।

নতুন লোকসভা হলে মোট আসনের সংখ্যা থাকছে ৮৮৮টি। যৌথ অধিবেশন চলাকালীন ওই হলে ১,২৭২ জন সদস্য বসতে পারেন। নতুন সংসদের নিম্নকক্ষের নকশা ভারতের জাতীয় পাখি ময়ূর থিমের উপর তৈরি করা হয়েছে। তবে উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার অন্দরের নকশা তৈরি হয়েছে জাতীয় ফুল পদ্মের থিমে। রাজ্যসভা হলের মোট আসনসংখ্যা ৩০০টি।

শুক্রবার, ২৬ মে, ২০২৩

বর্তমানে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক সংসদ ভবনের ভবিষ্যত কি হবে?

 

শাসক-বিরোধী সাংসদদের তরজা, আইন পাশ, প্রতিবাদ, অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বর্তমানে ব্যবহৃত এই সংসদ ভবন। সেই ইমারত যে ভেঙে ফেলা হবে না, তা বলাই বাহুল্য। ভারতের এখনকার সরকারের তরফেও এমনটাই জানানো হয়েছে। এখনকার সরকারের তরফে বলা হয়েছে, বর্তমান সংসদ ভবন অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে জীর্ণ এবং সুযোগ-সুবিধা আর প্রযুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে আধুনিক কালের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে সক্ষম নয়। আর সেই কারণেই নতুন সংসদ ভবনের প্রয়োজন ছিল বলে বর্তমান সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে।

তবে নতুন সংসদ ভবন তৈরি হলেও সগৌরবে এবং স্বমহিমাতেই দাঁড়িয়ে থাকবে বর্তমান সংসদ ভবনটি। বহন করবে ভারতীয় ইতিহাসের সাক্ষী। বর্তমানে ব্যবহৃত সংসদ ভবনটি, স্বাধীন ভারতের প্রথম সংসদ ভবন; যা স্বাধীন ভারতের সংবিধান গ্রহণের সাক্ষীও ছিল। এখনকার সরকারের মতে, নতুন ভবন তৈরি হলেও বর্তমান ভবনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা জাতীয় গুরুত্বের বিষয়।

অতীতে কাউন্সিল হাউস নামে পরিচিত বর্তমানে ব্যবহৃত সংসদ ভবনটি ব্রিটিশ আমলে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল ছিল।ব্রিটিশ স্থপতি এডউইন লুটিয়েন্স এবং হার্বার্ট বেকার বর্তমান সংসদ ভবনের নকশা তৈরি করেছিলেন। ভবনটি নির্মাণে সময় লেগেছিল ছবছর। ১৯২৭ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। প্রাথমিক ভাবে ভবনটি একতলা ছিল। ১৯৫৬ সালে সংসদ ভবনটিতে আরও দুতলা বাড়ানো হয়।২০০৬ সালে, ভারতের আড়াই হাজার বছরের পুরনো গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে সংসদে একটি জাদুঘরেরও উদ্বোধন করা হয়।

এখনকার সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন ভবন ব্যবহার শুরু হলেও বর্তমানে ব্যবহৃত সংসদ ভবনটি সংরক্ষণ করা হবে, কারণ এটি দেশের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। তারা বলেছে, ভবিষ্যতে সরকারের তরফে কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে নতুন ভবনের পাশাপাশি বর্তমান ভবনেও তা অনুষ্ঠিত হবে।

২০২১ সালের মার্চ মাসে, কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী রাজ্যসভায় জানিয়েছিলেন, নতুন সংসদ ভবন তৈরি হয়ে গেলে, বর্তমান সংসদ ভবনের মেরামত শুরু হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসাবে যাতে আবার এই ভবন ব্যবহার করা যায়, সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। তবে এখনও তা নিয়ে বিস্তারিত ভাবে চিন্তাভাবনা হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। ঐতিহ্যসমৃদ্ধ ভারতের অনেক চিত্রকলা, ভাস্কর্য, পাণ্ডুলিপি, সংগ্রহ এবং সাংস্কৃতিক নিদর্শন জাতীয় জাদুঘর, ন্যাশনাল আর্কাইভস অফ ইন্ডিয়া এবং ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টস-এ রাখা আছে। বর্তমান সংসদ ভবন মেরামতের পরে সেগুলি ওই ভবনে জায়গা পেতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

২০২২ সালের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সংসদ ভবনের একটি অংশকে জাদুঘরেও রূপান্তরিত করা হতে পারে।যদি এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়, তা হলে সাধারণ মানুষ বর্তমান লোকসভা কক্ষে বসতে পারবেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল।

রবিবার, ২১ মে, ২০২৩

হিংস্র ভাল্লুক পাহারা দিচ্ছে পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতাকে

 

ভারত হল সভ্যতাপূর্ণ দেশ। আজও ভারতের বিভিন্ন বনাঞ্চলে বিভিন্ন প্রচীন সভ্যতার সন্ধান পাওয়া যায়।তেমনই ভারতের গুজরাত রাজ্যের দেবগড় বরিয়ার জঙ্গলে সম্প্রতি পাঁচ হাজার বছরের পুরানো সভ্যাতার সন্ধান পাওয়া গেছে। গুজরাতের দেবগড় বরিয়ার বনাঞ্চলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। অতীতেও মধ্যপ্রস্তর যুগের অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে এই বনাঞ্চলে এবং তৎসংলগ্ন এলাকায়। সেই দেবগড় বরিয়াতেই নতুন করে খোঁজ মিলল পাঁচ হাজার বছরের পুরনো এক সভ্যতার।

সম্প্রতি গুজরাত বন বিভাগের একটি দল দেবগড় বরিয়ার গভীর জঙ্গলে ট্রেকিং করতে গিয়েছিল। সেই দলেরই এক জন জঙ্গলের মধ্যে থাকা একটি গুহার পাথরে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। উঠে দাঁড়েতে গিয়ে ঐ বনকর্মী দেখতে পান পাথরটির গায়ে কিছু দক্ষ হাতের আঁকিবুঁকি রয়েছে। আরও ভাল করে দেখতেই আবিষ্কৃত হয় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার গুহাচিত্র।বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখতে ধীরে ধীরে গুহার ভিতরে প্রবেশ করেন বনকর্মীরা। গুহার মেঝেতেও ওই ধরনের বেশ কয়েকটি ছবি তাঁদের চোখে পড়ে।কিন্তু ধীরে ধীরে গুহার আরও ভিতরে ঢুকতেই ওই বনকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁরা দেখেন, ওই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক গুহাচিত্রগুলিকে পাহারা দিচ্ছে একটি শ্লথ ভালুক। গুহার ভিতরের একটি প্রকোষ্ঠে ওই ভালুকটি ছিল বলে বনকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। যদিও দেবগড় বরিয়ার জঙ্গল শ্লথ ভালুকের জন্য বিখ্যাত।

ওই গুহা থেকে ফিরে আসার সময় বেশ কয়েকটি ছবি সম্বলিত পাথর সঙ্গে করে নিয়ে ফেরেন বনকর্মীরা। সেই পাথরের টুকরোগুলি পরীক্ষা করে দেখা যায়, ওই অঞ্চলে মধ্যপ্রস্তর যুগে মানুষের বসবাস ছিল। গড়ে উঠেছিল এক সভ্যতা। আর সেই সভ্যতার মানুষেরাই এই গুহাচিত্রগুলি এঁকেছিলেন।ওখানে এককালে বসবাসকারী মানুষেরা গুহার দেওয়ালে এবং পাথরে যে ছবিগুলি এঁকেছিলেন, তার বেশ কয়েকটি এখনও অক্ষত রয়েছে বলে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা জানিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, গুহাতে গ্রানাইট পাথরের উপর ছবিগুলি এমন ভাবে আঁকা হয়েছিল, যাতে সেগুলি বৃষ্টি, বাতাস এবং প্রখর রোদেও নষ্ট না হয়।

বনকর্মীরা জানিয়েছেন, জঙ্গলের আরও বেশ কিছু পাহাড়ের গায়ে এই ধরনের ছবি রয়েছে, যেগুলি আংশিক ভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই ছবিগুলি মূলত দেবগড় বারিয়া ও সাগতলার মাঝখানের ভ্যাভরিয়া ডুঙ্গার পাহাড়ে রয়েছে।এই গুহাচিত্রগুলির বেশ কয়েকটিকে ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন সহকারী বন সংরক্ষক প্রশান্ত তোমর। তাঁর কথায়, ‘‘কোথাও এই চিত্রগুলি অক্ষত রয়ে গিয়েছে। আবার কোথাও আংশিক ভাবে মুছে গিয়েছে। গুহাটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবস্থিত। সেখানে মানুষের আনাগোনা কম। তার উপরে একটি শ্লথ ভালুক এই গুহা পাহারা দেয়। আর সেই কারণেই পাহাড়ের উপরের ছবি নষ্ট হলেও গুহার ভিতরের ছবি অক্ষত রয়েছে।’’

গুজরাতের এমএস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং গুহাচিত্র বিশেষজ্ঞ, ভিএইচ সোনাওয়ানে ১৯৭১ সালে পঞ্চমহল জেলার তরসাঙে গুজরাতের প্রথম গুহাচিত্র আবিষ্কার করেছিলেন। সেই গুহাচিত্রগুলি ১৩ বা ১৪ শতকের বলে মনে করা হয়। তাঁর মতে সম্প্রতি পাওয়া ‘‘পাহাড়ের পাথরে আঁকা চিত্রগুলি দেখে মনে হচ্ছে, সেগুলি আলাদা আলাদা সময়ের। একটি ষাঁড় এবং কয়েকটি মানবচিত্র সম্ভবত মধ্যপ্রস্তর যুগের।’’সোনাওয়ানের মতে, দেবগড় বরিয়ায় খুঁজে পাওয়া গুহাচিত্রগুলি গ্রানাইট পাথরের উপর লাল হেমাটাইট শিলা দিয়ে আঁকা হয়েছে। এই ধরনের শিলা পাথুরে মাটিতে পাওয়া যায়।এই গুহাচিত্রগুলিকে সরকারের রক্ষা করা উচিত। এগুলি বড় আবিষ্কার। এই ছবি থেকে এ-ও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, মধ্যপ্রস্তর যুগে মানুষ এখানে বসবাস করতেন। আরও গবেষণা করলে হয়তো নতুন নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে।’’

শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩

ভারতের এই ধর্মীয় উৎসবের জন্য বছরে দুবার বন্ধ থাকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

 ব্রহ্মপুরাণ, মৎস্যপুরাণ, বরাহপুরাণ, স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ, বায়ুপুরাণ, ভাগবৎপুরাণ-সহ একাধিক প্রাচীন রচনায় তিরুঅনন্তপুরম দেবস্থানের উল্লেখ আছে। মালয়লম ভাষায় তিরুঅনন্তপুরম কথার অর্থ হল ভগবান অনন্তের পুর বা শহর। এই অনন্ত হলেন স্বয়ং শ্রীবিষ্ণু। তাঁর আর এক রূপ হল পদ্মনাভ। তিনি এই রূপে অনন্তশয়ানে বিরাজ করছেন ভারতের  কেরল রাজ্যের রাজধানীর এই প্রাচীন মন্দিরে। এই মন্দিরের নাম পদ্মনাভস্বামী মন্দির। দেবালয়ে বিগ্রহের অনন্তরূপ থেকেই কেরলের রাজধানীর নামকরণ হয়েছে।

জানা যায়, বিভিন্ন যুগে এই মন্দিরের দায়িত্বে ছিলেন বিভিন্ন রাজপরিবার। আঠারো শতকের মাঝামাঝিতে ত্রিবাঙ্কুরের রাজা হন আনিঝাম থুরিনাম যিনি পরিচিত ছিলেন মার্তণ্ড বর্মা নামে। মার্তণ্ড বর্মা ১৭৫০ সালে ত্রিবাঙ্কুর রাজ্যটি ভগবান পদ্মনাভর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। মার্তণ্ড বর্মা শপথ নেন যে, রাজপরিবার ভগবানের তরফে রাজ্যপাট পরিচালনা করবে এবং তিনি ও তাঁর উত্তরাধিকারীরা রাজ্যের সেবা করবে পদ্মনাভ দাস নামে অর্থাৎ ভগবান পদ্মনাভর দাস হিসেবে। তখন থেকে প্রতিটি ত্রিবাঙ্কুর রাজার নামের আগে পদ্মনাভ দাস কথাটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পদ্মনাভস্বামীকে ত্রিবাঙ্কুর রাজ্যের অনুদানকে ত্রিপদিদানম বলা হয়। গত কয়েকশো বছর ধরে মন্দিরের দায়িত্বে রয়েছে এই ত্রিবাঙ্কুরের রাজপরিবার। আদিশেষ নাগের উপরে অনন্তশয়ানে বিষ্ণুর রূপ তাঁদের পরিবারের আরাধ্য দেবতা। বলা হয়, দ্রাবিড়ীয় এবং চেরা ঘরানায় নির্মিত মন্দিরে যা ধনসম্পদ সঞ্চিত রয়েছে, তা হয়তো পৃথিবীর আর কোনও মন্দিরে নেই। আর তার কিছুটা প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল ২০১১ সালে।একটি জনস্বার্থ মামলা চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে খোলা হয়েছিল মন্দিরের সম্পদের ভাণ্ডার। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শাসক, বণিক এবং সাধারণ ভক্ত এই মন্দিরে দেবতাকে অর্ঘ্য দিয়েছেন। এমনকি, প্রাচীনকাল থেকে যে বিদেশিরা এসেছেন, তাঁরাও অর্পণ করেছেন বন্দরনগরীর এই দেবালয়ে। সঞ্চিত সম্পদভাণ্ডার হার মানিয়েছে মানুষের কল্পনার পরিধিকে।

দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে মন্দির কর্তৃপক্ষের জানা ছিল, মন্দিরে ছটি গুপ্ত প্রকোষ্ঠ আছে। মন্দিরের পশ্চিম অংশে গর্ভগৃহের কাছে অর্থাৎ মন্দিরের যে স্থানকে সবচেয়ে পবিত্র বলে বিবেচনা করা হয়, যেখানে দেবতাকে রাখা হয়েছে, তারই খুব কাছাকাছি রয়েছে এই প্রকোষ্ঠগুলি। সুবিধের জন্য পরবর্তীকালে এদের নাম দেওয়া হয়েছে , বি, সি, ডি, এবং এফ। পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যখন গুপ্তধন গণনার কাজ শুরু হয়, তখন জানা যায় আরও দুটি প্রকোষ্ঠের কথা । তাদের নাম দেওয়া হয় জি এবং এইচ

প্রকোষ্ঠ বলা হলেও এগুলি আদপে ঘর। যেগুলির মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত পরিপূর্ণ ধনৈশ্বর্যে। অন্য ঘরগুলি খোলা হলেও দ্বিতীয় প্রকোষ্ঠ বা ভল্ট বি-র দরজা খোলা হয়নি গত কয়েকশো বছর ধরে। মনে করা হয়, এর ভিতরে যা ধনসম্পদ আছে, তা গুনতে গেলে যে কোনও একক-ই কম পড়তে পারে। পাশাপাশি, জি এবং এইচ প্রকোষ্ঠও বন্ধ রয়েছে কয়েকশো বছর ধরে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অন্য সমস্ত প্রকোষ্ঠের সঙ্গে খোলার চেষ্টা করা হয় ভল্ট বি-কেও। ধাতব গ্রিল, কাঠের দরজা খোলা সম্ভব হয়। তার পরে ছিল একটি লোহার দরজা। সেটা আর খোলা সম্ভব হয়নি। ঠিক হয়, খবর দেওয়া হবে এক জন কর্মকারকে। কিন্তু তার আগেই সুপ্রিম কোর্ট এই ভল্ট খোলার ব্যাপারে স্থগিতাদেশ জারি করে। এই প্রকোষ্ঠের ওই লোহার দরজায় ভীষণদর্শন সাপের মূর্তি খোদাই করা আছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ভিতরের সম্পদ পাহারা দিচ্ছে এক যক্ষী, দরজা খুললে চরম অভিশাপ অনিবার্য।

সি, ডি, এবং এফ, এই চারটি প্রকোষ্ঠ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে খোলা হয়। সেখান থেকে ধনসম্পদ এবং প্রয়োজনীয় জিনিস কাজে লাগানো হয় ধর্মীয় উৎসবে। ২০১১-র ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে খোলা হয় এর প্রথম প্রকোষ্ঠ অর্থাৎ ভল্ট । সেখানে ঢোকার জন্যেও লোহার এবং কাঠের দুটি দরজা ভাঙতে হয়। তার পর ঘরে ঢুকে সরাতে হয় পাথরের ভারী ফলক। দেখা যায়, নীচে অন্ধকারে নেমে গিয়েছে গুপ্ত সিঁড়ি। সিঁড়ি দিয়ে নেমে খোঁজ পাওয়া যায় গুপ্তধনের। সংখ্যায় এক লক্ষের বেশি কোটি কোটি টাকার অমূল্য সম্পদ রাখা ছিল এই গুপ্তকক্ষে।

সব প্রকোষ্ঠে মাটি ও ধাতুর পাত্র, ঝুড়ি ভরে রাখা ছিল ধনঐশ্বর্য। কী কী ঐশ্বর্য পাওয়া গিয়েছে এই মন্দির থেকে, তার সম্পূর্ণ তালিকা অবশ্য প্রকাশ্যে আসেনি। বিভিন্ন সূত্র মারফত সংবাদমধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শুধু ভল্ট এবং এফ থেকে পাওয়া গিয়েছে ৪০ রকমের জিনিস। সি এবং ডি নামের ঘরে পাওয়া গিয়েছে ৬১৭ রকমের জিনিস। আর উল্লেখযোগ্য যে জিনিসগুলি ছিল তার মধ্যে অন্যতম হল শ্রীবিষ্ণুর চার ফুট উঁচু এবং তিন ফুট চওড়া সোনার মূর্তি। সারা বিগ্রহে খোদাই করা আছে অসংখ্য হিরে ও দামী রত্ন। আর সেই সঙ্গে এই বিগ্রহকে বিশেষ অনুষ্ঠানে পরানোর জন্য আছে সনাতনী পোশাক আঁখি। সম্পূর্ণ সোনার তৈরি মোট ১৬টি পাল্লার এই পোশাকের ওজন ৩০ কেজি। দেবতার অঙ্গভূষণ হিসেবে রয়েছে ১৮ ফুট লম্বা সোনার হার। আছে সোনার তৈরি ধানের ছড়া, যার ওজন ৫০০ কেজি। সোনার ওড়না আছে, যার ওজন ৭৬ কেজি। মধ্যযুগের সোনার মুদ্রা আছে ৬০০ কেজি ওজনের।

আরো পাওয়া যায় মোট ১২০০টি সরপ্পলি। দক্ষিণের এই ঐতিহ্যবাহী সোনার হারে বসানো থাকে দামি পাথর। অস‌ংখ্য বস্তা আছে, যার মধ্যে ছিল মুঠো মুঠো সোনার জিনিস, নেকলেস, কোমরের বিছে। গয়নায় বসানো হয়নি এ রকম হিরে, চুনি, পান্না, পোখরাজ এবং অন্যান্য রত্নপাথর রয়েছে অগণিত। রয়েছে সোনার তৈরি প্রমাণ মাপের সিংহাসনও।

এছাড়া এই মন্দিরে রয়েছে মুদ্রার বিরল ও অমূল্য ভাণ্ডার। প্রাচীন রোমান সভ্যতা থেকে শুরু করে অষ্টাদশ শতকের নেপালিয়নের সমসাময়িক মুদ্রা সেখানে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের নানা সময়কালের মুদ্রা রাখা আছে মন্দিরের কোষাগারে। খ্রিস্টপূর্ব ২০০ অব্দের সোনার মুদ্রা আছে, যার ওজন প্রায় ৮০০ কেজি।

চের, পাণ্ড্য, পল্লব, চোল-সহ বিভিন্ন রাজবংশ মূল্যবান অর্ঘ্য দিয়েছে পদ্মনাভস্বামীকে। এ ছাড়া মেসোপটেমিয়া, জেরুজালেম, গ্রিস, রোম এবং পরে ইউরোপের বিভিন্ন উপনিবেশ থেকে শাসক ও বণিকরা এই মন্দিরে দেবার্ঘ্য দিয়েছেন। কয়েক হাজার বছর ধরে সঞ্চিত হয়েছে মন্দিরের গুপ্তধন ভাণ্ডার। প্রাচীন ভারতে এই মন্দির পরিচিত ছিল সোনার মন্দির হিসেবে।

প্রাচীন মহাকাব্য শিলাপ্পটিকরম-এ বলা হয়েছে চের-রাজা চেনকুট্টুবান সোনা ও মূল্যবান রত্ন ভেট পাচ্ছেন সোনার মন্দির থেকে। ধরে নেওয়া হয় এই মন্দির আসলে পদ্মনাভস্বামীর মন্দিরই।

ধনসম্পদ ছাড়াও এই মন্দিরে রয়েছে কিছু কঠোর নিয়ম। অভারতীয় বা বিদেশিরা মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি পান না। এমনকি বিবাহসূত্রে ভারতীয় হলেও কোনও বিদেশি মন্দিরে ঢুকতে পারেন না। তাছাড়াও শাড়ি পরে মন্দিরে প্রবেশ করলেও বিদেশিকে হিন্দু হওয়ার শংসাপত্র দেখাতে হয়। এই মন্দিরে প্রবেশ করতে গেলে মহিলাদের শাড়ি পরতে হয় এবং পুরুষদের ধুতি ও সাদা চাদর গায়ে জড়াতে হয়।এই পোশাকগুলিকে বলা হয় ভেস্তি এবং অঙ্গবস্ত্র। অবশ্য ২০১৬ সালে সালোয়ার কামিজ পরে মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি মিললেও মন্দির কর্তা বা পুরোহিতরা তা বিশেষ পছন্দ করেন না।

আর কেরলের এই পদ্মনাভস্বামী মন্দির থেকে বিষ্ণুর শোভাযাত্রা বের হবার জন্য তিরুবনন্তপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বছরে দুবার মোটামুটিভাবে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়। রাজ্যের এই শোভাযাত্রা শতবর্ষের ঐতিহ্য! আনুমানিক ৫ হাজার বছর ধরে মন্দিরের এই শোভাযাত্রা পালিত হচ্ছে। করোনা অতিমারির সময়ও এই শোভাযাত্রা বন্ধ রাখা হয়নি। কেরলের এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিতে ধর্মীয় কারনে বছরে দুবার উড়ান পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। প্রথমবার হল মার্চ-এপ্রিল মাসে পেনকুনি উত্‍সবের জন্য আর দ্বিতীয়বার অক্টোবর-নভেম্বরে আরাত্তু শোভাযাত্রার জন্য। শতাব্দী প্রাচীন এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য সমস্ত আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। এই শোভাযাত্রায় ভগবান বিষ্ণুকে পালকিতে করে শ্রী পদ্মানাভস্বামী মন্দির থেকে বিমানবন্দরের ঠিক পিছনেই অবস্থিত শংমুঘাম সৈকতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দেবতাকে সমুদ্রে স্নান করানো হয়। বহু শতাব্দী ধরেই এই মন্দিরের এমন বর্ণাঢ্য ও ঐতিহ্যবাহী যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই পথ দিয়েই দেবতাকে নিয়ে যাওয়া-আসা করানো হয়। ১৯৩২ সালে এই রুটেই বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সময় ভগবানকে পালকিতে করে কীভাবে শোভাযাত্রা বের করে সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া হবে, সেই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেইসময় বলা হয়েথিল, শোভাযাত্রায় বিমানবন্দরের পথ কখনও বাধা হয়ে থাকবে না। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই নিয়মই পালন করা হচ্ছে।

শনিবার, ১৩ মে, ২০২৩

ইতিহাসে প্রথম কোলকাতা শব্দটি কোথায় পাওয়া যায়

 

কলকাতা শব্দের উৎপত্তি কোথা থেকে

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে পরস্পর সংলগ্ন ডিহি কলিকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর - এই তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করে কলকাতা মহানগরীর উত্থান ঘটে। এর মধ্যে ডিহি কলিকাতা থেকে কলকাতা শহর হয়েছে বলে ধরা হয়। কিন্তু এই কলিকাতা বা কলকাতা নামটির উৎপত্তি কোথা থেকে এসেছে সে সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

কলকাতা শব্দটি খুঁজে পাওয়া যায় পশ্চম শতকের বিপ্রদাস পিপলাই-এর গ্রন্হ মনসামঙ্গল'-এ এবং মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে। এছাড়া কলকাতা নামটি রয়েছে আবুল ফলজের লেখা আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থে। তবে স্থানীয় বিজ্ঞজনেদের মতে, মনসামঙ্গলে' এবং চণ্ডীমঙ্গলে'- কলকাতার প্রসঙ্গ প্রক্ষিপ্ত।

তাছাড়া কলকাতায় কালিঘাটের কাছে মাটি খুঁড়তে গিয়ে পাওয়া গিয়েছে গুপ্ত যুগের কিছু মুদ্রা। এর মধ্যে রয়েছে দ্বাদশাদিত্য তৃতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলের তিনটি মুদ্রা এবং বিষ্ণু গুপ্তের আমলের ১৫টি মুদ্রা। এ থেকে অনেকে মনে করে থাকেন কলকাতা কোন আধুনিক কালের শহর নয়, এটি একটি প্রাচীন এলাকা। তবে এর থেকে নামের উৎপত্তির ইতিহাস জানা যায় না। কলকাতা নামের উৎপত্তি প্রসঙ্গে যে ধারণাগুলি  বাজারে প্রচলিত রয়েছে সেগুলি হল-

১) মনে করা হয় কলকাতা নামটি এসেছে মা কালীর পুজো থেকে। জানা যায় তৎকালীন কলকাতায় বেহালা থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত ছিল কালীক্ষেত্র। আর তার অধীশ্বর মা কালী বাস করতেন কলকাতায়। পরে কাপালিকরা এই কালীকে নিয়ে পালিয়ে যায় কালীঘাটের বনে। আর সেই থেকে কালীঘাটে মা কালীর অধিষ্ঠান। এছাড়া দক্ষিণেশ্বরে মা কালীর পূজাকেও অনেকে উল্লেখ করে থাকেন। কারণ এক সময় দক্ষিণেশ্বর ছিল বাংলার রাজধানী।

২) অবশ্য রাধাকান্ত দেব-এর মতে কিল কিলা' অর্থাৎ কিলা বা কেল্লা' থেকে কলকাতা নামটি এসেছে। আর তিনি বলেছেন- কবি রামের বইতেও নাকি তাই আছে।

৩) এছাড়া কলকাতার নামকরণের গবেষণায় যে বিষয়টি উঠে এসেছে- কলি মানে চুন, আর কাতা মানে ভাটি, অর্থাৎ কলকাতা বা কলিকাতা হচ্ছে চুনের ভাঁটি। শোনা যায় এখানে ছিল জেলেদের বাস, তারা নদী থেকে ধরে আনতো ঝিনুক ও শামুক। সেগুলি পুড়িয়ে চুন তৈরী হত তখন এখানে। সেই চুন বা কলি থেকে কলকাতা।

৪) তাছাড়া আরোও একটি তথ্য উঠে আসে,ক্যালকাটা নামটি এসেছে 'গলগাথা' থেকে। ডাচ ভাষায় 'গল' মানে মড়ার খুলি।"গলগাথা" মানে মরা মানুষের খুলিতে বোঝাই দেশ। প্রথম দিকে কলকাতা এমনটা ছিল বলে, এরকম মনে করা হয়।

৫) আবার অনেকে এই নাম প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ একটি অবাস্তব যুক্তি তুলে ধরেন। তাদের মতে 'খাল-কাটা' থেকে ক্যালকাটা নামটি এসেছে। কলকাতার লোকেরা বর্গীদের ঠেকাবার জন্য তখন একটা খাল কাটেছিলেন। সেটাই ছিল মারাঠা ডিচ। তার ফলে কলকাতার লোকেদের নাম হয়ে গিয়েছিল ডিচার। সুতরাং খাল কাটা থেকে ক্যালকাটা এসেছে বলে মনে করা হয়। কিন্তু এটি একটি অবাস্তব যুক্তি। কেননা ১৭০০ সনের এপ্রিল থেকে কলকাতা বা ক্যালকাটা শহর এসেছে। অথচ বর্গীদের টাইম-টেবিল দেখা যায় তার চল্লিশ বছর পরে।

৬) এছাড়া অনেকে ঘাস কাটা থেকেও কলকাতার নাম এসেছে বলে মনে করেন। কারণ তখন কলকাতা ছিল ঘাসে ভরা এলাকা। তাকে বলা হত ঘেসুড়ে ভাবল। কোন এক সাহেব কোন দিন এক স্থানীয় লোককে জিজ্ঞাসা করেন এই ঘাস কবেকার কাটা। জবাবে সে বলে- কাল কাটা। আর তারই বিকৃত রূপ হল ক্যালকাটা।

৭) তবে যে ঐতিহাসিক ধারণাটি উঠে আসে সেটি হল- তৎকালীন কলকাতার দক্ষিণোপকূলের একটি জায়গা ছিল কালিকট। সেখানেই প্রথম ঠেকেছিল পশ্চিমের জাহাজ, নোঙর ফেলেছিল পর্তুর্গিজরা। এই কালিকট-ই হল কলকাতার আদি ঐশ্বর্য। তখন ইউরোপে পর্যন্ত ছিল কালিকটের জিনিসের ভীষণ সুখ্যাতি। ইন্ডিয়ান জিনিস বলতেই লোকে জানতো কালিকটের জিনিস, আর এর পরিচিতি ছিল প্যাকিং বাক্সে বা বস্তায় লেখা 'মেড ইন কালিকট' থেকে। অতএব কালিকটকে নিয়ে বিপত্তিতে পড়লেন ইংরেজরা। তারা সেখানে গড়ে তোলেন একটি ফ্যাক্টরি। কিন্তু সমস্যা হল প্যাকিং বাক্সে বা বস্তায় গায়ে লেখা নিয়ে, কারণ মেড ইন হুগলি' বা মেড ইন সুতানটি' বললে বাজারে কেউ এ জিনিস কিনবে না। সেসময়ে বাজারে রমরমা ছিল মেড ইন কালিকটের জিনিস নিয়ে। তাই কোন এক ইংরেজ বুদ্ধি বাতলিয়ে প্যাকিং বাক্সে বা বস্তার গায়ে লিখলেন 'KALKATA' বলে। কালিকটও তখন কে'(K) দিয়ে শুরু আর বানানটাও অনেকটা একরকম। সুতরাং এই ফাঁকি আর খদ্দেরের চোখে ধরা পড়লো না। বাজারে ধীরে ধীরে চলতে শুরু করলো সুতানটির জিনিস। আর সেই থেকেই সুতানটি হয়ে গেল কলকাতা।

এর প্রমাণ হিসাবে ধরা হয় ইংরেজদের দ্বারা মিরজাফরকে দিয়ে লিখিয়ে নেওয়া, যে আলিনগরকে 'ক্যালকাটা' করতে তাঁর কোন অমত নেই। আর এই খবরটিকে তৎকালীন ইংরেজগণ পলাশীর যুদ্ধের খবরের চেয়েও দ্রুত দেশে পাঠাতে ব্যস্ত হয়েছিলেন।