বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

রামের মূর্তির জন্য এই দেশ থেকে আসছে বিশেষ পাথর

 

নেপালের পাথর
আসছে রামের মূর্তির
 জন্য



প্রায়
তিন ফুট দীর্ঘ এক সুঠাম
, কৃষ্ণাঙ্গ, পরিণতবয়স্ক রামের মূর্তি  দেখা পাবেন ভক্তরা রামজন্মভূমি অযোধ্যার নতুন
মন্দিরে।এই বিগ্রহের জন্য ইতিমধ্যেই নেপাল থেকে অযোধ্যায় আনা হচ্ছে বিশেষ
শিলাখণ্ড। তবে এই শিলা কোন সাধারন শিলা নয়। হিন্দু শাস্ত্রে যে শালগ্রাম শিলাকে
ভগবান বিষ্ণুর প্রতিভূ বলে মানা হয়
, সেই
শালগ্রাম শিলা দিয়েই তৈরি হবে অযোধ্যার নতুন রাম মন্দিরের নতুন রামের বিগ্রহ। নেপালের
কালী গণ্ডকী নদীতে পাওয়া গিয়েছিল দু
টি
শালগ্রাম শিলার খণ্ড। অযোধ্যার রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট সেই শিলা দু
টিই চায় নেপাল সরকারের কাছে।সম্প্রতি সেই
শিলা দু
টি
ভারতকে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকার এবং নেপালের খনিজ এবং ভূতাত্ত্বিক বিষয়ক মন্ত্রক।নেপালের
খনিজ এবং ভূতাত্ত্বিক মন্ত্রক সূত্রে খবর দু
টি শিলাখণ্ডের ওজন ৩৫ টন, আর বয়স কম করে ৬ কোটি বছর।নেপালের কালী
গণ্ডকী নদীতে পাওয়া গিয়েছিল এই দু
টি
শালগ্রাম শিলার খণ্ড।



কিন্তু
এখন প্রশ্ন হল রামলালার কি হবে
! রামলালা
যার অর্থ শিশু রাম
, তার
একটি মূর্তি ১৯৪৯ সালে পাওয়া যায় বাবরির মধ্যবর্তী গম্বুজের নীচে। তার পর থেকেই
শুরু হয় নানা বিতর্কের।আর ১৯৮৬ সালে এই শিশুরামের পুজোর জন্য আদালত বিতর্কিত
জমির প্রবেশ দ্বার খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।এরও ৬ বছর নানা বিতর্কের মধ্যে ঘটে যায়
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা। অবশ্য গত ২০১৯ সালের নভেম্বরে এই সমস্ত ধরনের ইতি টানে
সুপ্রিম কোর্ট।অযোধ্যার বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি হিন্দু মন্দির তৈরির জন্য অছি
পর্ষদকে দিয়ে দেওয়ার পর
, অতিরিক্ত
৫ একর জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে মসজিদ তৈরির জন্য দেওয়ার নির্দেশ দেয় দেশের শীর্ষ
আদালত।



আপাতত
একটি স্থানান্তরযোগ্য মন্দির তৈরি করে রামলালার পুজো হচ্ছে সেখানে
, কিন্তু দিন কয়েক পরে যখন নতুন রাম
মন্দিরে বিগ্রহ বসানো হবে
, তখন
সেখান থেকে ১৯ ফুট দূরত্বে দাঁড়াতে পারবেন ভক্তরা। ছোট্ট রামলালার মূর্তিকে
সেখান থেকে দেখাই যাবে না। ভক্তদের অসুবিধা হবে এই আশঙ্কা থেকেই নতুন মূর্তির
সিদ্ধান্ত।

সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩

কুমিরের কয়েকটি মমিকৃত দেহ উদ্ধার

 

কুমিরের
মমিকৃত অংশাবশেষ



রহস্যে
পরিপূর্ণ দেশে মিশর
, আর
সেখানেই সম্প্রতি একটি সমাধিস্থলে কুমিরের একাধিক মমিকৃত অংশাবশেষ পাওয়া গিয়েছে।
কুমিরগুলির মাথা কাটা রয়েছে। পড়ে রয়েছে শুধুমাত্র দেহাংশ। কুমিরগুলির মৃত্যু কী
ভাবে হল
, তার
সঠিক উত্তর এখনো গবেষকরা
খুঁজছেন। নীল নদের পশ্চিম তীরে কুব্বাত-আল-হাওয়া এলাকায় কুমিরের দেহগুলির সন্ধান পাওয়া
গিয়েছে।



গবেষকদের
মতে
, খননকার্যের
পর কুমিরগুলিকে যে অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে
, তা
এক কথায় বিরল।

কুমিরগুলিকে হত্যার পর বালির সঙ্গে এমন ভাবে
মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল
, যাতে
সেগুলি রোদে প্রাকৃতিক ভাবে শুকিয়ে যায়। এর পর দেহগুলি খেজুর পাতা দিয়ে মুড়ে
সমাধিস্থলে আনা হত। আর এ ভাবেই সংরক্ষিত করা হত বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তবে সব
কুমিরের দেহাংশই যে এ ভাবে সংরক্ষিত করা যেত
, তা
নয়। বহু ক্ষেত্রেই অনেক কুমিরের মমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুমিরগুলির দেহাংশ শুকোনোর
পরই তাদের মাথা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করছেন গবেষকরা।



তবে
মিশরে কুমিরের মমিকৃত দেহ উদ্ধারের নেপথ্যে নানা পৌরাণিক কাহিনির তত্ত্বও উঠে
এসেছে। এক সময় দেবতাদের পুজোয় নৈবেদ্য হিসাবে পশুর মমি দেওয়া হত। এই কুমিরগুলিকে
মেরে তাদের দেহ সংরক্ষণ করার নেপথ্যে এই কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন
দ্য রয়্যাল বেলজিয়ান ইনস্টিটিউটের গবেষক বি দ্য কোপারে। কিন্তু
কুমির যদি দেবতারই কোনও অবতার হয়
, তা
হলে তাকে হত্যা করা হবে কেন
? এর
উত্তরে তিনি বলেন
, কোনও
প্রাণীর মমির সঙ্গে আধ্যাত্মিক যোগসূত্র যদি খুঁজে পাওয়া যায়
, তা হলে সেই প্রাণীহত্যা কোনও
পাপ হিসাবে মনে করতেন না মিশরীয়রা। গবেষকরা এ-ও মনে করছেন যে
, দেবতাকে তুষ্ট করার জন্যই
কুমির হত্যা করা হত। এই প্রসঙ্গে মিশরের দেবতা সোবেকের নাম চর্চায় এসেছে। মিশরীয়
সভ্যতায় সোবেক এমন এক দেবতা
, যাঁর
মুখাবয়ব কুমিরের মতো। আর দেহের বাকি অংশটি মানুষের মতো। ফলে গবেষকরা অনেকেই মনে
করছেন
, মিশরীয়
দেবতা সোবেককে তুষ্ট করতেই কুমির মারা হত।



মিশরের
যে প্রাচীন সমাধিস্থল থেকে কুমিরগুলির দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে
, সেটিকে ডোম অফ দ্য উইন্ড বলা হয়। প্রায় ২৫০০ বছর আগে ওই সমাধিস্থল
ব্যবহার করা হত বলে ধারণা।

রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

ইনি ভারতে তৈরি করেছেন ইন্ডিয়ান প্যারানরমাল সোসাইটি

 

Indian Paranormal Society-প্রতিষ্ঠাতা



২০০৯
সালে ভারতে এনার হাত ধরেই তৈরি হয়েছিল
ইন্ডিয়ান
প্যারানরমাল সোসাইটি।
অথচ এই তরুণের মাত্র
৩২ বছর বয়সে নিজের বাড়ির বাথরুমে রহস্যমৃত্যু হয়েছিল এই তরুণের।
বেসরকারি
সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকের ছেলে গৌরব তিওয়ারির জন্ম ১৯৮৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
তাঁকে আমেরিকার টেক্সাসে পাঠানো হয়েছিল বিমানচালনার প্রশিক্ষণ নিতে। কোর্স
চলাকালীন ফ্লোরিডায় একটি বাড়িতে কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে থাকতেন গৌরব। গৌরবের দাবি
, সেখানেই আশ্চর্য অভিজ্ঞতার
শিকার হন তিনি। গৌরবের দাবি
, তিনি
ও তাঁর বন্ধুরা ওই বাড়িতে অশরীরীর উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতার পর থেকে
গৌরবের মনে
ভৌতিক এবং ভূত সংক্রান্ত বিষয়ের উপর দুর্নিবার আকর্ষণ জন্মায়।
তিনি ঠিক করেন
, এই
বিষয়ে গবেষণা করবেন।
আমেরিকার প্যারানেক্সাস অ্যাসোসিয়েশন থেকে
স্বীকৃতি পান তিনি।
ফ্লোরিডার ইনস্টিটিউট অব মেটাফিজিক্যাল
সায়েন্স তাঁকে স্পিরিচুয়াল কাউন্সেলর এবং হিপনটিস্টের শংসাপত্র দেয়।



বিভিন্ন
সমাধিক্ষেত্র-সহ
ভৌতিক বলে পরিচিত এ রকম ছহাজারের বেশি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিলেন গৌরব।
নিজের অভিজ্ঞতা জানাতেন ব্লগে বা টেলিভিশনের পর্দায়। তাঁর অভিজ্ঞতা বলছে
, দেশের অন্যতম ভৌতিক
ধ্বংসাবশেষ বলে পরিচিত ভানগড় কেল্লায় নাকি আদপেই অশরীরীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
তাঁর
এই অভিনব ভাবমূর্তি এবং অভিনয়ের নেশা তাঁকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল বিনোদনের
দুনিয়াতেও।
হন্টেড
উইকএন্ড উইথ সানি লিওন
, ভূত
আয়া
, ফিয়ার
ফাইলস
-এর
মতো টেলিভিশন শোগুলির অপরিহার্য অংশ করে তুলেছিল তাঁকে।



লেখালেখি
ও কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলেও গৌরব বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার
প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর অ্যালেন টাইলারেরও তিনি বন্ধু ছিলেন। দু
জনে একসঙ্গে কাজও করেছেন হন্টিং: অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। ২০১৬ সালের ৭ জুলাই দিল্লির
দ্বারকায় নিজের বাড়িতে রহস্যজনক ভাবে মারা যান গৌরব। তাঁর বাড়ির লোক জানান
, সে দিন সকাল ১১টা নাগাদ স্নান
করতে ঢোকেন গৌরব। কিছু ক্ষণ পর বাথরুমের ভিতর থেকে জোরে কিছু পড়ার শব্দ হয়।
বাড়ির
লোক এর পর গৌরবকে ডেকেও সাড়া না পেয়ে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। পুলিশকে
তাঁরা জানান
, সে
সময় গৌরবকে তাঁরা বাথরুমের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে
মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। গৌরবের নিথর দেহের গলায় মোটা কালো দাগ ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।



ময়নাতদন্তের
রিপোর্টে অবশ্য গৌরবের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেই চিহ্নিত করেছে। যদিও তাঁর কাছের
লোকদের দাবি
, জীবন
শেষ করে দেওয়ার মতো কিছুই ঘটেনি গৌরবের ক্ষেত্রে। আর্থিক ক্ষতি বা মানসিক অবসাদ
, কোনওটারই সম্মুখীন হননি তিনি।

শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

ভৌতিক এই গ্রামের সযত্নে দেখভাল করে এই পরিবার

 

ভৌতিক এই গ্রাম পর্যটকদের প্রিয় স্থান

মাওরি উপজাতিদের অতীত জনপদ হল তে ওয়াইরোয়া । ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ জুন মাউন্ট তারাওয়েরা-র অগ্ন্যুৎপাতের গ্রাসে চলে গিয়েছিল এই জনপদ। ধ্বংসলীলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১২০ জন। ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে এই গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ধর্মপ্রচারক সেমৌর মিলস স্পেনসার। নিউজিল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত উষ্ণ প্রস্রবণ পিঙ্ক অ্যান্ড হোয়াইট টেরেস দেখতে যাওয়ার পথে এই জনপদে বিশ্রাম নিতেন পর্যটকরা। প্রথমে ভাবা হয়েছিল ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে আগ্নেয়গিরি তারাওয়েরা-র অগ্ন্যুৎপাতে বিলীন হয়ে গিয়েছে এই দুটি উষ্ণ প্রস্রবণও। কিন্তু পরে তাদের অস্তিত্ব আবার খুঁজে পাওয়া যায়। অতীতের এই জনপদ আজ দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্তভৌতিক শহর হয়ে।

নিউজিল্যান্ডের রোটোরুয়া শহর থেকে ১৪ কিমি দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত এই ঘুমন্ত শহর কিন্তু এই জনপদ বর্তমানে ব্যক্তিগত সম্পত্তি। ১৯৩১ সালে তে ওয়াইরোয়া কিনে নেন এক দম্পতিরেগ এবং ভি স্মিথ। সে সময় এই জমিতে একটি মাত্র বাড়ি ছিল। স্মিথ দম্পতি কিনে নেওয়ার পরে শুরু হয় খননকাজ। এখন পরিবারটির তৃতীয় প্রজন্ম রয়েছে ভৌতিক শহরের মালিক হিসেবে। স্থানটির রক্ষণাবেক্ষণ ও খননের জন্য তাঁরাও যথেষ্ট যত্নবান। খননের ফলে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিসগুলিও রাখা হয় যথেষ্ট যত্ন করে তে ওয়াইরোয়া-র সংগ্রহশালায়।

অথচ এই ভৌতিক শহর তে ওয়াইরোয়া আজ পর্যটকদের পছন্দের গন্তব্য স্থান। ওয়াইরোয়া ঝর্নারোটোকাকাহি হ্রদ এবং তারাওয়েরা হ্রদ পর্যটকদের কাছে অন্যতম দর্শনীয়। তবে আগ্নেয়সমাধি হওয়া এই জনপদের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে আজ থেকে ২৩৫ বছর আগের একটি সেলাইমেশিন।

বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩

ইউরোপের দেশগুলোর কারণেই সোমালিয়া হয়ে উঠেছে জলদস্যুদের দেশ


 জেলেরা
হয়ে উঠলেন জলদস্যু



আরব
সাগর ও লোহিত সাগরের মাঝে আফ্রিকার যে অংশটি শিংয়ের মতো দেখতে সেটিই সোমালিয়া।
চিরকালই দারিদ্রের শিকার এই দেশটি। তবে বিগত শতাব্দির নব্বইয়ের দশকে তা চরম আকার
ধারণ করে। ১৯৯১ সালে সোমালিয়ায় সরকার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর সোমালিয়ার জলসীমায়
বহু ইউরোপীয় জাহাজ রহস্যজনক ভাবে ঘোরাফেরা করতে শুরু করে। সোমালিয়া উপকূলের কাছে
বিরাট বিরাট ব্যারেল ফেলতে থাকে তারা। জলের তোড়ে ভেসে আসা ওই সব ব্যারেলে
তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থ থাকত। এই সব বর্জ্য পদার্থের সংস্পর্শে এসে সোমালিয়ার
উপকূলবাসীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন। নানা রকম অদ্ভুত রোগ দেখা দেয় তাঁদের
মধ্যে। এমনকি গর্ভবতীরা বিকলাঙ্গ সন্তানের জন্ম দিতে শুরু করেন। ২০০৫ সালে সুনামির
পর এই রকম হাজার হাজার ব্যারেলে ভরে যায় সোমালিয়ার উপকূল অঞ্চল। জানা যায়
, ইউরোপের বিভিন্ন হাসপাতাল ও
কারখানা থেকে ইতালীয় মাফিয়াদের হাত ঘুরে ওই সব বর্জ্য পদার্থ সোমালিয়ার উপকূলে
খালাস করা হচ্ছিল
, যার
মধ্যে সীসা
, ক্যাডমিয়ামের
মতো ক্ষতিকারক পদার্থ ছিল। এগুলি সোমালিয়ার উপকূল এলাকার জলে মিশতে থাকে। বিষয়টি
জানাজানি হলেও এ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়নি ইউরোপীয় সরকারগুলিকে।
ক্ষতিগ্রস্ত সোমালীয়দের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করা হয়নি।



ওই
একই সময়ে ইউরোপীয় মাছ ধরার জাহাজগুলি সোমালিয়ার উপকূলে ভিড় করতে থাকে। সেখান থেকে
মাছ লুঠ করে নিয়ে গিয়ে ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে তাদের। এতে স্থানীয় জেলেরা
জীবিকাহীন হয়ে পড়তে থাকেন। ধীরে ধীরে তাঁরা নিজেরাই এই লুঠ রুখতে তৎপর হন। বেআইনি
ভাবে ইউরোপীয় দেশ থেকে যে সমস্ত জাহাজ তাদের উপকূল থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছিল এবং
ক্ষতিকারক বর্জ্য ফেলে উপকূলকে দূষিত করছিল
, তাদের
তাড়াতে সোমালিয়ার উপকূলের অধিবাসীদের একাংশ ছোট ছোট নৌকো এবং স্পিডবোট নিয়ে
নিজেরাই জলে নেমে পড়েন। কিন্তু বড় বড় জাহাজগুলির সঙ্গে কিছুতেই যুঝে উঠতে
পারছিলেন না সোমালিয়ার সাধারণ মানুষ। মাছ ধরার জাহাজগুলির উপর কিছুতেই শুল্ক বসাতে
পারছিলেন না তাঁরা। এমত অবস্থায় বর্জ্য ফেলতে আসা বেশ কিছু জাহাজকে আটক করতে সক্ষম
হন সোমালিয়ার ওই সব সাধারণ মানুষ। আর তাতেই আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় তাঁদের। এ ভাবে
জাহাজ তাড়ানোর চেয়ে সেগুলিকে ছিনতাই করে মুক্তিপণ আদায়ই সহজ বলে মনে হয় তাঁদের
একাংশের। সেই মতো হাতে অস্ত্র তুলে নেন তাঁরা। সেখান থেকেই আধুনিক সোমালিয়ার
জলদস্যুদের উত্থান। অন্যদিকে ১৯৯৫ সালে দেশের স্বৈরাচারী শাসক মহম্মদ সৈয়দ বারের
মৃত্যুর পর দেশ জুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। চরম অর্থ সঙ্কট দেখা দেয় দেশ জুড়ে। তার
ফলশ্রুতি হিসাবেই সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের উত্থান ঘটে
, যা সমুদ্রপথে বাণিজ্যের
ক্ষেত্রে বিভীষিকায় পরিণত হয়।



২০০০
সাল থেকে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলির জন্য রীতিমতো বিভীষিকা হয়ে ওঠে এই
জলদস্যু দলগুলি। বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ ছিনতাই করে মুক্তিপণের মাধ্যমে টাকা রোজগার
করতে শুরু করে তারা। তবে ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মহল
, রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং ন্যাটোর
হস্তক্ষেপে সমুদ্রের বুকে জলদস্যুদের আক্রমণের ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে।

একটি দেশের সরকার কিভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করে

 

সরকারের
শাসনকার্য পরিচালনার পদ্ধতি



গ্রিক
দার্শনিক অ্যারিস্টট্ল সরকারের কাজকর্মকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছিলেন
-১) সিদ্ধান্ত- মূলক, ২) শাসনসংক্রান্ত এবং ৩)
বিচারসম্পর্কিত। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থাতেও মূলত শাসনবিভাগ
, আইনবিভাগ এবং বিচারবিভাগের
মাধ্যমে সরকারের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। রাষ্ট্র আজও এক বিমূর্ত ধারণা
, সরকার তার বাস্তব প্রতিনিধি।
শাসনবিভাগ
, আইনবিভাগ
ও বিচারবিভাগের কাজকর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রের চরিত্র অনুধাবন করা যায়। এই তিনটি বিভাগের
কার্যাবলি এদিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।



আধুনিক
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসনবিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাপক অর্থে
শাসনবিভাগ বলতে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে প্রশাসনের একজন সর্বনিম্ন সাধারণ
কর্মী পর্যন্ত সকল পদাধিকারীকেই বোঝায়। শাসনবিভাগ তার দুটি অংশ
, যথাক্রমে রাজনৈতিক অংশ
(মন্ত্রী
, সাংসদ, বিধায়ক প্রমুখ) এবং
অরাজনৈতিক অংশের (উচ্চপদস্থ আমলা
, সরকারি
স্থায়ী কর্মচারী প্রমুখ) মাধ্যমে যাবতীয় কাজকর্ম সম্পাদন করে থাকে। আধুনিক
রাষ্ট্রে আইনবিভাগেরও একটি স্বতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। সংসদীয়
ব্যবস্থায় আইনবিভাগের গুরুত্ব সর্বাধিক। রাষ্ট্রপতি-শাসিত ব্যবস্থায় (মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে) এর ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়। অন্যদিকে রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি
অত্যন্ত প্রভাবশালী কাঠামো হল বিচারবিভাগ। বিচারবিভাগ ব্যতীত রাষ্ট্র একটি
কষ্টকল্পনামাত্র। অধ্যাপক গার্নারের মতে
, ...a civilized state without judicial
organs and machinery is hardly conceivable
ল্যাঙ্কির মতে বিচারকার্য
পরিচালনার মধ্য দিয়ে একটি রাষ্ট্রের নৈতিক চরিত্র অনুধাবন করা যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের
আধুনিক লেখকদের বক্তব্য হল বিচার-বিভাগের ভূমিকা ও কার্যাবলি প্রধানত রাজনৈতিক
ব্যবস্থার প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। এই কারণে যেসব দেশের সংবিধানে বিচারবিভাগের
প্রাধান্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সেখানে বিচারবিভাগ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এক
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সাম্প্রতিককালে রাষ্ট্রের বিচারবিভাগীয়
সক্রিয়তা
(Judicial Activism) বিচারব্যবস্থাকে
আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।



This is to say, there are seven main
centres of political activity, the cooperation of which is necessary to produce
a complete act of government. The seven are, in practice, inter-locking and
essential to each other, though there may be jealousy and distrust among their
actual personnel.



- Herman Finer [The Theory and
Practice of Modern Government, p. 169]

বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩

জীবনবিজ্ঞান-এর বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫০টি প্রশ্ন ও উত্তর

 বিষয়:- জীবনবিজ্ঞান

অধ্যায়:- বংশগতি

বংশগতিতে অবদানকারী বিজ্ঞানী

গ্রেগর জোহান মেন্ডেল ছিলেন একজন ধর্মযাজক। ১৮২২ খ্রিষ্টাব্দে অস্ট্রিয়ায় তাঁর জন্ম হয়। তিনি বংশগতি-সংক্রান্ত দুটি মৌলিক সূত্র (পৃথকভবক সূত্র ও স্বাধীন বন্টনের সূত্র) প্রবর্তন করেন। তাঁর আবিষ্কৃত তথ্যসমূহের ওপর ভিত্তি করে জিনতত্ত্বের সৃষ্টি হওয়ায় মেন্ডেলকে জিনতত্ত্বের জনক বলা হয়। ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে এই মহান বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়।

৫০টি প্রশ্ন ও উত্তর

১) বংশগতির জনক কাকে বলে?

উ:- মেন্ডেল-কে

২) মেন্ডেল-এর আবিষ্কৃত সূত্রটি কি নামে পরিচিত?

উ:- মেন্ডেলবাদ নামে

৩) একটি সংকর জাতের গরুর নাম বল।

উ:- জার্সি-শাহীওয়াল

৪) বিশুদ্ধ বেঁটে গাছের জিনোটাইপ কি?

উ:- tt

৫) বংশগতিতে বিপরীতধর্মী যুগ্ম বৈশিষ্ট্যকে কি বলে?

উ:- অ্যালিল

৬) মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য মটরগাছে কত জোড়া বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করেছিলেন?

উ:- সাত জোড়া

৭) জীবদেহের প্রধান জেনেটিক পদার্থ কি?

উ:- DNA

৮) জিন কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?

উ:- জোহানসেন

৯) বংশগতির একক কি?

উ:- জিন

১০) কোন বিজ্ঞানীর নাম জেনেটিক্সের সঙ্গে জড়িত?

উ:- হরগোবিন্দ খোরানা

১১) মটরগাছের ক্ষেত্রে প্রকট বৈশিষ্ট্যটি কি?

উ:- হলুদ বীজপত্র

১২) খাঁটি জীব সবসময়ই কি ধরণের হয়?

উ:- হোমোজাইগাস

১৩) যে নাইট্রোজেনযুক্ত বেসটি DNA-তে থাকে না, সেটি কোনটি?

উ:- ইউরাসিল

১৪) যে নাইট্রোজেনযুক্ত বেসটি RNA-তে থাকে না, সেটি কোনটি?

উ:- থাইমিন

১৫) মেন্ডেলের পৃথকীকরণ সূত্রটি কি পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত?

উ:- একসংকর

১৬) একটি বংশগত রোগের নাম লেখো।

উ:- হিমোফিলিয়া

১৭) মেন্ডেলের একসংকর জননে উৎপন্ন ১:২:১ অনুপাতকে কি অনুপাত বলে?

উ:- জিনোটাইপ-এর

১৮) প্রথম অপত্য বংশে যে-বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায়, তাকে কি বৈশিষ্ট্য বলে?

উ:- প্রকট

১৯) কোনো জীবের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যাবলির বাহ্যিক প্রকাশকে কি বলে?

উ:- ফিনোটাইপ

২০) কি কারণে মটর ফুলে স্ব-পরাগযোগ ঘটে?

উ:- উভলিঙ্গ

২১) কাকে বংশগতির ধারক ও বাহক বলে?

উ:- DNA

২২) প্রকট ও প্রচ্ছন্ন উভয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবকে কি বলে?

উ:- সংকর

২৩) মেন্ডেলের একসংকর জননে ৩:১ অনুপাতকে কি অনুপাত বলে?

উ:- ফিনোটাইপ-এর

২৪) জীবের জিন সম্বন্ধীয় বৈশিষ্ট্য যা বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয়, তাকে কি বলে?

উ:- জিনোটাইপ

২৫) পিতামাতার যে-গুণটি অপত্যে প্রকাশিত হয় তাকে কি গুণ বলে?

উ:- প্রকট

২৬) কোনো জীবের জিনোটাইপ নির্ধারণের জন্য যে-পরীক্ষা করা হয়, তাকে কি বলে?

উ:- টেস্ট ক্রস

২৭) মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্রটি কি সূত্র নামে পরিচিত?

উ:- পৃথকীভবনের

২৮) মেন্ডেলের বংশগতির দ্বিতীয় সূত্রটি কি সূত্র নামে পরিচিত?

উ:- স্বাধীন বন্টন

২৯) পিতামাতার যে-গুণটি অপত্যে অপ্রকাশিত থাকে, তাকে কি গুণ বলে?

উ:- প্রচ্ছন্ন গুণ

৩০) মটরগাছের ফুল কি লিঙ্গ?

উ:- উভলিঙ্গ

৩১) মেন্ডেলের একসংকর জননের পরীক্ষায় কি জনুকে P সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করা হয়?

উ:- জনিতৃ

৩২) মেন্ডেল বিশুদ্ধ দীর্ঘাকার ও বিশুদ্ধ খর্বাকার মটরগাছের মধ্যে কি পরাগযোগ ঘটিয়েছিলেন?

উ:- ইতর

৩৩) বংশগতির ধারক ও বাহক কি?

উ:- জিন

৩৪) মেন্ডেলের পরীক্ষায় TT বলতে কি বোঝায়?

উ:- বিশুদ্ধ লম্বা মটরগাছের জিনোটাইপ

৩৫) মেন্ডেলের পরীক্ষায় tt বলতে কি বোঝায়?

উ:- বেঁটে মটরগাছের জিনোটাইপ

৩৬) মেন্ডেলের পরীক্ষায় Tt বলতে কি বোঝায়?

উ:- সংকর লম্বা মটরগাছের জিনোটাইপ

৩৭) দুটি বংশগত রোগের নাম বল।

উ:- বর্ণান্ধতা ও হিমোফিলিয়া

৩৮) বেশি মাংস পাওয়া যায় এমন একটি মুরগির নাম লেখো।

উ:- ব্রয়লার

৩৯) জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যকে কি বলে?

উ:- ফিনোটাইপ

৪০) বংশগতিতে একটি প্রকট গুণের উদাহরণ দাও।

উ:- লম্বা মটরগাছের লম্বা গুণটিই হল প্রকট গুণ।

৪১) জাইগোটে জীবের বৈশিষ্ট্যকে কি বলে?

উ:- জিনোটাইপ

৪২) একসংকর পরনিষেকে ফিনোটাইপের অনুপাত কত?

উ:- ৩:১

৪৩) একসংকর পরনিষেকে জিনোটাইপের অনুপাত কত?

উ:- ১:২:১

৪৪) জীবদেহের প্রধান জেনেটিক পদার্থ কি?

উ:- DNA বা ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড

৪৫) DNA-বিহীন ভাইরাসের জেনেটিক পদার্থ কি থাকে?

উ:- RNA বা রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড

৪৬) DNA এবং RNA-র সুনির্দিষ্ট বিন্যাসকে কি বলে?

উ:- জেনেটিক কোড (Genetic code)

৪৭) জেনেটিক্স কাকে বলে?

উ:- জীববিজ্ঞানের যে-শাখায় জিন ও বংশগতি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে চর্চা হয়, তাকেই জেনেটিক্স বলে।

৪৮) যে তিনজন বিজ্ঞানী মেন্ডেলের আবিষ্কৃত তথ্যের পুনরাবিষ্কার করেন তাদের নাম লেখো।

উ:- হল্যান্ডের দ্য ভ্রিস, জার্মানির কোরেন্স, অস্ট্রিয়ার শেরম্যাক (De Vries, Correns and Tschermak)

৪৯) মানুষের অটোজোম-বাহিত একটি প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য কি?

উ:- শ্বেতী বা অ্যালবিনিজম্‌

৫০) জিনতত্ত্বের জনক কে?

উ:- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল

ভারতীয় দর্শন কি প্রকৃতির?

 ভারতীয় দর্শন কি প্রকারের?

দার্শনিক আলোচনা প্রধানত বিমূর্ত আলোচনা। যে সকল অতীন্দ্রিয় বিষয় নিয়ে দর্শন আলোচনা করে তাদের তত্ত্বজ্ঞান আমরা কখনই ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষের দ্বারা লাভ করতে পারি না। এই কারণে দর্শনে বিচারবুদ্ধি ও যুক্তি-তর্কের স্থান সবার উপরে। আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শনে অবশ্য সাধারণ মানুষের লৌকিক প্রত্যক্ষ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উপর দর্শনকে প্রতিষ্ঠা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।কিন্তু ভারতীয় দর্শন মনে করে যে দর্শনের বিষয়বস্তু যেহেতু বিমূর্ত ও অতীন্দ্রিয় সেহেতু অলৌকিক ও অতীন্দ্রিয় অনুভূতি ছাড়া দর্শনের বিষয়বস্তুর উপলব্ধি সম্ভব নয়। ভারতীয় দর্শনের ক্ষেত্রে এই উপলব্ধি আবার প্রধানত মুনি-ঋষিদের উপলব্ধি বলে ধার হয়। তবে শুধুমাত্র এই উপলব্ধির মধ্যেই দার্শনিক আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। দর্শন শুরুর উপদেশ মাত্র নয়। তাই দর্শনের ক্ষেত্রে এই উপলব্ধি যুক্তি, বিচার ও মননের অপেক্ষা রাখে। ভারতীয় দর্শন একদিকে যেমন প্রতিটি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতার উপলব্ধিনির্ভর তেমনি অপরদিকে যুক্তি, বিচার ও মনননির্ভর। প্রতিটি সম্প্রদায় তাঁদের তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তি, বিচার ও মননের সাহায্য নিয়েছেন। এ কথা যেমন আস্তিক সম্প্রদায়গুলির ক্ষেত্রে সত্য তেমনি নাস্তিক সম্প্রদায়গুলির ক্ষেত্রেও সত্য। কোন কোন পাশ্চাত্য চিন্তাবিদ্‌ ভারতীয় দর্শনের এই স্বরূপকে উপলব্ধি করতে পারেননি। তাঁরা ভারতীয় দর্শনকে গুরুর উপদেশ বা আপ্তোপদেশ মাত্র বলে বর্ণনা করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা ভারতীয় দর্শনের বিরুদ্ধে বিচারহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে ভ্রান্ত ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত। ভারতীয় দর্শনের প্রতিটি সম্প্রদায়ের ক্রমপরিণতির সুদীর্ঘ ইতিহাস এ কথাই প্রমাণ করে যেদর্শন নিছক ব্যক্তিগত উপলব্ধ সত্যের বাণীমাত্র নয়। দর্শন বিভিন্ন যুগের বিভিন্ন মনীষীর মনন ও যুক্তিনির্ভর।

বিশ্বের দার্শনিকগণ জগৎ ও জীবনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দুটি বিপরীতমুখী মৌলিক তত্ত্বে পৌঁছেছেন। এই দুটি মৌলিক তত্ত্বের একটি হ'ল জড়তত্ত্ব এবং অপরটি হ'ল চেতনতত্ত্ব। যে মতবাদ জড়তত্ত্বকে একমাত্র সত্য বলে মনে করে সে মতবাদকে বলা হয় জড়বাদ। অপরদিকে যে তত্ত্ব স্থূলজড়ের অতিরিক্ত চেতনসত্তাকে স্বীকার করে তাকে বলে অধ্যাত্মবাদ। দেহের অতিরিক্ত চেতনসত্তাই নানা দর্শনে 'আত্মা' নামে অভিহিত হয়। অধ্যাত্মবাদীদের ভিত্তি হ'ল দেহের অতিরিক্ত আত্মায় বিশ্বাস। জৈন, বৌদ্ধ,ন্যায়-বৈশেষিক, সাংখ্য, যোগ, মীমাংসা ও বেদান্ত সকলেই আত্মার অস্তিত্বে বিশ্বাসী। আত্মা অতীন্দ্রিয় কি না সে বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আত্মা যে জড়ের অতিরিক্ত তাতে এ সম্প্রদায়গুলির মধ্যে কোন মতপার্থক্য নেই। বৌদ্ধ সম্প্রদায় নিত্য আত্মায় বিশ্বাসী না হলেও চেতনা-প্রবাহ বা বিজ্ঞান-সন্তানে বিশ্বাসী। তাই দেখা যায় যে, চার্বাক ব্যতীত সকল ভারতীয় দর্শন সম্প্রদায়ের মধ্যে অধ্যাত্মবাদে বিশ্বাস অতি গভীর। এই কারণে ভারতীয় দর্শনকে অধ্যাত্মবাদী দর্শন বলা হয়।