বুধ গ্রহ আসলে কি? কেমন তার আবহাওয়া?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট কবে এবং কেন হয়েছিল?

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম ও তার ছবি

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর আইন

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

হিন্দু তথা সনাতন ধর্মের সমস্ত ধর্ম গ্রন্থসমূহ

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৩

কলকাতার যেসব এলাকা ভুতুড়ে বলে কুখ্যাত,পর্ব-২

 

কলকাতার ভুতুড়ে এলাকা

৬) কলকাতা রেস কোর্স ময়দান: কথিত আছে, যে শনিবার পূর্ণিমা পড়ে, সেই রাতে একটি সাদা ঘোড়ার ভূতকে নাকি কলকাতা রেস কোর্স জুড়ে ছুটতে দেখা যায়। প্রাইড নামে ঘোড়াটি আদতে ছিল এক ব্রিটিশ সাহেবের। ব্রিটিশ আমলে নাকি উইলিয়াম সাহেবের সাদা ঘোড়া-র বেশ পরিচিতিও ছিল। প্রাইড যখন রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাবে ডার্বিতে হেরে যায়, তখন উইলিয়ামস নাকি রাগের মাথায় তাঁকে খুন করেন। সেই ঘোড়ারই দেখা মেলে রেস কোর্সের মাঠে।

৭) রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন: এক সময়ে নাকি বেশ কিছু ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থেকেছে এই স্টেশন। রাতে স্টেশনে অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখতে পাওয়া এবং পরক্ষণেই তা মিলিয়ে যাওয়া, এই অভিজ্ঞতাও নাকি হয়েছে বহু যাত্রীর। এছাড়া শেষ মেট্রো ধরতে গিয়ে অনেকেই চোখের সামনে ছায়া মূর্তি ভেসে উঠতে দেখেছেন বলেও শোনা যায়। অনেক আগে, যখন গ্রেটার কলকাতার ধারণা গড়ে ওঠেনি, ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনার বেশির ভাগই ঘটত এই স্টেশনকে কেন্দ্র করে।

৮) উইপ্রো অফিস: সল্টলেকের এই অফিসে কর্মচারীরা নাকি প্রায়ই রাতের শিফটে বিভিন্ন ছায়ামূর্তি দেখতে পান। আবার অনেকে নাকি কানের পাশে চাপা স্বরে অশরীরীর কণ্ঠস্বরও শুনেছেন। ওই অফিসের সব থেকে ভয়ঙ্কর জায়গা নাকি তিন নম্বর টাওয়ারের তিন তলা। যে কারণে এই জায়গাটিতে যাওয়া-আসা নিষিদ্ধ, তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে বছরের বেশির ভাগ সময়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অফিসবাড়ি তৈরি হওয়ার আগে এখানে একটি কবরস্থান ছিল। সেই সময়ে নাকি সেখানে একাধিক ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাও ঘটেছে।

৯) হেস্টিংস হাউস: ইংরেজ আমলে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের বসতবাড়ি এখন কলেজ। ছাত্রীদের মধ্যে নাকি অনেকেই দেখেছেন, ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাদা চামড়ার এক ব্যক্তি। অনেকের ধারণা, ওয়ারেন হেস্টিংসের অতৃপ্ত আত্মা এটি। আবার অন্য দিকে জানা যায়, এই হেস্টিংস হাউসের মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে মারা যান এক কিশোর। অনেকে বলেন, সেই কিশোরের হাসি ও ফুটবল খেলার আওয়াজও নাকি শোনা যায় রাতের দিকে।

১০) ন্যাশনাল লাইব্রেরি: ১৮৩৬ সালে নির্মিত এই ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে রয়েছে দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ। রাতের অন্ধকারে নাকি এক মহিলার কান্না শোনা যায় বলে জানিয়েছেন রক্ষীরা। কেউ কেউ বলেন, লর্ড মেটক্যাফের স্ত্রী-র আত্মা এখনও এখানে ঘুরে বেড়ায়। কোনও বই পড়ার পরে সেটি ঠিক করে তাকে তুলে না রাখলে, ঘাড়ের কাছে ভারী নিশ্বাসের শব্দ শোনা যায় নাকি। অবশ্য আরও একটি ভৌতিক ঘটনার কথা শোনা যায় এই জাতীয় গ্রন্থাগারকে নিয়ে- গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন মারিয়ানের দ্বিতীয় স্বামী। হেস্টিংস দম্পতি বলডান্স করতেন এস্টেটের হলরুমে। নাচের আসরে যোগ দিতেন কলকাতার ব্রিটিশ সমাজের আমন্ত্রিত অভিজাতরা। আর এই আসর এতই জমে উঠতো যে তিনি নাকি এখনও ভুলতে পারেননি বেলভিডিয়ার এস্টেটকে। ইংরেজি বর্ষবরণের গভীর রাতে নাকি নির্জন এস্টেটের সামনে এসে থামে এক জুড়িগাড়ি। পার্টিতে বলডান্সে অংশ নিতে আসেন গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস! সেজন্যই কলকাতার ভূতবিশ্বাসীদের কাছে অন্যতম ভৌতিক জায়গা হল ঐতিহাসিক বেলভিডিয়ার এস্টেট বা আজকের জাতীয় গ্রন্থাগার।

১১) আকাশবাণী ভবন ফাঁকা লম্বা করিডোর, অজস্র স্টুডিও আর ব্রিটিশ পরিকাঠামো মিলিয়ে আকাশবাণীতে ভুতের অস্থিত্ব অস্বীকার করা যায় না।কেউ কেউ এখানে দেখেন হ্যাট,কোর্ট পরিহিত ইংরেজ সাহেবের ছায়া মূর্তি। যাদের মধ্যে অনেকেই ঘরে প্রবেশ করে আর অভ্যাসবশত ফাইল পত্র নিয়ে ঘাটাঘাটি করে বলে শোনা যায়। আবার কেউ কেউ দেখেন মধ্যরাতে রেকর্ডিং রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে কে যেন গান শুনছেন।

১২) লোয়ার সার্কুলার রোডের গোরস্থান: লোয়ার সার্কুলার রোডের কবরস্থানে শায়িত রয়েছে স্যার উইলিয়াম হে ম্যাকনটন। প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছিলেন। তাঁর দেহ সমাধিস্থ করা হয়েছিল এই গোরস্থানে। সার উইলিয়ামের স্ত্রী স্বামীর ছিন্নভিন্ন দেহ আফগানিস্তান থেকে নিয়ে এসে সমাধিস্থ করেছিলেন কলকাতায়। উইলিয়াম সাহেবের এই সমাধির কাছে গিয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট কথা বললে কবরের সামনে ছায়াদানকারী গাছটি কাঁপতে থাকে। কথিত আছে, উইলিয়ামের ক্ষুব্ধ আত্মার আস্ফালনেই কাঁপে গাছটি।

১৩) নিমতলা ঘাট: ১৮২৮-এর মার্চ মাসে তৈরি হয় শ্মশান এবং তখন থেকেই এখানে শব দাহ করা শুরু হয়। এই শ্মশানে অনেকেই অশরীরীর উপস্থিতি অনুভব করেছে বলে শোনা যায়। এর পাশাপাশি এও প্রচলিত আছে যে, ভূতনাথ মন্দিরের পাশে পুরনো শ্মশানে গভীর রাতে আজও কিছু ছায়ামূর্তি দেখা যায়। প্রতি কালীপুজোর রাতে এখানে আরাধনা করেন কাপালিক এবং অঘোরী সাধুরা।

১৪) কলকাতা বন্দর: নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়ে কলকাতা তথা খিদিরপুর বন্দর তৈরী করিয়েছিলেন। তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্পর্ক ভাগ করে নিয়েছিলেন, যা অবিশ্বাস্যভাবে সফল হয়েছিল। তবে ব্রিটিশরা তাকে প্রতারণা করে এবং তার জন্মভূমি দখল করে। এই অঞ্চলে কিছু নাবিক এবং ব্যবসায়ীরা দাবি করেন যে, তারা নবাবের ছায়ামূর্তিকে চারপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছেন, যা তারা বিশ্বাস করেন যে নবাবের আত্মাটি ব্রিটিশদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

প্রথম পাতা

শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩

পৃথিবীতে থাকা একমাত্র নদী যার জলে রয়েছে রামধনু


 বিশ্বের একমাত্র রঙিন নদী

পৃথিবীতে এমন অনেক নদী আছে যার জল স্বচ্ছ। কিন্তু স্বচ্ছতার জন্য বিশ্বে একটি নদীকে রঙিন দেখায়। আর এটাই বোধহয় বিশ্বের একমাত্র রঙিন নদী। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনী, কমলা- সব রঙ-ই রয়েছে এই নদীর জলে। পোশাকি নাম একটা থাকলেও রংবেরঙের জলের জন্য এই নদীকে কেউ বলেন রিভার অফ কালার্স বা রঙিন নদী, কেউ আবার লিকুইড রেনবো বা তরল রামধনু বলে চেনেন নদীটিকে। অনেকের কাছে এই নদী মেল্টেড রেনবো বা গলিত রামধনু। ক্যানিয়ো ক্রিস্টেলসের রংবেরঙের জল দেখার সবচেয়ে ভাল সময় জুলাই থেকে নভেম্বর।

এই নদী রঙিন হবার আসল রহস্য হল নদীর গর্ভে থাকা এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ। নদীর জল এতটাই স্বচ্ছ যে, ওই উদ্ভিদের নানা রঙের প্রতিফলন দেখা যায় নদীর স্রোতে। সূর্যের আলোয় তা আরও ঝলমল করে ওঠে।জলে ডুবে থাকা সেই উদ্ভিদের নাম ম্যাকারেনিয়া ক্ল্যাভিগেরা। নদীখাতের নীচে হাজার হাজার বছরের পুরনো কোয়ার্টজ়াইট শিলাকে আঁকড়ে এই গাছের সংসার।নদীতে খুব বেশি জল থাকলে বা জলের পরিমাণ খুব কমে গেলে রংবেরঙের খেলা আর দেখা যায় না। কম জলে গাছ শুকিয়ে খয়েরি হয়ে যায়। আবার বেশি জল থাকলে নদীর নীচ পর্যন্ত দেখা যায় না। ফলে নদীতে রামধনুও হয়ে যায় গায়েব। কলম্বিয়ার সেরানিয়া দে লা ম্যাকারেনা অঞ্চলের নামকরণও হয়েছে এই উদ্ভিদের নামেই।

আশ্চর্য এই রঙের খেলা দেখতে হলে মধ্য কলম্বিয়ার ভিলাভেন্সিয়ো শহরে পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে আরও একটি বিমানে যেতে হবে লা ম্যাকারেনায়। লিকুইড রেনবো ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য সেখান থেকে মিলবে গাইড।সেরানিয়া দে লা ম্যাকারেনা অত্যন্ত নিরিবিলি একটি পাহাড়ি জনপদ। খুব বেশি মানুষ সেখানে থাকেন না। স্থানীয় কয়েকটি পর্যটন সংস্থা নদীটি পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখান। কোথাও কোথাও রঙিন জলে সাঁতার কাটার সুযোগও মেলে।

প্রকৃতির এই অপরূপ শোভাকে সংরক্ষণের বন্দোবস্তও করেছে কলম্বিয়া প্রশাসন। নদীর জলে বা তার নীচে থাকা গাছগুলির যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই এলাকায় পর্যটকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।

সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৩

ভারত তথা বিশ্বের একমাত্র হাতে লেখা খবরের কাগজ

 

হাতে লেখা উর্দু খবরের কাগজ

শুধু ভারত নয় বিশ্বের একমাত্র হাতে লেখা উর্দু দৈনিক খবরের কাগজ হল দ্য মুসলমান। ১৯২৭ সালে যাত্রা শুরু হয় এই দৈনিকের। সাবলীল উর্দু ভাষায় খবরের পিঠে খবর সাজিয়ে ৯৬ বছর ধরে সমান জনপ্রিয় এই সংবাদপত্র। খবরের কাগজটির বর্তমান সম্পাদক সৈয়দ আরিফুল্লাহ জানিয়েছেন, তিন প্রজন্ম ধরে চলছে এই উর্দু দৈনিক। সূচনাটা করেছিলেন তাঁর দাদু সৈয়দ আজমতউল্লাহ। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০৮ সালে ওই কাগজটির হাল ধরেন তাঁর বাবা সৈয়দ ফাজাউল্লাহ। বাবার পরে তাঁর কাঁধেই রয়েছে গোটা দায়িত্ব। তবে, সময় বদলালেও দৈনিকের ঐতিহ্য ও ধরনে কোনও পরিবর্তন হয়নি বলেই জানিয়েছেন তিনি।

দ্য মুসলমান-এর মূল আকর্ষণ এর অসাধারণ ক্যালিগ্রাফি। খবর সাজানোর পাশাপাশি রঙ, তুলির বৈচিত্র্যে নানা ক্যালিগ্রাফি ফুটিয়ে তোলার কাজ করেন তিন কাতিব। রং আর বিভিন্ন কলম ও তুলি দিয়ে লেখা হয় শিরোনাম ও ছবির ক্যাপশন। তবে এখানে কোনও খবরেরই বাইলাইন নেই।

চেন্নাইয়ের ট্রিপলিকেন হাই রোডের দুকামরার ছোট্ট দুটি ঘরে প্রথম কাজ শুরু হয় এই দৈনিকের। চার পাতার কাগজটির সব খবর সাজিয়ে দেন আরিফুল্লাহ। এর পর রঙ, তুলি দিয়ে ক্যালিগ্রাফির কাজ শুরু করেন মুখ্য কাতিব রহমান হোসেইনি। খবর লেখার দায়িত্বে রয়েছেন শাবানা ও খুরশিদ বেগম। দৈনিকের কাজ শুরু হয় সকাল ১০টা থেকে। দুজন অনুবাদক খবরগুলি উর্দু ভাষায় লিখে দেন। ঘণ্টা দুয়েক ধরে অনুবাদের কাজ চলে। তারপর ক্যালিগ্রাফি ও লেখার কাজ শুরু করেন তিন কাতিব। মূল কপি তৈরি হয়ে গেলে দুপুর ১টা নাগাদ প্রিন্টের মাধ্যমে বাকি কপিগুলি তৈরি হয়। সন্ধের মধ্যে খবরের কাগজ পৌঁছে যায় প্রায় ২২ হাজার পাঠকের হাতে।

চার পাতার কাগজের প্রথম পাতায় থাকে দেশ ও বিদেশের নানা খবর। দ্বিতীয় পাতা জুড়ে শুধু সম্পাদকীয়। পরের পাতা দুটিতে স্থানীয় খবর ও বিজ্ঞাপনসম্পাদক আরিফুল্লা জানিয়েছেন, ব্রেকিং নিউজ সাধারণত এই দৈনিকে থাকে না। কারণ সবিস্তার খবর ফের লিখতে গেলে অনেক সময়, পরিশ্রম ও লোকবলের প্রয়োজন। মূলত সমাজের নানা বিষয়ের উপরই জোর দেওয়া হয় এই দৈনিকে। ইসলাম ভিত্তিক খবর প্রথম পছন্দ হলেও সবরকম পাঠকের জন্যই খবর বাছা হয় এখানে। চিফ রিপোর্টার চিন্নাস্বামী বালাসুব্রামোনিয়ামের কথায়, সোমবারের দ্য মুসলমান একটু ভিন্ন ধরণের হয়। ওই দিন কোরান এবং ইসলাম ইতিহাস নিয়ে নানা খবরই প্রাধান্য পায়।

বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৩

কেন ৮৪টি গ্রামের লোক এক রাতে গ্রাম খালি করলো

 ভূতুড়ে গ্রাম কুলধারা

ভারতের জমির দিক থেকে বৃহত্তম রাজ্য রাজস্থানের জয়সেলমের শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত পরিত্যাক্ত গ্রাম কুলধারা। মনে করা হয় এই গ্রাম হল ভূতুড়ে। এই পরিত্যাক্ত গ্রামে যারাই নাকি নতুন করে বসতি গড়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁরাই 'ভূতের' কবলে পড়েছে। ২০১০ সালে ইন্ডিয়ান প্যারানর্মাল সোসাইটি থেকে কুরাধারায় পরীক্ষা করতে আসে এবং তাঁরা এই গ্রামে রাতও কাটিয়েছেন। তাঁদের দাবি, রাতে তাঁরা ছায়ামানবের চলাফেরা করতে দেখেছেন। কিছু অশরীরী গলার স্বর শুনতে পেয়েছেন। আবার অনেকে নিচু স্বীরে কথা বলেছিলেন বলেও দাবি। তবে কুলধারার আশেপাশে যাঁরা থাকেনতাঁরা অবশ্য ভুতুড়ে কোনও ঘটনার কথা কখনও স্বীকার করেননি। অবশ্য তাঁদের মধ্য অনেকে এই গ্রামকে ঘিরে প্রচলিত প্রাচীন কাহিনীতে বিশ্বাস করেন।

লোককথা অনুযায়ী, কুলধারায় বসবাসকারী পালিওয়াল ব্রাহ্মণেরা উনিশ শতকের গোড়ায় শাসক সেলিম সিং-এর অত্যাচারে গ্রাম পরিত্যাগ করেন। অভিযোগ, গ্রামের প্রধানের কন্যার উপর সেলিমের কুনজর পড়েছিল। তিনি জোর করে ওই তরুণীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। সেলিম ঘোষণা করে দেন, নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রধানের কন্যাকে তাঁর হাতে তুলে দিতে হবে, তা না হলে ফল ভাল হবে না। গ্রামে লুটপাট এবং অত্যাচার চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন সেলিম। কুলধারা প্রদেশের মোট ৮৪টি গ্রামের পালিওয়াল ব্রাহ্মণ পরিবার সেলিমের এই ঘোষণার পর একজোট হয়ে তাঁরা সেলিমের দাবি কিছুতেই মেনে নিতে চাইলেন না। অথচ, শাসকের রোষের মুখেও পড়তে চাননি কেউ। ফলে তাঁরা একটা সিদ্ধান্ত নিলেন।

এক রাতে তাঁরা প্রধানের কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে শাসকের চোখ এড়িয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে গেলেন। যে, যে অবস্থায় ছিলেন, সে সেই অবস্থাতেই গ্রাম ছাড়েন। সকলে একসঙ্গে এক রাতে যেন স্রেফ কপ্পুরের মতো উবে গিয়েছিলেন। এত মানুষ কোথায় গেলেন, আর কখনও তা জানা যায়নি। কুলধারায় এই পালিওয়াল ব্রাহ্মণদের আর কোনও খোঁজ পায়নি ইতিহাস। কথিত আছে, নিরুপায় হয়ে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার আগে অত্যাচারী সেলিম এবং গোটা গ্রামের উপরেই অভিশাপ দিয়ে যান গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিশাপের কারণে আর কেউ কখনও ওই গ্রামে থাকতে পারেননি। গ্রামটি সেই থেকে পেয়েছে ভূতুড়ে তকমা।

অবশ্য ইতিহাসবিদ এবং গবেষকেরা জানাচ্ছেন, উনিশ শতকে থর মরুভূমির বুকে কুলধারা গ্রামটি খালি হয়ে যাওয়ার অন্যতম মূল কারণ হতে পারে প্রবল জলসঙ্কট। গ্রামের কুয়ো এবং জলাধারগুলি ধীরে ধীরে শুকিয়ে গিয়েছিল। তাই গ্রামটিতে আর কেউ থাকতে পারেননি। পরিসংখ্যান বলছে, সতেরো কিংবা আঠেরো শতকে কুলধারার জনসংখ্যা ছিল ১৫৮৮। ১৮১৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮০০-তে। ১৮৯০ সালে দেখা যায় কুলধারায় রয়েছেন মাত্র ৩৭ জন গ্রামবাসী। ধীরে ধীরে তাঁরাও গ্রাম ছাড়েন। কোনও এক বিশেষ রাতে গ্রাম ছেড়ে একযোগে সকলের অন্তর্ধানের কথা ইতিহাসে বলা নেই।

২০১৭ সালে কারেন্ট সায়েন্স পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, কুলধারা ছেড়ে গ্রামবাসীদের অন্তর্ধানের অন্যতম কারণ সম্ভবত ভূমিকম্প। কুলধারার বাড়িঘর এখন যে অবস্থায় পাওয়া যায়, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে সেই ক্ষয়ক্ষতি সম্ভব নয়। ভূমিকম্পের ফলে বড়সড় ধাক্কা খেয়ে ঘরবাড়িগুলি ভেঙে পড়েছিল বলে দাবি গবেষকদের একাংশের। তবে কুলধারা খালি হয়ে যাওয়ার একটি কারণ হিসাবে অবশ্যই উঠে আসে অত্যাচারী সেলিম সিংহের নাম। তিনি পালিওয়াল ব্রাহ্মণদের উপর বহু কর আরোপ করেছিলেন। তার ফলেই কেউ থাকতে পারেনি এই গ্রামে।

রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩

আলিপুরের ধন ধান্য প্রেক্ষাগৃহ সম্পর্কে যা জানা দরকার

 

ধন ধান্য প্রেক্ষাগৃহ

আলিপুরের বুকে তৈরি হয়েছে শাঁখের আদলে এক প্রেক্ষাগৃহ, যার নাম ধন ধান্য গত বৃহস্পতিবার ১৩ই এপ্রিল বিকেলে এটি উদ্বোধন করলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ধন ধান্য নামটি তাঁরই দেওয়া। শাঁখের আদলে তৈরির ভাবনাও তাঁর নিজের।

আন্তর্জাতিক মানের ছতলা এই প্রেক্ষাগৃহ তৈরি হয়েছে ৬ হাজার মেট্রিক টন ইস্পাত দিয়ে। তার উপর রয়েছে নকশা করা দস্তার মোড়ক। যে দস্তা এসেছে ফ্রান্স থেকে। এই প্রেক্ষাগৃহের দৈর্ঘ্য ৫১০ ফুট এবং প্রস্থ ২১০ ফুট। উচ্চতা ৬০০ ফুট। বিশাল এই প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে রয়েছে দুটি সভাঘর, ৩টি থিয়েটার হল, ২টি বোর্ড রুম, ৬টি অতিথি নিবাস এবং ২টি ডরমেটরি। এছাড়াও যে কোনও অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাঙ্কোয়েট, কাফেটেরিয়া, ফুড কোর্টও রয়েছে এই অত্যাধুনিক প্রেক্ষাগৃহে।প্রেক্ষাগৃহের দুটি সভাঘরের মধ্যে রয়েছে দুহাজার আসনের একটি সভাঘর। অন্য সভাঘরের আসনসংখ্যা ৫৪০। রয়েছে একটি স্ট্রিট থিয়েটারও। যেখানে ৩৫০ দর্শক একসঙ্গে বসে রঙ্গমঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন।

ধন ধান্যের একেবারে নীচের তলায় রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। দুভাগে কমপক্ষে ২৫০টি গাড়ি একসঙ্গে রাখা যাবে সেখানে। পরবর্তী কালে এমন ব্যবস্থা করার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যেখানে গাড়ি ঢোকাতে এবং বার করতে সময় লাগবে খুব কম।

তবে এটি আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে রাতের অন্ধকারে। রাতের বেলা এই ইমারত আর সাদা থাকে না। সাদা রং বদলে একেবারে অন্য রূপে সেজে ওঠে ধন ধান্যের’ বাইরের অংশ। অন্ধকারে দূর থেকে ধন ধান্য’ দেখতে লাগে চকচকে বাদামি বর্ণের। তার উপর থেকে বার হয় চোখধাঁধানো বাহারি আলোর ছটা। যে আলো আনা হয়েছে আয়ারল্যান্ড থেকে। আয়ারল্যান্ড থেকে ৭০০০ আলো এনে ঢেলে সাজানো হয়েছে ধন ধান্যের বাইরের অংশ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ধন ধান্য’ তৈরি হয়েছে চার একর জমির উপর। খরচ হয়েছে মোট ৪৪০ কোটি টাকা। পূর্ত দফতর এই প্রেক্ষাগৃহ তৈরির দায়িত্বে ছিল। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হিডকো-কে। ২০১৮ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের ধন ধান্য তৈরির কাজ শুরু হয়। মাঝে কোভিডের কারণে কাজ কিছু দিন আটকে থাকলেও পরে আবার জোরকদমে শুরু হয়ে যায় নির্মাণকাজ।

নর্তকীর প্রতি অবিচার, অভিশাপে শুকিয়ে যায় ফতেপুর সিক্রি

 ফতেপুর সিক্রি পরিত্যক্ত হবার কারণ

জাহাঙ্গীরের জন্মে আনন্দে আত্মহারা আকবর ফতেপুর সিক্রীতে ১৫৭১ খ্রীষ্টাব্দে তার সম্রাজ্যের নতুন রাজধানী তৈরী করেন। কিন্তু সেই রাজধানী আবার ১৪ বছরের মধ্যে পরিবর্তন করতে হয়েছিল আকবরকে-ই। আর একে নিয়েই যত জল্পনা।শোনা যায় জলকষ্টের জন্যই এই ফতেপুর সিক্রী ছেড় চলে যেতে হয়েছিল। কিন্তু এর সাথে আরো একটি ঘটনার কথা ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়।

আকবর যখন এখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন, তখন এর পরিচয় ছিল সিক্রি নামে একটি সাধারণ গ্রাম। ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে গুজরাত জয়ের স্মারক হিসেবে এই নগরীর নাম আকবর রেখেছিলেন ফতেপুর সিক্রি অর্থাৎ জয়ের শহর। গুজরাত বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে এই নগরীতে তৈরি করেছিলেন বুলন্দ দরওয়াজা

৩ কিমি লম্বা, ১ কিমি চওড়া এই প্রাসাদনগরীকে তিন দিকে ঘিরে ছিল দুর্ভেদ্য ৮ কিমি লম্বা প্রাচীর। এক দিকে ছিল গভীর জলাশয়। প্রাসাদের উল্লেখযোগ্য অংশগুলি হল দেওয়ান-ই-খাস, দেওয়ান-ই-আম, ইবাদতখানা, নহবতখানা এবং বীরবল মহল। এখানকার সেলিম চিশতীর সমাধি এবং জামা মসজিদও পু্ণ্যার্থীদের কাছে প্রিয় গন্তব্য স্থান।

১৫৭১ থেকে ১৫৮৫ অবধি ফতেপুর সিক্রি ছিল মুঘলদের রাজধানী। রাজধানী স্থানান্তরিত হওয়ার পরেও কিছু দিন পর্যন্ত ফতেপুর সিক্রিতে মানুষ বসবাস করেছিল। ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে যায় এই নগরী।

ফতেপুর সিক্রিতে সম্রাট আকবরের প্রিয় নর্তকী ছিলেন জারিনা। তাঁর জন্য ছিল নির্দিষ্ট মহল। কথিত, জারিনার এই উত্থানে আকবরের হারেমের বাকি নারীরা ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়েন। তারা ষড়যন্ত্র করে জারিনাকে সম্রাটের সামনে চোর সাব্যস্ত করেন। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন জারিনা। চুরির শাস্তি হিসেবে আকবর তাঁর দুটি হাত কেটে নেওয়ার শাস্তি দেন। এরপর অবশ্য ইতিহাসের পাতা থেকে উধাও হয়ে যান জারিনা। তিনি কি পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন না তাঁর দুটি
হাত কাটা গিয়েছিল তা পরিষ্কার জানা যায় না।

এদিকে সন্তানের শোকে উন্মাদপ্রায় হয়ে যান জারিনার বাবা। আর তাঁর অভিশাপেই নাকি ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় ফতেপুর নগরী ও তার সংলগ্ন এলাকা। তাই ফতেপুর সিক্রীতে জল শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনা কতটা প্রকৃতিক তা বলা যায় না।

রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩

ভারতের রাস্তার ধারে মাইলস্টোনের বিভিন্ন রঙের অর্থ

 

দূরে কোথাও গড়ি চড়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে আমরা একটু খেয়াল করে দেখলে বিভিন্ন রঙের মাইলস্টোন দেখতে পাই। এই বিভিন্ন রঙের কি অর্থ তাই জেনে নেবো এখানে।

রাস্তার ধারে হলুদ রঙের মাইলস্টোন দেখলে, বুঝতে হবে কোনও জাতীয় সড়কে
রয়েছি। এই সড়কগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। 
রাস্তার ধারে যদি কোন কালো বা সাদা রঙের মাইলস্টোন দেখেন, তা হলে বুঝতে হবে কোনও বড় শহর বা জেলার বড় রাস্তায় রয়েছি। আর কোনও রাস্তার ধারে সবুজ রঙের মাইলস্টোন দেখলে, তাহলে তার অর্থ কোনও রাজ্য সড়কে রয়েছি। এই সড়কগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের। এছাড়া যদি কোথাও কমলা রঙের মাইলস্টোন দেখা যায়, তার অর্থ হল কোনও গ্রামীণ সড়কে রয়েছি। যা প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার আওতায় পঞ্চায়েত এলাকায় নির্মিত হয়েছে।

শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৩

বিয়ারের বোতল সবুজ বা বাদামী করা হয় কেন?

 
বিয়ারের বোতল সবুজ বা বাদামী হবার কারণ-

আগে স্বচ্ছ কাচের বোতলেই বিয়ার রাখা হত। কিন্তু দেখা যায়, দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় এবং অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে বিয়ারে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে দুর্গন্ধ অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই সূর্যের আলোর বিকীরণ এবং অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাব থেকে বিয়ারকে বাঁচাতে বিকল্প ব্যবস্থার ভাবনা-চিন্তা করতে হয়। তার ফলে স্বচ্ছ কাচের বোতলের উপর বাদামি রঙের প্রলেপ ব্যবহার শুরু হয়। এই বাদামি রঙের প্রলেপ অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাব থেকে বিয়ারকে রক্ষা করে।

এবার প্রশ্ন হল, বাদামি রঙের বোতলে যদি সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েই থাকে তাহলে সবুজ রঙের বোতলের দরকার পড়ল কেন?

১৯৪০ থেকে ৪৫ এর মধ্যে সবুজ রঙের বোতলে বিয়ার বিক্রি শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বাদামি রঙের বোতলের জোগানে ব্যাপক টান পড়ে। ফলে বাদামি রঙের বোতলের পরিবর্তে সবুজ রঙের বোতলে বিয়ার বিক্রি শুরু হয়।

কলকাতার যেসব এলাকা ভুতুড়ে বলে কুখ্যাত, পর্ব-১



কলকাতার ভূতুড়ে এলাকা

১) কলকাতা হাইকোর্ট: নিস্তার রাউত ছিলেন এক জন যৌনকর্মী। যিনি শালিখরাম নামে এক
জন ব্যবসায়ীর প্রেমে পড়েছিলেন। তিনি এই কাজের কলঙ্ক থেকে দূরে সরে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। যৌনকর্মীদের খাতা থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার জন্য
কলকাতা হাইকোর্টে আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু সেই আর্জি অস্বীকার করা হয়েছিল। কয়েক
দিন পর পুলিশ নিস্তারের মৃতদেহ পায়। উদ্ধার হয়েছিল তাঁর শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা অবস্থায়। নগ্ন শরীরে কাপড়ের চিহ্নটুকু ছিল না
, পায়ে ছিল কেবল নূপুর। কলকাতা হাইকোর্টের দীর্ঘ অন্ধকার বারান্দায় এখনও নাকি শোনা যায় তাঁর নূপুরের ছনছন শব্দ এছাড়া কলকাতা হাইকোর্টের ১৩ নম্বর কোর্ট রুম। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড
দেওয়া হয়েছে এখান থেকেই। অনেকের দাবি
, এখনও গভীর রাতে রক্তাক্ত পা হেঁটে গিয়ে ঢোকে ওই কোর্টের রুমে।

২) হাওড়া ব্রিজ: ১৯৪৩ সালে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল হাওড়া ব্রিজ। কলকাতার গর্ব এই ব্রিজ শুধুমাত্র এর সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত নয়, ভুতুড়ে জায়গা বলেও পরিচিত এই হাওড়া ব্রিজ। বহু সময় বহু মানুষ হাওড়া ব্রিজ দিয়ে গঙ্গার জলে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ভোর ৩টে নাগাদ অনুশীলন করতে আসা কুস্তিগীরদের মধ্যে অনেকেই নাকি দেখেছেন জলের উপরে একটা ভাসমান হাত! কেউ ডুবে যাচ্ছে ভেবে সাহায্য করতে গিয়েছেন যাঁরা, তাঁরাও নাকি আর ফিরে আসেননি। এছাড়া, হাওড়া ব্রিজের নিচে মল্লিকঘাট ফুলবাজারের সামনের ঘাটেও ভূতের অস্তিত্ব টের পান অনেকেই। এখানে আবার সাদা শাড়ি পরিহিত মহিলা ভূত। যাঁরা নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাঁরা নাকি প্রতিদিন একটা না একটা ভৌতিক কাণ্ডকারখানার স্বাক্ষী থাকেন। আবার কখনও অনেকে দেখেছেন রাতে সাদা শাড়ি
পরা এক মহিলা হাওড়া ব্রিজের ওপর ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখনও নাকি-সুরে কান্নার আওয়াজও
পান যাত্রীরা। তাঁদের ধারণা
, গঙ্গায় ডুবে কোনও মহিলার মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর আত্মাই এখন ঘুরে বেড়ায়।

৩) ভারতীয় জাদুঘর: কলকাতার একটা উল্লেখযোগ্য ভূতের বাড়ি হল, ইন্ডিয়ান
মিউজিয়ম। চৌরঙ্গি রোড বা এখনকার জওহরলাল নেহরু রোডের এই মিউজিয়ম-বাড়িটি তৈরি হয়েছিল ১৮৭৫-৭৮ সালে। ভৌতিক কাহিনি রয়েছে এই ভারতীয় জাদুঘর ঘিরে। স্পিক সাহেব
, শ্রমিকের মৃত্যু, এক সময়ের নাচঘর ছাড়াও সব থেকে ভয়াবহ গল্প যাকে ঘিরে, তা হল এখানে রাখা এক মিশরীয় মমি। এটি প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো। বহু রক্ষী নাকি তাকে রাতবিরেতে ঘুরতে দেখেছেন। আবার বেশ কিছু কর্মচারী নাকি শুনতে পেয়েছেন, আলতো পায়ে কে যেন হেঁটে যাচ্ছে সিঁড়ি দিয়ে। শিহরণ জাগানো দমকা বাতাস পাক খেতে থাকে এই মমিকে ঘিরে। তৈরি হয় এক গা ছমছমে পরিবেশ।

৪) রাইটার্স বিল্ডিং: রাত বাড়লে ফাঁকা রাইটার্সে নাকি আজও শোনা যায় পায়ের শব্দ, কান্নার আওয়াজ! ১৯৩০-এর ৮ ডিসেম্বর, প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনয়, বাদল এবং দীনেশ তৎকালীন ইনস্পেক্টর জেনারেল কর্নেল সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন। এখানে অশরীরীর উপস্থিতির কথা শোনা যায় বিশেষত পঞ্চম ব্লকে, অর্থাৎ যেখানে সিম্পসনকে হত্যা করা হয়েছিল। সন্ধ্যার পরে এখনও সচরাচর কেউ থাকতে চায় না এখানে।

৫) পার্কস্ট্রিট কবরখানা: গোরস্থানে সাবধান! দিনের বেলায় এই স্থান প্রেমের হলেও নাকি
রাত হলেই হয়ে ওঠে ভয়াবহ। এই কবরখানা ঘিরে রয়েছে নানা অদ্ভুত গল্প। আত্মাদের ফিরে আসার অলৌকিক ঘটনা
ব্রিটিশদের কান্না নাকি হাড় হিম করে তোলে। কান পাতলে নাকি আজও শোনা যায় মানুষের আর্তনাদ। এখানে প্রথম কবরটি দেওয়া হয় ১৭৬৭ সালে।

দ্বিতীয় পাতা

মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩

এপ্রিল মাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন

বিভিন্ন ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য ভারত এবং ইউনেসকো দ্বারা জারি করা এপ্রিল মাসে কোন দিন কি দিবস পালন করা হয় তাই এখানে তুলে ধরা হলো-

১ এপ্রিল: ভারতের ওড়িশা রাজ্য গঠন দিবস

         এপ্রিল ফুল দিবস (আন্তর্জাতিক বোকা বানানোর দিবস)

২ এপ্রিল: শিশুদের মানসিক রোগ সচেতনতার আন্তর্জাতিক দিবস (Autism)

৩ এপ্রিল: ভারতের উচ্চকক্ষ অর্থাৎ রাজ্যসভা দিবস, এটি প্রথম গঠিত হয় এইদিন
১৯৫২ সালে

৪ এপ্রিল: খনি সচেতনতা ও খনন কার্যে সহায়তার আন্তর্জাতিক দিবস

৫ এপ্রিল: জাতীয় সামুদ্রিক দিবস

৬ এপ্রিল: উন্নয়ন ও শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস

৭ এপ্রিল: বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস (WHO)

৮ এপ্রিল: আন্তর্জাতিক রোমানি (জিপসী) দিবস

১০ এপ্রিল: বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস (WHD)

              ভাইবোন দিবস

১১ এপ্রিল: জাতীয় নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস (NSMD)

১২ এপ্রিল: বিশ্ব নভশ্চরণ ও মহাকাশচারণ দিবস

১৩ এপ্রিল: জাতীয় জালিয়ানওয়ালাবাগ দিবস

          আন্তর্জাতিক গ্রন্থগারিক দিবস

১৪ এপ্রিল: বি.আর.আম্বেদকর স্মরণ দিবস

১৭ এপ্রিল: বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস

১৮ এপ্রিল: বিশ্ব প্রাচীন ঐতিহ্য (heritage) দিবস

১৯ এপ্রিল: বিশ্ব যকৃত দিবস

          বাইসাইকেল দিবস

২১ এপ্রিল: জাতীয় নাগরিক সেবা ও সচিব দিবস

২২ এপ্রিল: আন্তর্জাতিক ভূমি দিবস

২৩ এপ্রিল: বই ও কপিরাইট রক্ষার বিশ্ব দিবস

            ইংরেজি ভাষা দিবস

২৪ এপ্রিল: জাতীয় পঞ্চায়েতি রাজ দিবস

২৫ এপ্রিল: বিশ্ব পেঙ্গুইন দিবস

           DNA দিবস

           বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস

           ইতালির মুক্তি দিবস

           ANZAC Day

২৬ এপ্রিল: বিশ্ব মেধা সম্পদ দিবস (WIPO)

২৮ এপ্রিল: কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিশ্ব দিবস

২৯ এপ্রিল: আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস

৩০ এপ্রিল: আন্তর্জাতিক বাদ্যযন্ত্র (জ্যাজ) দিবস

          বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস

শনিবার, ১ এপ্রিল, ২০২৩

কিভাবে শুরু হয়েছিল এপ্রিল ফুল দিবস?

 

এপ্রিল ফুল দিবস

এপ্রিল ফুলস ডের সূচনা নিয়ে নানা ধারনের মতবাদ রয়েছে। জানা যায়, এপ্রিল ফুল ডে-র সূচনা ১৫৮২ সালে। ১ এপ্রিল থেকেই ফ্রান্স ও জর্জিয়াতে বছরের পুরোনো ক্যালেন্ডারের বদলে এক নতুন ক্যালেন্ডার নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি বছরের প্রথম দিন নির্ধারিত হয়। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত ১ জানুয়ারির বদলে ২৫ মার্চকে বছরের প্রথম দিন হিসাবে ধরা হতো। এই নতুন জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার চালু হয় মার্চের শেষের দিকে। তাই হিসাব অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকেই নতুন ক্যালেন্ডার চালু হয়। এই ক্যালেন্ডার চালু হওয়ার পরও আগের নিয়ম মেনে যাঁরা চলতেন তাদের সে সময় ফুলস অর্থাৎ বোকা বলা হতো। সেই থেকেই এপ্রিল ফুলস ডে- এর সূচনা বলে মনে করা হয়।

শুধু এই নয়। এর আগেও ইতিহাসে ফুল শব্দের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। মধ্যযুগে ফ্রান্সে ১ জানুয়ারি ফিস্ট অফ ফুলস উদযাপন করা হতো। এই অনুষ্ঠানে খ্রীস্টান রীতির অনুকরণে একজন নকল পোপ নির্বাচিত করা হতো। গির্জার উচ্চ ও নিম্ন আধিকারিকরা নিজেদের কাজ বদল করতেন। কিন্তু পরবর্তীকালে এই অনুষ্ঠানের আর অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই এই রীতির বদলে এই দিনটায় অল ফুলস ডে’ নামে অন্য একটি অনুষ্ঠানের প্রচলন শুরু হয়। ফ্রান্সে এই অনুষ্ঠানকে বলা হত পয়জন দি এভরিল, যার অর্থ এপ্রিল ফিশ। বন্ধুদের পিছনে কাগজের তৈরি মাছ আটকে মজা করা হত।

আবার স্কটল্যান্ডে এই অনুষ্ঠানকে বলা হয় গকি ডে। কোকিলের আরেক নাম গকি। যা কিনা বোকামির প্রতীক। এখানে ২ এপ্রিল সবাই বন্ধুদের পিছনে কিক মি লেখা কাগজ সেঁটে মজা করেন। ব্রাজিলে ১ এপ্রিল দিয়া দা মেন্ত্রিয়া বা লাই ডে হিসাবে উদযাপন করা হয়। এই দিন সকলে তাঁদের প্রিয়জনদের বোকা বানান।